- প্রচ্ছদ
- Topic
টিকটক
শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারে সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। শুক্রবার, ২১ আগস্ট ঘোষণা করা এই সমঝোতাটি শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুনরুদ্ধারগুলোর একটি। মামলাটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে। মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছিল, টিকটক শিশু ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় সম্মতি নেয়নি। অভিযোগে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিলড্রেনস অনলাইন প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বা কপ্পা আইন লঙ্ঘনের কথা বলা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, টিকটক ৩০ কোটি ডলার তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করবে। আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে আগের একটি আদালতের সম্মত আদেশ বাতিলের নির্দেশ জারি হওয়ার পর। এই অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামলাটির নিষ্পত্তি হবে। তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগগুলো কেবল অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে। আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ টিকটককে এসব অভিযোগের জন্য আইনগতভাবে দায়ী বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মার্কিন বিচার বিভাগের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র বলেন, শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, সেটিই বিভাগের অগ্রাধিকার। তার মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ উদ্ধার করার পাশাপাশি পরিবারগুলো যে ধরনের সুরক্ষা আশা করে, সেটিও জোরদার করা হয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মামলা করার পর টিকটকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, আইন মেনে চলার কাঠামো এবং গোপনীয়তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত এবং অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। যুক্তরাষ্ট্রের কপ্পা আইনে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৯ সালেও টিকটকের পূর্বসূরি মিউজিক্যালি-র বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে মার্কিন সরকার মামলা করেছিল এবং আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠানটিকে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সমঝোতার বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন টিকটককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে আলাদা বিতর্কও চলছে। তবে এই ৪০ কোটি ডলারের সমঝোতাটি মূলত শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, সমঝোতার অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ শুক্রবারের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা জানায়নি। তবে এবিসি নিউজের মে মাসের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই ৪০ কোটি ডলার ওয়াশিংটন ডিসির সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছিল, অর্থের একটি অংশ বা পুরো অর্থ স্বরাষ্ট্র বিভাগ, বাণিজ্য বিভাগ অথবা উভয় বিভাগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ডিসি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির কাছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উচ্চতার ‘ট্রায়াম্ফাল আর্চ’ নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে বলে মে মাসে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে সমঝোতা থেকে পাওয়া অর্থ ওই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। ফলে টিকটকের কাছ থেকে পাওয়া ৪০ কোটি ডলার ঠিক কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। টিকটক শুক্রবারের সমঝোতা ঘোষণার পরপরই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি বলে এবিসি নিউজ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান হলো এই সমঝোতার মাধ্যমে। একদিকে টিকটককে বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিশু ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ হয়নি, এটিও আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশ্যে নারীদের আঁটসাঁট বা টাইট ব্যায়ামের পোশাক (অ্যাক্টিভওয়্যার) পরা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের এক নারী। জিমের পোশাক পরে শপিংমল বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শালীনতা পরিপন্থি কি না, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো দুই ভাগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই যেমন ওই নারীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন, তেমনি অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘নারীবিদ্বেষী’ মানসিকতার অভিযোগ তুলেছেন। অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পপি নামের ওই টিকটকার সম্প্রতি কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিলের একটি সুপারমার্কেটের ভেতর থেকে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে নারীদের খুব ছোট শর্টস বা টাইট লেগিংস পরার তীব্র সমালোচনা করেন। পোশাকগুলো নারীদের শারীরিক গঠনকে দৃষ্টিকটুভাবে ফুটিয়ে তোলে বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিওতে পপি বলেন, “যেসব নারী এ ধরনের অ্যাক্টিভওয়্যার বা ছোট শর্টস পরেন, আমি মনে করি এটা দারুণ ব্যাপার। আপনারা আত্মবিশ্বাসী এবং আপনাদের শারীরিক গঠনও সুন্দর। কিন্তু আপনারা কি বুঝতে পারেন যে হাঁটার সময় আপনাদের আঁটসাঁট পোশাকের কারণে