সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কোস্ট গার্ড

আলাস্কা উপকূলে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে মার্ক জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট 'লঞ্চপ্যাড'-এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!

মেটা (Meta) প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গের একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরি বা ইয়টের বিরুদ্ধে সাগরে ভাসমান একটি নৌযানকে সাহায্য না করার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলে জ্বালানি ফুরিয়ে বিপদে পড়া ওই নৌযানটিকে সাহায্য করার জন্য কোস্ট গার্ডের অনুরোধ সত্ত্বেও জাকারবার্গের ইয়টটি কোনো সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি ক্রুজ জাহাজের এক যাত্রী। শেষ পর্যন্ত ছোট আকারের ওই ক্রুজ জাহাজটিই তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে জাকারবার্গের প্রমোদতরিটির ক্রুরা।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'ফেয়ারব্যাংকস ডেইলি নিউজ-মাইনার'-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলাস্কার রাজধানী জুনো এবং পিটার্সবার্গ শহরের মধ্যবর্তী সাগরে ২১ ফুট দীর্ঘ একটি নৌযানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। মাঝসাগরে অসহায় অবস্থায় ভাসতে থাকা নৌযানটিকে পরে 'ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি' নামের একটি ছোট ক্রুজ জাহাজ টেনে নিরাপদে ফাররাগুট বে-তে নিয়ে যায়।   ওয়াইল্ডারনেস লিগ্যাসি ক্রুজ জাহাজের মাইকেল লাভ নামের এক যাত্রী গত ৫ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম ব্লুস্কাই-তে (Bluesky) দেওয়া এক পোস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, বিপদে পড়া ওই ছোট নৌযানটিতে দুজন নারী, একটি শিশু এবং একটি কুকুর ছিল। মাইকেল লাভ ক্রুজ জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাত দিয়ে বলেন, "আমি আমার ছেলের সঙ্গে আলাস্কায় একটি ছোট ক্রুজ জাহাজে ভ্রমণ করছি। গত রাতে আমাদের জাহাজটি একটি আটকা পড়া নৌযানকে উদ্ধার করেছে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা তাদের উদ্ধার করার আগে কোস্ট গার্ড মার্ক জাকারবার্গের ইয়টটিকে রেডিওর মাধ্যমে সাহায্য করার জন্য বলেছিল, কারণ সেটি নৌযানটির অনেক কাছাকাছি ছিল। কিন্তু তারা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া দেয়নি।"   মাইকেল লাভ আরও জানান, ক্যাপ্টেন যখন যাত্রীদের এই কথা জানান, তখন সেখানে উপস্থিত সবাই জাকারবার্গের ইয়টের এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে দুয়োধ্বনি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   কোস্ট গার্ড এবং মেরিন এক্সচেঞ্জ অব আলাস্কা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জাকারবার্গের 'লঞ্চপ্যাড' নামের ইয়টটি বিপদে পড়া নৌযানটির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানেই ছিল। তবে নৌযানটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো 'ডিসট্রেস কল' বা চরম বিপদের সংকেত দেওয়া হয়নি। কোস্ট গার্ডের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট শ্যানন শেপার্ড সংবাদমাধ্যম 'দ্য বেকন'-কে জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার পরপরই তারা ওই নৌযানটি থেকে সাহায্যের জন্য একটি কল পান।   শেপার্ড বলেন, "রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে কোস্ট গার্ড পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুঝতে পারে যে তারা চরম কোনো বিপদে নেই বা জীবনহানির ঝুঁকি নেই। তাই তাদের পক্ষ থেকে একটি 'মেরিন অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট' বা সমুদ্রে সাধারণ সাহায্যের অনুরোধ প্রচার করা হয়, যাতে আশপাশের কোনো নৌযান তাদের সাহায্য করতে পারে।"   এ ঘটনার পর মার্ক জাকারবার্গের একজন মুখপাত্র 'দ্য বেকন'-কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় মেটা প্রতিষ্ঠাতা বা তার পরিবারের কেউ ওই ইয়টে উপস্থিত ছিলেন না।   মুখপাত্র বলেন, "কোস্ট গার্ড যেমনটি উল্লেখ করেছে, নৌযানটি চরম কোনো বিপদের মধ্যে ছিল না। তাছাড়া আমাদের ইয়টের ক্রুরা যে রেডিও চ্যানেলে কাজ করছিলেন, কোস্ট গার্ডের বার্তাটি অন্য একটি চ্যানেলে এসেছিল। ফলে বার্তাটি পেতে তাদের দেরি হয়। যখন তারা বার্তাটি খেয়াল করে কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করেন, ততক্ষণে অন্য একটি জাহাজ উদ্ধারের কাজ শুরু করে দিয়েছিল।" পরিশেষে তিনি বলেন, "সবাই যে নিরাপদে আছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক হারবারে স্পিডবোট উল্টে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু, ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক হারবারে একটি স্পিডবোট উল্টে এক মা ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পানিতে পড়ে যাওয়া আরও ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বোটটির চালকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানটি অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং মার্কিন কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্ক হারবারের লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বেলাইনার স্পিডবোট উল্টে যায়। লিবার্টি আইল্যান্ডেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা স্ট্যাচু অব লিবার্টি অবস্থিত।   দুর্ঘটনার পর আশপাশে থাকা অন্যান্য নৌযান এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পানিতে থাকা ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ডুবুরি দল পানির ভেতর থেকে ২৭ বছর বয়সী এক নারী ও তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে উদ্ধার করে।   তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় উদ্ধার হওয়া অন্যদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   ঘটনার পর নিউইয়র্কের ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে ১৩টি বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।   কোস্ট গার্ডের সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাককার্থি এক বিবৃতিতে বলেন, "গত রাতের এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া অংশীদার সংস্থা এবং সহায়তাকারী সাধারণ নৌযানের দ্রুত ও সাহসী ভূমিকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"   রোববার কোস্ট গার্ড জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী বহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এ ধরনের অবৈধ চার্টার কার্যক্রম নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মা ও শিশুর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর তাদের পরিচয় জানানো হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল মা ও ৫ মাসের কন্যাশিশুর
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল মা ও ৫ মাসের কন্যাশিশুর; গ্রেপ্তার চালক

শনিবার রাতে নিউইয়র্ক হারবারে একটি যাত্রীবাহী নৌযান উল্টে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী এক নারী এবং তার ৫ মাস বয়সী কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটি বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য অবৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানায়, শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নৌযানটি উল্টে যাওয়ার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হারবার ইউনিটের পাশাপাশি স্কুবা ও এভিয়েশন টিম মোতায়েন করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পানি থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মা ও তার শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার হওয়া বাকি যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কোস্ট গার্ড সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাকার্থি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "গত রাতের মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।" একইসঙ্গে উদ্ধারকাজে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও জীবিতদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য তিনি অংশীদারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করছে।   এদিকে, এনওয়াইপিডি-এর এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় রবিবার নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেপরোয়াভাবে অন্যের জীবন বিপন্ন করার ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, যথাযথ ছাড়পত্র, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং বৈধ শংসাপত্র ছাড়া ভাড়ায় চালিত যেকোনো যাত্রীবাহী নৌযানকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সোনাদিয়া দ্বীপে বিদেশি পর্যটকদের ওপর হামলা, কোস্ট গার্ডের অভিযানে উদ্ধার

কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হওয়া নিউজিল্যান্ডের চার পর্যটককে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানে জড়িতদের আটক করা সম্ভব হয়নি।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, বুধবার রাতে দ্বীপের চরে একটি নৌযানে অবস্থানকালে পর্যটকদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তদের একটি দল।   খবর পেয়ে কাছাকাছি টহলরত কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে পর্যটকদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড পুদনে ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।   জানা গেছে, তারা কক্সবাজার ভ্রমণে এসে একটি কাঠের বোট ভাড়া করে সোনাদিয়া দ্বীপে যান এবং সেখানে রাতযাপন করছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ ডলার ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়।   পরবর্তীতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে পর্যটকদের কাছে ফিরিয়ে দেন। তবে অভিযানের সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।   কোস্ট গার্ড সূত্রে আরও জানা যায়, জন এডওয়ার্ড ২০২৪ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এবং সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাঁকে এ ধরনের যাত্রা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল।   বর্তমানে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০