সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হেলিকপ্টার

পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ নি হত ৭

কেনিয়ায় সাফারি ভ্রমণের সময় পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ আরোহী সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। বুধবার উত্তর কেনিয়ার প্রত্যন্ত সামবুরু কাউন্টির মাউন্ট ওলোলোকওয়ের পাদদেশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে লইসাবা কনজারভেন্সি থেকে ইওয়াসো নায়িরো এলাকায় যাওয়ার পথে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।   উড়োজাহাজটিতে ছয়জন যাত্রী ও একজন পাইলট ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আমেরিকান নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।   নিহতদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনবিসিইউনিভার্সাল জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠান টেলেমুন্ডো ৩১, টেলেমুন্ডো ৪৯ এবং টেলেমুন্ডো ফোর্ট মায়ার্স-নেপলসের প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল ম্যানেজার হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।   প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাঁকে একজন শ্রদ্ধেয় নেতা ও অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরের পরিবহনমন্ত্রী রবার্তো লুকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনায় তাদের দেশের জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান মিশেল সেন্সি-কন্তুগি এবং তাঁর স্ত্রী স্তেফানিও নিহত হয়েছেন।   স্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানি '&বিয়ন্ড'-এর অতিথিদের নিয়ে লেডি লরি হেলিকপ্টারস কোম্পানির ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ মডেলের চার্টার্ড বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং দুর্ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলে ওঠার কারণে উদ্ধার তৎপরতা বেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সাফারি অপারেটর ট্রপিক এয়ারের দুটি হেলিকপ্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সহায়তা প্রদান করে।   বিমান দুর্ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পর্যটক পরিবহনে অভ্যন্তরীণ বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এমন দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির
গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির

স্বপ্নের হানিমুনে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন এক ব্রিটিশ নবদম্পতি। গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিফনস দ্বীপে একটি প্রাইভেট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আলেকজান্ডার ক্রোমি এবং মেরি এবার্ট নামের ওই দম্পতি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তাদের বহনকারী এয়ার ট্যাক্সির পাইলট ৫৫ বছর বয়সী জিওর্গোস রাইকোসও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।   এথেন্সের নিকটবর্তী মার্কোপোলো থেকে উড্ডয়নের পর অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।   নিহত আলেকজান্ডার ক্রোমি লন্ডনের ব্ল্যাকস্টোন নামের একটি সুপরিচিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী মেরি এবার্ট যুক্ত ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কনসাল্টিং ফার্ম বেইন অ্যান্ড কোম্পানিতে। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে উভয় প্রতিষ্ঠানই গভীর শোক প্রকাশ করেছে।   ব্ল্যাকস্টোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলেকজান্ডার তার সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বেইন অ্যান্ড কোম্পানিও মেরিকে তাদের টিমের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্মানিত সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে বেল-২০৬ মডেলের হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি থেকে বিকট ও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গিয়েছিল।   নিহত পাইলট রাইকোস গ্রিক বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন এবং সামরিক চিনুক (Chinook) হেলিকপ্টার চালানোর মতো তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ছিল। তবুও শেষ মুহূর্তে তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।   স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ধ্বংসস্তূপ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, সেখান থেকে কেবল তিনটি দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সিফনসের ডেপুটি মেয়র মানোলিস ফৌনতুলাকিস জানান, দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটির কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।   গ্রিসের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই গ্রিসে দাবানল নেভানোর সময় অন্য আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত, প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িক বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশজুড়ে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।   ১২ আগস্ট টেক্সাসের সালাডোর কাছে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। হেলিকপ্টারটি ফোর্ট হুড থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় এটি রক্ষণাবেক্ষণ-পরবর্তী পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ছিল বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। হেলিকপ্টারটি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।   নিহত দুই সেনাকে শনাক্ত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হিউই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। দুজনই টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারে তারাই ছিলেন।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে।   তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না পর্যন্ত এই সাময়িক স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।   তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের সব ধরনের উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। সেনাবাহিনীর ঘোষণাটি মূলত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য।   দুই সেনার মৃত্যুতে ফোর্ট হুডের সামরিক সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেনাবাহিনী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

