সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

রিয়েল এস্টেট

বাড়ির দাম বাড়ার আগে সম্ভাবনাময় ৯ শহর চিহ্নিত করেছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।   সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।   র‍্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা   তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র‍্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র‍্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, মিশিগান   মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে।   গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা   সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্পোকেন, ওয়াশিংটন   যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চ্যাটানুগা, টেনেসি   টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।   রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া   ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   এথেন্স, জর্জিয়া   জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন।   হিউস্টন, টেক্সাস   টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সিনসিনাটি, ওহাইও   ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র‍্যালি, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।   রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।   এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।   স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।   এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।   এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।   ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।   ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।   নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।   তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।   এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।   শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের হর্টনে পাইন হিল লেকের তীরে নির্মিত বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে লেকের নীল পানির পাশে একটি বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়, দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে।   জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না।   বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান।   বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।   বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।   প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।   বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।   প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়।   এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা।   বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে।   লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে।   বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে।   লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির দাম আবাসন বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির সবচেয়ে খারাপ সময় এখন? নতুন প্রতিবেদনে যা জানা গেল

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এখন বাড়ি বিক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। উচ্চ বাড়ির দাম, বেড়ে যাওয়া মর্টগেজ সুদের হার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দর-কষাকষির ক্ষমতা এখন অনেকটাই ক্রেতাদের হাতে চলে গেছে।   আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় বাড়ি ক্রেতার সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৯ লাখ ৬৭ হাজারে। ২০১৩ সালে রেডফিন এ তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এটিই সর্বনিম্ন। একই সময়ে বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে সারাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ বেশি বিক্রেতা বাড়ি বিক্রির অপেক্ষায় ছিলেন।   রেডফিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যারিল ফেয়ারওয়েদার বলেন, গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মর্টগেজ সুদের হার কিছুটা কম থাকায় বাজারে তুলনামূলক বেশি ক্রেতা এসেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে সুদের হার এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সঙ্গে বাড়ির দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবারের জন্য মাসিক কিস্তি বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে।   রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে সক্রিয় ক্রেতার সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ক্রেতার সংখ্যা কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, অথচ একই সময়ে বিক্রেতার সংখ্যা কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এতে বাজারে বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।   ড্যারিল ফেয়ারওয়েদারের ভাষায়, "যখন একই ধরনের বাড়ির জন্য ক্রেতা কম থাকে, তখন যারা বাজারে থাকেন, তারা আরও বেশি বিকল্প পান। ফলে তারা দাম কমানো, বিক্রেতার অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া বা অন্যান্য শর্ত নিয়ে দর-কষাকষিতে বেশি সুবিধা পান।"   প্রতিবেদন বলছে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি বড় আবাসন বাজারের মধ্যে ৩৯টিকেই 'ক্রেতার বাজার' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব এলাকায় বাড়ির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   মহামারির সময় যেসব শহরে আবাসন বাজার ছিল সবচেয়ে উত্তপ্ত, সেসব এলাকার অনেকগুলো এখন উল্টো চিত্র দেখছে। ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এমন বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি, টেনেসির ন্যাশভিল এবং টেক্সাসের হিউস্টন, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিন।   টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাই মাসে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা ছিল ১৩০ শতাংশ বেশি। সান অ্যান্টোনিওতে এই ব্যবধান ছিল ১১৬ শতাংশ এবং অস্টিনে ১১২ শতাংশ। রেডফিনের মতে, এসব এলাকায় মহামারির সময় ব্যাপক হারে নতুন আবাসন নির্মাণ এবং বিনিয়োগের ফলে এখন বাজারে একসঙ্গে অনেক বাড়ি বিক্রির জন্য এসেছে। একই সময়ে উচ্চ সুদের কারণে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা চাপে পড়েছেন।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ছয়টি বাজারকে 'বিক্রেতার বাজার' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নাসাউ কাউন্টি সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সেখানে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা ৩৬ শতাংশ কম। এরপর রয়েছে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক এবং রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স। বিশ্লেষকদের মতে, এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি সীমিত থাকায় সরবরাহ তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে বড় কর্মসংস্থান কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় ক্রেতার চাহিদাও শক্তিশালী রয়েছে।   আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ, বাড়ির উপস্থাপনা উন্নত করা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। অন্যদিকে যেসব ক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজারে আগের তুলনায় ভালো শর্তে বাড়ি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: রেডফিন, নিউইয়র্ক পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মেইনের বাথ শহরের শতবর্ষী ‘ডিয়ারিং হাউস’ মাত্র ১ ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে আস্ত একটি ঐতিহাসিক বাড়ি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্যি। তবে জলের দরে এই বাড়িটি কেনার জন্য ক্রেতাকে মানতে হবে একটি কঠিন শর্ত। শর্তটি হলো, কেনার পর আস্ত বাড়িটিকে তার বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় বাড়িটি চিরতরে ভেঙে ফেলা হবে।   ‘জাহাজের শহর’ (সিটি অব শিপস) হিসেবে পরিচিত মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরের ৬০৬ ওয়াশিংটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই বাড়িটির নাম ‘ডিয়ারিং হাউস’। এটি ১৯০০ সালের দিকে নির্মিত। প্রখ্যাত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল ডায়নামিকস বাথ আয়রন ওয়ার্কস’ গত বুধবার এক ঘোষণায় জানায়, তারা দুটি আবাসিক ভবন মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে এই ঐতিহ্যবাহী ডিয়ারিং হাউসটিও রয়েছে।   সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমটিডব্লিউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রির চুক্তিতে বলা হয়েছে, ক্রেতাকে ২০২৭ সালের ২০ নভেম্বরের মধ্যে আইনি বৈধতা রয়েছে এমন কোনো স্থানে ভবনটিকে স্থানান্তর করতে হবে। বর্তমানে বাড়িটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০২৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এটি বর্তমান ভাড়াটেদের কাছে লিজ দেওয়া রয়েছে।   এই বাড়িটির রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ইতিহাস। এটি মূলত গার্ডিনার জি. ডিয়ারিংয়ের বাসভবন ছিল। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন বিশিষ্ট জাহাজ নির্মাতা, যিনি ১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুর দিকে বাথ শহরকে জাহাজ নির্মাণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ৯৯টি জাহাজ তৈরি করেছিলেন। কেনেবেক নদীর তীরে একটি শিপইয়ার্ড পরিচালনা করতেন তিনি। বাথ শহরের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ১৮৫৪ সালে কাঠের তৈরি জাহাজ নির্মাণে নিউইয়র্ক এবং বোস্টনের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাথ শহরের অবস্থান ছিল তৃতীয়। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই শিল্প শহরটিতে ব্যাপক সমৃদ্ধি এনেছিল।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, ভবনটি যে অবস্থায় আছে ঠিক সেভাবেই বিক্রি করা হবে। এর কোনো গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি থাকবে না। বাড়িটি সরানোর সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। এর মধ্যে প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রাকচারাল মুভার্স ভাড়া করা, পরিবহন, নতুন স্থান প্রস্তুতকরণ, ভিত্তি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি কেউ এই ঐতিহাসিক বাড়িটি কিনে রক্ষা করতে এগিয়ে না আসেন, তবে নতুন স্থাপনা তৈরির জন্য এটি ভেঙে ফেলা হবে।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস-এর ফ্যাসিলিটিজ ক্যাপিটাল ডিরেক্টর জোলেন নিকারসন বলেন, একটি কোম্পানি হিসেবে আমাদের বেড়ে ওঠা এবং স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটা জরুরি। সে জন্যই আমরা আমাদের স্থাপনাগুলোর উন্নয়নের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এমন কেউ এগিয়ে আসবেন, যাঁর এই বাড়িটি স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে এবং আর্থিকভাবেও তিনি সক্ষম। এটি হলে বাড়িটির ঐতিহাসিক আবেদন রক্ষা পাবে, যা নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরাও বেশ আগ্রহী।   প্যাটেন ফ্রি লাইব্রেরির আর্কাইস্ট এবং স্পেশাল কালেকশন লাইব্রেরিয়ান জ্যাক মার্টিন মনে করেন, বাড়িটি রক্ষা করা গেলে এর নতুন মালিক বাথ শহরের ইতিহাসের একটি অনন্য অংশের অংশীদার হবেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে কেবল একটি অদ্বিতীয় বাড়িই থাকবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে এক চমৎকার গল্প। একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করার এই উদ্যোগ সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর একটি ব্যাপার।   বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ভবনটি কেনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে মেইন অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক বাড়ি স্থানান্তরের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কেনেবেক জার্নালের তথ্যমতে, গত মে মাসে অগাস্টা শহরে ১৮৯৯ সালে স্থপতি জন ক্যালভিন স্টিভেন্সের নকশা করা ৬ হাজার ২০০ বর্গফুটের তিনতলা একটি বাড়ি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড ওজনের ওই ভবনটিকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন জায়গায় নেওয়া হয়। ব্যয়বহুল ওই স্থানান্তর প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ৫ লাখ ডলারেরও বেশি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা উপকূলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসেল’ প্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল এস্টেট বাজারে সম্প্রতি একটি নজরকাড়া বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। সাগরের তীরে অবস্থিত ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি এই প্রাসাদের দাম হাঁকা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে লা জোলা উপকূলে অবস্থিত এই বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে 'দ্য স্যান্ড ক্যাসল'। ইউরোপীয় আভিজাত্য এবং সাগরের তীরের প্রশান্তির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে এটি অন্যতম একটি উচ্চাভিলাষী আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।   গত ২০২৪ সালে বাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে ২০২৬ সালে এসে এর দাম কিছুটা কমিয়ে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখনও সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দেওয়া তথ্যমতে, দ্য স্যান্ড ক্যাসল তার আকার এবং সুযোগ সুবিধার দিক থেকে সত্যিই অসাধারণ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে উপকূলীয় উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, সমুদ্রের তীরে এত বড় পরিসরের কোনো আবাসিক সম্পত্তি নতুন করে নির্মাণ করা এখন প্রায় অসম্ভব।   বিশাল এই সম্পত্তিতে মূল ভবনের পাশাপাশি অতিথিদের থাকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাড়ি রয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি এনস্যুট বেডরুম এবং ১৪টি আধুনিক বাথরুম। প্রতিটি ঘর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে খরচের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। উনিশ শতকের প্রাচীন আসবাবপত্র, চমৎকার সোনালি রঙের কারুকাজ এবং দৃষ্টিনন্দন মোজাইকের সঙ্গে আধুনিক স্মার্ট হোম প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয় ঘটানো হয়েছে পুরো বাড়িটিতে।   