যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে পথচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে নতুন পার্কিং বিধিমালা। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ (Daylighting) পার্কিং আইন এবং নির্দিষ্ট বড় আকৃতির যানবাহনের পার্কিং-সংক্রান্ত বিধিমালা বাস্তবায়নে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট (এলএএসডি)। এখন থেকে এসব নিয়ম ভঙ্গ করলেই চালকদের সরাসরি ৬৩ ডলারের জরিমানার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধানত দুটি পার্কিং লঙ্ঘনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ আইন, যা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, চিহ্নিত কিংবা অচিহ্নিত যেকোনো ক্রসওয়াকের অন্তত ২০ ফুটের মধ্যে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তবে যদি কোনো ক্রসওয়াকে কার্ব এক্সটেনশন (Curb Extension) থাকে, সেক্ষেত্রে পার্কিংয়ের জন্য ন্যূনতম ১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ‘নন-কনফর্মিং ভেহিকল অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী, বড় আকারের বা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ যান কেবল অনইনকরপোরেটেড (Unincorporated) এলাকার নির্ধারিত স্থানেই পার্ক করা যাবে। যত্রতত্র বড় গাড়ি রাখলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
উপরোক্ত দুটি নিয়মের যেকোনো একটি অমান্য করলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে ৬৩ ডলার জরিমানা গুণতে হবে। পাশাপাশি বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন অমান্য করলে কর্তৃপক্ষের গাড়ি টো (Tow) করে নিয়ে যাওয়ারও পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। গাড়ি টো করা হলে সেটি উদ্ধার এবং সংরক্ষণের যাবতীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণভাবে গাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে। শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো পথচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করা না থাকলে চালক ও পথচারী উভয়েই রাস্তা স্পষ্টভাবে দেখতে পান, যা ট্রাফিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে।
এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি জরিমানার টিকিট ইস্যু করা হয়েছে বা কাউন্টির কোন কোন অনইনকরপোরেটেড এলাকায় বেশি অভিযান চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট। তবে চালকদের অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে গাড়ি পার্ক করার আগে আশপাশের পরিস্থিতি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছে গাড়ি রাখার সময় অন্তত ২০ ফুট (প্রায় একটি বড় এসইউভি গাড়ির সমান দূরত্ব) ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বড় বা বিশেষ ধরনের যানবাহনের মালিকদের কাউন্টির পার্কিং বিধিমালা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং কেবল অনুমোদিত স্থানেই গাড়ি পার্ক করার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গাজার এক বাসিন্দাকে বিয়ে করেছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক সরকারি স্কুলশিক্ষিকাকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ৫১ বছর বয়সী লরা পিনহো ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি স্কুলের নৃত্যশিক্ষক এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ‘কোডপিংক’-এর (CODEPINK) একজন কর্মী। গত ১৬ জুন ‘চ্যালেঞ্জিং জায়নিজম ইন আওয়ার স্কুলস’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা তিনি বৈষম্য কমাতে ব্যবহার করতে চান। আলোচনায় তিনি জানান, সেই ভাবনা থেকেই তিনি গাজার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, অভিবাসন আইনের অপব্যবহার করে কেউ যদি বিয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের বিবাহ নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল লরা পিনহো গাজার বাসিন্দা সালেম এস. ই. আবু আমরাকে বিয়ে করেন। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভার্চুয়াল বা অনলাইন পদ্ধতিতে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের প্রায় এক মাস আগে পিনহো তার ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আবু আমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পাঁচ সদস্যের পরিবারের দেখভাল করেন এবং প্রতিদিন নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে সমালোচনার মুখে লরা পিনহো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেবল মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিয়ে করেননি। তিনি বলেন, আবু আমরাকে ভালোবেসেই তিনি বিয়ে করেছেন এবং আলোচনায় দেওয়া তার বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ে করা একটি ফেডারেল অপরাধ। এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আবেদন বাতিলসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত লরা পিনহোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই। মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।” তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগত গাড়ি শুধু দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি