আমেরিকা

আদালতের স্থগিতাদেশ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ২১:৫৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত।


ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে।


তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।


আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন।


তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে।


এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন।


আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা।


যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী শ্রমিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতোই নির্মাণকাজে যাচ্ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তার বড় ছেলে রোনালদো সালগাদো বুঝতে পারেন, নিহত ব্যক্তিই তার বাবা।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রোনালদোর মা ফোন করে জানান, তার বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং কিছু একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন। এরপর রোনালদো দ্রুত হিউস্টনের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণস্থলের দিকে রওনা হন, যেখানে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, আইসের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা।   পরিবারের সদস্যরা জানান, লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিন ছেলেকেই কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। রোনালদো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, বাবার পিছু নেওয়া চিহ্নবিহীন (Unmarked) সরকারি গাড়িগুলো দেখে তিনি ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। তার ধারণা, যারা তাকে অনুসরণ করছিল তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এটি হয়তো তার বাবা বুঝতে পারেননি।   পরিবারের দাবি, লোরেঞ্জোর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি আশা করেছিলেন, একদিন হয়তো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হবে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন এবং আইসের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অভিযানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   এদিকে আইসের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন পরিশ্রমী শ্রমিক, যিনি তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২১:১৪
তদন্তে জব্দ হওয়া অস্ত্র ও নগদ অর্থের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতা, স্বর্ণখচিত অস্ত্র ও বিপুল মাদকের তথ্য প্রকাশ

ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে নতুন আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ট্রাম্প

ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী I ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে নিজের হাতে স্বপ্নের বাড়ি গড়লেন দম্পতি, মাসিক মর্টগেজ ৯০০ ডলারেরও কম

বাড়ি তৈরির বিশাল নির্মাণ ব্যয় বাঁচাতে এক অভিনব ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক দম্পতি। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি নিজেদের হাতেই গড়ে তুলে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী। মূলত নির্মাণ খরচ কমিয়ে বাড়ির মাসিক মর্টগেজ বা ঋণের কিস্তি সাধ্যের মধ্যে রাখতেই তাঁরা এই চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের এই নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।   বাড়ি তৈরির এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ির দুটি বাথরুমের মেঝে ও দেয়ালে টাইলস বসানোর মতো অত্যন্ত দক্ষ কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই ছিল না ম্যাডি ওলসনের। কিন্তু এই অনভিজ্ঞতা তাঁদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। কাজে বারবার ভুল হওয়া এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা হার না মেনে একটু একটু করে এগিয়ে গেছেন। নিজেদের এই 'ডু ইট ইওরসেলফ' (DIY) বা স্বাবলম্বী উদ্যোগের ফলে তাঁরা পেশাদার মিস্ত্রি ও ঠিকাদারদের পেছনে ব্যয় হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন।   নিজেদের এই প্রথম বাড়িটি তৈরি করার পুরোটা সময় জুড়ে ওলসন দম্পতি অত্যন্ত কঠোরভাবে তাঁদের নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা সফলও হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের এই পরিশ্রমের ফসল বাড়িটির জন্য মাসিক মর্টগেজ বা কিস্তি বাবদ ৯০০ ডলারেরও কম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিজেদের একাগ্রতা আর শ্রমে গড়া এই বাড়িটি এখন শুধু তাঁদের কাছে একটি নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, বরং সাশ্রয়ী উপায়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে চাওয়া অসংখ্য মানুষের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৯:৫৫
অবিনাশ নারনে I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নববিবাহিত স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকাকে লাশের ছবি পাঠালেন ভারতীয় স্বামী

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ফুড ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হকের জানাজা আগামীকাল

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ফেডারেল এজেন্টের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর নিজেই বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন এক মার্কিন ফেডারেল এজেন্ট। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নিউজার্সির সেয়ারভিল এলাকার একটি বাড়িতে। মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ৪৬ বছর বয়সী কেলি আইটাউরোকে তাদের বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   অন্যদিকে, ৫২ বছর বয়সী স্বামী ক্রিস্টোফার আইটাউরোর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বাড়ির পেছনের উঠান থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটিকে একটি 'মার্ডার-সুইসাইড' বা হত্যা ও আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে, যেখানে ক্রিস্টোফারকেই মূল সন্দেহভাজন শুটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাপ্ত রেকর্ড অনুযায়ী, ক্রিস্টোফার আইটাউরো মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন স্পেশাল বা বিশেষ এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সেয়ারভিল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সকল বাসিন্দাকে সাময়িকভাবে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেয়। সেসময় অন্তত ৪০ মিনিটের জন্য রাস্তাটির একাংশ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   এদিকে, এই আকস্মিক ও নির্মম ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন নিহত কেলির ননদ, যেখানে তিনি কেলির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের কথাও জানান। ফেসবুকে তিনি লেখেন, "শুক্রবার আমার সুন্দর মনের ভাবি কেলিকে আমাদের কাছ থেকে চরম অমানবিক ও আকস্মিকভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।" কেলিকে একজন অত্যন্ত দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও অসাধারণ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, যারাই কেলির সান্নিধ্য পেয়েছেন, তাদের সবার মাঝেই তিনি এক চিরস্থায়ী ইতিবাচক ছাপ রেখে গেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৮:৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

অ্যালাবামায় শাসন করায় জন্মদাত্রী মাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে, রাস্তায় আহত পিতার আর্তনাদ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় কুমিরের মুখ থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা, তবু বাঁচানো গেল না হাত

এমিলি কারোলস্কি I ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে নবজাতকদের সেবায় নিয়োজিত নার্সের বাড়িতে মিলল ৮০টি মৃত বিড়াল, হতবাক স্থানীয়রা

0 Comments