মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি।   সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভিসানীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করবে, তার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিও বাড়ানো প্রয়োজন।   তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু না কেনে, তাহলে সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না।   ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে এর শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এসব সংস্কার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতো।   তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া প্রয়োজন।   ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।   প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।   স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খুব শিগগিরই পাঁচ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।   আলোচনার শেষদিকে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু (ডানে) ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন | ছবি: সংগৃহীত
ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) ভূমি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজস্ব অফিসকক্ষে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনও মন্ত্রীর কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।   সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। দুই দেশের এই সুসম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে তিনি বিশেষ করে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত পারস্পরিক সহযোগিতা, যুবকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানান।   বৈঠকের একপর্যায়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাংলাদেশের সার্বিক ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং এর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার ব্যাপারে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। ভূমিসেবা আধুনিকীকরণের এই চলমান কার্যক্রমকে বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ভিস ডিজিটালাইজেশন বা ডিজিটাল ভূমিসেবা দেশের সাধারণ জনগণকে সরাসরি ক্ষমতায়িত করে এবং সরকারের সব উদ্যোগের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।   প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই ডিজিটাল সেবার ফলে সমাজে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য বহুলাংশে কমে যায়। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ বছর ধরে যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, তা ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।   সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আগামীতে আরও বেশি গতিশীল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, সার্বিক মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করেছে, ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎকালে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বৈঠক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।   বৈঠকে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন।   গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সুশাসন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও এই কূটনৈতিক আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আইনসভা অধিবেশনের অগ্রগতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।   বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।

তাবাস্সুম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস। ছবি: ঢাকার মার্কিন দূতাবাস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।   স্মৃতিবিজড়িত উপহার ও কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তিনটি বিশেষ উপহার তুলে দেন: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের একটি ঐতিহাসিক ছবি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের একটি ছবি। হোয়াইট হাউসের একটি বিশেষ রেপ্লিকা। এই উপহারগুলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।     আলোচনার মূল বিষয়বস্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো ছিল: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ। জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। প্রযুক্তি ও উন্নয়ন: প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা। মানবিক সহায়তা: রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।     মার্কিন দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া সাক্ষাৎ শেষে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস এক বার্তায় বলেন: "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।" বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০