ভারতীয় নাবিক

রুশ হামলার পর কৃষ্ণসাগরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকসহ নিহত ১০, তীব্র নিন্দা ভারতের

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওদেসা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরপরই একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিকসহ মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক ভারতীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইউক্রেনের নৌবাহিনী সোমবার (২০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওদেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও নামের গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। হামলায় চার ভারতীয় নিহত হন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।   ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিতে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। নিহতদের মধ্যে চার ভারতীয় ছাড়াও সিরীয় নাবিক এবং একজন ইউক্রেনীয় সামুদ্রিক পাইলট রয়েছেন। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।   ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি।   ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওদেসা বন্দর ও আশপাশের অবকাঠামো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বিশ্ব খাদ্যবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু মানবিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা: ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব দিল্লির

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ইরানের কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পথ দিয়ে চলাচলের সময় ‘মমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মমবাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অন্তত আটজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায় এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমিরাত এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত আমিরাতের ওই ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে একাধিক দেশের নাবিক হতাহত হয়েছেন। কেবল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যেই এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে। এর আগে গত মাসে একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   (সূত্র: এনডিটিভি)

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ সংকটে ৫৬২ ভারতীয় নাবিক আটকা ১০৭ দিন, সমুদ্রে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
হরমুজ সংকটে ৫৬২ ভারতীয় নাবিক আটকা ১০৭ দিন, সমুদ্রে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বাধার কারণে হরমুজ প্রণালি এলাকায় ভারতের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজে থাকা ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক টানা ১০৭ দিন ধরে আটকা রয়েছেন। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।   রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটকে পড়া নাবিকদের মধ্যে ৩২৯ জন হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাংশে এবং ২৩৩ জন ওমান উপসাগরের পূর্বদিকে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   এরই মধ্যে একটি দুঃখজনক ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। ‘এমটি সেলেস্টিয়াল’ নামের একটি জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিক নিশান্ত উরথানাথন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মাস্কটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দরে নোঙর করে আছে।   অন্যদিকে, ‘বিরাট ১’ নামের আরেকটি ভারতীয় পতাকাবাহী পালতোলা জাহাজকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে তাতে থাকা ১৪ জন নাবিক নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার নৌকায় আশ্রয় নেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের জাহাজগুলোর সহায়তায় তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।   ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে এই সংকটের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর এলাকায় বহু জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের জীবনে, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের জাহাজে হামলার খবর ‘ভুয়া’, সব ক্রু নিরাপদ: ভারত

ওমান উপসাগরে চলাচলরত ভারতীয় নাবিকদের বহনকারী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির পর শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, সংশ্লিষ্ট জাহাজের অধিনায়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কোনো ধরনের হামলা হয়নি এবং জাহাজে থাকা সব নাবিক নিরাপদ আছেন।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’-এর অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে জাহাজের ওপর কোনো হামলা হয়নি এবং অনলাইনে প্রচারিত তথ্য সঠিক নয়।   মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তাই জনগণকে সতর্ক থাকার এবং নিশ্চিত সূত্র ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এর আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওমান উপসাগরের কাছে ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’ জাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে। এসব খবরে জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই ইউনিটও পরে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, জাহাজটিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া হামলার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।   তবে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যেকোনো ঘটনার খবর দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা এমন এক সময়ে এলো, যখন উপসাগরীয় জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কয়েকটি ঘটনায় নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সংঘটিত এক হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে ভারত।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই কূটনৈতিক প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে ‘এমটি সেট্টেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে চলাচলের সময় জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। ওই জাহাজে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনজন নাবিক প্রাণ হারান।   ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফা নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ প্রতিদিন এই রুট ব্যবহার করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে ‘এমটি লিয়াকি ফ্রিডম’ জাহাজে হামলার খবর মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে ভারতীয় নাবিকদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
নিহত ৩ ভারতীয়কে নিয়ে ইরানের শোক
হরমুজ প্রণালীতে হামলা: নিহত ৩ ভারতীয়কে নিয়ে ইরানের শোক

হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহি দাবি করেছে তেহরান।   শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং তাতে ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যু ‘সশস্ত্র ডাকাতি ও রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতার’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। নিহতদের পরিবার, স্বজন, ভারতের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   বাঘায়েই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বেপরোয়া পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা এখন গুরুতর হুমকির মধ্যে রয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ জুন। ওইদিন হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানা যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয় নাগরিক।   হামলার পরপরই তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। পরদিন বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ ওই তিনজনই নিহত হয়েছেন।   আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা হামলার ঘটনা বৈশ্বিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।   ঘটনাটি নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের কড়া অবস্থানের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

নীলুফা নিশাত জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০