সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

প্রবাসী

জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত
ইতালিতে বাস-স্কুটার সংঘর্ষে প্রাণ গেল ফেনীর প্রবাসী জিয়াউর রহমানের

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় বারি শহরে বাস ও বৈদ্যুতিক স্কুটারের সংঘর্ষে জিয়াউর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে করসো ভিত্তোরিও ইমানুয়েলে ও পিয়াচ্ছা মাসসারির সংযোগস্থলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত জিয়াউর রহমানের বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ সতারা এলাকায়। তিনি বারির একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। প্রবাসে উপার্জন করে দেশে থাকা পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতেন তিনি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় জিয়াউর বৈদ্যুতিক স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় ইতালির স্থানীয় গণপরিবহন সংস্থা আমতাবের একটি বাস মোড় নেওয়ার সময় স্কুটারটি বাসের নিচে ঢুকে পড়ে। এতে তিনি বাসের নিচে আটকে যান এবং কয়েক মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। চিকিৎসাকর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সফল হননি।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলায় সড়কের একটি অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। বাসটি মোড় নেওয়ার সময় কীভাবে স্কুটারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াল, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থলের ট্রাফিক সিগন্যালের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাসচালকের কোনো অবহেলা বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   জিয়াউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। তবে তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানো কিংবা পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীরা মনিটরে লাগেজ  কার্যক্রম দেখতে পারবেন
শাহজালালে লাগেজ ওঠানামার দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন যাত্রীরা, প্রবাসীদের জন্য নতুন উদ্যোগ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো থেকে বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের দৃশ্য সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য আটটি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ৬৫ ইঞ্চির ১৮টি মনিটর স্থাপন করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। লাগেজের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শনিবার, ১৭ অক্টোবর বেবিচকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় লাগেজ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষার সময় যাত্রীরা মনিটরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের কার্যক্রম দেখতে পারবেন।  কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং সংগ্রহের বেল্টে পৌঁছানোর দৃশ্য মনিটরে সরাসরি দেখানো হবে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা লাগেজ পরিবহনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন। লাগেজের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কমানোও এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।    উদ্যোগটির পেছনে রয়েছে লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কাটা ও মালামাল চুরির অভিযোগ প্রতিরোধের সুপারিশ। দ্য ডেলটা লেন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি প্রদর্শনের সুপারিশ করেছিল। বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের মধ্যে এই ব্যবস্থাও ছিল।    বেবিচক আশা করছে, সরাসরি কার্যক্রম দেখানোর ফলে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়বে এবং যাত্রীদের আস্থা জোরদার হবে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক যাত্রীরা যাতে দেশে পৌঁছে স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদিতে প্রবাসীদের পরিবার নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ
ভিসা শেষ হওয়ার আগেই পরিবার নিতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে দেশটির সরকার। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা নিজেদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।   সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নতুন এ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা।   নতুন নিয়মে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে আনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রবেশভিসার আবেদন করতে কর্মীর নিজের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসা কর্মীর কর্মভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গেই সমান্তরালভাবে দেওয়া যেতে পারে। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত সব শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   আগের ব্যবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে কর্মীর নিজের কর্মভিসা সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেই অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যোগ্য বিদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য যাওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের ব্যবস্থাও এগিয়ে নিতে পারবেন।   পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা যাবে। অর্থাৎ প্রবেশভিসা পাওয়ার পরও পরিবারের সদস্যদের বৈধভাবে বসবাসের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে।   সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুবিধা বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাস ও কর্মজীবনকে আরও সহজ করতে পারে।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমানো এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সৌদিতে বসবাসের পরিবেশ আরও সুবিধাজনক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রবেশভিসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ
পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার, সংসদীয় কূটনীতি বাড়ানো, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।   বাংলাদেশে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানান।   বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপরও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।   এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি, একটি ভুলেই জেল ও ডিপোর্টেশন

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা বা কাজের জন্য যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির কথোপকথন বা দেখা করার চেষ্টা করে গুরুতর আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু কোনো অভিযোগ উঠলেই ভিসা বাতিল বা ডিপোর্টেশন নিশ্চিত হয়ে যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। ফৌজদারি মামলার ফল, দণ্ডের ধরন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন শর্তের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে।   ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন সম্মতির সাধারণ বয়স ১৬ বছর। তবে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে। সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট ২০০৩-এর সেকশন ১৫এ অনুযায়ী, যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগ করলে, অথবা শিশুকে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগে উৎসাহিত করলে, অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। এই যোগাযোগ অনলাইন বা অফলাইন দুইভাবেই হতে পারে।   ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু সরাসরি শারীরিক সম্পর্কই আইনি ঝুঁকি তৈরি করে না। যৌন প্রকৃতির মেসেজ, ছবি চাওয়া, যৌন আলাপে উৎসাহ দেওয়া কিংবা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়াও আইনের আওতায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে অভিযুক্তের যৌক্তিক বিশ্বাস ছিল কি না, যোগাযোগের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কী ধরনের বার্তা আদানপ্রদান হয়েছে, এসব বিষয় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সাম্প্রতিক এক মামলায় ৪৮ বছর বয়সী রুহেল মিয়া স্ন্যাপচ্যাটে নিজেকে ১৫ বছরের কিশোর হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিন কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তিনি শিশু যৌন নির্যাতন, শিশুকে যৌন কার্যকলাপে প্ররোচিত করা এবং শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগসহ ১৫টি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উলভারহ্যাম্পটন ক্রাউন কোর্ট তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। মামলাটি শুধু অনলাইন চ্যাটে সীমাবদ্ধ ছিল না, পরে তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে যৌন অপরাধও করেছিলেন।   গ্রেটার ম্যানচেস্টারের আরেক মামলায় স্কট কার্কহ্যাম ভুয়া অনলাইন পরিচয় ব্যবহার করে কিশোরীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ৩০টি অপরাধে দোষ স্বীকার করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত তিন বছর লাইসেন্সের আওতায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন যোগাযোগ, শিশুকে যৌন কার্যকলাপে প্ররোচিত করা এবং শিশুর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপসহ একাধিক অভিযোগ ছিল।   যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত প্রায় এক লাখ রেফারেল এনসিএর কাছে পৌঁছেছে। সংস্থাগুলোর হিসাবে, যুক্তরাজ্যজুড়ে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার সম্ভাব্য অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং আনুমানিক ১ হাজার ২০০ শিশুকে সুরক্ষার আওতায় নেওয়া হচ্ছে।   বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ইমিগ্রেশন ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বর্তমান যুক্তরাজ্য ইমিগ্রেশন রুলস অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক যুক্তরাজ্যে ফৌজদারি অপরাধে দোষী হয়ে অন্তত ১২ মাসের কারাদণ্ড পেলে সাধারণভাবে ডিপোর্টেশনের আওতায় পড়তে পারেন। ২০২৬ সালের ২২ মার্চ বা তার পরে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্তত ১২ মাসের সাসপেন্ডেড সেন্টেন্সও এই নিয়মের আওতায় এসেছে।   