বিপর্যয়

ছবি: সংগৃহীত।
পাবলো এসকোবারের 'কোকেন হিপো'র বিষয়ে কঠোর হচ্ছে কলম্বিয়া

কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া 'কোকেন হিপো' বা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশের জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলম্বিয়া সরকার অন্তত ৮০টি জলহস্তীকে 'ইউথানাসিয়া' বা যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আশির দশকে মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার তার ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য অবৈধভাবে চারটি জলহস্তী আফ্রিকা থেকে কলম্বিয়ায় নিয়ে আসেন। ১৯৯৩ সালে পুলিশের অভিযানে এসকোবার নিহত হওয়ার পর তার খামারের অন্যান্য প্রাণী সরিয়ে নেওয়া হলেও জলহস্তীগুলো রয়ে যায়। গত তিন দশকে এদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এই জলহস্তীগুলোর কোনো প্রাকৃতিক শিকারি নেই। ফলে এরা অবাধে বংশবিস্তার করছে। এদের অতিরিক্ত মল নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে, যার ফলে স্থানীয় মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জলহস্তীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দিতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কিছু জলহস্তীকে ভারত ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বংশগত ত্রুটি এবং উচ্চ পরিবহন খরচের কারণে সব প্রাণীকে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বন্ধ্যাকরণ বা জন্মনিরোধক ওষুধ দিয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। তাই পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে কলম্বিয়া সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
থানার সামনে আগুন বিক্ষোভকারীদের। ছবি: সংগৃহীত
ফের উত্তাল মণিপুর: নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত ৩, কারফিউ জারি

ভারতের মণিপুর রাজ্যে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালল দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু। সোমবার গভীর রাতে বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং এলাকায় জঙ্গিদের রকেট ও বোমা হামলায় ৫ বছর বয়সী এক বালক এবং মাত্র ৬ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা রাজ্য। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালালে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন প্রতিবাদী। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষ্ণুপুরসহ ৫টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা তিন দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে কঠোর কারফিউ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মৈরাং-এর ট্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। হামলায় ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক হাজার মানুষ।  বিক্ষোভকারীরা সিআরপিএফ শিবিরে অগ্নিসংযোগ করেন এবং পুলিশের অস্থায়ী চৌকিতে ভাঙচুর চালান। প্রতিবাদ সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালালে আরও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যাতে ২০ জন জওয়ানো আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং এই ঘটনাকে ‘মানবতার ওপর চরম আঘাত’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি নষ্ট করার জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দোষীদের খুঁজে বের করতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইম্ফল পূর্ব, পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, থৌবাল এবং কাকচিং এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে লাশের মিছিল : ইরান যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়ালো

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে এসে প্রাণহানির সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংস্থার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।  নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিদেশি সেনারাও রয়েছেন। তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলভেদে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: ইরান: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) শুক্রবার জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,৮৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। লেবানন: লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জনই নিষ্পাপ শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক: ইরাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ মার্কিন সেনার মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ২৭ সদস্যসহ মোট ৩২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল: আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সেনাসহ মোট ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও। কুয়েতে কুমেতীয় নাগরিক ও মার্কিন সেনাসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আরব আমিরাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৬ জন এবং ওমানে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরব ও বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও সরাসরি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি এখনো সুদূরপরাহত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Solar Flare
৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

শান্ত স্বভাব ভুলে সূর্য এখন রীতিমতো অগ্নিশর্মা। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌরপৃষ্ঠে ঘটে যাওয়া একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ কপালে ভাঁজ ফেলেছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বিশাল এক সৌরকলঙ্ক থেকে ধেয়ে আসা আগুনের হলকা কি লণ্ডভণ্ড করে দেবে পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা? ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঠিক কী ঘটতে চলেছে আমাদের ভাগ্যে?   সূর্যের বুকে এখন চলছে মহাপ্রলয়। ‘রিজিয়ন ৪৩৬৬’ নামক সানস্পটটি গত দু’দিনে সূর্যের বুকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে বিরল। রবিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া ‘X8.1’ মাত্রার সৌর শিখাটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষবার এমন ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছিল।   মার্কিন সংস্থা NOAA-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ চরমে পৌঁছতে পারে। সূর্য থেকে প্লাজমার একটি বিশাল মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ আমাদের বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানার অপেক্ষায়। যদিও এটি সরাসরি পৃথিবীকে ধাক্কা না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবুও এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।   কী কী প্রভাব পড়তে পারে? ইতিমধ্যেই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আংশিক রেডিও ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে। ৫ তারিখের এই মহাজাগতিক ঝাপটায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়া, জিপিএস বিকল হওয়া এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগে বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, নিম্ন অক্ষাংশের এলাকাগুলোতেও দেখা যেতে পারে অপূর্ব অরোরা বা মেরুজ্যোতি।   নাসার তথ্যমতে, সূর্য এখন তার ১১ বছরের চক্রের ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’ বা সর্বাধিক সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। আপাতত ৫ ফেব্রুয়ারি বড় কোনো বিপত্তি ঘটে কি না, সেদিকেই রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0