বাড়িটির বর্তমান মালিক ডারউইন ডেসন। তিনি অ্যাফিলিয়েটেড কম্পিউটার সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা, যা তিনি ২০০৯ সালে জেরক্সের কাছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে তিনি দ্য স্যান্ড ক্যাসল এবং এর পাশের একটি জায়গা কিনেছিলেন। মূলত ২০০৫ সালে সান দিয়েগোর ডেভেলপার ডাগ ম্যানচেস্টার এটি নির্মাণ করলেও ডারউইন ডেসন তার স্বপ্নের রূপ দিতে সেরা পেশাদারদের একত্রিত করেন। আইল্যান্ড আর্কিটেক্টসের স্থপতি ড্রেক্স প্যাটারসন এবং বিশ্বখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার টিমোথি কোরিগান এই প্রাসাদের নকশা ও অন্দরমহল সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন।   ফরাসি রাজপ্রাসাদ, বিশেষ করে ভার্সাই এবং এর বিখ্যাত পেটিট ট্রায়ানন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচ হাউসের আরামদায়ক পরিবেশও বজায় রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে একটি সুইমিংপুল, ফিটনেস সেন্টার, দুটি ক্যাবানা এবং একটি ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত। প্রশান্ত মহাসাগর এবং চারপাশের উপকূলের বাধাহীন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।   সমুদ্রের ১৬৩ ফুট অংশ জুড়ে থাকা এই সম্পত্তির সুরক্ষায় ১৯৫০-এর দশকে তৈরি একটি ঐতিহাসিক সীওয়াল বা সমুদ্র প্রাচীর রয়েছে। এছাড়া বাইরের অংশে রয়েছে সমুদ্রমুখী বারান্দা, একটি বোটহাউস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া সামুদ্রিক গুহা। বাড়িটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যক্তিগত উঁচু একটি ছাদ বা টেরেস। সেখানে ব্যবহৃত সাদা বালি আনা হয়েছে বিখ্যাত অগাস্টা ন্যাশনাল গলফ কোর্সের বালুর টেক্সচার ও গুণগত মানের সঙ্গে মিল রেখে। এছাড়া বড় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে একটি বিশাল ও বিলাসবহুল শোরুম।   বর্তমানে এই সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন কম্পাস এজেন্সির প্রতিনিধি ব্রেট ডিকিনসন এবং রস ক্লার্ক। তাদের মতে এটি সান দিয়েগো কাউন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামি আবাসিক সম্পত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় আবাসন বাজারে বাড়ির দামে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে নতুন বিশ্লেষণে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সুযোগ! চাওয়া দামের নিচেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি।   রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি।   ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ।   এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে।   রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ।   বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে।   অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।   তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক জিপ কোড। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা, শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন

দুই বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক জিপ কোডের তালিকায় শীর্ষস্থান হারিয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামির ফিশার আইল্যান্ড। এবার সেই অবস্থান দখল করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ছোট শহর অ্যাথারটন। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের দ্রুত উত্থান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিপুল সম্পদ বৃদ্ধিই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।   রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্রপার্টিশার্ক এবং সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অ্যাথারটনের (জিপ কোড ৯৪০২৭) বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। সান মাতেও কাউন্টিতে অবস্থিত অ্যাথারটন সান হোসে শহর থেকে প্রায় ১৮ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। দীর্ঘদিন ধরেই এটি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং ধনকুবেরদের পছন্দের আবাসিক এলাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে এলাকাটির সম্পত্তির মূল্য আরও দ্রুত বেড়েছে।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অ্যাথারটনে ৩ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অন্তত পাঁচটি বাড়ি বিক্রি হয়েছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা শেয়ার থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক লাভের পর বিলাসবহুল বাড়ি কিনছেন, যা আবাসন বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করেছে। অ্যাথারটনের বাসিন্দাদের মধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রিসেন, হোয়াটসঅ্যাপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জান কৌম এবং এনবিএ তারকা স্টিফেন কারিও রয়েছেন।   অন্যদিকে, গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জিপ কোড ছিল ফ্লোরিডার মিয়ামির ফিশার আইল্যান্ড (জিপ কোড ৩৩১০৯)। মহামারির সময় উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসা হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক, প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগকারী এবং বিলিয়নিয়ারদের কারণে এলাকাটির সম্পত্তির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।   ফিশার আইল্যান্ডে বসবাসকারীদের মধ্যে কেন গ্রিফিন, জেফ বেজোস এবং কার্ল আইকানের মতো ধনকুবেরদের নামও আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে দ্বীপটি দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেলেও এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিলাসবহুল আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।   মাত্র ২১৬ একর আয়তনের এই ব্যক্তিগত দ্বীপে পৌঁছানো যায় শুধু ফেরি, ব্যক্তিগত ইয়ট বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে। এখানকার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও প্রাসাদসম বাড়ির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে শুরু করে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্তও পৌঁছায়। বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যক্তিগত সৈকত, গলফ কোর্স, মেরিনা, কান্ট্রি ক্লাবসহ নানা উচ্চমানের সুযোগ-সুবিধা।   যদিও এবার শীর্ষস্থান হারিয়েছে ফিশার আইল্যান্ড, তবুও দক্ষিণ ফ্লোরিডার অতিবিলাসবহুল আবাসন বাজারের শক্ত অবস্থান এখনো অটুট। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের ১১টি আবাসিক সম্পত্তি বিক্রির মধ্যে সাতটিই ছিল ফ্লোরিডায়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সম্পদ সৃষ্টির ভৌগোলিক কেন্দ্র কীভাবে বদলাচ্ছে, তারই প্রতিফলন। আগে যেখানে হেজ ফান্ড ও আর্থিক খাতের প্রভাব বেশি ছিল, এখন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিকর্মীরাই বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা ১২৯ শতাংশ বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন মালিকেরা

কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ির দাম বাড়া শহরগুলোর একটি ছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল। সে সময় ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, একের পর এক উচ্চমূল্যের প্রস্তাব এবং দ্রুত বিক্রি হওয়া বাড়ি ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির জন্য সবচেয়ে কঠিন বাজারগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি। ন্যাশভিলের পর রয়েছে টেক্সাসের কয়েকটি বড় মহানগর এলাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা ১২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ এত বেশি যে ক্রেতাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। ফলে তারা ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দরদাম করছেন এবং কম দামে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন।   রেডফিনের ন্যাশভিলভিত্তিক প্রধান এজেন্ট অ্যারন গ্লিকেন বলেন, এখনকার ক্রেতারা কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি থাকায় তারা অপেক্ষা করে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। এমনকি বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করা বাড়িতেও অনেক ক্রেতা প্রত্যাশার চেয়ে কম দামের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতা শুরুতে কম দামের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারছেন, একই ধরনের কম প্রস্তাবই বারবার আসছে। শেষ পর্যন্ত অনেককেই দাম কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে।   রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মহানগর এলাকায় নতুন বাড়ির তালিকা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তালিকা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাড়ি বিক্রির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ন্যাশভিলে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৭৮ দিন সময় লাগছে। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪৯ দিন।   গত জুন মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ন্যাশভিলে এই ব্যবধান জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ। রেডফিনের আরেক এজেন্ট ক্রিস্টিন সানচেজ বলেন, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার থাকায় অনেক বাড়ির মালিক নতুন বাড়ি কেনা বা স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে তারা আর অপেক্ষা করছেন না। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   তার ভাষ্য, অনেক বিক্রেতাই বুঝতে পারছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের মতো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাজার আরও অনিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। মহামারির সময় ন্যাশভিলে বাড়ির দাম বছরে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তখন শহরের একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল চার লাখ ডলারেরও কম। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ।   বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নতুন আবাসন নির্মাণ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়ির উচ্চ মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে গেছেন। এতে দরকষাকষির ক্ষমতা এখন পুরোপুরি ক্রেতাদের দিকে চলে গেছে। সানচেজ জানান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও শিকাগো থেকে এখনো কিছু মানুষ ন্যাশভিলে বসবাসের জন্য আসছেন। তবে মহামারির সময় নিউইয়র্ক থেকে যে বড় ঢল নেমেছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে।   শুধু দাম কমানো নয়, এখন ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্লোজিং খরচ বহন, বাড়ি মেরামতের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক নির্মাতা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ স্থির সুদের বিশেষ মর্টগেজ সুবিধা ও ক্লোজিং খরচে সহায়তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি সানচেজ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া এক দম্পতিকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে ১৫ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কিনতে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই লেনদেনে বিক্রেতা পুরো ক্লোজিং খরচ বহন করেছেন এবং বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় মেরামতও সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছেন।   তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার আরেকজন ক্রেতা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে ৬০ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কেনার চুক্তি করেছেন। কয়েক বছর আগে একই ধরনের ক্রেতাদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় থাকত না। অ্যারন গ্লিকেনের মতে, বর্তমানে যেসব বিক্রেতা বাড়ি রং করা, ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে বাজারে আনছেন, তাদের বাড়ি তুলনামূলক দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ এখনকার ক্রেতারা এমন বাড়িই বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে কেনার পর অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হবে না।   রেডফিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে যে বড় ধরনের মূল্যসংশোধন শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ফলে আগের মতো চাহিদার জোয়ারে বাড়ি বিক্রির দিন আপাতত শেষ, আর বর্তমান বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণই বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
সংখ্যার কুসংস্কারের কারণে নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ উচ্চতম ভবনে ১৩ নম্বর তলাটি এড়িয়ে যাওয়া হয়। গেটি ইমেজেস
নিউইয়র্কের ৯১ শতাংশ ভবনে কেন ব্যবহার করা হয় না ১৩ নম্বর তলা?

নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ উচ্চতম ভবনে ত্রয়োদশ তলা বা ১৩ নম্বর ফ্লোরটি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অনলাইন ক্যাসিনো ম্যাকলাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংখ্যার কুসংস্কার মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এটি তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। তেরো সংখ্যাটিকে অলুক্ষুণে মনে করায় অনেক ডেভেলপার ভবন তৈরির সময় ১২ তলার পর সরাসরি ১৪ তলা নম্বর ব্যবহার করেন অথবা ফ্লোরটির নাম পরিবর্তন করে '১২এ' রাখেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে সরাসরি ১৩ নম্বরটি রয়ে গেছে, সেগুলোর বিক্রি সাধারণত একই ভবনের সমমানের অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হয়।   পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জেসাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী জুডাস ইসকারিয়টকে শেষ ভোজের ১৩তম অতিথি হিসেবে গণ্য করার পর থেকেই মূলত এই সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মার্কিন ইতিহাসভিত্তিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ১৩ তারিখে আমেরিকানরা ভ্রমণ বা বড় ধরনের খরচ কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি হয় শত শত কোটি ডলার। কুসংস্কারের এই প্রভাব কেবল আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; জার্মানির লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইটে ১৩ নম্বর সারিটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে থাকে।   অন্যদিকে, পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে 'চার' সংখ্যাটিকে মৃত্যুর সমার্থক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ চীনা ভাষায় মৃত্যুর কাছাকাছি। তাই হাসপাতাল, হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বেশিরভাগ গাড়ির লাইসিন্স প্লেট থেকেও এটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর বিপরীতে 'আট' সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ সমৃদ্ধির শব্দের সঙ্গে মিলে যায়।   চীনের চেংদুতে আবাসন বাজারের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আট সংখ্যাযুক্ত বা শেষ হওয়া ফ্লোরের অ্যাপার্টমেন্টগুলো প্রতি বর্গমিটারে বেশি দামে বিক্রি হয় এবং অন্যান্য ফ্লোরের তুলনায় দ্রুত বিক্রি সম্পন্ন হয়। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় বিশেষ ফোন নম্বরগুলোও চড়া দামে নিলামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে শর্তে ওয়ালনাট ক্রিকের একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইন তোলপাড় | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
