ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।” বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।” দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।” আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?” তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জয়ের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি অপ্রকাশিত সমঝোতা নথির তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বহু-মিলিয়ন ডলারের আর্থিক বন্দোবস্ত, করপোরেট শেয়ার হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে সম্পাদিত ২২ পৃষ্ঠার সমঝোতা চুক্তির ১৩ থেকে ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বিবাহবিচ্ছেদের পর উভয় পক্ষের আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সম্পদ বণ্টনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিতে ডিজিকন টেকনোলজিস ও ফিনটেক সলিউশনসের ব্যবসায়িক স্বার্থ ভাগাভাগির বিষয় উল্লেখ আছে। পাশাপাশি সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আয়কে ঘিরে একটি ট্রাস্ট কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে। করপোরেট সম্পদের বাইরে জয়ের ওপর বড় ধরনের ব্যক্তিগত আর্থিক দায়ও আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। “মনিটারি অ্যাওয়ার্ড” শিরোনামের অংশে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে ক্রিস্টিনা ওয়াজেদকে এককালীন করমুক্ত ১০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু করে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ২০ হাজার ডলার করে ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা চলবে ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো সময়জুড়ে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকার সমান। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই ভরণপোষণের পরিমাণ ও সময়সীমা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তবে উভয় পক্ষের কারও মৃত্যু, ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের পুনর্বিবাহ অথবা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে বৈবাহিক সম্পর্কসদৃশ সহবাসে থাকলে অর্থ প্রদান বন্ধ হবে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের শিশু ভরণপোষণ নির্দেশিকা অনুযায়ী তাদের কন্যা সোফিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪০০ ডলার দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন জয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্তান যদি পূর্ণকালীন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, নিজে উপার্জনে সক্ষম না হয় এবং ভরণপোষণ গ্রহণকারী অভিভাবকের সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে ১৮ বছর বয়স অতিক্রমের পরও সহায়তা অব্যাহত থাকতে পারে। গুরুতর ও স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সজিব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগে প্রায় তিন বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত আর্থিক বন্দোবস্ত ও করপোরেট স্বার্থসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আদালত-স্বীকৃত নথি বা স্বাধীন সরকারি যাচাই প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে সজিব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএসবি নিউজ ইউএসএ দাবি করেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক তথ্যভান্ডার, কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং উন্মুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বমাধ্যমে ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অর্থায়নের প্রবাহ চলছিল। বিশেষ করে পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু খাতে অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার নামে এসব অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের অংশ, যা তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ঘটনাকে তরুণদের আন্দোলন হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে। কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উপস্থাপনকে ঘিরে এক পর্যায়ে হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় স্পিকার, খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত তিনটি বিল সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিলগুলো হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল। এর মধ্যে শেষের দুটি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। দ্বিতীয় বিলটি উপস্থাপনের সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ওই মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যেও হাসির রেশ তৈরি করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। উল্লেখ্য, নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের অংশ হিসেবে আগে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে এসব বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব। সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।