গোপনাঙ্গের আকার স্পষ্টভাবে বোঝা যায়? আমাকে এসে বলবেন না যে আমি কেন ওদিকে তাকিয়েছি। কেউ যদি এমন পোশাক পরে আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে না তাকিয়ে উপায় কী?” নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে এই টিকটকার পরিস্থিতিটিকে একজন পুরুষের টাইট প্যান্ট পরার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “এটা অনেকটা এমন যে, একজন পুরুষ খুব টাইট প্যান্ট পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এবং তার গোপনাঙ্গ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।” পপির এই স্পষ্টভাষী ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়তে থাকে। দর্শকরা এই ইস্যুতে স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, জনসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মন্তব্যকারী লেখেন, “তিনি একদম ঠিক কথা বলেছেন জনসমক্ষে ভদ্রতা বলে একটা কথা আছে।” আরেকজন লেখেন, “অবশেষে কেউ একজন সত্যি কথাটা বলল। আমি এই নতুন ট্রেন্ডকে ঘৃণা করি, জিমের পোশাক কেবল জিমেই মানায়।” কেউ কেউ প্রকাশ্যে এমন পোশাক পরাকে ‘জঘন্য’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে অনেকেই পপির এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, পপি নিজেই একজন নারী হয়ে অন্য নারীদের পোশাক নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অন্তর্নিহিত নারীবিদ্বেষের লক্ষণ। সমালোচনাকারীদের একজন বলেন, “শারীরিক গঠন দেখা যাওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। আমরা সবাই এভাবেই পৃথিবীতে এসেছি।” অন্য একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার পছন্দ না হলে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকুন এবং নিজের কাজে মন দিন। আমি অনেক কষ্ট করে নিজের শরীর এমন সুন্দর করেছি, কারও কথায় আমি আমার পোশাক পরিবর্তন করব না।” অনেকেই আবার জানান, জিমে ব্যায়াম শেষ করার পর নারীদের অনেক সময় কেনাকাটা করতে দোকানে যেতে হয়। এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন রাখেন, “জিমে ওয়ার্কআউট করার পর কি আমাদের আগে বাড়ি গিয়ে পোশাক বদলাতে হবে? অনেক মেয়েরই ব্যস্ততা থাকে এবং জিম শেষ করেই বাজার করতে হয়।” পপির মন্তব্যের সঙ্গে মানুষ একমত হোক বা না হোক, তাঁর এই ভিডিওটি অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের পোশাক পরার অভ্যাস নিয়ে একটি বড় আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে 'অ্যাথলিজার' বা ব্যায়াম ও ক্যাজুয়াল পোশাকের মিশ্রণ কীভাবে ধীরে ধীরে দেশটির নাগরিকদের এক প্রকার অঘোষিত দৈনন্দিন পোশাকে পরিণত হয়েছে, সেটিই নতুন করে সামনে এসেছে। বাণিজ্যিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিবিআরই-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ট্রেন্ডটি মূলত মানুষের কাজ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমানে রিমোট এবং হাইব্রিড কাজের সুযোগ বাড়ায় মানুষ এমন পোশাক খুঁজছে, যা পরে জুম মিটিং থেকে শুরু করে সন্তানদের স্কুল থেকে আনা বা দ্রুত কেনাকাটা সবই স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। বিখ্যাত ব্র্যান্ড চোবানি-এর উদ্যোগে পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, ৬০ বছরের কম বয়সী ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান ব্যায়াম, ঘরে অবস্থান বা বাইরে যাওয়ার জন্য সাধারণ পোশাক হিসেবে অ্যাক্টিভওয়্যার পরেন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের পোশাক পরেন। তাই বিতর্ক যা-ই হোক না কেন, জিমের পোশাক যে এখন দৈনন্দিন ফ্যাশনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমের পোস্ট করা একটি টিকটক ভিডিওতে টেইলর সুইফটের গান ব্যবহারের পর ভিডিওটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কপিরাইট মালিকের অভিযোগের পর টিকটকে গানটি আর শোনা যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ঘটনার শুরু চলতি সপ্তাহে। ট্রাম্পের টিমের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে সুইফটের জনপ্রিয় গান ‘অগাস্ট’ ব্যবহার করা হয়েছিল। পোস্টের ক্যাপশনে এমন কথাও লেখা হয়েছিল, টেইলর সুইফট এই গান ব্যবহারে নিশ্চয়ই ‘খুব খুশি’ হবেন। পরে ভিডিওটির অডিও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং কপিরাইট মালিকের কারণে গানটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে টিকটকে জানানো হয়। শুধু ওই ভিডিওই নয়, ট্রাম্পের টিমের আরও কয়েকটি টিকটক পোস্টে সুইফটের গান ব্যবহারের পর সেগুলোর অডিওও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘ফাদার ফিগার’ গানটিও ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মজার প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট করা ভিডিও থেকেও শেষ পর্যন্ত কপিরাইটের কারণে গান সরাতে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। টেইলর সুইফট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। সুইফট অতীতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে সুইফটকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। তবে এবারের ঘটনায় সুইফট নিজে সরাসরি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং কপিরাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে গানগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়াই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনায় আপত্তি উঠেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কপিরাইটের কারণে অডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে সংগীতশিল্পীদের কপিরাইট ও রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো টেইলর সুইফটের গান। প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট থেকেও কপিরাইটের কারণে গান নীরব হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৬ মাসের এক অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জানা গেছে, শিশুটি যখন ব্যথায় কাতরাচ্ছিল, তখন তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ওই নারী তার স্মার্টফোনে টিকটক ও পর্নোগ্রাফি দেখায় মগ্ন ছিলেন। মর্মান্তিক এই শিশু নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে পুলিশের কাছে একটি জরুরি কল আসে যে একটি শিশু অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রাত ১২টা ৩২ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ প্রধান স্যামি টেলর জুনিয়র জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৯৪ ডিগ্রি। পারিপার্শ্বিক প্রমাণ ও শরীরের তাপমাত্রা বিবেচনা করে পুলিশের ধারণা, পুলিশকে খবর দেওয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তের শুরুতে অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যান পুলিশকে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে, শিশুটি বিছানা থেকে টাইলসের ওপর পড়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়বারের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘুমানোর সময় হয়তো তিনি ভুলবশত শিশুটির ওপর চাপা পড়েছিলেন। এমনকি শিশুটির পায়ে থাকা একটি আঘাতের দাগ নিয়ে তিনি কখনো গরম পানি, কখনো ডিটারজেন্ট, আবার কখনো গরম স্যুপ পড়ার কথা বলেন। তবে পুলিশের কঠোর জেরার মুখে শেষমেশ তিনি স্বীকার করেন যে, মৃত্যুর দিন শিশুটি কয়েকবার আঘাত পেয়েছিল। প্রথমে তার হাত থেকে ফসকে এবং পরে দোলনা থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটি মাথায় চোট পায়। এরপরও শিশুটির ক্রমাগত কান্নায় বিরক্ত হয়ে কয়েক ফুট দূর থেকে তাকে কুশনবিহীন একটি প্লেপেনে ছুড়ে ফেলেন তাতিয়ানা। এতে শিশুটির মাথায় পুনরায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সে ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এমন গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও ওই পাষণ্ড মা শিশুটিকে কোনো চিকিৎসকের কাছে নেননি। বরং ইন্টারনেটে আঘাতের লক্ষণগুলো সার্চ করার পর তিনি দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্লিপ্তভাবে টিকটক স্ক্রল করেন ও পর্নোগ্রাফি দেখেন। মেডিকেল পরীক্ষকের মতে, মাথার আঘাতের পর অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হলে হয়তো অবুঝ শিশুটির প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যে, সরকারি ডিভাইসগুলো থেকে টিকটক অপসারণের যে আইন ছিল, তা অ্যাপটির বর্তমান মার্কিন সংস্করণের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়। বেইজিং-ভিত্তিক বাইটড্যান্সের ১৯.৯% শেয়ার রেখে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের মালিকানা অধিকাংশ আমেরিকান উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার ছয় মাস পর এই আইনি মতামত সামনে এলো। জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর ধরে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটিকে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ফেলেছিল। ২০২২ সালের শেষের দিকে, কংগ্রেস একটি দ্বিপাক্ষিক আইন পাস করে যার মাধ্যমে নির্বাহী শাখার সংস্থাগুলোকে ফেডারেল ডিভাইস থেকে টিকটক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবিসি নিউজের তথ্য অনুসারে, আইনটি "বাইটড্যান্স লিমিটেড বা বাইটড্যান্স লিমিটেডের মালিকানাধীন কোনো সত্তা দ্বারা তৈরি বা সরবরাহকৃত যেকোনো উত্তরসূরি অ্যাপ্লিকেশন বা পরিষেবার" ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। গত বৃহস্পতিবার, বিচার বিভাগের অফিস অফ লিগ্যাল কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির ডেপুটি কাউন্সেলকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি ১২ পৃষ্ঠার মতামতে জানিয়েছে যে, আইনটি টিকটকের বর্তমান মার্কিন সংস্করণের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়। অফিসটি তাদের মতামতে বলেছে, "কংগ্রেস শুধুমাত্র টিকটকের সেই সংস্করণটি নিষিদ্ধ করেছিল যা একই রকম সমস্যাযুক্ত মালিকানার বৈশিষ্ট্যগুলো ভাগ করে।" এই মতামত সত্ত্বেও, ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনও উৎপাদনশীলতাসহ কর্মীবাবলী ব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি ডিভাইসগুলোতে অ্যাপটি নিষিদ্ধ রাখতে পারে। মূলত সংবেদনশীল সরকারি তথ্য অ্যাপটির মাধ্যমে চীনা সত্তাগুলো অ্যাক্সেস করতে পারে এমন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে প্রাথমিকভাবে এই বিধিনিষেধগুলো আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে, কংগ্রেস একটি আইন পাস করে যা বাইটড্যান্স তার মার্কিন কার্যক্রমের মালিকানা ত্যাগ না করলে দেশব্যাপী টিকটককে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করত। আইনটি কার্যকর হওয়ার একদিন আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচার বিভাগকে এটি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেন এবং বলেন যে তাঁর প্রশাসন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। সেই চুক্তিটি জানুয়ারিতে চূড়ান্ত হয়েছিল, যখন বেশিরভাগ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের একটি দল টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অর্জন করে, যেখানে বাইটড্যান্স একটি ১৯.