বাসায় বসে অফিস করলেই দিতে হবে অতিরিক্ত ২০০ ডলার! ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু

ক্যামেরন বপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিক এলাকার একটি নতুন এক বেডরুমের ফার্নিশড এডিইউর মাসিক ভাড়া ৩,২৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউটিলিটি ও ওয়াই-ফাই অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিজ্ঞাপনে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে।   অস্বাভাবিক এই ঐচ্ছিক ফি দেখে ভাড়াটেদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা গেছে। বে এরিয়া এলাকার ভাড়াটে সামারা ওনদিমু এটিকে 'পাগলামি' বলেছেন। শিকাগোতে দূর থেকে কাজ করা ক্রিস্টফার উইলিয়ামস ও অপর ভাড়াটে কোডি হল জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন ফি দেখেননি এবং ধারণাটিকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন। উইলিয়ামস উল্লেখ করেছেন যে, এমনিতেই ভাড়া অনেক বেশি। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, বে এরিয়া এলাকায় গড় ভাড়া প্রতি মাসে প্রায় ৩,৬৫৫ ডলার, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮১% বেশি। ফলে অতিরিক্ত এই ফি আরও ধাক্কা দিয়েছে।   তবে হাউজিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফি পুরোপুরি নিয়মের বাইরে নয়। ইস্ট বে রেন্টাল হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও ডেরেক বার্নস একে ইউটিলিটি খরচ পুনরুদ্ধার বা পরিবেশগত সংরক্ষণ ফি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সারাদিন ঘরে কাজ করলে অফিসগামী মানুষের তুলনায় বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বেশি হতে পারে। তবে তিনি এই ফি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশা করছেন না, তবে এটি ইউটিলিটি ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।   কেজিও স্টেশন থেকে প্রপার্টিতে গিয়ে এবং বিজ্ঞাপনদাতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভাড়াটেরা আশা প্রকাশ করেছেন যেন এই ধারণা ছড়িয়ে না পড়ে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রায় ৮৮ হাজার একর আয়তনের এই সুবিশাল খামারটিতে ঐতিহাসিকভাবে হাজার হাজার গবাদিপশু পালন করা হতো। ছবি: সংগৃহীত
ঘোষণার মাত্র ২ দিনেই বিক্রি ১২৮ মিলিয়ন ডলারের খামার! কী ছিল এত বিশেষ?

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও ওকলাহোমা, দুই অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৮৮ হাজার একর আয়তনের একটি বিশাল গবাদিপশুর খামার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ক্রেতাদের আগ্রহে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় র্যাঞ্চ বিক্রির অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    ‘ফ্রিম্যান ফ্যামিলি র্যাঞ্চেস’ নামে পরিচিত এই সম্পত্তির আয়তন ৮৭ হাজার ৯৫৩ একর। এটি টেক্সাস ও ওকলাহোমার প্যানহ্যান্ডল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। তুলনা করলে এর আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় ছয় গুণ। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ফ্রিম্যান পরিবারের মালিকানায় থাকা এই র্যাঞ্চে তিনটি পৃথক খামার,অ্যাঙ্কর ডি, কোল্ডওয়াটার ও ফ্রিসকো, একটি সমন্বিত বাণিজ্যিক ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হতো।    বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হল অ্যান্ড হলের ব্রোকার চ্যাড ডাগার জানান, ফ্রিম্যান পরিবারের অংশীদারিত্বভিত্তিক পরিচালনা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্পত্তিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরিবারের ইচ্ছা ছিল, র্যাঞ্চটি যেন ভেঙে খণ্ড খণ্ড না হয়ে কৃষি ও পশুপালনের কাজেই ব্যবহৃত হয়।    ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০ ভূমিমালিকের একজন এবং দীর্ঘদিনের র্যাঞ্চিং ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন ব্রোকার। তার পরিকল্পনাও র্যাঞ্চটিকে আগের মতোই গবাদিপশুর খামার হিসেবে পরিচালনা করার। চুক্তির আওতায় জমি ও অবকাঠামো বিক্রি হলেও গবাদিপশু অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে ঐতিহাসিকভাবে এই র্যাঞ্চে এক সময়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি তরুণ গরু পালন করা হতো, যা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আকারের বাণিজ্যিক পশুপালন কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল।    চ্যাড ডাগারের ভাষ্য, এত বড় এবং একীভূত র্যাঞ্চ এখন খুবই বিরল। কারণ এ ধরনের বিশাল জমি অনেক সময় আলাদা আলাদা অংশে ভাগ হয়ে বিক্রি হয়ে যায়। একবার বিভক্ত হয়ে গেলে সেগুলোকে আবার একত্রিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর বিক্রির তালিকায় ৯ হাজারের বেশি ভাড়াবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইন পাসের পর শীর্ষ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়াবাড়ি বিক্রির তালিকায় তুলেছেন। সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে প্রায় ৯,৪৪৭টি বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন, যা গত ১ ফেব্রুয়ারিতে ছিল মাত্র ৪,১৬৬টি। মূলত গত সপ্তাহে পাস হওয়া ‘২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’ নামের দ্বিদলীয় আইনের কারণেই বাজারে বিক্রয়যোগ্য বাড়ির এই হঠাৎ বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে।   নতুন এই আইন অনুযায়ী, যেসব বিনিয়োগকারীর ইতিমধ্যে অন্তত ৩৫০টি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর কোনো সম্পত্তি কিনতে পারবেন না। তবে বিল্ড-টু-রেন্ট, রেনোভেট-টু-রেন্ট প্রকল্প এবং ভাড়াটিয়াদের বাড়ির মালিকানার জন্য ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তাকারী প্রোগ্রামগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে। যাদের ৩৫০টির বেশি বাড়ি রয়েছে, তাদের সেগুলো বিক্রি করতে বাধ্য করা না হলেও পোর্টফোলিও ৩৫০-এর নিচে না আসা পর্যন্ত তারা নতুন কোনো বাড়ি কিনতে পারবেন না।   পার্সেল ল্যাবস-এর সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, ৩৫০টির বেশি বাড়ির মালিকানায় থাকা বড় বিনিয়োগকারীদের হাতে সম্মিলিতভাবে ৫ লাখ ৮৯ হাজার বাড়ি রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১ কোটি ৪০ লাখ সিঙ্গেল-ফ্যামিলি ভাড়াবাড়ির প্রায় ৩.৯ শতাংশ। চলতি বছরে নিট বিক্রির ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে এসব বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে। তথ্য বলছে, প্রগ্রেস রেসিডেন্সিয়াল, ফার্স্টকি, ভাইনব্রুক, ইনভাইটেশন হোমস, আমহার্স্ট, ট্রাইকন এবং এএমএইচ-এর মতো দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীরা এ বছর কেনার চেয়ে ৩,১৮০টি বাড়ি বেশি বিক্রি করেছে। যদিও তাদের কাছে এখনো ৪ লক্ষাধিক বাড়ি সংরক্ষিত রয়েছে।   সিএনবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভাইনব্রুক, যারা তাদের পোর্টফোলিওর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ি বাজারে তুলেছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১,৯০০টি বাড়ি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পার্সেল ল্যাবস জানিয়েছে, বাজারে বেশি বাড়ি তোলার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ছাড়েও এগুলো বিক্রি করছেন। জাতীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ৩৮.৭ শতাংশ বাড়ির দাম কমানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০টির বেশি বাড়ির মালিকানা থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে দাম কমানোর এই হার ৫৪ শতাংশ।   পার্সেল ল্যাবস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জেসন লিউরিস এক বিবৃতিতে বলেন, বিক্রির হারের এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাড়ির মূল্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এই বিক্রির কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ। অর্থাৎ, অপেক্ষাকৃত কম লাভজনক সম্পদ বিক্রি করে সেই মূলধন বিল্ড-টু-রেন্টের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে ফোরক্লোজারের হারে শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বন্ধকী জব্দের হার ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাসে ২১%

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ফোরক্লোজারের মুখে পড়া বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে ফোরক্লোজারের হারে দেশের শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা।    রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় প্রতি ১০ হাজার আবাসিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৭টি ফোরক্লোজারের আওতায় এসেছে। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। তালিকায় এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, আগের তুলনায় দ্রুতও শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একটি সম্পত্তির ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে ৫৬৩ দিন লেগেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম সময়।    অ্যাটমের তথ্য বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির কারণে ফোরক্লোজারের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর থেকে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ফোরক্লোজারের সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। সে সময়ের তুলনায় এখনো ফোরক্লোজারের হার কয়েক গুণ কম।    অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে আইডাহোতে, যেখানে ফোরক্লোজার ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে কলোরাডো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিসিসিপি।    মহানগর এলাকার মধ্যে ফ্লোরিডার পুন্তা গোরদায় ফোরক্লোজারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড। এছাড়া জ্যাকসনভিল, কেপ কোরাল ও ওকালাও সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে।    এদিকে রিয়েলটর ডটকমের পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোরক্লোজার শেষে ব্যাংকের মালিকানায় চলে যাওয়া এবং পরে বিক্রির জন্য বাজারে আসা বাড়িগুলো সাধারণ বাড়ির তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটকদের চাহিদায় বাফালো অঞ্চলে বাড়ছে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজার। ছবি: সংগৃহীত
নায়াগ্রা ফলসের পর্যটক, বাফালোর সাশ্রয়ী বাড়ি নিয়ে এয়ারবিএনবি বিনিয়োগে কেন বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ

বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র নায়াগ্রা ফলসকে ঘিরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার বাজারে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন অনেক প্রবাসী বিনিয়োগকারী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফালো শহরে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাওয়ায় অনেকের নজর এখন এয়ারবিএনবি-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের দিকে। বাজার বিশ্লেষণ, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা এবং পর্যটন প্রবাহ সব মিলিয়ে বাফালোকে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নায়াগ্রা ফলস এলাকায় আমেরিকা বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী অ্যান্ডি ও সুজানের। তারা যৌথভাবে নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ি কিনে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   তাদের অভিজ্ঞতায়, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে প্রায় পুরো সময়ই তাদের বাসাগুলো বুকড থাকে। এমনকি পর্যটক তুলনামূলক কম আসার সময় বাদ দিলে বছরের অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত অতিথি পাওয়া যায়। তাদের মতে, নায়াগ্রা ফলস এমন একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সারা বছরই পর্যটক আসেন। ফলে পরিবার বা দল নিয়ে ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশ হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবিতে থাকতে আগ্রহী হন।   অ্যান্ডি ও সুজান জানান, কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে বাড়ির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাফালো একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে। তাদের মতে, বাফালোতে তুলনামূলক কম মূল্যে বাড়ি কিনে অথবা আইনগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে সেটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।   স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বাজার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান এয়ারডিএনএ এর তথ্য অনুযায়ী, বাফালোতে বর্তমানে প্রায় দুই হাজার সক্রিয় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার তালিকা রয়েছে। এসব সম্পত্তির গড় দখল হার ৫০ শতাংশের বেশি এবং পর্যটন মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করে সম্পত্তির অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা, ব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমি চাহিদার ওপর।   কানাডার নায়াগ্রা অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রামদীপ সিং জানান, নায়াগ্রা ফলস ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক বাফালো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাদের অনেকেই এক বা একাধিক রাতের জন্য হোটেলের পরিবর্তে এয়ারবিএনবির বাসা বেছে নেন। ফলে বাফালো ও আশপাশের এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আবাসনের চাহিদা বছরজুড়েই থাকে।   রামদীপ সিংয়ের মতে, শুধু বাড়ির দাম কম দেখেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্ভাব্য ভাড়া, দখল হার, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্পত্তি কর, বীমা এবং মর্টগেজের কিস্তিসহ সব ধরনের ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা জরুরি। তার ভাষায়, সঠিক লোকেশন নির্বাচন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাফালোতে এয়ারবিএনবি ব্যবসায় ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট শহরের শর্ট-টার্ম রেন্টাল নীতিমালা, জোনিং আইন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। কারণ বিভিন্ন শহরে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   বাফালো শহর থেকে নায়াগ্রা ফলসে গাড়িতে পৌঁছাতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। এই ভৌগোলিক সুবিধার কারণে অনেক পর্যটক কম খরচে থাকার জন্য বাফালোকে বেছে নেন। একই সঙ্গে শহরটির বিমানবন্দর, মহাসড়ক যোগাযোগ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে এয়ারবিএনবি ব্যবসাকে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা, স্থানীয় আইন মেনে পরিচালনা এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বাফালো অঞ্চলে এয়ারবিএনবি খাত ভবিষ্যতে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১৯১৯ সালে নির্মিত স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহাসিক বাড়িটি ১৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হলিউডের তারকাপাড়ায় বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি, অপরার সম্পত্তি কিনলেন অ্যাডাম লেভিন

