সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিসা বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।   অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে।   তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন।   অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।   তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ বা তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত আগস্টের শুরুতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   ২০ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জন্ম পর্যটন এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কার্যত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ‘বিক্রি’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বিদেশি নাগরিক মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ ভিত্তি নয়।   পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নেটওয়ার্ক নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করতে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্ক শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও কীভাবে প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে হবে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন পিগট।   আগস্টের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ নামে বিশেষ একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও আইনি কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, অ-অভিবাসী ভিসা কেবল বৈধ ও ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো।   টাস্কফোর্স গঠনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০০ হয়েছে বলে পিগট জানান। পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দম্পতি দুটি আলাদা ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও অবকাশযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় তারা আগে জন্ম নেওয়া একটি সন্তানের তথ্যও গোপন করেছিলেন। ওই দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি কাজে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেশ ছাড়েন। অন্য একটি ঘটনায়, এক নারী ভিসা আবেদনে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবকাশযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   জন্ম পর্যটন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পেছনে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক বিধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আদেশে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুন Trump v. Barbara মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। রায়টি ৬-৩ ভোটে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি বহাল থাকলেও সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগও জন্ম পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদন যাচাই এবং বাতিলের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কোনো বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাই যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হয়, সেটি পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ কারণ নয়।   মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মূলত এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার উদ্দেশ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা জন্ম পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং ভিসা আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন ভিসা ছবি:সংগৃহীত
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইউএস এম্বাসি ঢাকা।   এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসটি জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে।   শুধু ভিসা বাতিলই নয়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।তাই সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সবসময় ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস—শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থানের ক্ষেত্রে পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলো যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে পড়াশোনার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাও জরুরি।   দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এবং ভবিষ্যতে পড়াশোনার জন্য দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতি বেআইনি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের রায়

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে।   মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।   ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে।   শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে।   আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে।   মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন।   এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি।   আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।   তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন।   এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।   বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর কাজে ফিরেছিলেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত ব্যস্ত দায়িত্ব আর দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে নিজের ভূমিকা একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় এবার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। আগস্টের শেষ দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়বেন বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই পদে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবেও দ্রুত উঠে আসেন তিনি।     লেভিট জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান কন্যা ভিভিয়ানার জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন। কিন্তু কাজে ফেরার পরই পেশাগত দায়িত্ব এবং সন্তানদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বিপুল সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়। একই সঙ্গে তিনি অনুভব করছেন, দুই ছোট সন্তানকে একজন মা হিসেবে যে সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বর্তমান দায়িত্বে থেকে তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লেভিট ও তার স্বামী নিকোলাস রিচিওর দুই সন্তান। তাদের ছেলে নিকোর জন্ম ২০২৪ সালে। চলতি বছরের ১ মে জন্ম নেয় মেয়ে ভিভিয়ানা। মেয়ের জন্মের পর কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। পরে জুনে তিনি কাজে ফিরতে শুরু করেন এবং জুলাইয়ে আবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত উপস্থিত হন।     রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেভিট এর আগেও পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজে ফেরার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সকালের অনুষ্ঠানের আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে তার স্বামী রাতে নবজাতক মেয়ের দেখাশোনা করেছিলেন। তখন স্বামীর সহযোগিতার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। লেভিটের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাকে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে সরে যাচ্ছেন না লেভিট। তিনি ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনেও তার ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে লেভিট ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিকের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর হন। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।     ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় লেভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই দায়িত্ব নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং টেলিভিশনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর কে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। ফলে আগস্টের শেষে তার বিদায়ের আগে হোয়াইট হাউস নতুন মুখের নাম ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। পদ ছাড়লেও লেভিটের রাজনৈতিক অধ্যায় অবশ্য শেষ হচ্ছে না। আপাতত হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে সরে দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকবেন।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার রোধে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স, ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রোধ করাই এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয়, যা অভিবাসন আইনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে অর্জন করা যাবে।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নতুন টাস্কফোর্স বিশ্বজুড়ে ভিসাধারীদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। কোথাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল, জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা, কোনো ব্যক্তি ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সাধারণত তার ভিসা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তৃত আইনি ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে একটি লাভজনক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ডুলা, ধাত্রী, মাতৃত্বসেবা পরামর্শক বা স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্যাকেজ, ভিসা পরামর্শ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের কেউ কেউ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি জাল করে, আবার কেউ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার কৌশল শেখায়। অনলাইন বিজ্ঞাপনে "স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব" এবং "সীমানাহীন ভবিষ্যৎ"–এর মতো বার্তা ব্যবহার করে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   বিবৃতিতে কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এক দম্পতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও ছুটিতে কেনাকাটার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুই সন্তানের জন্ম দেন। দুটি পৃথক ভিসা আবেদনে তারা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন এবং দ্বিতীয়বার আগের সন্তানের তথ্যও প্রকাশ করেননি। পরে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের এক কর্মকর্তা সরকারি সফরের জন্য এক সপ্তাহের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি তিন মাস অবস্থান করে সেখানে সন্তান জন্ম দেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তার ভিসাও বাতিল করা হয়।   এ ছাড়া আরেক ভ্রমণকারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা জানিয়ে ভিসা নিলেও পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পাঁচ দিনের মাথায় সন্তান জন্ম দেন। তদন্ত শেষে তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন, তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা দেশটিতে প্রবেশের অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা করেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই টাস্কফোর্স গঠন সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকরা। তবে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন বৈধ ভ্রমণকারী বা গর্ভবতী নারীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারী ৫০ দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে বন্ড নীতি, সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হবে

ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য চালু করা ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই নীতির আওতায় মূলত আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন করতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, গত ৩১ জুলাই ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে এই বন্ড ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তাই এটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   খসড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার থেকেই এই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ভিসাধারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া।   পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ভিসা বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলার বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল।   তবে নতুন স্থায়ী নীতিতে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এখন ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করা হতে পারে।   এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীদের ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসার সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার আগেই নির্ধারিত বন্ড জমা দিতে হবে।   তবে আবেদনকারীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আবার ভিসা অনুমোদনের পর কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগসহ সব ভিসা শর্ত মেনে চলেন, তাহলেও পুরো বন্ড ফেরত পাবেন।   মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। সেই ব্যয় কমানো এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।   পররাষ্ট্র দপ্তর শুরুতে ধারণা করেছিল, প্রায় দুই হাজার আবেদনকারীকে এই বন্ড কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার ভিসা আবেদনকারী এই নিয়মের আওতায় পড়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই নীতির আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন দেশ যুক্ত করা বা বিদ্যমান তালিকায় পরিবর্তন আনার সুযোগও থাকবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?

মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড?   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।   তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি।   মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন।   অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন বুলেটিনে পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, F2A ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য।   জুলাই মাসে যেখানে F2A ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি, সেখানে আগস্টে তা এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই হয়েছে। এর ফলে এই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অনেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থবছরের শেষের দিকে ভিসার বার্ষিক কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন এবং ভিসা ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই দেশভিত্তিক বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যাটাগরিকে "অনুপলব্ধ" (Unavailable) ঘোষণা করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে।   এছাড়া ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরিতেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আরও পিছিয়ে যেতে পারে অথবা ক্যাটাগরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ এবং ইবি-৫ (অনির্ধারিত অংশ) ক্যাটাগরি ইতোমধ্যেই অনুপলব্ধ রয়েছে।   আগস্ট ভিসা বুলেটিনে ভারতের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সর্বশেষ ফাইনাল অ্যাকশন ডেট হলো: ইবি-১: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-২: অনুপলব্ধ ইবি-৩: ১ জানুয়ারি ২০১৪ ইবি-৪: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-৫: অনুপলব্ধ   মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কোন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের প্রায়োরিটি ডেট বুলেটিনে উল্লেখিত ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগের, তারাই সাধারণত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হলেও, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা হাজারো দক্ষ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০