মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ডিজেল দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত নিজেদের জ্বালানি মজুত, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং দেশের তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনা করবে। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও জানান, শুধু বাংলাদেশ নয়—শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ-সহ আরও কয়েকটি দেশ থেকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুরোধ পেয়েছে ভারত। এসব আবেদনও এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে বুধবার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের অর্থনীতিকে সহায়তা দিতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। সূত্র: রয়টার্স।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর, ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের বর্তমান অবস্থান উঠে আসে। হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কিংবা বাংলাদেশি তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জয়সওয়াল। তিনি জানান, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে যে বিবৃতি দিয়েছে, তার বাইরে নতুন করে বলার কিছু নেই। অর্থাৎ, বিষয়টি বর্তমানে আইনি বা রাজ্য সরকারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এদিকে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রধানের ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি ভারতে এসেছিলেন। রাইসিনা ডায়ালগের ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ বা আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মোদী সরকার। জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরণের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৭ সাল থেকে নুমালিগড় শোধনাগার হয়ে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। গত বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকেও এই সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, দিল্লির নীতি-নির্ধারকদের মূল লক্ষ্য হলো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ভণ্ডুল করা অথবা এর গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক মহলে কমিয়ে দেওয়া। এই মিশনের অংশ হিসেবেই গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক অডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছে। হাসিনার অডিও ও দিল্লির ইন্ধন: দিল্লির ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রচারিত অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা তাঁর কর্মীদের নির্বাচন প্রতিহত করার ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করা হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং জামায়াত-বিএনপির সম্ভাব্য জয় দিল্লিকে রীতিমতো ‘নার্ভাস’ করে তুলেছে। এ কারণেই তারা হাসিনাকে দিয়ে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণভোটকে ব্যর্থ করার ছক: দিল্লির নীতিনির্ধারকরা বিশেষভাবে চাচ্ছেন যেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয়। এর জন্য তারা তাদের অনুগত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। ভারতের কৌশল হলো, যদি ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে রাখা যায়, তবে বিশ্বকে বোঝানো যাবে যে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন নেই। সরকারের তীব্র প্রতিবাদ: শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী। দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও খুনি হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে বরং উসকানি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। বিশ্লেষকদের মতামত: বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী মনে করেন, ভারত কোনোভাবেই বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণতন্ত্র চায় না। তারা চায় একটি পুতুল সরকার, যা দিল্লির প্রেসক্রিপশনে চলবে। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া এক ফেসবুক পোস্টে ভারতের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, যার মাশুল দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে দিতে হতে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরণের চক্রান্ত প্রতিহত করতে অন্তর্বর্তী সরকার যখন বদ্ধপরিকর, তখন দিল্লির এই ধারাবাহিক বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস