আন্তর্জাতিক

হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদে পাল্টা আঘাত হানানো হবে বলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রমণের শিকার হলে এসব ঘাঁটি ও সম্পদ ইরানের কাছে “বৈধ লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

 

চিঠিতে গত বুধবার ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।

 

ইরাভানি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের যুদ্ধংদেহি বক্তব্য সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। শক্তি ব্যবহারের বেআইনি হুমকি বন্ধ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং পারস্পরিকতার ভিত্তিতে নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে থাকা অস্পষ্টতা দূর করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন হলে প্রতিরক্ষামূলক জবাবের অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা শত্রুপক্ষের সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

 

এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন। গত মাসে তিনি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলেন এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ সামনে আনেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের হাতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় আছে, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিতও দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

আগামী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, মানবিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।   প্রধানমন্ত্রী জানান, শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পরিকল্পিত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন, যা নারীর কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ উল্লেখ করে তিনি ‘One Health’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন। এই ধারণায় মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা তুলে ধরে সমন্বিতভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।   তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই।   স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ‘প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে এবং ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ই-হেলথ কার্ড চালু, স্বাস্থ্যবীমা সম্প্রসারণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) জোরদার এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।   স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও বলেন। বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয়; মধ্যপ্রাচ্য রুটে বাতিল ২৬৪ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত পাহারায় সাপ ও কুমির: বিএসএফ-এর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ‘দ্য হিন্দু’র রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে আবারও নৌকাডুবি: নিখোঁজ ৭০, উদ্ধার বাংলাদেশিসহ ৩২

ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি সংকট নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীনের

হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-চলাচল সংকট নিরসনে অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই অঞ্চলে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং যুদ্ধবিরতিই একমাত্র মৌলিক সমাধান। বেইজিং মনে করে, সংঘাত বন্ধের মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি নিরাপদ রাখা সম্ভব।   চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াং ই বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক হামলা বা পাল্টা হামলা পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারবে না। বরং একটি ব্যাপকভিত্তিক কূটনৈতিক সমঝোতাই পারে এই কৌশলগত জলপথের অচলাবস্থা কাটাতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে।   দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে। রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই মনে করে, বাইরের কোনো শক্তির একতরফা হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই একটি টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।   জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় চীন এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফোনালাপে ওয়াং ই এবং লাভরভ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও রাশিয়ার অভিন্ন অবস্থানের বিষয়টি আবারও জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প চাইলেই ন্যাটো ছাড়তে পারবেন না: মার্কিন আইন মনে করিয়ে দিলেন ন্যান্সি পেলোসি

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বাহিনীর গোপন গতিবিধি ইরানের কাছে ‘বিক্রি’ করছে চীনা কোম্পানি!

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ভয়াবহ তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যা: প্রাণহানি বেড়ে ৬১

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে গণপরিবহন ফ্রি; পাঞ্জাবেও মিলবে বিনামূল্যে সেবা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কমাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পর এবার পাঞ্জাব প্রদেশেও গণপরিবহন সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি জনগণকে এই সুযোগ-সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আরও সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই ভ্রমণের পথ প্রশস্ত করবে। মূলত জ্বালানির দাম বাড়ায় যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পরিবহন খরচ তুঙ্গে, তখন নাগরিকদের স্বস্তি দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।   মরিয়ম নওয়াজের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজধানী ইসলামাবাদের গণপরিবহন পরিচালনার সমস্ত খরচ এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরূপ উদ্যোগ অনুসরণ করেই পাঞ্জাব প্রদেশ তাদের নিজস্ব এলাকায় বিনামূল্যে পরিবহন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি একা নয়; এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া এবং তাসমানিয়া রাজ্যও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। দেশগুলো জনগণকে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ে উৎসাহিত করতে গণপরিবহনের ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন পাকিস্তানের এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপটি বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি | ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেলেন ইতালীর প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ব্রিটেনের, কি এই ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

মোদির মুখোশ খুলে দেব, এক মঞ্চে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ মমতার!

0 Comments