দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যে এই বড় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাজুস-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ১১ই মার্চ এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬২ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের ক্ষেত্রেও দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে বাজারে: ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা। ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা। উল্লেখ্য যে, গত ১১ই মার্চের পর থেকে মাত্র এক সপ্তাহে মোট পাঁচবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার প্রতিবারই দাম কিছুটা করে কমেছে। গত এক বছরে স্বর্ণের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক এই দরপতন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
টানা দুইবারের পতনের পর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার বেড়েছে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সকালে বাজুস ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ২৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৪ বার কমানো হয়েছে।
টানা ছয়বার বাড়ার পর এবার দুইবার কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা কার্যকর হয়েছে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৭ টাকা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা, যা আগের দিন ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা ছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ছয়বার বেড়েছিল এবং এরপর দুইবার কমেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৩৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪ বার বৃদ্ধি এবং ১৪ বার দাম কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, যা আগের দামের চেয়ে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেশি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্যের বৃদ্ধির কারণে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। নতুন স্বর্ণের দাম ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ৬১,০৪০ টাকা প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৪৯,১৪৩ টাকা প্রতি ভরি ১৮ ক্যারেট: ২ লাখ ১৩,৫৬৮ টাকা প্রতি ভরি সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৭৪,৭৮৫ টাকা প্রতি ভরি বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বর্ণের মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮,৮২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের দামের থেকে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি ছিল। চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১২ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। রুপার দাম অপরিবর্তিত স্বর্ণের দাম বেড়ালেও রুপার দাম একই রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬,৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬,৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি ৪,০৮২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ১১ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।
বিশ্বে প্রথম স্বর্ণ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। রাস্তাটির নাম হবে ‘গোল্ড স্ট্রিট’। আর এটি নির্মাণ করা হবে আমিরাতের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে। তবে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের উদ্বোধনের সময় এই ঘোষণা দেয় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইথরা দুবাই। খবর খালিজ টাইমসের ‘হোম অব গোল্ড’ নামে পরিচিত গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে স্বর্ণ ও গয়নাশিল্প-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এক ছাদের নিচে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য, বুলিয়ন ট্রেড, বিনিয়োগ, স্বর্ণ ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানে এই ডিস্ট্রিক্টে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। যেখানে স্বর্ণালংকার ছাড়াও পারফিউম, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান ও তানিশক জুয়েলারির মতো বড় ব্র্যান্ড এখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর স্থাপন করেছে। জুয়েলারি ব্র্যান্ড জয়ালুক্কাস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড়- ২৪ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ইথরা দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসাম গালাদারি বলেন, গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট দুবাইয়ের ঐতিহ্য, বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে একত্রিত করবে। দুবাই ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজমের অধীন দুবাই ফেস্টিভ্যালস অ্যান্ড রিটেইল এস্টাবলিশমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আল খাজা বলেন, ‘স্বর্ণ দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ঐতিহ্যকে সম্মান জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে সৃজনশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস