জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তিনি জানান, ওইদিন ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনা হবে না। সংসদে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হবে সংস্কার আদায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। রাজশাহী টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ মাঠে এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের দেশে ফেরত আনা এবং বিচারের আওতায় আনা উচিত। তিনি ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের প্রশংসা করলেও দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি বন্ধ না হলে এর কার্যকারিতা সীমিত হবে বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির রাজশাহী বিভাগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ওই দিন জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় কার্যকর করার জন্য।” ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে ও বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললেও মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তিনি মনে করেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের হালিমা খাতুন বিদ্যালয়ে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, হামলা, মামলা ও নানা ধরনের দমন–পীড়নের মধ্য দিয়েও তাদের আন্দোলন থেমে থাকেনি। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই তারা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম এবং দিনাজপুরের আহাদের নাম উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ১১ দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতাও একইভাবে নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা চলছে। তার অভিযোগ, ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকেও দলীয় প্রভাবের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার গণহত্যার বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অযোগ্য ও দলীয় একজন ব্যক্তিকে ওই পদে নিয়োগ দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশনে সংস্কার পরিষদ গঠন না করা হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় আবারও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এ সময় চাঁদাবাজি, ঋণখেলাপি ও সংস্কারবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের দলীয়করণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে জনকল্যাণে নিয়োজিত করা যায়। ইফতার মাহফিলে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এনসিপি নেতাদের মধ্যে সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিনা কারণ ও বিনা অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং ভিকটিম ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় কেবল শেখ হাসিনার পতন নয়, বরং পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অবসান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল তাদের। যেখানে স্বৈরাচার, বৈষম্য ও অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি হবে না এবং মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের সংকটে ছাত্ররা এগিয়ে এলেও বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর যেমনটি হয়েছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও তেমনই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের ফল ভোগ করছে রাজনৈতিক শক্তিগুলো, আর সংস্কার ও বিচারের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। সংস্কার পরিষদে বিএনপির শপথ না নেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলটি। সংবিধানের দোহাই দিয়ে শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিকভাবে গভর্নরকে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক লুটপাটের পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে। তিনি যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের আহ্বান জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। নানা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে এবং সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে এনে আইন ও বিচার নিজেদের মতো পরিচালনার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন রাজপথে গড়াতে বাধ্য হবে। তবে সংসদের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দৌড়ানোর ঘটনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, এ দৃশ্য তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের ভাষ্যমতে, অভ্যুত্থানের একটি সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে পরিচিত রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে গাড়ির পেছনে দৌড়াতে দেখা যায়। এ দৃশ্য তার কাছে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন সারজিস আলম। তিনি আরও বলেন, রাকিবের নেতৃত্বে দেশে লাখ লাখ ছাত্র রয়েছে। এমন একজন নেতাকে যেভাবে দৌড়াতে দেখা গেছে, তা তিনি অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির সংস্কৃতিতে নতুন একটি মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ ছাত্র রাজনীতির দিকনির্দেশনা দেবে। অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদের এই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন–পরবর্তী নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এবার বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের বিষয়টি এখনো আলোচনা হয়নি। আগামী কার্যক্রম সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্য অধিবেশনের অন্তত এক ঘণ্টা আগে অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য সংসদ সচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাব দিতে পারেন। প্রস্তাবটি তৃতীয় কোনো সদস্যের সমর্থনসহ জমা দিতে হয়। প্রস্তাবিত ব্যক্তি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মত—এমন ঘোষণাও সংযুক্ত থাকতে হবে। তবে কেউ নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারবেন না এবং নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারবেন না। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন এবং এরপর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। কোনো পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে। সংসদ গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে) কোনো ব্যক্তি স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার কিংবা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রস্তাবের মাধ্যমে একজনকে সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে। এবারের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি কারো নাম মনোনীত করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবিধান ও সংসদের বিধি অনুসরণ করেই প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ১২ মার্চের অধিবেশনের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি জনগণের অর্থ ও সমর্থনের ওপর ভর করেই রাজনীতি করবেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা তদবির গ্রহণ করবেন না। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ মাদ্রাসা মাঠে শাপলা কলি প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ আমাকে সহযোগিতা করছেন রাজনীতিকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য। কেউ যদি মনে করেন অর্থ দিয়ে পরে কোনো সুবিধা আদায় করবেন—তা সম্পূর্ণ ভুল। আইন ও ন্যায়ের প্রশ্নে আমি নিজের আত্মীয়কেও ছাড় দেব না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এক ভাই এক দলে, আরেক ভাই অন্য দলে—যে দল ক্ষমতায় আসে, সুবিধা নেয় তারাই। এই অপসংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যারা ভুল পথে আছেন, তারা সঠিক পথে ফিরে এলে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। কিন্তু কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। কে কোন দলের, তা বিবেচ্য নয়—জনগণের জন্য যে রাস্তা বা কাজ বেশি জরুরি, সেটাই আগে করা হবে। ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটের আগের দিন যদি টাকার প্রলোভন দেওয়া হয়, তা প্রত্যাখ্যান করুন। ঘুষের বিরুদ্ধে থাকলে ভোটের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস