ইসরায়েল হামলা

ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনসহ নিহত ৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার এক ক্যামেরাপারসন ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্য গাজার একটি বাড়িতে চালানো হামলায় আল জাজিরার সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি।   আল জাজিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় তাদের সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হওয়া একটি জঘন্য ঘটনা। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক ঘটনার অংশ।   অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, আহমেদ উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার স্নাইপার ছিলেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ৭ জন নিহত হয়েছেন।   মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলায় উইশাহসহ আরও দুজন নিহত হন। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধার সংস্থার বরাতে জানা যায়, নিহত অন্য দুজনকেও হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।   উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই আল জাজিরার আরেক সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উইশাহ গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছিল।   অন্যদিকে গাজার সাবরা এলাকায় রাতভর আরেকটি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে আরও জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশুও রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ ৬ ফিলিস্তিনি নিহত, প্রাণ হারালেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনও

গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একজন ক্যামেরাপারসনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এসব হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   শনিবার দিনের প্রথম হামলাটি ঘটে গাজা সিটিতে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে হামলা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ, রক্তমাখা কংক্রিটের টুকরো এবং বিধ্বস্ত ভবনের চিত্র দেখতে পান। এই হামলায় নিহত দুই বোনের পরিচয় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলো চার বছর বয়সী জেইনা সাফাদি এবং ১৪ বছর বয়সী লানা সাফাদি। তাদের মরদেহ গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়, যেখানে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন।   নিহত শিশুদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি বলেন, “আমরা ঘরের ভেতরে ছিলাম। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে।” হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। তার স্ত্রীরও আঘাত লেগেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “যে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, সেটি কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ মানুষ। আমি কখনো অস্ত্র ধরিনি।” এই ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দিনের পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি পৃথক হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন।   গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ। আল-আকসা হাসপাতাল ও আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আহমেদ উইশাহর পরিবারের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় শোক। তার ভাই মোহাম্মদ উইশাহ, যিনি আল জাজিরার একজন সংবাদদাতা ছিলেন, গত এপ্রিলে আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।   এদিকে দক্ষিণ গাজার মাওয়াসি এলাকার বিস্তৃত তাঁবুশিবিরে জড়ো হওয়া একদল মানুষের ওপর চালানো আরেক হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজা সিটিতে আরেকটি হামলায় কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগে ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাস এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।   ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর নিহত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।   জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং স্বাধীন গবেষকদের মতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাদের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। নতুন এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেক দূরের।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন
ইরানে হামলার পর আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন

ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি ইরান সরকার।   বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনির্ভরযোগ্য সূত্রে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজধানী তেহরানে চালানো বিমান হামলায় ভাহিদি প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।   আহমেদ ভাহিদি ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কট্টর অবস্থান ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত এবং অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। ভাহিদি তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাকে ঘিরে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।   ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। তাদের অবস্থান সাধারণত কঠোর এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আপসের বিপক্ষে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভাহিদির নিহত হওয়ার খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। কারণ আইআরজিসি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করে।   অন্যদিকে, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানবিরোধী মহলে নতুন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আইআরজিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যক্রম মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।   তবে অতীতে একাধিকবার ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সেগুলো পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নিশ্চিত তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এ এফ পি
নতুন যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত

গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। একই সময়ে মিসরের রাজধানী কায়রোতে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আল জাজিরা ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকার একাধিক স্থানে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।   দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে হামলায় ৫ জন নিহত হন। গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় পৃথক হামলায় ৩ জন এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ উপকূলে আরেকটি হামলায় আরও ১ জন নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।   এদিকে মিসরের রাজধানী কায়রোতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   হামাস মধ্যস্থতাকারীদের জানায়, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো ধরনের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আলোচনাটি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির আওতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বড় ধরনের সংঘাত কিছুটা কমলেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।   এই সময়ে প্রায় ৯৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির কাঠামো অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের কথা ছিল। তবে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া এখনো এগোয়নি। ইসরায়েল বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা আগের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের তুলনায় বেশি।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত মে মাসে সামরিক বাহিনীকে গাজার নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।   হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান জানিয়েছেন, সংগঠনটি এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না এবং ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে।   জাতিসংঘ ও একাধিক স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। ফাইল ছবি
লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রস্তুত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দিপালী খাতুন নামে এক বাংলাদেশি নারীও রয়েছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইতোমধ্যে তার পরিবারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।   শনিবার (১১ এপ্রিল) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, লেবাননে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিহত দিপালীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   তিনি আরও বলেন, দিপালী খাতুন ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসনের বাসিন্দা ছিলেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।   মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেকের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।   তিনি জানান, যারা নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না, তাদের ফিরিয়ে আনতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে কিছু বাংলাদেশিকে দেশে আনা হয়েছে, এবং আগ্রহীদের ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত নারীসহ মোট আটজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।  

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নারী

লেবাননের রাজধানী Beirut-এ ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নিহত নারীর নাম দিপালী। তিনি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের হামরা এলাকায় চালানো হামলায় তিনি প্রাণ হারান।   দূতাবাস জানায়, হামলার সময় দিপালী তার নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। হামলার ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে তার মরদেহ বৈরুতের Rafic Hariri University Hospital-এর মর্গে রাখা আছে।   বাংলাদেশ দূতাবাস তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই হামলায় তার নিয়োগকর্তা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।   এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননে এই হামলা চালানো হয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত ও অনেকেই আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

Unknown এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তিন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি; লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল, কাঁপছে তেল আবিব!

ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কঠোর নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত মার্চ মাসের শেষদিকে সংঘটিত এই প্রাণঘাতী হামলায় তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লু লাইন বরাবর চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তিরক্ষীদের ওপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা। পরিষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষী বাহিনী বা তাদের কোনো স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করা অপরাধ। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ ইউনিফিলের তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই হামলার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। শান্তিরক্ষীদের চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পুনরায় দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে এবার ইসরায়েলে সবচাইতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।   বুধবার চালানো এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।   হামলার সময় সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।   উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।   একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল যা জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তেল আবিব ছাড়াও শেফেলা এবং জেরুজালেম এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।   তেহরানের কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়েছে যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।   এর পর থেকেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জর্ডান ও ইরাকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।   বড় শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।   বিশ্ববাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়।   আপাতত কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।  

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০