সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

# আকস্মিক বন্যা

নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।   বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।   প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।   ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল।   ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।   উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়।   প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক।   নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।   হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে।   লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা। নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে।   আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।   এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।   গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: ইউএসজিএস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৪ অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। বুধবারের এই দুর্যোগে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ১৫ জন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্সের একটি দলে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সাগর পান্ডে জানিয়েছেন, দলটির সঙ্গে বুধবার সকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। সবচেয়ে কম বয়সী দুইজনের বয়স ১১ ও ১৪ বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী নিখোঁজ নারীটির বয়স ৬৪ বছর। তারা কাঠমান্ডু থেকে কৈলাস পর্বত পর্যন্ত ১৪ দিনের একটি তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলেন।   ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কার্যালয়ের সঙ্গে সফরের দলনেতাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর দলটির কোনো সদস্য বা অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দেখতে এবং সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী একটি ছোট দল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের সেখানে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আকস্মিক বন্যার পর ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।   বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এর সঙ্গে কাদা, পাথর ও বরফ মিশে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে যেতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং বিশাল জল ও কাদার স্রোত বসতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা বরফধস সৃষ্টি হয়ে এই বন্যা হয়েছে। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের ভূমিধস বা বরফ ও পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রধান কারণ। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর নদীতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নেমে এসে এই আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্যার সময় নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত দ্রুত পানির উচ্চতা বাড়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকদের সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও খুব কম ছিল। দুর্যোগের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে নেপালের রাসুয়া জেলায়। জেলার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকায় প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও বন্যার পানি ও কাদার স্রোত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম ও বাজার এলাকা বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।   উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ১৪টি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। তবে রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি থাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পানি কমে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে গিরং এলাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয়দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং বরফ ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা, হিমবাহধস ও বরফ-পাথরের ধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।   উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে স্থল ও আকাশপথে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   সূত্র: এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়া, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও তীব্র গরমের পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলতি সপ্তাহে একসঙ্গে কয়েক ধরনের বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং বিপজ্জনক মাত্রার গরমের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত কয়েকটি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি অংশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকতে পারে। ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একদিকে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি, অন্যদিকে তাপজনিত অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকা থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শীতল বায়ুপ্রবাহের সীমারেখার কারণে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। কিছু এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ওহাইও উপত্যকা ও মধ্য অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। টেনেসি উপত্যকা, ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু অংশেও শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ঝড়ে ক্ষতিকর গতির বাতাসসহ বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   এদিকে উত্তরাঞ্চলের সমতল এলাকাগুলোতেও ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটার কিছু এলাকায় দফায় দফায় বজ্রঝড় হতে পারে। বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এসব ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার আবহাওয়ার পরিস্থিতির প্রভাব মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে আরও বাড়তে পারে। দক্ষিণমুখী একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ এবং মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে মিলে নেব্রাস্কা ও কানসাস থেকে মিসিসিপি নদীর আশপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একাধিক দফায় বজ্রঝড় তৈরি করতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।   গ্রেট লেকস অঞ্চলেও মঙ্গলবার নতুন করে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে রকি পর্বতমালা ও হাই প্লেইন্সের কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন বজ্রঝড় হতে পারে। বুধবারের দিকে ঝড়ের প্রবণতা আরও পূর্ব দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য রকি অঞ্চল থেকে ওহাইও উপত্যকার কিছু অংশ পর্যন্ত অস্থিতিশীল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শুধু ঝড়-বৃষ্টিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরমও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকতে পারে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার চাপ অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কিছু এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু স্থানে রাতের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের আশপাশে বা তার ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দিনের গরম থেকে শরীরের স্বাভাবিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। তাপপ্রবাহের প্রভাব পশ্চিম দিকেও বিস্তৃত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হলে ওই এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতল এলাকাতেও অত্যন্ত গরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্থানীয় রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও প্রবল ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইন্ডিয়ানা, ওহাইও, ইলিনয়, কেনটাকি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ঝড় ও বন্যার ঘটনায় হতাহত এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর স্থানীয় পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রঝড়ের সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলা, আকস্মিক বন্যার পানিতে প্রবেশ না করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তীব্র গরমের সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের নিয়মিত স্থানীয় আবহাওয়ার খবর দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাস আকস্মিক বন্যা ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সতর্কতা,প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিকে বহু শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার পর একই অঞ্চলে আবারও জরুরি বন্যা সতর্কতা জারি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।    দক্ষিণ টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে, নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়ছে এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।    ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, টেক্সাসের কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টির ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে উভালডে কাউন্টি ও আশপাশের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নদী, ছোট জলপথ ও নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। উভালডে কাউন্টিসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে।   টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট একাধিক কাউন্টিতে দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে রাজ্যের জরুরি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, পানির স্রোত দেখে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না এবং বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।    এই পরিস্থিতি টেক্সাসবাসীর মনে এক বছর আগের ভয়াবহ ক্যাম্প মিস্টিক বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গুয়াডালুপ নদীতে আকস্মিক বন্যায় ক্যাম্প মিস্টিক এলাকায় ২৭ জন শিশু ও কর্মীসহ বহু মানুষ নিহত হন। পরবর্তী তদন্তে ক্যাম্পের জরুরি প্রস্তুতি ও বন্যা মোকাবিলা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।    টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ভারী বৃষ্টির পানি খুব দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নদী, খাল ও পাহাড়ি ঢালের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।    বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   টেক্সাসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করলে স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা অনুসরণ করুন, বন্যার পানিতে প্রবেশ করবেন না এবং জরুরি অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখুন। বিশেষ করে নদী, খাল বা নিচু এলাকার কাছাকাছি বসবাসকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০