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা অপরা উইনফ্রে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে অবস্থিত তার বিখ্যাত ‘প্রমিসড ল্যান্ড’ (Promised Land) এস্টেটের আরও একটি অংশ বিক্রি করেছেন। নতুন মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যান্ড ম্যারুন ফাইভ–এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী অ্যাডাম লেভিন এবং তার স্ত্রী, নামিবিয়ান সুপারমডেল বেহাতি প্রিন্সলু।   রিয়েল এস্টেটবিষয়ক একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চার একর আয়তনের এই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ১৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জানা গেছে, সম্পত্তিটি মূলত ১৯১৯ সালে স্প্যানিশ রিভাইভাল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়। ২০১৯ সালে অপরা এটি অস্কারজয়ী অভিনেতা জেফ ব্রিজেসের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিলেন। এরপর তার ৬৬ একর আয়তনের বিশাল এস্টেটের কিছু অংশ ধীরে ধীরে বিক্রির পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এবার এই জমি বিক্রি করলেন তিনি।   অন্যদিকে, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলুও সম্প্রতি মন্টেসিটোতেই তাদের আগের বাড়িটি প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন। ফলে একই এলাকায় এই নতুন সম্পত্তি কেনাকে তারকাদের আবাসন বিনিয়োগে নতুন রদবদল হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা। নতুন কেনা বাড়িটির আয়তন প্রায় ৩ হাজার ৫১৭ বর্গফুট। এতে রয়েছে দুটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং একতলা নকশার বিস্তৃত বসবাসের ব্যবস্থা। বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ পাঁচটি অগ্নিকুণ্ড, মূল নকশার জানালা ও দরজা, বিশাল বাগান, আধুনিকভাবে সংস্কার করা রান্নাঘর ও বাথরুম এবং নিরিবিলি পরিবেশ।   বাড়ির ভেতরে কাঠের উন্মুক্ত বিম, প্রশস্ত বসার ঘর, বড় বড় জানালা এবং প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংস্কার করা রান্নাঘরে রয়েছে কোয়ার্টজ পাথরের কাউন্টার, বড় আইল্যান্ড, পেশাদার মানের রান্নার চুলা এবং কাঠের তৈরি ক্যাবিনেট। প্রধান শয়নকক্ষে অগ্নিকুণ্ড, বড় জানালা এবং ফরাসি ধাঁচের দরজা রয়েছে, যেখান থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। সংযুক্ত বাথরুমে রয়েছে উষ্ণ মেঝে, মার্বেলের শাওয়ার, আলাদা বাথটাব এবং ডাবল ভ্যানিটি। এছাড়া দুটি ওয়াক-ইন ক্লোজেটও রয়েছে।   অতিথিদের জন্য আলাদা স্যুট, সুইমিং পুল, পুল হাউস, খোলা আকাশের নিচে ফায়ার পিট, পাথরের ঝরনাসহ প্রাঙ্গণ, বিশাল সবুজ লন এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী একটি বড় বার্ন-স্টাইল কাঠামোও সম্পত্তিটির অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাডাম লেভিন ও বেহাতি প্রিন্সলু বাড়িটি কেনার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বাড়ি ও এর আশপাশের পরিবেশ নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান তারা।   মন্টেসিটো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলঘেঁষা এই এলাকায় অপরা উইনফ্রে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলসহ হলিউড ও ব্যবসা জগতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বাসস্থান রয়েছে। ফলে এখানকার যেকোনো বড় সম্পত্তি কেনাবেচা সাধারণত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অনেক অ্যাপার্টমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কে খালি পড়ে আছে ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্ক সিটিতে একদিকে যখন আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্ট খালি পড়ে রয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরের পাঁচটি বরো মিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তি সংস্কার ব্যয়, ভাড়া বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এসব বাসা নতুন ভাড়াটিয়াদের কাছে হস্তান্তর করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক বাড়ির মালিক।   দ্য সিটি রিপোর্টার রাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এক দশক আগে, ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তথ্যগুলো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনের মালিকদের স্বপ্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে ডিভিশন অব হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল।   করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২১ সালে এই শূন্যতার হার সাময়িকভাবে ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। সে সময় নিউইয়র্ক সিটির জনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ম্যানহাটন ছাড়া শহরের বাকি চারটি বরোতেই খালি অ্যাপার্টমেন্টের হার বেড়েছে। তবে কোন কারণে এসব অ্যাপার্টমেন্ট খালি রয়েছে বা কতগুলো বাসায় সংস্কার প্রয়োজন, সে বিষয়ে তথ্যভান্ডারে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা নেই।   ব্রঙ্কসভিত্তিক ইউনিভার্সিটি নেবারহুড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ব্রেন্ডন মিচেলের মতে, মহামারির সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত থাকায় অনেক মামলা জমে ছিল। পরে আদালত সেগুলো নিষ্পত্তি শুরু করলে কিছু অ্যাপার্টমেন্ট খালি হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন নিউইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর কর্মকর্তা মাইকেল জনসন। তার দাবি, সমস্যার মূল কারণ অর্থনৈতিক। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করতে যে ব্যয় হয়, নির্ধারিত ভাড়ায় তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।   তার ভাষায়, শহরে আবাসনের চাহিদা ব্যাপক হলেও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কিছু অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়ার কাছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কম ভাড়ার ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে সংস্কার ব্যয় আদায় করা কঠিন হওয়ায় অনেক মালিক সেগুলো খালিই রেখে দিচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী, ম্যানহাটনের কেন্দ্রীয় এলাকায় ভবন মালিকদের পরিচালন মুনাফা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কুইন্সে তা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ, ব্রুকলিনে ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রঙ্কসে পরিচালন আয় কমেছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব ভবনের অনেক মালিকের দাবি, বড় ধরনের সংস্কার করার মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের নেই। