লক্ষ্মীপুরে জেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই আন্দোলন ও শহীদ ও আহতদের স্মরণে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো তুলে ধরা যেমন জরুরি, তেমনি ভুলগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পথ দেখানোও বিরোধী দলের দায়িত্ব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম সংবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জটিল নয়; সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার পর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে এবং সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ১৮০ দিনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি দেখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি জুলাই সনদ ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিএনপি ভালো বার্তা দেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন এমপি। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিবেশগত পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। তবে দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ার পরও বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির মাধ্যমেই শপথ নিয়ে তাদের সরকারের কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা আবারও পূর্বের স্বৈরাচারী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে এবং সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরা শুরু করেছে, যা তাদেরকে মর্মাহত করেছে।
জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাতিল করতে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই রায়কে অকার্যকর করতে আদালতকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগকে দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়া দলের মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী–ও বক্তব্য দেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বার্তায় বলা হচ্ছে—যদি নতুন সরকার জুলাই সনদ সংসদে পাস না করে বা কার্যকর না করে, তাহলে তারা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রবাসীদের কয়েকটি ফোরামে আলোচনায় উঠে এসেছে, “জনগণের সমর্থনে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সেটি জাতির প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যাবে।” কেউ কেউ এটিকে “নৈতিক প্রতিবাদ” হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও এখনো পর্যন্ত এটি কোনো কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত মতামত হিসেবে সামনে আসছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বড় পরিসরে রেমিট্যান্স বন্ধ বা কমে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং খাত, বাজারদর ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের আবেগ ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রবাসী কমিউনিটির সংগঠিত অবস্থানের ওপর। ‘আমেরিকা বাংলা’ বিষয়টির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত এলে তা হালনাগাদভাবে প্রকাশ করা হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব এ তথ্য জানান। আজ অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপদেষ্টাদের সম্পদ জমা দেওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আপনারা পাবেন। আমি যতুটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের স্টেটমেন্ট (বিবরণী) দিয়েছেন। এক-দুই দিনের মধ্যে এটি পাবলকি করা হবে।’ ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও এখনো উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়নি। অর্থনীতিবিদ ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা বলে আসছেন, একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সুফল দেশবাসী দেখেনি, যা হতাশাজনক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ন্যায়পাল নিয়োগে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হবে বলেও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন। ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদবিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যাঁরা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তাঁরা প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এই বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টাই তাঁদের সম্পদের বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অধিকারকে তুলে ধরা। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানই এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাসাবো ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আয়োজিত বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলী রীয়াজ বলেন, অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবার মানুষের অধিকার উপলব্ধি করার সুযোগ এসেছে। আমরা হেলায় এই সুযোগ হারাবো না। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই সনদ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একটি সমানাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র ব্যক্তি থেকে পার্থক্য করবে না। ড. রীয়াজ সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। দীর্ঘদিন এই জনগণকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। গণভোটে অংশগ্রহণ করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের মতো না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব কিছু হয়েছে। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারেন না। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারের ইচ্ছানুযায়ী হয়েছে। ড. রীয়াজ সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি বলেন, নিজ দলের এমপিদের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। আসন্ন সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে এমপিরা স্বাধীন মত প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে সন্তানের পরিচয় তার যোগ্যতা ও অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী নির্ধারণ হবে। সভায় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্য বক্তা ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব জয়দত্ত বড়ুয়া ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস