লুৎফর খোন্দকার
স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার
বাংলাদেশের এখনই দরকার একটি জাতীয় ভূমিকম্প নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা । ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা
গত এক সপ্তাহে, ২১ থেকে ২৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার মোট ১৪টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ০ বা তার বেশি। পৃথিবীর যেখানেই বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, সেখানেই প্রকৌশলী, ভূতত্ত্ববিদ, সিসমোলজিস্ট এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে এর মাত্রা, উপকেন্দ্র, মাটির আচরণ, কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণ বিশ্লেষণ করেন। কারণ প্রতিটি বড় ভূমিকম্প শুধু একটি দেশের জন্য নয়, ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে থাকা অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভিন্ন নয়। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সংঘটিত বড় ভূমিকম্প আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। প্রতিটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি, অবকাঠামোর সক্ষমতা এবং উদ্ধার ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
চিত্র–১। ২১ থেকে ২৭ জুন ২০২৬ সময়কালে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের সারসংক্ষেপ। এই সময়ে মোট ১৪টি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে তিনটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ০ বা তার বেশি। এই পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের ধারাবাহিক ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের জন্য আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
তথ্যসূত্র: ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস), আর্থকোয়েক হ্যাজার্ডস প্রোগ্রাম।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আমি একটি কথা বলে আসছি-"ভূমিকম্প মানুষকে হত্যা করে না; মানুষ মারা যায় ভবন ও অবকাঠামোর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।"
এই কথার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। আমাদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শুধু ভূমিকম্পের মাত্রা নয়, বরং ভবন ধস কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে প্রাণহানি কমানো যায় এবং কীভাবে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।
গত দুই দশকে বাংলাদেশে হাজার হাজার বহুতল ভবন, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, সেতু, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস স্থাপনা, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। দেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
এই অবকাঠামোগুলোর ভূমিকম্প সহনশীলতা কতটুকু?
এই প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা ধারণার ভিত্তিতে দেওয়া যাবে না। এর উত্তর আসতে হবে প্রকৌশলভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় ভূমিকম্প সক্ষমতা মূল্যায়ন কর্মসূচি (ন্যাশনাল সিসমিক অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম) অবিলম্বে চালু করা উচিত। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি স্থাপনাকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করা সম্ভব হবে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে।
যেসব ভবন বা অবকাঠামো বড় ধরনের ভূমিকম্পে ধসে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলোকে উচ্চ ঝুঁকি (Severe Risk) হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর বিস্তারিত প্রকৌশল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, রেট্রোফিটিং যথেষ্ট হবে, নাকি নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ অপসারণ করে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে।
যেসব ভবন যথাযথ রেট্রোফিটিং এবং কাঠামোগত শক্তিবৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ করা সম্ভব, সেগুলোকে মধ্যম ঝুঁকি (Moderate Risk) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আনা উচিত।
যেসব ভবন বর্তমান মানদণ্ড অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, সেগুলোকে স্বল্প ঝুঁকি (Mild Risk) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে নিরাপদ বলে ধরে নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। এসব ভবনেরও নিয়মিত পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে হবে।
নতুন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে আধুনিক ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা, বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোডের কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক প্রকৌশল মান অনুসরণ এবং স্বাধীন মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
বচেয়ে বড় ঘাটতি: উদ্ধার প্রস্তুতি
একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অসংখ্য মানুষ জীবিত থাকতে পারেন। দ্রুত ও সমন্বিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা গেলে হাজার হাজার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি সেই প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে? আমার পর্যবেক্ষণে, এই ক্ষেত্রেই আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে। উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও সম্ভাব্য একটি বড় ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য যে মাত্রার প্রস্তুতি প্রয়োজন, আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। সময় থাকতে এই ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।
এখনই একটি জাতীয় আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (USAR) কর্মসূচি গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই কর্মসূচির আওতায় আধুনিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার সরঞ্জাম, ভারী ধ্বংসস্তূপ অপসারণের সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল, কার্যকর জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মহড়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা উদ্ধার অভিযানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করেন। কোন ভবনে প্রবেশ করা নিরাপদ, কোথায় অস্থায়ী সাপোর্ট দিতে হবে, কোন ধ্বংসস্তূপ কীভাবে অপসারণ করলে ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব, এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
বাংলাদেশেও একটি ন্যাশনাল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন সময়ের দাবি। এই দলটি দুর্যোগের সময় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে কাঠামোগত ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপদ উদ্ধার পরিকল্পনা এবং জরুরি প্রকৌশল সহায়তা প্রদান করতে পারে। একটি বড় ভূমিকম্পের পর এমন বিশেষায়িত দলের উপস্থিতি বহু প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য ১০টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে এখনই একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমার দৃষ্টিতে নিম্নোক্ত উদ্যোগগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
ক) জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও অবকাঠামোর ভূমিকম্প সক্ষমতা মূল্যায়ন।
খ) সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে Severe Risk, Moderate Risk এবং Mild Risk শ্রেণিতে বিভক্ত করা।
গ) ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের রেট্রোফিটিং অথবা প্রয়োজন হলে সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ।
ঘ) বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC)-এর ভূমিকম্পবিষয়ক বিধানের কঠোর বাস্তবায়ন।
ঙ) সব নতুন নির্মাণে স্বাধীন মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
চ) একটি National Structural Engineering Emergency Response Team গঠন।
ছ) আধুনিক Urban Search & Rescue (USAR) সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা।
জ) স্কুল, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়ার আয়োজন।
ঝ) জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি ডিজিটাল ঝুঁকি তথ্যভাণ্ডার তৈরি।
ঞ) একটি স্বাধীন National Earthquake Safety Commission গঠন, যা দেশের ভূমিকম্প-প্রস্তুতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়গুলো সমন্বয় করবে।
এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশে ভূমিকম্প-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও টেকসই কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্যোগে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ভিত্তি তৈরি হবে।
ভূমিকম্প কখন, কোথায় বা কত মাত্রায় আঘাত হানবে, তা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু সেই ভূমিকম্পে কত মানুষ প্রাণ হারাবে, কত ভবন ধসে পড়বে এবং দেশের কতটা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার বড় একটি অংশ নির্ভর করে আমাদের প্রস্তুতির ওপর।
আমরা যদি দুর্যোগের পর প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে দুর্যোগের আগেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। আজ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে এবং যে বিনিয়োগ করা হবে, সেটিই হয়তো আগামী দিনের হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করবে। একই সঙ্গে দেশের অমূল্য অবকাঠামো, অর্থনীতি এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকেও সুরক্ষিত রাখবে।
বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনের প্রকৌশলভিত্তিক মূল্যায়ন, কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ উদ্ধার সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি সরকার, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক, নির্মাণ খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকসহ সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
আল্লাহ আমাদের দেশ, দেশের মানুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেকোনো ভয়াবহ ভূমিকম্প থেকে হেফাজত করুন। তবে দোয়ার পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বও রয়েছে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, সুশাসন এবং সুপরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এখনই সময় জাতীয় ভূমিকম্প নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার।
লেখক: লুৎফর খোন্দকার
স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার | যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেশাদার প্রকৌশলী (পিই) | প্রায় ৪০ বছরের আন্তর্জাতিক স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা
বি.দ্র.
এই লেখাটি লেখকের আন্তর্জাতিক পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রকৌশলগত মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে রচিত। এর উদ্দেশ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশে ভূমিকম্প-প্রস্তুতি নিয়ে একটি গঠনমূলক জাতীয় আলোচনাকে উৎসাহিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।