ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও বাড়লে সম্ভাব্য স্থল অভিযানসহ যেকোনো সামরিক পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে প্রতিপক্ষের জন্য তা “ভয়াবহ পরিণতি” ডেকে আনবে।
বৃহস্পতিবার NBC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন,
“আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, এমনকি স্থল অভিযান হলেও। আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি, এবং আমরা নিশ্চিত যে আমরা মোকাবিলা করতে পারব—এটি তাদের জন্য বিপর্যয় হবে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অস্থিতিশীল করতে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করতে পারে—এমন খবরের কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের দাবি ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসও অস্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
এখনই যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা নয় আরাঘচি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো নতুন আলোচনা বা যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়।
তার অভিযোগ,
“আমরা তাদের সঙ্গে দুইবার আলোচনা করেছি, আর প্রতিবারই আলোচনার মাঝখানে তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
তিনি ইঙ্গিত দেন যে ২০২৫ সালের জুনে শুরু হওয়া সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর ইরান নতুন করে আলোচনায় বসার কারণ দেখছে না।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই, তবে সতর্কতা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন,
এ মুহূর্তে ইরানের এটি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে যুদ্ধ বাড়লে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
তার ভাষায়,
“প্রণালী বন্ধ করা হয়নি, কিন্তু জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ভয়ে এড়িয়ে চলছে—কারণ তারা আশঙ্কা করছে যে যেকোনো পক্ষের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।”
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ১৫ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদন দেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio জানিয়েছেন, ইসরাইল সরকারের কাছে এই অস্ত্র বিক্রির জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ত্রের প্যাকেজে বিএলইউ-১১০এ/বি বোমা, পাশাপাশি লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি সমর্থন করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর আগে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনাগুলো শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরাইলও সমান্তরালভাবে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করে। এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে এবং ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সংঘাতে ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র: Middle East Eye
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দ্রুত যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) মাসদু পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন পুতিন। ফোনালাপে তিনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ সময় পেজেশকিয়ান চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করেন। পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় Kremlin থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করে রাজনৈতিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুতিন নিয়মিতভাবে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা আলোচনা চলে। তবে ওই আলোচনায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময়ে ইসরাইলও তাদের অভিযান Operation Roaring Lion শুরু করে। এই হামলার জবাবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে এমনও দাবি করা হচ্ছে যে, এই সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।