রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে অন্যদের রপ্তানি ব্যাহত, ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক

ইরানের উপকূলবর্তী সংকীর্ণ জলপথে তেহরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলায় উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হলেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। রয়টার্সের একটি ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং ডেটা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।   মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ডটকম’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটি প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তেল ও গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ বহরের গতিবিধি শনাক্ত করে এই প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভেসেল ট্র্যাকিং সেবা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম ১১ দিনে ইরানের রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ ব্যারেল।     ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারীরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।   তবে ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য কোনো হস্তক্ষেপ বা জাহাজ জব্দের ঘটনা না ঘটায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেসের পরিচালক ডেভিড টানেনবাম বলেন, গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা-সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের পরও ইরানের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়া আশ্চর্যজনক।     জাহাজ ও নৌ-বিশেষজ্ঞ মাতিয়াস টোনি মনে করেন, ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার থামানোর চেষ্টা করলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরও বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিপিং ফাইন্যান্সিয়ার জেমস লাইটবোর্ন বলেন, যতদিন ইরান এই অঞ্চলে নিজেদের জাহাজ সচল রাখতে পারছে, ততদিন তারা প্রণালী আংশিকভাবে উন্মুক্ত রাখতে চাইবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ট্যাঙ্কার জব্দ করা শুরু করে, তাহলে ইরান মাইন পেতে পুরো প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।     ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার্স ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চের মধ্যে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। গত বছর দেশটির গড় দৈনিক রপ্তানি ছিল ১৬.৯ লাখ ব্যারেল। স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের খার্গ আইল্যান্ড রপ্তানি কেন্দ্রে এখনও বড় বড় তেলবাহী জাহাজে তেল লোড করতে দেখা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামনে রপ্তানির গতি আরও বাড়তে পারে।   কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারিতেই ইরান তাদের রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ২১.৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করেছিল। এমনকি ১৬ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত সপ্তাহে দেশটি রেকর্ড ৩৭.৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অন্তত ছয়টি তেলের ট্যাঙ্কার ইরান ছেড়েছে, যার মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘কুমা’ নামের জাহাজও রয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার আরও দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ট্যাঙ্কার কার্গো নিয়ে ইরান ত্যাগ করেছে। শিপিং সূত্র জানায়, এসব জাহাজ মূলত ইরানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ১২ নটিক্যাল মাইল জলসীমার ভেতর দিয়ে চলাচল করছে, যা তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ভারতীয় ট্যাঙ্কার চলাচলে ইরানের অনুমতির দাবি

ভারত নিজেদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে, সেই জলপথ পার হওয়ার জন্য ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরান অনুমতি দেবে বলে বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে ইরানের বাইরের একটি সূত্র এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ আলোচনাটি ছিল জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।     সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সায়াল বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সময়ের আগে হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোন আলাপের পর ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।   ভারতের এস. জয়শঙ্কর ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের অনিরাপদ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তবে কোনো পক্ষই ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি।     এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে প্রথম ভারতীয় জাহাজ হিসেবে ‘শেনলং’ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কারটি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জন্য তেল বহন করে এনেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।   যুদ্ধ শুরুর পর একটি ইরানি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভেড়ার পর সেখান থেকে ১৮৩ জন ইরানি নাবিককে ভারত নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নৌ-মহড়া শেষে তিনটি ইরানি জাহাজকে ভারত ডক করার অনুমতি দেয়, যার মধ্যে একটি পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায় এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে।   গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তেহরান সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বুধবার ভারতগামী একটি থাই জাহাজে হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প হিসেবে রাশিয়া থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট
রয়টার্সকে তারেক রহমান: বিএনপি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতা তারেক রহমান নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই বলে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান। একই সঙ্গে তিনি দলের এককভাবে নির্বাচনে জয় লাভের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকার কথাও প্রকাশ করেছেন।   ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছেন।   ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। যদিও একসময় এই দল নিষিদ্ধ ছিল, বর্তমানে তাদের পুনরুত্থান ঘটেছে। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একত্রে দেশ শাসন করেছে। জামায়াত জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে তারা ঐক্য সরকারের অংশীদার হতে রাজি রয়েছে। তবে তারেক রহমান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।   তারেক রহমান বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি তারা বিরোধী দল হয়, আশা করি ভালো বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।   তিনি জানান, বিএনপি নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভের বিষয়ে আশাবাদী। নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী লড়ছেন, বাকি আসনগুলোতে তাদের জোট শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   তারেক রহমান বিদেশি অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কেও বলেন, জয়ী হলে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে উপযুক্ত অংশীদারের সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি ও দেশকে সমৃদ্ধ করতে যে কোনো উপযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করব, নির্দিষ্ট কোনো দেশের দিকে ঝুঁকব না।   শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদি জনগণ তাদের গ্রহণ করে, তাহলে তাদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে।   আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে তাদের জয় এবং একক সরকার গঠনের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

Top week

বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?
আমেরিকা

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0