Unknown আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
দাবানল।ছবি:সংগৃহীত
দাবানলে আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত দুই পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি সিকোরস্কি এস-৬৪ স্কাইক্রেন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রিচফিল্ডের কাছে ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্ট এলাকায় ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছাতে পারেননি। শনিবার ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছে দুই পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট সার্ভিসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস। দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটি যেখানে পড়ে, সেখানে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি মূল দাবানলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।    ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের সূত্রপাত ২৭ জুলাই বজ্রপাত থেকে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটি প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার একর এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছিল এবং তখন মাত্র ১৯ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। আগুন নেভাতে ৬০০-এর বেশি কর্মী ও একাধিক হেলিকপ্টার কাজ করছিলেন। পরে আগুনের বিস্তৃতি আরও বেড়ে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ একরে পৌঁছায় এবং নিয়ন্ত্রণে আসে ২৪ শতাংশ এলাকা।    দাবানলের তীব্রতা ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পাঠানো সম্ভব ছিল না।    দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যুক্ত হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে এই দুর্ঘটনা দমকলকর্মী ও আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মীদের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইউটার এই দাবানল পরিস্থিতি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে আগুনের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
আর্জেন্টিনায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, দমকলকর্মীসহ নি হত ৭

