সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নিউইয়র্ক পুলিশ

ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ডিউটিতে থাকা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে সহকর্মীরা, ডাইকমানে খাবার নিয়ে পিবিএ ক্যান্টিন

দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা নিউইয়র্ক পুলিশের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের সহকর্মীদের সংগঠন প্যাট্রোলম্যানস বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (পিবিএ)। রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয় নিয়ে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের খোঁজখবরও নেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।   পিবিএ ক্যান্টিন মূলত দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তার জন্য ব্যবহৃত একটি চলমান খাবার ও পানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা। বিশেষ দায়িত্ব বা দীর্ঘ সময়ের নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে তাদের খাবার ও পানীয় সরবরাহ করার পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেওয়াও এর কার্যক্রমের অংশ।   রোববার উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে পৌঁছায় পিবিএ ক্যান্টিন। এ সময় ম্যানহাটন নর্থ পিবিএর বোর্ড কর্মকর্তা কেভিন মারফি ও প্যাট ও’ডনেলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।   দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলে দীর্ঘ সময় পোস্টে অবস্থান করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বের স্থানেই খাবার নিয়ে সহকর্মীদের উপস্থিতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।   পিবিএ ক্যান্টিনের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জন্য খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেওয়া হলেও, রোববার ডাইকমান এলাকায় ঠিক কী ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   তবে ঘটনাটির মানবিক দিকটি স্পষ্ট। শহরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যখন পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তাদের কাছে সহকর্মীদের খাবার নিয়ে পৌঁছে যাওয়া শুধু একটি সেবা কার্যক্রম নয়, বরং পাশে থাকারও একটি বার্তা।   উত্তর ম্যানহাটনের ডাইকমান এলাকায় পিবিএ ক্যান্টিনের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের প্রতি সহকর্মীদের যত্ন ও সমর্থনের একটি চিত্র উঠে এসেছে। ব্যস্ত ডিউটির মাঝেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা এবং খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, মানুষের নিরাপত্তায় যারা রাস্তায় কাজ করছেন, তাদের প্রতিও রয়েছে সহকর্মীদের নজর ও সহযোগিতা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার
ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার

ডোমিনিকান রিপাবলিকে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের সার্জারির পর জটিলতায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এক অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী রেবেকা ডি পাউলা তিন সন্তানের মা ছিলেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৬তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এনওয়াইপিডি ও সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।    ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এবিসি সেভেন নিউইয়র্ক জানিয়েছে, ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের সার্জির পর তৈরি হওয়া জটিলতায় ডি পাউলার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অপারেশনের পর তিনি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।    ডি পাউলা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। মাত্র ১৮ মাসের চাকরিজীবনে তিনি সহকর্মী ও কমিউনিটির কাছে নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। চলতি বছরের মার্চে ব্রঙ্কসের ৪৬তম প্রিসিঙ্কটের ‘অফিসার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হন তিনি।    পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনড্রি এক বিবৃতিতে ডি পাউলার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিউইয়র্কবাসীকে তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ডি পাউলা স্ত্রী ও মা হওয়ার পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে ধর্মীয় কাজেও যুক্ত ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে। সাবেক প্রশিক্ষক ও সহকর্মীরা তাকে সহানুভূতিশীল, প্রাণবন্ত এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।    পরিবার এখন সার্জারি ও পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ডোমিনিকান কর্তৃপক্ষের ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ঘটনাটি বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের সার্জারিতে ইনফেকশন, রক্ত জমাট বাঁধা এবং হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের জটিলতাসহ গুরুতর ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আগে ক্লিনিক, সার্জন, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং পরবর্তী ফলোআপ সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্ক পুলিশে পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি, নেতৃত্বেও শক্ত অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম নগর পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি-আমেরিকানদের উপস্থিতি গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা এই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতাদের দাবি, এনওয়াইপিডিতে এক হাজারেরও বেশি ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এবং প্রায় দেড় হাজার বেসামরিক কর্মী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তবে এ বিষয়ে এনওয়াইপিডি পৃথক কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।   বিশেষ করে ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে ঘিরে দেশটির মূলধারার গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের অবদান নতুন করে আলোচনায় আসে।   ম্যানহাটনের একটি ভবনে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত দিদারুল ইসলাম কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে শত শত পুলিশ কর্মকর্তা, কমিউনিটি নেতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতীক হয়ে ওঠে।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যরা শুধু টহল পুলিশ হিসেবেই নয়, গোয়েন্দা শাখা, সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট, পরিদর্শকসহ বিভিন্ন নেতৃত্বের পদেও দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও তাদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় যোগদানে উৎসাহিত করতে পেশা-সচেতনতামূলক সেমিনার, নিয়োগবিষয়ক তথ্যসভা এবং পরামর্শমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে আসছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি, কমিউনিটি সেবা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশ ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও জোরদারের কাজ করছে।   সংগঠনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মসজিদ, কমিউনিটি কেন্দ্র, কলেজ এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পুলিশে যোগদানের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, শারীরিক প্রস্তুতি এবং পেশাগত সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দেন। কমিউনিটি নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুলিশ পেশার প্রতি আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাংলাদেশি তরুণদের অনেকেই প্রথমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কর্মকর্তা, বিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিংবা অন্যান্য বেসামরিক পদে যোগ দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের পর পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হয়ে ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। এই পথ অনুসরণ করেই বর্তমান বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন।   বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নগর পুলিশ বাহিনী এনওয়াইপিডিতে প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। সেই বিশাল বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু একটি পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সরকারি সেবায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