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরোনো চার শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ সংস্কার করতে ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। অথচ মাসিক ভাড়া যদি মাত্র ৮০০ ডলার হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির আইনি সীমাবদ্ধতা। নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড নির্দিষ্ট সীমার বাইরে ভাড়া বাড়ানোর অনুমতি দেয় না। সম্প্রতি সংস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য ভাড়া অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে। এছাড়া ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কার্যকর হওয়া হাউজিং স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড টেন্যান্ট প্রোটেকশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট খালি হলেও মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াতে পারেন না।   ব্রঙ্কসের ৫০টি ভবন পরিচালনাকারী সাইকামোর বার্চ ম্যানেজমেন্ট-এর সভাপতি মার্ক বোরবো বলেন, অনেক রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীর মতে, বর্তমান নিয়মে বড় ব্যয়ে অ্যাপার্টমেন্ট সংস্কার করে আর্থিক লাভ করা কঠিন। কারণ সংস্কারের পরও ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ নেই।   আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট নিরসনে শুধু নতুন ভবন নির্মাণই নয়, দীর্ঘদিন খালি থাকা ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলো কীভাবে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিও এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের বাড়ি বিক্রিতে বড় ধাক্কা, দুই মাসে দুই দফা কমল দাম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুখ্যাত সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের আসামি জোয়েল রিফকিনের সাবেক বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য কমানো হয়েছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িটির দাম কয়েক দফায় হ্রাস পাওয়ায় বিষয়টি দেশটির আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   লং আইল্যান্ডের ইস্ট মেডো এলাকার একটি শান্ত আবাসিক সড়কে অবস্থিত চার শয়নকক্ষের বাড়িটি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তবে বাজারে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।   পরে ২৬ মে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলে দাম কমিয়ে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ আরও ২০ হাজার ডলার কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।   রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটিকে একটি সুপরিচর্যিত ও প্রশস্ত আবাসন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোণার জমির ওপর নির্মিত বাড়িটিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো, আধুনিকায়ন করা রান্নাঘর, বড় আকারের শয়নকক্ষ এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমান মালিকরা ২০১১ সালে জোয়েল রিফকিনের পরিবারের কাছ থেকে বাড়িটি ৩ লাখ ২২ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা সেখানে বসবাস করেছেন।   জোয়েল রিফকিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি নাম। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক অঞ্চলে একাধিক নারী হত্যার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির সঙ্গে আলোচিত অপরাধের ইতিহাস জড়িত থাকলে তা অনেক সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও বাড়িটির অবস্থান, আয়তন ও রক্ষণাবেক্ষণের মানকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবুও এর অতীত ইতিহাস বিক্রয় প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যেগুলো ঐতিহাসিক বা আলোচিত ঘটনার কারণে সাধারণ আবাসনের চেয়ে বেশি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইস্ট মেডোর এই বাড়িটিও বর্তমানে সেই ধরনের সম্পত্তির তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

Unknown জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।   দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।   আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।   গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় একই এলাকায় ৩৬২ মিলিয়ন ডলারের দুই বাড়ি, উত্তপ্ত মিয়ামির বিলাসবহুল আবাসন বাজার

ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে।   প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়।   এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে।   দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে।   রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে।   বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম
নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেনের সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট অঙ্গনে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে ধারাবাহিক পেশাদার সেবা, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কারণে তার নেতৃত্বাধীন “নাজমুল রিয়েল এস্টেট টিম” এখন পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলে পরিচিত একটি নাম।   সম্প্রতি বাফেলোভিত্তিক প্রকাশনা বাফেলো রিয়েল প্রডিউসারস ম্যাগাজিন-এর বিশেষ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে “দ্য এমডি নাজমুল হুসেইন টিম”। সাধারণত রিয়েল এস্টেট খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ তুলে ধরতেই এ ধরনের প্রকাশনা বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সেখানে একটি বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন টিমের অন্তর্ভুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   জানা গেছে, নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনাবেচা, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং নতুন ক্রেতাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে বাড়ি কেনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা এবং নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার কারণে তার টিম দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।   স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ভাষা ও সংস্কৃতিগত বোঝাপড়ার কারণে বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলো নাজমুল হোসেনের টিমের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।   প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট শুধু ব্যবসা নয়, এটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের অংশ। তাই প্রতিটি গ্রাহকের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি এখন শুধু ছোট ব্যবসা বা রেস্টুরেন্ট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাতের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। বাফেলো অঞ্চলে নাজমুল হোসেনের এই সাফল্য সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আগামী দিনে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন। তার ভাষায়, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।   সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে নাজমুল হোসেন ও তার টিমের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০