৯% অংশীদারিত্ব ধরে রাখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। তবে প্রকাশিত তথ্য ও পরিসংখ্যান তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি টিকটকে ‘এক নম্বর’ অবস্থানে রয়েছেন। বক্তব্যের সময় তিনি মজা করে টিকটককে ‘টিক ট্যাক’ বলেও উল্লেখ করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করে। তবে এর আগের দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প যে তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, তাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ওই তথ্যচিত্রে তাকে টিকটকের ‘সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা এবং সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বনেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ এই হিসাবটি কেবল বিশ্বনেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সব ব্যবহারকারী বা বিনোদন জগতের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি। ফলে পপ তারকা টেইলর সুইফটের মতো ব্যক্তিত্ব ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। একই সঙ্গে তাকে ১১তম অবস্থানে থাকার কোনো উল্লেখও ওই তথ্যচিত্রে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষে দেখানো ৪২৫ বিলিয়ন ভিউ আসলে #ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভিডিওর মোট দর্শকসংখ্যা। এতে তার নিজের অ্যাকাউন্টের ভিডিও ছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের তৈরি সমর্থনমূলক, সমালোচনামূলক বা নিরপেক্ষ—সব ধরনের কনটেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এই ভিউ সংখ্যা সরাসরি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা যায় না। অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকেও ট্রাম্প উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে আছেন। বর্তমানে টিকটকে তার অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ, যেখানে টেইলর সুইফটের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ। অর্থাৎ অনুসারীর সংখ্যায় সুইফট ট্রাম্পের প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে। অন্যদিকে, টিকটকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইতালিয়ান কনটেন্ট নির্মাতা খাবি লেইম, যার অনুসারী সংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। তার পরেই অবস্থান করছেন চার্লি ডি’অ্যামিলিও এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার মি.বিস্ট। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের চীনা মালিকানা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে থাকতে পারেন, কিন্তু টিকটকের সব ব্যবহারকারী বা সেলিব্রিটিদের মধ্যে ‘এক নম্বর’—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: সামা টিভি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসেন লিমন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী তাদের সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান পরিচালনা এবং শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর লিমন প্রতিদিনের মতো কাজে চলে যান বলে জানা গেছে। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা নয়। লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গৃহবধূর এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মার্কিন গায়ক ও টিকটক সেনসেশন 'D4vd' (ডেভিড বার্ক)-কে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী হত্যার দায়ে গ্রেফতার করেছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ। দীর্ঘ সাত মাস তদন্তের পর বৃহস্পতিবার ২১ বছর বয়সী এই অল্টারনেটিভ-পপ তারকাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হিলস এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি 'টেসলা মডেল ওয়াই' গাড়ি জব্দ করা হয়, যা গায়ক D4vd-এর নামে নিবন্ধিত ছিল। গাড়িটি ডাম্পিং ইয়ার্ডে নেওয়ার পর সেখান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে গাড়ির সামনের স্টোরেজ (Frunk) থেকে দুটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। একটি ব্যাগে ১৪ বছর বয়সী সেলেস্তে রিভাস হার্নান্দেজের মাথা ও ধড় এবং অন্য একটি ব্যাগে তার বিচ্ছিন্ন হাত-পা পাওয়া যায়। নিহত সেলেস্তে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লেক এলসিনোর থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ডিভিডির (D4vd) সাথে তার সম্পর্ক ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের একসাথে ছবিও দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজের প্রায় এক বছর পর তার পচন ধরা খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চললেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম প্রকাশ করেনি। তবে সম্প্রতি ডিভিডির পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতের সমন পাঠানো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ডেভিড বার্ককে বিনা জামিনে জেলহাজতে রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার তাকে আদালতে পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। এদিকে ডিভিডির আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে গায়কের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, "ডেভিড বার্ক সেলেস্তে রিভাসকে হত্যা করেননি এবং তার মৃত্যুর পেছনেও তিনি দায়ী নন। আমরা আদালতে ডেভিডের নির্দোষিতা প্রমাণ করব।" D4vd মূলত ২০২২ সালে টিকটকে তার 'রোমান্টিক হোমিসাইড' (Romantic Homicide) গানটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। তার এই আকস্মিক গ্রেফতার সংগীত জগতে এবং তার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।