সামরিক উত্তেজনা

হরমুজ অবরোধে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
হরমুজ অবরোধে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট করে জানায়, এই পদক্ষেপ মূলত ইরান গামী ও সেখান থেকে আসা জাহাজের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এবং নির্দিষ্ট সময় থেকে এটি চালু হবে।   ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানকে অর্থ দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকলেও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তার ভাষায়, অবৈধভাবে অর্থ প্রদান করে নিরাপদে যাতায়াত করা সম্ভব হবে না।   তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবরোধ কার্যত সামরিক পদক্ষেপের শামিল এবং এটি টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল নৌ-সামরিক শক্তি প্রয়োজন।   সাবেক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ডানা স্ট্রল মনে করেন, দ্রুত ফল পেতে চাইলেও এমন অভিযান এককভাবে পরিচালনা করা কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।   এদিকে সাবেক নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল গ্যারি রাফহেড সতর্ক করেছেন, অবরোধ শুরু হলে ইরান প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপসাগরীয় এলাকায় জাহাজে হামলা বা মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে। তার মতে, এমন পদক্ষেপের জবাব ইরান কোনো না কোনোভাবে দেবে।   এরই মধ্যে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালির কাছে কোনো সামরিক উপস্থিতিকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে এবং কঠোর জবাব দেবে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম কিছু সময়ের জন্য বেশি থাকতে পারে। ইতোমধ্যে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যদি আরও উত্তেজনা বাড়ায়, তাহলে এই পদক্ষেপ কীভাবে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকটের সমাধান সামরিক পদক্ষেপে নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব।   সূত্র– রয়টার্স

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
সমুদ্রে মার্কিন বাহিনীর মাইন অপসারণের খবর ভুয়া বলছে ইরান।
হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, সরাসরি নাকচ ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—এমন দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তবে এই তথ্য দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।   শনিবার সেন্টকম জানায়, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি—হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। মার্কিন পক্ষের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট তৈরি করা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে এবং শিগগিরই নিরাপদ পথ বাণিজ্যিক খাতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।   তবে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে—এমন কোনো তথ্য সঠিক নয়। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই ঘটে।   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালিতে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি দেখা গেলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজ ওই পথে চলাচল করে থাকে, তবে তা ইরানের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। কারণ, হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর শুরু হওয়া এই আলোচনায়ও বেশ কিছু ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আঞ্চলিক সামরিক অভিযান—এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ইরানি সূত্রগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নটিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালি আংশিক খোলার ইঙ্গিত দিলেও, মাইন থাকার অজুহাতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দাবি মানতে নারাজ তেহরান।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ক্রু উদ্ধার অভিযানের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির সন্দেহ, ইরানের অভিযোগ

ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের অভিযানের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই অভিযানের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা থাকতে পারে।   সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হলেও, মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের আরও দূরবর্তী এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।   ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই অভিযানটি প্রতারণামূলক হতে পারে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের প্রচেষ্টা ছিল—এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’   গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলট নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানও ক্রুদের খোঁজে তল্লাশি চালায়।   রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি ‘সাহসী অভিযানের’ মাধ্যমে দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানে ঢুকলে হাঙরের পেটে যাবে মার্কিন সেনারা (সংগৃহীত ছবি)
ইরানে অভিযান হলে মার্কিন সেনাদের হুমকি: হাঙরের খাবার হতে হবে—ইরান

ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন সেনাদের উপসাগরের হাঙরের খাবারে পরিণত হতে হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইব্রাহিম জোলফাগারি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র। রোববার (২৯ মার্চ) তিনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন।   জোলফাগারি ট্রাম্পকে ‘অস্থির ও মিথ্যাবাদী নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষতি ডেকে এনেছেন এবং বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের ‘পুতুলে’ পরিণত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান, প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা হয়।   অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।   পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সীমিত স্থল অভিযানের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চলে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।   সূত্র: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ওমান উপসাগরও এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী!

হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরও এখন ইরানের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর একজন কমান্ডারের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ওমান উপসাগরীয় এলাকা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও কর্তৃত্বের অধীনে রয়েছে।   ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও কঠোর সামরিক অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি সেনারা এখন শুধু মার্কিন সৈন্যদের তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসার অপেক্ষা করছে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রবেশ করা মাত্রই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে ইরানের এই একচ্ছত্র আধিপত্য ঘোষণার ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হলো। ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং মার্কিন রণতরীর পিছু হটার খবর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলে নতুন মোড় নিতে পারে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের জলসীমায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি ।
'মার্কিন সেনারা হবে হাঙরের খাবার': ইরান থেকে ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে।   বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়।   একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।   সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন ৭২) | ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে পালিয়েছে মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’!

মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে।   ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন।   ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির সুযোগ এখনো আছে, সিদ্ধান্ত ইরানের ওপর: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে।   তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: আল–জাজিরা

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।   দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি, যা যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ এত দিন ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ঘোষিত সীমার বাইরে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যুদ্ধের পরিসর বিস্তারের বার্তাও বহন করছে।ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই হামলা ইরানের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা প্রতিহত করতে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই হামলার সামরিক ফলাফল যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বার্তা—ইরান দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী ঘাঁটিগুলোও তাদের নাগালের বাইরে নয়।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি থেকে সংগৃহীত এই স্যাটেলাইট ছবিতে ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপের টারমাকে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান দেখা যাচ্ছে। ফাইল ছবি: এএফপি
ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ–মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উঠেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান Diego Garcia দ্বীপে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি মাঝপথেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়।   ভারত মহাসাগরের বিষুবরেখার দক্ষিণে অবস্থিত দিয়াগো গার্সিয়া দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। দূরবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং ভারী বোমারু বিমান মোতায়েনের ক্ষেত্রে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।   বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও হোয়াইট হাউস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে CNN–ও জানিয়েছে, একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই হামলার খবর পাওয়া গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির নতুন মাত্রা নির্দেশ করে। যদিও এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।   তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবতরণে না শ্রীলঙ্কার, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ভূখণ্ডে অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা। নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে।   শুক্রবার পার্লামেন্টে বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি মাসের ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল। বিমানগুলো জিবুতিতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে আসার কথা ছিল এবং সেগুলোতে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা ছিল।   প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বক্তব্যে সংসদ সদস্যরা করতালি দেন।   একই সময়ে ইরানও ৯ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্রীলঙ্কায় ভেড়ানোর অনুমতি চেয়েছিল। ভারতের আয়োজিত একটি নৌমহড়ায় অংশ নেওয়ার পর জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় আসতে চেয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করে দেয় কলম্বো।   প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে বলেন, “আমরা যদি একটি পক্ষকে অনুমতি দিতাম, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো”—এই যুক্তিতেই উভয় অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান-এর মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানি সরবরাহসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।   যুদ্ধ শুরুর পর শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজন ক্রুকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।   বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। তিনি সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।   ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা শ্রীলঙ্কা নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবের মুখে পড়েছে। দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, অন্যদিকে ইরান শ্রীলঙ্কার চায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তির আভাস, যুক্তরাষ্ট্রেই গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0