রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তা নেমেছে সর্বনিম্নে

ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।   ছয় দিনব্যাপী জাতীয় এই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা এক মাস আগের মতোই। তবে এটি তার মেয়াদকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বোচ্চ অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।   ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ, যা তার অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর।   ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি জনসমর্থনও সীমিত। জরিপে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ হামলাকে সমর্থন করেছেন, তবে মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এটি ব্যয়ের তুলনায় সার্থক হয়েছে। জরিপে ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে “শান্ত স্বভাবের” নেতা হিসেবে দেখেন। গত এক বছরে তার মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।   এদিকে ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপ লিও সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার ৩৬ শতাংশ।   নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে আরও নিরাপদ করবে। একইসঙ্গে অধিকাংশই ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক এই তিনটি বড় ইস্যুতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘আরেকটু সময় পেলেই হরমুজ খুলে তেল নিতে পারব’, ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের দাবি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও কিছু সময় পেলে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে এবং সেখান থেকে তেল আহরণ করতে পারবে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আরেকটু সময় পেলে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে, তেল তুলে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটা বিশ্বের জন্য আনন্দের হবে।” তবে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই স্পর্শকাতর নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তা উন্মুক্ত করবে বা কোন তেলের কথা তিনি বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শক্ত অবস্থানের মুখে ট্রাম্পের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সংঘাত নিরসন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণাকে সেই চাপের মুখে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে অন্যদের রপ্তানি ব্যাহত, ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক

ইরানের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ জলপথে তেহরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলায় উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রয়টার্সের একটি ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।   মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডটকম’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটি প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তেল ও গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ বহরের গতিবিধি শনাক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভেসেল ট্র্যাকিং সেবা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১১ দিনে ইরানের রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল।     ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।   তবে ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য কোনো হস্তক্ষেপ বা জাহাজ জব্দের ঘটনা না ঘটায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেসের পরিচালক ডেভিড টানেনবাম বলেন, গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের পরও ইরানের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া আশ্চর্যজনক।     জাহাজ ও নৌ-বিশেষজ্ঞ মাতিয়াস টোনি মনে করেন, ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার থামানোর চেষ্টা করলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরও বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিপিং ফাইন্যান্সিয়ার জেমস লাইটবোর্ন বলেন, যতদিন ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের জাহাজ সচল রাখতে পারছে, ততদিন তারা প্রণালী আংশিকভাবে উন্মুক্ত রাখতে চাইবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ট্যাঙ্কার জব্দ করা শুরু করে, তাহলে ইরান মাইন পেতে পুরো প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।     ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চের মধ্যে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। গত বছর দেশটির গড় দৈনিক রপ্তানি ছিল ১৬.৯ লাখ ব্যারেল। স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের খার্গ আইল্যান্ড রপ্তানি কেন্দ্রে এখনও বড় বড় তেলবাহী জাহাজে তেল লোড করতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামনে রপ্তানির গতি আরও বাড়তে পারে।   কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারিতেই ইরান তাদের রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ২১.৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছিল। এমনকি ১৬ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত সপ্তাহে দেশটি রেকর্ড ৩৭.৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অন্তত ছয়টি তেলের ট্যাঙ্কার ইরান ছেড়েছে, যার মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘কুমা’ নামের জাহাজও রয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার আরও দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ট্যাঙ্কার কার্গো নিয়ে ইরান ত্যাগ করেছে। শিপিং সূত্র জানায়, এসব জাহাজ মূলত ইরানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ১২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার ভেতর দিয়ে চলাচল করছে, যা তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ভারতীয় ট্যাঙ্কার চলাচলে ইরানের অনুমতির দাবি

ভারত নিজেদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, সেই জলপথ পার হওয়ার জন্য ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরান অনুমতি দেবে বলে বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে ইরানের বাইরের একটি সূত্র এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ আলোচনাটি ছিল জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।     সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সায়াল বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সময়ের আগে হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপের পর ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।   ভারতের এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের অনিরাপদ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে কোনো পক্ষই ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি।     এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে প্রথম ভারতীয় জাহাজ হিসেবে ‘শেনলং’ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কারটি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জন্য তেল বহন করে এনেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।   যুদ্ধ শুরুর পর একটি ইরানি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভেড়ার পর সেখান থেকে ১৮৩ জন ইরানি নাবিককে ভারত নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নৌ-মহড়া শেষে তিনটি ইরানি জাহাজকে ভারত ডক করার অনুমতি দেয়, যার মধ্যে একটি পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায় এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বুধবার ভারতগামী একটি থাই জাহাজে হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট
রয়টার্সকে তারেক রহমান: বিএনপি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই বলে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান। একই সঙ্গে তিনি দলের এককভাবে নির্বাচনে জয় লাভের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথাও প্রকাশ করেছেন।   ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।   ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। যদিও একসময় এই দল নিষিদ্ধ ছিল, বর্তমানে তাদের পুনরুত্থান ঘটেছে। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একত্রে দেশ শাসন করেছে। জামায়াত জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে তারা ঐক্য সরকারের অংশীদার হতে রাজি রয়েছে। তবে তারেক রহমান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।   তারেক রহমান বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি তারা বিরোধী দল হয়, আশা করি ভালো বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।   তিনি জানান, বিএনপি নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী লড়ছেন, বাকি আসনগুলোতে তাদের জোট শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   তারেক রহমান বিদেশি অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কেও বলেন, জয়ী হলে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে উপযুক্ত অংশীদারের সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি ও দেশকে সমৃদ্ধ করতে যে কোনো উপযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের দিকে ঝুঁকব না।   শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদি জনগণ তাদের গ্রহণ করে, তাহলে তাদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে।   আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে তাদের জয় এবং একক সরকার গঠনের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0