যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের একটি ঐতিহাসিক পার্কে বিশালাকার কাঠের ক্রুশ (ক্রস) পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মার্লিন লু নামের ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই তরুণের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) এবং অগ্নিসংযোগসহ (আর্সন) একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
শিকাগো পুলিশ বুধবার রাতে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, গ্র্যান্ট পার্কে গত ৯ জুনের ওই ক্রুশ পোড়ানোর ঘটনার দায় ইতিমধ্যে ওই তরুণ একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ক্রুশ পোড়ানোর মতো চারটি গুরুতর ফৌজদারি (ফেলোনি) ও চারটি সাধারণ অপরাধের (মিসডিমিনর) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ডব্লিউএমএকিউ-টিভি কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্লিন লু দাবি করেন, তাঁর এই কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো ধরনের বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং ট্রাম্প সমর্থক খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে এক অভিনব প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক হিংসা ও ভীতি প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে কু ক্লাক্স ক্ল্যান (KKK) যেভাবে ক্রুশ পোড়াত, তার সাথে নিজের কাজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন লু।
তিনি বলেন, "আমি বুঝতে পারছি কেন মানুষ বিষয়টিকে ওভাবে দেখছে এবং এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী, তবে আমার উদ্দেশ্য মোটেও তেমনটা ছিল না"। তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর এই প্রতিবাদের সাথে জাতি বা লিঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই, এটি ছিল মূলত সমাজ পরিচালনাকারী 'শাসক গোষ্ঠী'র বিরুদ্ধে একটি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
পেশাগত জীবনে রসায়নের এই শিক্ষার্থী ইন্ডিয়ানা ও শিকাগোর কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলে তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে জানা গেছে। এদিকে এই ঘটনার পর পার্কের সেই পুড়ে যাওয়া স্থানটিতে কে বা কারা ফাইবার গ্লাসের তৈরি বহু রঙের একটি বড় হৃদয় বা হার্ট স্থাপন করেছে, যার ওপর লেখা রয়েছে ‘রেজিলিয়েন্ট’ বা ‘সহনশীল’। মার্লিন লু-র পক্ষে কথা বলার জন্য কোনো আইনজীবী নিযুক্ত আছেন কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং শুনানির জন্য তাঁকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে মার্কিন সমাজে ক্রুশ পোড়ানোর সংবেদনশীল ইতিহাসের কারণে উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউইয়র্কে প্রায় ৩০ লাখ গৃহস্থ ও প্রবীণ নাগরিকের জন্য মোট ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স রিলিফ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। চলতি গ্রীষ্মে স্টার (School Tax Relief) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫ লাখ ডলারের কম আয় করা অধিকাংশ গৃহস্থ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তারা সাধারণত ৩৫০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স রিলিফ পাবেন। একই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ নাগরিকরা, যাদের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের নিচে, তারা ৭০০ থেকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, অনেক পরিবারের জন্য এই অর্থ দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে সহায়ক হবে। জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। নিউইয়র্ক সিটির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই ধরনের সহায়তা সাধারণ পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার গৃহস্থ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তাদের জন্য মোট প্রায় ১৪৯.৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, যোগ্য নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের স্টার চেক বা ডাইরেক্ট ডিপোজিটের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক নেতা নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছেন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, মামদানিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই কঠোর সমালোচনার মুখে ফেলেছিলেন। তবে বামপন্থী মহলে আগে থেকেই জনপ্রিয় এই নেতা এখন বিভিন্ন মহল থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অ্যালবানি থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন। এই লক্ষ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানের বাইরে গিয়ে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনে ভোটারদের উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে মামদানির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীও অংশ নেবেন। বার্নি স্যান্ডার্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মামদানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়েজ শাকির বলেন, “তিনি মনে করেন ডেমোক্রেটিক পার্টিকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি নেতৃত্বের সমালোচনার জন্য এটি করছেন না। তিনি মনে করেন, যাদের সমর্থন করছেন তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও শক্তিশালী। প্রয়োজন হলে পরাজয় মেনেও তিনি সেই অবস্থানে অটল থাকবেন।” নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল জেলায় বর্তমান ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইয়াতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংগঠক দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরকে সমর্থন দিয়েছেন মামদানি। এ ছাড়া ১০তম জেলায় বর্তমান কংগ্রেসম্যান ড্যান গোল্ডম্যানের বিরুদ্ধে সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারকে এবং সপ্তম জেলায় ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক অ্যাসেম্বলি সদস্য ক্লেয়ার ভালদেজকে সমর্থন করছেন তিনি। ক্লেয়ার ভালদেজ বলেন, “গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি যেভাবে ভোটারদের উজ্জীবিত করেছিলেন, এখন সেই শক্তিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সময়।” তবে দলের মূলধারার নেতারা মামদানির এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নন। প্রতিনিধিপরিষদে ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিজ মামদানি-সমর্থিত সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিরোধিতা করে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা গাজা যুদ্ধ এবং নিউইয়র্কের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়কে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকজন ডেমোক্রেটিক নেতা ইসরায়েলের প্রতি অতিমাত্রায় নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নিজেদের করপোরেট প্রভাবমুক্ত নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরছেন। ওয়াশিংটনের অনেক ডেমোক্রেটিক নেতা মনে করছেন, মামদানি এখন দলের জন্য রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছেন। তাদের মতে, তিনি এমন অনেক ভোটারকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন, যারা আগে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে মধ্যপন্থী ডেমোক্রেটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, তার বামপন্থী অবস্থান দলীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা মামদানির জনপ্রিয়তাকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করতে চাইছে। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মাইক মারিনেলা বলেন, “মামদানির সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়।” তবে ফয়েজ শাকির এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “জোহরান মামদানি রাজনৈতিক বোঝা নন। তিনি ক্রমেই ডেমোক্রেটিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হচ্ছেন।” সূত্র: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ঘাতক পিকআপ ভ্যানের নারী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে ভুল লেনে ঢুকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান ওই নারী। কলোরাডো ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডো এই দুঃখজনক খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে আইডাহোর কুসকিয়া এলাকার ইউএস হাইওয়ে ১২-এ এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর আইডাহো স্টেট পুলিশ জানায়, নিল ব্রিউয়ার (৬০) নামের ওই নারী চালক তার ২০১৯ মডেলের 'ফোর্ড এফ-১৫০' পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে হাইওয়ে ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ জোনে (নো-পাসিং জোন) তিনি সামনের অন্য একটি গাড়িকে টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ আরও জানায়, ওভারটেক করার সময় তার পিকআপ ভ্যানটি সড়কের মাঝখানের 'ডাবল হলুদ দাগ' (সেন্টারলাইন) অতিক্রম করে সম্পূর্ণ ভুল লেনে চলে যায়। ঠিক তখনই বিপরীত দিক (পূর্ব দিক) থেকে সারিবদ্ধভাবে আসতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলের সাথে পিকআপ ভ্যানটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। আইডাহো কাউন্টি কর্নার অফিস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা সবাই কলোরাডোর বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—টিমনাথের বাসিন্দা ইথান পাওয়ার্স (৩৫), বার্থউডের জেরেমি কোলম্যান (৪৫) এবং লাভল্যান্ডের নাথান ম্যাককরমিক (২৬)। দুর্ঘটনার পর কলোরাডো স্প্রিংসের বাসিন্দা ঘাতক চালক নিল ব্রিউয়ারকে প্রথমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সুস্থ ঘোষণা করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আইডাহো কাউন্টি জেলে পাঠায়। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত গাড়ি চাপা দিয়ে ৩ জনকে হত্যার (ভেহিকুলার ম্যানস্লটার) অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর হাইওয়েতে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে তদন্ত ও উদ্ধারকাজ চালায় পুলিশ।