তবে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ক্ষেত্রে একই ফল দেয় না। শরণার্থী সুরক্ষা, মানবাধিকার, পারিবারিক জীবন বা আইনে নির্ধারিত অন্য ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে। গুরুতর ক্ষতির অপরাধ বা ধারাবাহিক অপরাধের ক্ষেত্রেও হোম অফিস ডিপোর্টেশন বিবেচনা করতে পারে। ফলে শুধু গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা তদন্ত শুরু হওয়াকেই চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   স্টুডেন্ট, কেয়ার ওয়ার্কার বা অন্য কোনো ভিসায় যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। অনলাইনে কারও বয়স অনুমান করে যৌন আলাপ শুরু করা, সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া, ব্যক্তিগত ছবি চাওয়া বা দেখা করার পরিকল্পনা করা গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।   বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নিজের বয়স বা পরিচয় গোপন করলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই বয়স নিয়ে সন্দেহ থাকলে যৌন প্রকৃতির যোগাযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকাই নিরাপদ। কোনো তদন্ত বা অভিযোগে জড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে দ্রুত যোগ্য সলিসিটর বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   যুক্তরাজ্যে একটি ফৌজদারি দণ্ড শুধু কারাদণ্ডেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। চাকরি, ভিসা, ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন আবেদন এবং দেশটিতে থাকার অধিকারেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই অনলাইনের কয়েকটি মেসেজ বা একটি সাক্ষাৎকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, বিশেষ করে অপর পক্ষের বয়স ১৬ বছরের নিচে হলে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন শহরে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির দৃশ্য
নিউইয়র্কে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ, প্রবাসীদের নজরে ৫ শহর

নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলেই এখনো তুলনামূলক কম দামে নিজের বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হাউজিং মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালোতে বাড়ির দাম নিউইয়র্ক সিটির তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর এসব শহরে বাড়ি কিনেছেন এমন কয়েকজন প্রবাসীর অভিজ্ঞতাও দেখাচ্ছে, সামর্থ্য ও জীবনযাপনের সঙ্গে মিল থাকলে নিউইয়র্ক স্টেটের অন্য শহরেও বাড়ি কেনার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।   এর একটি উদাহরণ জি নাহার। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি তিনি বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি ছোট বাড়ি কিনেছেন। এখন নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন বাড়িটি সাজিয়ে নিচ্ছেন।   আমেরিকা বাংলাকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে জি নাহার বলেন, নিউইয়র্কে এত বছর ভাড়া দিতে যে অর্থ খরচ করেছেন, তার কিছুটা যদি আগে বাড়ি কেনার দিকে দিতে পারতেন, তাহলে হয়তো আরও আগেই নিজের একটি বাড়ি হয়ে যেত। দেরিতে হলেও এখন নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে—এটাই তার কাছে বড় বিষয়। নিজের বাড়ি হওয়ায় সেটিকে নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।   তার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা নিউইয়র্কে বহু বছর ধরে ভাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির দাম দেখে কেনার কথা ভাবছেন না। বিংহ্যামটন নিউইয়র্ক সিটি থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরে হলেও এটি নিউইয়র্ক স্টেটেরই একটি শহর। ফলে শহর বদলালে জীবনযাপনের ধরন, যাতায়াত, চাকরি ও কমিউনিটির সুযোগে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যোগ্য ক্রেতারা স্টেটভিত্তিক কিছু বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।   বিংহ্যামটনের বাড়ির বাজার এখনো তুলনামূলক কম দামের। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সেখানে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯০ ডলার। তবে এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও দাম বাড়ছে।   বিংহ্যামটনে মুসলিম কমিউনিটিরও উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব দ্য সাদার্ন টিয়ারসহ বিভিন্ন ইসলামিক প্রতিষ্ঠান সেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে নিউইয়র্ক সিটি থেকে দূরে গিয়েও মুসলিম পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ পেতে পারে।   শুধু বিংহ্যামটন নয়, বাফালোর অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ভাড়া থাকার পর সম্প্রতি বাফালোতে নিজের বাড়ি কিনেছেন প্রবাসী মামুন চৌধুরী।   মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, তিনি যদি আরও আগে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাহলে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ পেতেন। এখন তাকে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হয়েছে। তার মতে, দুই বছর আগে বা তারও কিছু আগে একই ধরনের বাড়ি আরও কম দামে কেনার সুযোগ ছিল।   তবে বর্তমান বাজার নিয়েও তার অভিজ্ঞতা হলো, বাফালোতে এখনো তুলনামূলক যুক্তিসংগত দামে বাড়ি খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ যারা এখনো বাড়ি কেনেননি, তাদের জন্য বাজার পুরোপুরি নাগালের বাইরে চলে যায়নি।   ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বাফালোর বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮৪৮ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেখানে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে প্রায় ১৫ দিন লাগছে।   বাফালোতে বাংলাদেশি কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন, মসজিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দাম ছাড়াও কমিউনিটি, ধর্মীয় পরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগ অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তালিকার আরেকটি শহর রচেস্টার। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে রচেস্টারে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৮ ডলার। এক বছরের তুলনায় দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাড়িগুলো গড়ে মাত্র ১০ দিনে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার ইঙ্গিত দেয়।   সিরাকিউজে একই সময়ে বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ১১০ ডলার। এক বছরে দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেখানে বাড়ি বাজারে থাকার গড় সময় ২৬ দিন।   অন্যদিকে ইউটিকায় বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ২ লাখ ৯ হাজার ৮৬১ ডলার, যা এক বছরে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৩৫ দিন সময় লাগছে।   পাঁচ শহরের বাজারে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—নিউইয়র্ক সিটির বাইরে গেলে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। মর্টগেজের সুদ, ডাউন পেমেন্ট, প্রপার্টি ট্যাক্স, বাড়ির মালিকের ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির অবস্থা, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং চাকরির সুযোগও হিসাব করতে হবে।   বিশেষ করে বর্তমান মর্টগেজের সুদের হার বাড়ি কেনার মোট খরচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।   নিউইয়র্ক স্টেটের কিছু বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিও যোগ্য ক্রেতাদের জন্য কাজে আসতে পারে। যেমন, সনিমা ডিপিএএল প্লাস ২০২৬ কর্মসূচিতে যোগ্য স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং খরচ এবং নির্দিষ্ট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এই কর্মসূচির জন্য পরিবারের আয় নির্ধারিত এলাকার মধ্যম আয়ের ৬০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং তহবিল শেষ হয়ে গেলে কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের স্টার কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মালিকের বসবাস করা প্রাথমিক বাড়ির জন্য প্রপার্টি ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী বেসিক স্টার ক্রেডিটের আয়ের সীমা ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত। তবে এটি মূলত স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ট্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।   তাই বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা কিংবা বাফালোতে বাড়ি কিনলেই নিউইয়র্ক সিটির সব সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন নয়। বরং এসব শহরে বসবাসের খরচ, চাকরি, যাতায়াত, কমিউনিটি ও স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদা করে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য হলে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রযোজ্য বাড়ি কেনার কর্মসূচি ও কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   জি নাহার ও মামুন চৌধুরীর অভিজ্ঞতা এই আলোচনায় আরেকটি দিক তুলে ধরে। একজন দীর্ঘদিন ভাড়া দেওয়ার পর বিংহ্যামটনে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি কিনেছেন। অন্যজন বাফালোতে বাড়ি কিনে মনে করছেন, আরও আগে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো কম দামে কেনার সুযোগ পেতেন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, নিউইয়র্ক সিটির বাইরে তুলনামূলক কম দামের কিছু বাজার এখনো রয়েছে।   শেষ পর্যন্ত বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রত্যেক পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণের সক্ষমতা, চাকরি ও জীবনযাপনের পছন্দের ওপর। তবে নিউইয়র্কে যারা দীর্ঘদিন ধরে রেন্ট দিচ্ছেন এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তাদের জন্য বিংহ্যামটন, রচেস্টার, সিরাকিউজ, ইউটিকা ও বাফালো হাউজিং মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি শহর হতে পারে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি!
এয়ারপোর্টে ব্যাগেজ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি! প্রবাসীদের জন্য নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম

বাংলাদেশে ফেরার আগে প্রত্যেক প্রবাসীকে অনলাইনে ব্যাগেজ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে, তা না হলে ঢাকার বিমানবন্দরে লাগেজ আটকে যাবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায় শুল্কযোগ্য পণ্য বহনকারী যাত্রীর ব্যাগেজ ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য ফ্লাইটে ওঠার আগেই অনলাইনে ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম সরকারি নির্দেশনায় পাওয়া যায়নি।    খসড়ায় ২০২৪ সালের বিধিমালাকে ‘নতুন নিয়ম’ বলা হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকায় ২০২৫ সালের ৩ জুনের ‘অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫’ও রয়েছে। তাই ভ্রমণের প্রস্তুতিতে শুধু ২০২৪ সালের তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না।    যাত্রীর সঙ্গে শুল্কযোগ্য পণ্য থাকলে তার বিবরণ ও পরিমাণ কাস্টমসকে জানাতে হবে। কোনো পণ্য ঘোষণা করতে হবে কি না বা সেটির জন্য শুল্ক দিতে হবে কি না, তা পণ্যের ধরন ও প্রযোজ্য ব্যাগেজ বিধির ওপর নির্ভর করে। শুধু ফর্ম পূরণ না করার কারণে সব যাত্রীর মোবাইল, স্বর্ণ ও লাগেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে—এমন দাবি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মেলে না।    বৈদেশিক মুদ্রার ঘোষণা ব্যাগেজ ঘোষণার আলাদা বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বেশি সঙ্গে আনলে আগমনের সময় কাস্টমসের কাছে নির্ধারিত ফর্মে ঘোষণা দিতে হবে। খসড়ায় ৫ হাজার ডলার থেকে ঘোষণা বাধ্যতামূলক বলা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় সীমা ১০ হাজার ডলার।    দেশে ফেরার সময় শুল্কযোগ্য পণ্য বা ঘোষণাযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে থাকলে কাস্টমসের কাছে সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি। আর ভ্রমণের আগে ব্যাগেজ সুবিধা ও ঘোষণার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম দেখে নেওয়াই বিভ্রান্তি এড়ানোর উপায়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ
সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ নিহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. আলমগীর ও মো. ফরহাদ। তাদের দুজনের বাড়িই গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকায়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কোন স্থানে, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   দুর্ঘটনার পর আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ রিয়াদের সুমাইসি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে তাদের স্বজনদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।   তাদের মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম (করিম উদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।   সর্বশেষ রিয়াদের দুর্ঘটনায় নিহত আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া বা জানাজার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: প্রথম আলো
৪০তম ফোবানায় প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ জানালেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানা সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শুক্রবার সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়।   প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চারজন সচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ সেল কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রবাসীরা তাদের অভিযোগ ইমেইলের মাধ্যমে পাঠালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।   দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। বিনিয়োগের আগে তাদের প্রয়োজনীয় চেকলিস্ট দেওয়া হবে, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয় এবং অযথা সময় নষ্ট না হয়।   প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন।   বিদেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশনে প্রবাসীরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে ফোবানার নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবাল বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।   তিন দিনের এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশীয় খাবার, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের স্টলসহ নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের হিলটন ইউনিভার্সেল হোটেলকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।   সূত্র: প্রথম আলো

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা করার অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি।   ১. ক্লিনিং ব্যবসা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।   ২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে।   ৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   ৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।   ৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়।   ৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না।   ৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।   ৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।   ১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়।   ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত।   প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।   নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা
প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে যুগান্তকারী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ইতিপূর্বে নাগরিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালুর যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, প্রবাসী কার্ড মূলত তারই একটি ধারাবাহিক পদক্ষেপ।   এই কার্ডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো রেমিট্যান্সে বাড়তি আর্থিক সুবিধা প্রদান। বর্তমানে প্রবাসীরা বৈধ পথে দেশে টাকা পাঠালে আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা পেয়ে থাকেন, তবে প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য এই প্রণোদনা বাড়িয়ে ৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া এটি একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হওয়ায় প্রবাসীরা বিদেশে বসে কেনাকাটা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সহজেই পরিবার-পরিজনের কাছে অর্থ প্রেরণ করা তাদের জন্য অনেক বেশি সহজতর হবে।   আর্থিক সুবিধার বাইরেও এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে লাউঞ্জ ব্যবহার এবং ইমিগ্রেশনে নানা ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কার্ডধারীরা বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে পাবেন বিশেষ ছাড়। এছাড়া এই কার্ডে বিএমইটি সংশ্লিষ্ট বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর আওতায় কোনো প্রবাসী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে বা দেশে ফিরে এলে তার সামাজিক সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিও নিশ্চিত করা হবে।   সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল-এর মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশে অবস্থানরত ৫ হাজার প্রবাসী কর্মীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধন করে বৃহৎ পরিসরে এর কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি বছরের মধ্যেই ২ লাখ প্রবাসীকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি আরও সচ্ছল হয়ে উঠবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত

ইতালিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করে ইতালীয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নেয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পুলিশের তথ্য এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   মঙ্গলবার ভেনিস বিমানবন্দর থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওই বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়। ইতালির আদালতের গোপনীয়তা নীতির কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সূত্রে জানা গেছে, তার নাম মাসুম মিয়া (৫৫)। তার বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার চল্লাবাজ এলাকায়। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গোরিৎসিয়া প্রদেশের মনফালকোন এলাকার একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন।   তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও তাকে চড়, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।   এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গোরিৎসিয়া আদালত তাকে ৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ত্রিয়েস্তে আপিল আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।   রায়ের পর ভুক্তভোগী নারী ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরিৎসিয়া পুলিশের অভিবাসন বিভাগ তাদের একটি নারী সহায়তা কেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ওই বাংলাদেশির ইতালিতে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়। পরে গোরিৎসিয়ার প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করেন। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই মঙ্গলবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।   এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মনফালকোনের সাবেক মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট বলেন, যারা নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি সম্মান দেখায় না, তাদের ইতালিতে থাকার অধিকার নেই।   মনফালকোনের বর্তমান মেয়র লুকা ফাসানও ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পরিবারে নারী নির্যাতনের কোনো স্থান নেই। ইতালিতে বসবাস ও কাজ করতে চাইলে দেশটির আইন এবং সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।   এদিকে মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের কনসাল শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই বহিষ্কারের বিষয়ে ইতালীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবহিত করেনি। তবে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতালির আইন মেনে চলা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসীর বসতবাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা
দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ, ক্ষোভে গুঁড়িয়ে দিল বাড়ি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রথম স্ত্রীকে গোপনে পুনরায় বিয়ে করে বিদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ি ভাঙার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে খেজুরতলা গ্রামের সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী রফিকুল ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রফিকুল মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। পরে সোনিয়ার বিরুদ্ধে অন্য এক প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে থানায়ও অভিযোগ হয়। পরবর্তীতে রফিকুল সোনিয়াকে তালাক দিয়ে একই এলাকার মুকুল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই সংসার প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়।   স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ দিন আগে রফিকুল গোপনে তার প্রথম স্ত্রী সোনিয়াকে আবার বিয়ে করেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে ভেকু দিয়ে রফিকুলের বসতবাড়ি ভেঙে ফেলেন।   বাড়ি ভাঙার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওতে একটি বসতবাড়ি ভারী যন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলতে দেখা যায়।   স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দীন বলেন, সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন ভেকু দিয়ে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, প্রথম স্ত্রীকে গোপনে বিয়ে করে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজন এ কাজ করেছেন।   তিনি আরও বলেন, যদি রফিকুল প্রতারণা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কারও বসতবাড়ি ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মুকুল হোসেন দাবি করেন, রফিকুল তার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে করার পর আবার গোপনে আগের স্ত্রীকে বিয়ে করে বিদেশে নিয়ে গেছেন। এতে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   রফিকুল ইসলাম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকায় তার বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পারিবারিক বিরোধ বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এখন অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে পুলিশ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
উইল ছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
উইল ছাড়াই সম্পত্তির উত্তরাধিকার: নিউইয়র্কের আইন নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা দিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার

