যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ-কে লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষক দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে ওই সেতুতে হামলার আহ্বান জানিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা একটি সেতু ধ্বংসের ঘটনায় এই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় ব্রিটিশ প্রযুক্তির ভারী ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছিল। যদিও ঘটনাটি গত বছরের মার্চে ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। রুশ বিশ্লেষক ভ্লাদিমির কর্নিলভ অভিযোগ করেন, রুশ ভূখণ্ডে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে স্বীকার করা হচ্ছে, যা ‘উদ্বেগজনক’। তবে উল্লেখ্য, যে সেতুটি ধ্বংস করা হয়েছিল সেটি আন্তর্জাতিকভাবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত, যদিও তা রাশিয়ার দখলে ছিল। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এদিকে রাশিয়ার আরেকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপের জবাবে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলো’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বাস্তব সামরিক পদক্ষেপে রূপ নিলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আহ্বান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনার ঘোষণা আসেনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইস্টার উপলক্ষে প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর দেওয়া এ প্রস্তাবকে ‘অস্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাবে স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজন ইউক্রেনেরই বেশি বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে সোমবার অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসন্ন ১২ এপ্রিলের ইস্টার উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আপসের একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। তবে রাশিয়ার মতে, এমন প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। পেসকভ দাবি করেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের নেতৃত্বকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, দেরি হলে সেই সিদ্ধান্তের মূল্য আরও বেড়ে যাবে। রাশিয়ার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা বর্তমান সামরিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ ধরে রাখতে চায়। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তখন জেলেনস্কি ওই বিরতি ৩০ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি পুতিন। এবার জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস বাজারে চাপ কমানো যায়। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ। তিনি শুধু জানান, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের উস্ত-লুগা ও প্রিমোরস্ক বন্দরে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণ আগের তুলনায় আরও আধুনিক এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন। খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান থেকে পাওয়া ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তি উন্নত করেছে রাশিয়া। এখন সেই আপগ্রেড করা সংস্করণই ফের ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কতসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এটি নিয়মিত সরবরাহের অংশ কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে বেশ সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, স্বল্পসংখ্যক ড্রোন এই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো তথাকথিত মানবিক সহায়তার চালানেও ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাক ও রেলপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর আড়ালে এই সরঞ্জাম পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। উভয় দেশই ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেটচালিত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় এই ড্রোন উৎপাদন ও উন্নয়নও শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ড্রোন সরবরাহ যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে চাইছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভাডিপুল এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান এবং বলেন, জার্মানির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাডিপুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন আশা করছেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে দেবে। তবে এই কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে জার্মানি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ভাডিপুল।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ কিছু অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের আলোচনায় থাকা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র—অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-এর একটি কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক সহায়তার বড় অংশ সীমিত করলেও ‘ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক তালিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশের গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপের নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান সরঞ্জাম সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এই আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি—এই অস্ত্রগুলো পরে সরবরাহ করা হবে, নাকি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে পেন্টাগন সরবরাহের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে। এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের ব্যবহৃত ড্রোন মোকাবিলা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (বৈদ্যুতিক যুদ্ধকৌশল) সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি দেশ ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন এবং এ ধরনের অন্যান্য হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ ছাড়াও ইউরোপের কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব অনুরোধ এসেছে। তিনি জানান, প্রাপ্ত অনুরোধগুলো ইউক্রেন সরকার বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের জনগণের জীবন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় যেসব দেশ সহযোগিতা করছে, তাদের অনুরোধে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে কিয়েভ প্রস্তুত। ইউক্রেনের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে দর–কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিয়েভ চাইছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুলে ধরতে। জেলেনস্কি বলেন, ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানের তৈরি বিভিন্ন ড্রোনের মুখোমুখি হয়ে সেগুলো প্রতিরোধের কার্যকর পদ্ধতি ইতোমধ্যে অর্জন করেছে ইউক্রেন। তিনি আরও জানান, কিছু দেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ‘সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে ইউক্রেন একটি ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন জেলেনস্কি। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কী সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা ইডব্লিউ হলো এমন একটি প্রযুক্তি ও কৌশলগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ, রাডার ও সিগন্যাল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো হয়। এ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘জ্যামিং’। এতে রেডিও বা রাডার সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করা হয়। উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার আর–৩৩০ জেডএইচ জিটেল জ্যামারকে উল্লেখ করা হয়, যা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জিপিএস, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে সক্ষম। এ ছাড়া শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া সিগন্যাল পাঠানোও ইলেকট্রনিক আক্রমণের একটি কৌশল। পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত চলাকালে রাশিয়ার বাহিনী বিশেষ ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করে স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্কে ভুয়া বার্তা প্রচারের ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।