মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা ট্রানজিটের সময় ইসরাইলি পাসপোর্টধারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত আটজন ইসরাইলি আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন, কেউ আবার অন্য এশিয়ার দেশে ট্রানজিটে ছিলেন। একটি ঘটনায় ফিলিপাইনগামী ফ্লাইটের ট্রানজিটে চারজন ইসরাইলি তরুণ-তরুণী আটক হন। তাদের মধ্যে দুজন জানান, থাইল্যান্ড থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে তারা চ্যাটবটের মাধ্যমে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট নিরাপদ কিনা জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ইতিবাচক উত্তর পেয়েছিলেন। পরে তারা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য ঘটনায় কম্বোডিয়া থেকে ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে দুই ইসরাইলি পুরুষকে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়, দুই দিন পর তাদের আবার কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সাধারণত আটককালে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে যখন অন্যান্য দেশ বহিষ্কৃত ইসরাইলিদের প্রবেশ অনুমোদন দেয় না, তখন ভ্রমণকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের সহায়তায় কয়েকজনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রদূত এলিয়াহু ভেরেড হাজান নাগরিকদের মালয়েশিয়া ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ভোগান্তি, যাত্রাপথে দেরি এবং অতিরিক্ত খরচের কারণ হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসীদের জন্য ধেয়ে আসছে এক বিশাল দুঃসংবাদ। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ঐতিহাসিক এক কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এই নতুন পরিকল্পনার ফলে আগামী ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ বা কাজের অনুমতির জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে, যা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশিসহ লাখো প্রবাসীর ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া ফেলেছে। মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালের জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশ বিদেশি কর্মী। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মূলত স্থানীয়দের উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ করে দিতেই এই বিধিনিষেধ। নতুন এই নিয়মে বিদেশি পেশাজীবীদের তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে: ক্যাটাগরি-১: ন্যূনতম মাসিক বেতন ২০ হাজার রিঙ্গিত (আগে ছিল ১০ হাজার)। অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-২: বেতনসীমা ১০ হাজার থেকে ১৯,৯৯৯ রিঙ্গিত। অবস্থানের মেয়াদ ১০ বছর। ক্যাটাগরি-৩: সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এই স্তরে। আগে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতন হলেই চলত, এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে ৯,৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ বছর করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চ বেতন কাঠামো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর (এসএমই) পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব হবে। ফলে নিয়োগকর্তারা বাধ্য হয়ে বিদেশি কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ দেবেন। এতে করে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী ও সাধারণ শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রেমিট্যান্স আহরণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ শীর্ষ দেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশটিতে থেকে ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। মালয়েশিয়ার এই অনমনীয় নীতির ফলে কর্মী ছাঁটাই শুরু হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে এখনই বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন বাংলাদেশি হাফেজ ইব্রাহীম শেখ। বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ২৮টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের হাফেজরা। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন মালয়েশিয়ার হাফেজ নূরুল আবছার এবং তৃতীয় স্থান পেয়েছেন থাইল্যান্ডের হাফেজ সায়েদুর রহমান। হাফেজ ইব্রাহীম বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা পরিচালিত মাদরাসা উম্মুল কুরার ছাত্র। সংস্থার মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এই মাদরাসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুয়ালালামপুরে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার দাতো ডা. হাসনিজাল হাসান। ইয়ুথ কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ রাজু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া সম্মাননা প্রদান করা হয় যমুনা টেলিভিশনের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামানকেও।
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজ্যের একমাত্র অভিবাসন ডিপোতে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত ভিড় কমাতে পেকান নানাস এলাকায় এই নতুন ডিটেনশন ডিপো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ মিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই ডিপোতে প্রায় ২ হাজার ২০০ জন আটক ব্যক্তিকে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। জোহর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, কঠোর আইন প্রয়োগের ফলে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় একই প্রাঙ্গণে নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিদেশি নাগরিকদের জন্য রাজ্যের একমাত্র আটক কেন্দ্র পেকান নানাস ডিপোর আদর্শ ধারণক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন। তবে বাস্তবে অনেক সময় সেখানে প্রায় ২ হাজার জন পর্যন্ত আটক রাখা হয়েছে, যা কেন্দ্রটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। মোহদ রুসদি আরও বলেন, ধারণক্ষমতার সীমা প্রায়ই অতিক্রম করায় ডিপোর দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, আটক ব্যক্তির সংখ্যা বেশি হলেও প্রতিটি গ্রেফতার আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার মানদণ্ড মেনেই সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে আটক প্রক্রিয়া, নথিপত্র প্রস্তুত, আদালতের কার্যক্রম এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রশাসনিক অফিস, আটক ব্লক ও ডাইনিং হলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে কর্মীদের আবাসন নির্মাণ করা হবে। প্রায় ২০ মিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয়ের পুরো প্রকল্পটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপে মিলিত হয়েছে মালয়েশিয়া, কুয়েত ও ওমান। সম্প্রতি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আব্দুল্লাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর আলবুসাইদির সাথে পৃথক ফোনালাপে এই সংহতি প্রকাশ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কুয়েত ও ওমানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়ে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন ও সহানুভূতি ব্যক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা বজায় রাখতে ওমানের নিরলস কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। উভয় দেশের সরকার সেখানে অবস্থানরত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষায় কুয়েত ও ওমানের প্রতিশ্রুতিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আলোচনার শেষ পর্যায়ে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয় এবং পবিত্র রমজানের বরকতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সংলাপ শেষ হয়।
মালয়েশিয়া থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে শিশু শোষণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী জোবাইদুল আমিনকে কুয়ালালামপুর থেকে স্থানান্তর করে আলাস্কার ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে ১৩টি ফেডারেল অভিযোগ গঠন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টার্গেট করতেন এবং বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছ থেকে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতেন। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। সংগৃহীত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে আরও ছবি বা ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, তার কার্যক্রম শুধু আলাস্কা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য এবং বিদেশেও বিস্তৃত ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ২০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এফবিআইয়ের শিশু শোষণবিরোধী একটি বৃহৎ তদন্তের অংশ হিসেবেই এই মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আইনের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের উপকূলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সাবাহ রাজ্যটি বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। আনোয়ার ইব্রাহিম তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পার করে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তিনি তার প্রিয় বন্ধু এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হবে। তিনি দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি কামনায় বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।