আর্জেন্টিনার পশ্চিমাঞ্চলীয় সান হুয়ান প্রদেশে অগ্নিনির্বাপণের কাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) স্থানীয় কর্মকর্তারা এই দুর্ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেল ৪১২ মডেলের ওই হেলিকপ্টারটি মূলত সান হুয়ানের ইসচিগুয়ালাস্তো প্রাকৃতিক উদ্যানে দাবানল নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।   এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সান হুয়ানের গভর্নর মার্সেলো অরেগো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে তারা এই দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দমকলকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা ও বেসামরিক সুরক্ষা কর্মী রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেজান্দ্রা মন্টেওলিভাও শোকসন্তপ্ত পরিবার ও নিহতদের সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।   জরুরি সেবা বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে উড্ডয়নের পর পরই হেলিকপ্টারটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি পার্শ্ববর্তী লা রিওহা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।   মর্মান্তিক এই প্রাণহানির জেরে সান হুয়ানের স্থানীয় সরকার তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়কালে জাতীয় ও প্রাদেশিক পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আয়তনে প্রায় অস্ট্রিয়ার সমান আধা-শুষ্ক অঞ্চল লা রিওহার পার্বত্য এলাকায় সপ্তাহের শুরু থেকেই ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় দমকলকর্মীদের তথ্যমতে, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেখানে শত শত হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে স্প্যানিশ পরিবারসহ ৬ জনের প্রাণহানি, পাখির আঘাতেই বিধ্বস্ত হয়েছিল হেলিকপ্টার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের হাডসন নদীতে গত বছর পর্যটকবাহী একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে স্পেনের এক পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ মোট ছয়জন নিহতের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষে বেশ কয়েকটি বুনোহাঁসের (গিজ) দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও প্রাপ্ত প্রমাণাদি থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল নদীতে আছড়ে পড়ার আগে হেলিকপ্টারটি উড়ন্ত অবস্থায় বেশ কয়েকটি পাখির সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেনের সিমেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা ৪৯ বছর বয়সি অগাস্টিন এসকোবার, তার ৩৯ বছর বয়সি স্ত্রী মার্সে ক্যাম্পরুবি মন্টাল এবং তাদের তিন সন্তান—৪ বছরের ভিক্টর, ৮ বছরের মার্সেডিজ ও ১০ বছরের অগাস্টিন।   এছাড়া নিহত ৩৬ বছর বয়সি পাইলট শনকিস জনসন ছিলেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সাবেক সদস্য, যিনি ২০২৩ সালে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) মতে, কম উচ্চতায় ওড়ার কারণে হেলিকপ্টারগুলো এমনিতেই পাখির আঘাতের চরম ঝুঁকিতে থাকে। হেলিকপ্টারে এমন আঘাতের ঘটনা সাধারণত বিরল হলেও তা অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   দুর্ঘটনার দিন বিকেলে একটি ডাউনটাউন হ্যালিপোর্ট থেকে উড্ডয়নের পর ম্যানহাটন স্কাইলাইন ধরে উত্তর দিকে উড়েছিল হেলিকপ্টারটি। এরপর স্ট্যাচু অব লিবার্টির দিকে যাওয়ার পথে উড্ডয়নের মাত্র ১৮ মিনিটের মাথায় এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে আছড়ে পড়ার আগে ঘুরতে থাকা হেলিকপ্টারটির মূল রোটর ও লেজ ভেঙে যেতে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।   ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী নৌযানগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পানি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তদন্তকারীদের পরীক্ষার জন্য দুমড়েমুচড়ে যাওয়া 'বেল ২০৬এল-৪' মডেলের ওই হেলিকপ্টারটি নদী থেকে টেনে তোলা হয়।   এই দুর্ঘটনার পর পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর ওপর দিয়ে পরিচালিত ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং নিউ জার্সির গভর্নর অপ্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার ফ্লাইটে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানান। পাখির আঘাত কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ২০০৯ সালে হাডসন নদীতে ঘটা 'মিরাকল অন দ্য হাডসন' ঘটনার মাধ্যমেই প্রথম বিশ্ববাসীর নজরে আসে, যেখানে পাখির আঘাতে বিকল হওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান অসামান্য দক্ষতায় নদীতে অবতরণ করিয়ে ১৫৫ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন পাইলট সুলেনবার্গার।   এদিকে, গত বছরের এই দুর্ঘটনার পর 'নিউইয়র্ক হেলিকপ্টার ট্যুরস' তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এমনকি তদন্ত চলাকালীন ফ্লাইট স্থগিত রাখতে রাজি হওয়া অপারেশন ডিরেক্টরকে কোম্পানিটি তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করায়, এফএএ জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের সব ফ্লাইটের উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
কলোরাডোতে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
কলোরাডোতে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে চলমান গোল্ড মাউন্টেন দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় একটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার জলাধারে বিধ্বস্ত হয়ে এর পাইলট নিহত হয়েছেন। রোববার সিলভার জ্যাক রিজার্ভারে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে ডুবুরি দল হেলিকপ্টার থেকে পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে।   গানিসন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস ডেল (৫৬)। তিনি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুকে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং চুক্তিভিত্তিক অগ্নিনির্বাপণ পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি শোকযাত্রার মাধ্যমে ডেলের মরদেহ গানিসন থেকে গ্র্যান্ড জাংশনে নেওয়া হয়। পথে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং পশ্চিমাঞ্চলের দাবানল মোকাবিলায় কাজ করা হাজারো দমকলকর্মীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।   কলোরাডোর গভর্নর জ্যারেড পোলিস এক বিবৃতিতে বলেন, নিকোলাস ডেলের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হলে রাজ্যের সব সরকারি ভবনে জাতীয় ও অঙ্গরাজ্যের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় পড়া হেলিকপ্টারটি ছিল কামান অ্যারোস্পেসের কে-১২০০ মডেলের। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত কারণে হেলিকপ্টারটি উল্টে গিয়ে জলাধারে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হেলিকপ্টারটির মালিক জর্জিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টার এক্সপ্রেস। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে ডেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আকাশপথে দাবানল মোকাবিলা সম্প্রদায়ের জন্য এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। ডেলের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও অন্যদের নিরাপত্তায় তার আত্মনিবেদন সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।   দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে ডেল ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম কলোরাডোর গোল্ড মাউন্টেন দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের সহায়তা করছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুনের মাত্র ১১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।   এফএএ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দেবে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।   উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই কলোরাডো-ইউটাহ সীমান্তে দাবানলের মধ্যে আটকা পড়ে তিনজন বনাঞ্চল অগ্নিনির্বাপণ কর্মীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে কলোরাডো, ইউটাহ ও নিউ মেক্সিকোসহ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একাধিক বড় দাবানল জ্বলছে। জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৫০ কোটি ডলারের সামরিক হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার ঘোষণার পরপরই নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫টি সিহক মেরিটাইম হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের এই চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক এই সামরিক যানগুলো নিউজিল্যান্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিউজিল্যান্ড সরকারের কাছে এমএইচ-৬০আর (MH-60R) মাল্টি-মিশন হেলিকপ্টার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির এই প্রস্তাবিত বৈদেশিক চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত তাগিদ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, চীনের দ্রুত সামরিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের সমর্থনে পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র নিউজিল্যান্ড।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বিক্রয় চুক্তি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধ-হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়াবে এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই বর্ধিত সক্ষমতা মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবহৃত হবে।   লকহিড মার্টিনের সিকোরস্কি ইউনিটের তৈরি এই সিহক হেলিকপ্টারগুলো ক্রয়ের সিদ্ধান্তটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বর্তমান মধ্য-ডানপন্থি সরকারের ২০২৫ সালের একটি সামরিক মহাপরিকল্পনার অংশ। এই পরিকল্পনার অধীনে আগামী চার বছরে সামরিক ব্যয় ৯০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (৫০০ কোটি মার্কিন ডলার) বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী আট বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গত মাসেই ১৫৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার নতুন প্রতিরক্ষা তহবিল হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে ওয়েলিংটন।   শনিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। সেখান থেকে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের মারাত্মক ঘাটতি ছিল। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আগের মতো শান্ত নেই, বরং এটি এখন কৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এমন বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ করার এই সরকারি সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০