Unknown জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ও পুলিশের উপস্থিতির দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত
ব্রুকলিনে আইস অভিযানে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৮

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর একটি গ্রেপ্তার অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।    পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় অবস্থিত ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারের বাইরে প্রায় ২০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা স্ট্যানহোপ ও স্টকহোম স্ট্রিট এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং হাসপাতালের জরুরি প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেন।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার সতর্ক করার পরও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং সরকারি সম্পত্তিতে ক্ষতিসাধন। একজনকে সমন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত হয় নাইজেরিয়ার নাগরিক চিদোজি উইলসন ওকেকেকে আইসের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের পর। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, ওই ব্যক্তি আগে হামলা ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি গাড়ি দিয়ে আইস কর্মকর্তাদের আঘাতের চেষ্টা করেন এবং পরে শারীরিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।   বিভাগটির দাবি, চিকিৎসার জন্য তাকে ওয়াইকফ হাইটস মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে তিনি সেখানে অসংযত আচরণ করেন। এর পরপরই হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আরও জানায়, বিক্ষোভকারীরা আইসের একাধিক গাড়িতে ক্ষতিসাধন করেছে এবং কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে কয়েকজন সামান্য আহত হন। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, এই আইস অভিযানের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো সমন্বয় বা পূর্ব তথ্য ছিল না। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

তাবাস্সুম মে ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ভয়াবহ ‘স্ট্রিট টেকওভার’, পুলিশের গাড়িতে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে অবৈধ ‘স্ট্রিট টেকওভার’ ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোররাত প্রায় দুইটার দিকে মাসপেথ এলাকার ৬৯ স্ট্রিট ও এলিয়ট অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুটি গ্যাস স্টেশনের মাঝামাঝি ওই মোড়ে ডজন ডজন গাড়ি জড়ো হয়ে রাস্তার মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বেপরোয়া ড্রাইভিং শুরু করে। আগুনের রিং ঘিরে গাড়িগুলো ‘ডোনাট’ করতে থাকে এবং শত শত মানুষ ভিড় করে উল্লাস করে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা একটি নীল রঙের গাড়িকে বৃত্তাকারে বেপরোয়াভাবে ঘুরতে দেখেন। এছাড়া একটি রুপালি রঙের বিএমডব্লিউ এক্সথ্রি এবং একটি সাদা বিএমডব্লিউ গাড়িও সেখানে ছিল।   পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুইজন ব্যক্তি একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়ির বনেটে লাফিয়ে উঠে ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটির উইন্ডশিল্ড ফেটে যায় এবং বনেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সন্দেহভাজনরা একটি কালো নিসান গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।   এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আটজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের প্রতি সম্মান কমে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কে এ ধরনের স্ট্রিট টেকওভারের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।   উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলটি কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও উডসাইড এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০