এশিয়া

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
সান্তা ক্লারিটায় এশীয় প্রতিবেশীর প্রতি ভয়ংকর বর্ণবাদী গালিগালাজ, ভিডিও ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্লারিটায় রাস্তায় গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে এক এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিবেশীর ওপর জঘন্য বর্ণবাদী মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক বয়স্ক নারী অপর গাড়ির চালককে উদ্দেশ্য করে চরম বর্ণবাদী গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এশিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। ইন্টারনেটে ক্ষিপ্ত নেটিজেনরা ওই নারীকে অহংকারী ও বর্ণবাদী আচরণের জন্য 'ক্যারেন' (Karen) আখ্যা দিয়েছেন।   অনলাইনে এলেইন লাফোর্জ নামে শনাক্ত হওয়া ওই নারী ভিডিওতে চিৎকার করে বলছিলেন, "তুমি এশিয়ায় ফিরে যাচ্ছো না কেন? এশিয়ায় ফিরে যাও এবং গিয়ে রিকশা চালাও।" ভুক্তভোগী নারী, যিনি ভিডিওটি ধারণ করছিলেন, তাঁকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি। তবে তিনি জানান, বাড়ি ফেরার পথে লাফোর্জ দ্রুতগতিতে তাঁর গাড়িটি অতিক্রম করেন এবং এরপরই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।   এমনকি রেকর্ডিং শুরুর আগে ওই নারী আঙুল দিয়ে 'এশীয় চোখ' ভেংচি কাটছিলেন বলেও ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগী নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনিও একই শেফিল্ড এবং অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আশপাশের এলাকায় থাকেন এবং তিনি অভিযুক্তের গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে রেখেছেন।   ভুক্তভোগী নারী পরবর্তীতে ২ মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা ইনস্টাগ্রাম ক্রিয়েটর মাইকেল ম্যাকহোর্টারের কাছে ভিডিওটি শেয়ার করেন। ম্যাকহোর্টার নিয়মিত এ ধরনের সামাজিক সংঘাতের ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন। ভুক্তভোগী তাঁকে জানান, প্রথমে অভিযুক্ত নারী তাঁর পেছনে থাকলেও পরে সামনে এসে পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন এবং রাস্তার মাঝে বারবার ব্রেক কষতে থাকেন।   নিজের বাড়ির ঠিকানা গোপন রাখতে তিনি ওই সময় বাড়ির সামনে দিয়ে না থেমে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। এদিকে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সান্তা ক্লারিটার স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ম্যাকহোর্টার নিজেও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ম্যানিলার একটি গ্যাস স্টেশন। এশিয়ায় আমেরিকার প্রাচীনতম মিত্র ফিলিপাইনে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তারা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্যে ফাটল: রাশিয়া-ইরানের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

এশিয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। নিজেদের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো মার্কিন মিত্ররা এখন ওয়াশিংটনের কট্টর প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে এশীয় দেশগুলো এখন 'জাতীয় স্বার্থ'কে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতদিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে যারা রাশিয়া বা ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। কোন দেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? দক্ষিণ কোরিয়া: তীব্র ন্যাপথা ও তেল সংকটে থাকা দেশটি রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদ এখন রাশিয়া ও ইরানকে বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করছে। ফিলিপাইন: জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাঁচ বছর পর দেশটি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রথম চালান গ্রহণ করেছে। ভারত: সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে চলতি সপ্তাহে ভারতে পৌঁছেছে ইরানের তেলের ট্যাংকার। লোহিত সাগরের অস্থিরতায় রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আবারও বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়া: প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মস্কো সফর করে পুতিনের প্রশংসা করেছেন এবং জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করছেন। জাপান: ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জাপান এখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুতিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বমঞ্চে পুতিনকে কোণঠাসা করার যে চেষ্টা পশ্চিমা বিশ্ব করেছিল, এই জ্বালানি সংকট তা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। এশীয় দেশগুলোর কাছে এখন রাশিয়ার তেল কেবল সস্তা নয়, বরং ভৌগোলিকভাবে দ্রুত সরবরাহযোগ্য একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর হুয়ং লে থু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেক দেশকে মার্কিন বলয় থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। ওয়াশিংটনও বৈশ্বিক সংকট এড়াতে বাধ্য হয়ে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি শিথিল করছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ: সংকটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) প্রত্যাখানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 'শোরলাইট' (Shorelight) নামক একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে যেখানে ভিসা প্রত্যাখানের হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা নীতি বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিপরীতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর মেধা বা আর্থিক স্বচ্ছলতার চেয়ে তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হারিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই 'ভিসা জটিলতা' কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই নষ্ট করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধুমাত্র গত গ্রীষ্মেই ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের টিউশন ফি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের 'অ-অভিবাসী অভিপ্রায়' (Non-immigrant intent) প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রতি কড়াকড়িকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং 'ডুয়াল ইনটেন্ট' (Dual Intent) পলিসি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে নিজেদের ‘আস্থাশীল ও স্থিতিশীল’ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে চীন

বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের এক নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে চীন। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলো যখন ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বেইজিং নিজেকে ‘বিকল্প এবং নির্ভরযোগ্য’ অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র জন্য চলতি সপ্তাহটি ছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময়। আজ সকালে বেইজিংয়ে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। এছাড়া চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতা তো লামের আজ রাতেই চীনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতায় পিছিয়ে নেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও। তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এর একদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও চীন সরাসরি কোনো সামরিক বা হার্ড-লাইন ভূমিকা পালন না করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের প্রধান ক্রেতা। তবে চীন এই মুহূর্তে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে বরং সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেইজিং অত্যন্ত কৌশলে এই সময়টিকে কাজে লাগাচ্ছে। যেসব দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে বা ওয়াশিংটনের অস্থির পররাষ্ট্রনীতিতে বীতশ্রদ্ধ, চীন তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের নীতিকে অনেক দেশই এখন অনিশ্চিত বলে মনে করে। এর ঠিক বিপরীতে চীন নিজেকে একটি ‘ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্য, স্থিতিশীল এবং আস্থাশীল’ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছে। বেইজিংয়ের এই ‘শান্ত ও স্থিতিশীল’ ইমেজ বর্তমানে অনেক রাষ্ট্রের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
‘লিডনেক্সট ২০২৬’ ফেলোশিপ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আবেদন করুন এখনই

বিশ্বমঞ্চে আগামীর দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লিডনেক্সট ২০২৬: অ্যাম্বাসেডর ফর এ গ্লোবাল ফিউচার’ (LeadNext 2026: Ambassadors for a Global Future) প্রোগ্রামের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন। এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান তরুণ নেতাদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মিলবে ক্যালিফোর্নিয়া ভ্রমণের সুযোগ। এটি চার মাস মেয়াদী একটি হাইব্রিড (অনলাইন ও সরাসরি) ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে ভার্চুয়াল মাস্টারক্লাসে অংশ নেবেন। প্রোগ্রামের শেষ পর্যায়ে আগামী বছরের (২০২৬) সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে-এরিয়াতে এক সপ্তাহব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তারা। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা, যারা সমাজ পরিবর্তন বা নেতৃত্বে আগ্রহী, তারা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তরুণদের জন্য এটি একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজক সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই প্রোগ্রামের যাবতীয় খরচ (আবাসন, যাতায়াত ও প্রশিক্ষণ) তারা বহন করবে। বিশেষ করে অংশগ্রহণকারীদের মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হবে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভিসা সাপোর্ট লেটার প্রদান, ফি মওকুফ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং নতুন কার্যকর হতে যাওয়া ‘ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি’ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা: আবেদনের শেষ সময়: ৫ মে, ২০২৬ (যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী)। ফলাফল ঘোষণা: জুন মাসের শুরুতে। ক্যালিফোর্নিয়া সামিট: ১৯ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরণের আন্তর্জাতিক বিনিময় প্রোগ্রাম দক্ষ জনশক্তি ও নেটওয়ার্ক তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষা বা পেশাদার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য ‘লিডনেক্সট’ একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এশিয়া ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০