নিউইয়র্কে কোনো ব্যক্তি উইল (Will) ছাড়া মারা গেলে তার সম্পত্তি কীভাবে বণ্টন হয়—এ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতামূলক একটি তথ্যবহুল পোস্ট প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি আইনজীবী মোহাম্মদ মুজুমদার।   নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নিউইয়র্কে কেউ উইল না করেই মারা গেলেও তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারহীন হয়ে যায় না। বরং নিউইয়র্কের Estates, Powers and Trusts Law (EPTL)-এর Intestacy আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আইনই নির্ধারণ করে দেন কারা সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হবেন।   পোস্টে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির কেবল স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে তিনি পুরো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। যদি স্বামী বা স্ত্রীর পাশাপাশি সন্তানও থাকে, তাহলে স্বামী বা স্ত্রী প্রথম ৫০ হাজার ডলার এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির অর্ধেক পান। বাকি অর্ধেক সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়।   অন্যদিকে, স্বামী বা স্ত্রী না থাকলেও সন্তান থাকলে সন্তানরাই পুরো সম্পত্তি সমানভাবে উত্তরাধিকার হিসেবে পান। আর স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান কেউ না থাকলে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বণ্টিত হয়।   মোহাম্মদ মুজুমদার তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, অবিবাহিত জীবনসঙ্গী, বন্ধু, আইনিভাবে দত্তক না নেওয়া সৎ সন্তান কিংবা শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা সাধারণভাবে নিউইয়র্কের ইনটেস্টেসি আইনের অধীনে স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন না। আর যদি আইন অনুযায়ী কোনো যোগ্য উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি নিউইয়র্ক স্টেটের অধীনে চলে যেতে পারে, যা আইনি পরিভাষায় ‘এসচিট’ (Escheat) নামে পরিচিত।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের মধ্যেই উইল ও উত্তরাধিকার আইন নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ ও আইনি জটিলতা এড়াতে সম্পদের মালিকদের জীবদ্দশায় একটি বৈধ উইল তৈরি করা এবং প্রয়োজনে এস্টেট পরিকল্পনা বিষয়ক আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   পোস্টের শেষে মোহাম্মদ মুজুমদার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিভেদে আইনি পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো আইনি বা আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা পেশাদারের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটকদের চাহিদায় বাফালো অঞ্চলে বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটক, বাফালোর সাশ্রয়ী বাড়ি নিয়ে এয়ারবিএনবি বিনিয়োগে কেন বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ

বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন।   অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।   স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর।   কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে।   রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ; সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে আগুন, পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভেনিয়া: পেনসিলভেনিয়ার নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ভবনের কাছে এসে আগুন লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজ তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেটির ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।   এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিটির নেতারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ আগুন লাগার কারণ বা এটি অগ্নিসংযোগ ছিল কি না—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীবৃন্দের একাংশ। আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়ায় গাজী ফাউন্ডেশনের বিশেষ বারবিকিউ পার্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিশেষ বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছে গাজী ফাউন্ডেশন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় লাকি সোলস পার্কে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মৌসুমি ফলমূল ও চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   আয়োজকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের মতে, এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এ ধরনের মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠান শেষে গাজী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম গাজী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকের বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা | ছবি: সংগৃহীত
লং আইল্যান্ডে গাজীপুর সোসাইটির বর্ণাঢ্য বনভোজন, প্রবাসীদের প্রাণবন্ত মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গাজীপুর সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ জুন নিউইয়র্কের অদূরে লং আইল্যান্ডের মনোরম হেকশেয়ার স্টেট পার্কে আয়োজিত এ বনভোজনে গাজীপুরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইঞ্জিনিয়ার আকাশ রহমান এবং এশা রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।   পিকনিক কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোমেন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক এস আনোয়ার ইবনে আলী। আয়োজনের আহ্বায়ক ছিলেন চাঁদ মিয়া এবং সদস্য সচিব ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান (ভূইয়া শাহীন)। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান বকসি। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. জহিরুল হক।   অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পনসর ছিল আশা গ্রুপ। এছাড়া নাইম এস আহমেদ, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীসহ আরও অনেকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জালাল উদ্দিন আহমদ, ওয়াদুদ ভূইয়া, কামরুজ্জামান, ফরিদ আহমেদ, শাহীন, বিপ্লব, রশিদ, কবির, কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন এবং আব্দুর রাজ্জাক।   বনভোজনে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গাজীপুর সোসাইটির সভাপতি মোমেন সরকার বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে সদস্যদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে হবে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।   বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার আকাশ রহমান বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও গাজীপুরবাসী এবং দেশের অসহায় মানুষের পাশে থাকতে তারা সবসময় কাজ করবেন। তিনি জানান, আশা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ও বিপদগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী প্রবাসীরা অংশ নেন। ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ এবং আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র। সংগীত পরিবেশন করেন নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, মরিয়ম মরিয়া, অর্ণব, শান্তুনু, মনির ও দাউদ।   কোলাহলমুক্ত পরিবেশে দিনভর আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজকদের ভাষ্য, এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

তাবাস্সুম জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।   বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।   উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।   অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

Unknown জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে ছেড়ে কতদিন প্রবাসে থাকা জায়েজ? যা বলছে ইসলামী শরিয়ত

জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে বা দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করা অনেক মানুষের বাস্তবতা। তবে দীর্ঘ সময় স্ত্রী ও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা নিয়ে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।   হানাফি ফিকহের আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্য রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার অংশ। এ কারণে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দীর্ঘ সময় তার কাছ থেকে দূরে থাকা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।   ইসলামী শরিয়তের সাধারণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি ছাড়া স্বামীর চার মাসের বেশি সময় দূরে অবস্থান করা সমীচীন নয়। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুমতি দেন এবং এতে কোনো ধরনের পারিবারিক বা নৈতিক সমস্যার আশঙ্কা না থাকে, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে চার মাসের বেশি সময় প্রবাসে থাকা বৈধ হতে পারে।   তবে ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। বরং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়।   ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ দূরত্বের কারণে যদি স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ নৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক সংকট বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকেন, তাহলে দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা উচিত নয়। এমনকি ঝুঁকি প্রবল না হলেও যদি বাস্তব কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব পারিবারিকভাবে একত্রে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বর্তমান সময়ে লাখো বাংলাদেশি জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এ বাস্তবতার আলোকে আলেমরা মনে করেন, প্রবাসজীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যদি কর্মস্থলের পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তাহলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। তা সম্ভব না হলে সুযোগ পেলেই পরিবারের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত।   তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করতে হলে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর আন্তরিক সম্মতি, উভয়ের নৈতিক নিরাপত্তা, পরিবারের ভরণ-পোষণের যথাযথ ব্যবস্থা, সন্তানদের শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা।   আলেমদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দূরত্ব থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর খোঁজখবর নেওয়া, তার মানসিক চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্ককে সক্রিয় রাখা। পবিত্র কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তম আচরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।”   ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানসিক সঙ্গ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত যোগাযোগও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকলেও পরিবার ও দাম্পত্য অধিকারের বিষয়টি সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।   সবশেষে আলেমদের পরামর্শ হলো, প্রবাসজীবনের পরিকল্পনা করার সময় শুধু উপার্জনের বিষয় নয়, বরং পারিবারিক স্থিতি, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং নৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই সাথে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় আজ রোববার (২১ জুন) সকালের দিকে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ও রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ মোট ছয়জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিশিয়াল বিবৃতির বরাতে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এই বাংলাদেশি প্রবাসীরা সবাই কাতারের স্থানীয় একটি বড় দুগ্ধজাত বকরি খামারে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। আজ সকালে কাজ করার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথেই মূলত তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ও আন্তরিক তৎপরতায় প্রাথমিকভাবে নিহত পাঁচজন ভাগ্যহত বাংলাদেশির সম্পূর্ণ পরিচয় এবং দেশের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার সবার বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে। তারা হলেন—সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বিখ্যাত গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং কাদের আহমদ। একই এলাকার এবং একই গ্রামের পাঁচজন টগবগে যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আজ দুপুরে সিলেটে পৌঁছানোর পর পুরো কানাইঘাট উপজেলা জুড়ে এক শোকার্ত ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে গাছবাড়ি গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।   কাতার থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহের জন্য কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দেশটির সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। একই সাথে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। কাতার পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার শিকার দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।   বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা নিহত এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহগুলো যত দ্রুত সম্ভব সব ধরণের আইনি প্রক্রিয়া আইনিভাবে শেষ করে বিমানযোগে বাংলাদেশে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহতদের কফিল বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আইনানুযায়ী বকেয়া বেতন এবং যথোপযুক্ত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বা ইন্সুরেন্সের টাকা আদায় করার বিষয়েও দূতাবাস কাতার সরকারের সাথে আলোচনা করছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০