নিয়মিত বা অতিরিক্ত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদও হতে পারে। গিগ ইকোনমি, ই-কমার্স এবং অন-ডিমান্ড সেবার ব্যাপক বিস্তারের ফলে বর্তমানে একটি গাড়ি ব্যবহার করে ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম কিংবা অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মূল চাকরির পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে মাসে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত আয় করছেন। তবে যেকোনো ধরনের কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত, ড্রাইভিং রেকর্ড, বীমা, কর-সংক্রান্ত নিয়ম এবং স্থানীয় আইন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। ১। রাইডশেয়ার সেবা - যাত্রী পরিবহন সেবা বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে আয়ের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। Uber ও Lyft-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করে নিজের সুবিধামতো সময়ে যাত্রী পরিবহন করা যায়। কর্মব্যস্ত সময়, সপ্তাহান্ত কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় সাধারণত আয়ের সুযোগ বেশি থাকে। ২। খাবার ডেলিভারি - DoorDash, Uber Eats এবং Grubhub-এর মতো প্ল্যাটফর্মে রেস্টুরেন্টের খাবার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আয় করা যায়। যাত্রী বহনের প্রয়োজন না থাকায় অনেকেই এই কাজকে তুলনামূলক সহজ মনে করেন। নিয়মিত ডেলিভারি ও ভালো সেবার মাধ্যমে টিপস থেকেও অতিরিক্ত আয় সম্ভব। ৩। গ্রোসারি ডেলিভারি - অনলাইনে বাজার করার প্রবণতা বাড়ায় Instacart, Walmart Spark Driver এবং Shipt-এর মতো সেবায় কাজের সুযোগও বেড়েছে। এসব কাজে দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দিতে হয়। ৪। প্যাকেজ ডেলিভারি - ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পার্সেল ডেলিভারির চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। Amazon Flex, Roadie কিংবা Veho-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট রুটে প্যাকেজ সরবরাহ করে আয় করা যায়। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে এ ধরনের কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ৫। মেডিকেল কুরিয়ার - হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাবরেটরি ও ফার্মেসির জন্য ওষুধ, পরীক্ষার নমুনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের কাজও একটি সম্ভাবনাময় আয়ের ক্ষেত্র। এই ধরনের কাজে সময়নিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব বেশি। ৬। ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া দিয়ে আয় - নিজের গাড়ি প্রতিদিন ব্যবহার না করলে সেটি ভাড়ায় দিয়েও আয় করা সম্ভব। Turo-এর মতো কার-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি তালিকাভুক্ত করে ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহভিত্তিক ভাড়া দেওয়া যায়। বিশেষ করে বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা এবং বড় শহরগুলোতে এ ধরনের সেবার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। একাধিক গাড়ি থাকলে এটিকে ছোট পরিসরের ব্যবসায়ও রূপ দেওয়া সম্ভব। ৭। মোবাইল সার্ভিস ব্যবসা - গাড়ি ব্যবহার করে গ্রাহকের বাড়ি বা কর্মস্থলে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া যায়। যেমন—মোবাইল কার ওয়াশ, গাড়ি ডিটেইলিং, মোবাইল নোটারি, কম্পিউটার মেরামত বা প্রযুক্তিগত সহায়তা। দক্ষতা থাকলে এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। ৮। রিয়েল এস্টেট ও ফিল্ড সেলস - রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, বীমা প্রতিনিধি, ফিল্ড মার্কেটিং বা আউটসাইড সেলসের মতো পেশায় নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। নির্ভরযোগ্য গাড়ি থাকলে এসব পেশায় কাজ করা সহজ হয় এবং কমিশনভিত্তিক ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ৯। স্থানীয় ব্যবসার ডেলিভারি - অনেক স্থানীয় রেস্টুরেন্ট, ফুলের দোকান, বেকারি, ফার্মেসি ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ডেলিভারি চালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজের সুযোগ রয়েছে। ১০। একাধিক প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ - অনেক অভিজ্ঞ চালক একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন। যেমন সকালে প্যাকেজ ডেলিভারি, দুপুরে গ্রোসারি ডেলিভারি এবং সন্ধ্যায় রাইডশেয়ার বা খাবার ডেলিভারির কাজ করে আয়ের সুযোগ বাড়ানো যায়। ১১। ছোট পরিবহন ও মুভিং সার্ভিস - যাদের এসইউভি, মিনিভ্যান বা পিকআপ ট্রাক রয়েছে, তারা ছোটখাটো আসবাবপত্র পরিবহন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে কেনা পণ্য সরবরাহ কিংবা বাসা বদলের মতো কাজে সেবা দিয়ে ভালো আয় করতে পারেন। অনেক এলাকায় এ ধরনের সেবার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গাড়ি ব্যবহার করে আয় করার ক্ষেত্রে শুধু আয়ের দিকটি নয়, জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, কর এবং গাড়ির অবচয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপদ ড্রাইভিং এবং সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত গাড়িকে নিয়মিত আয়ের কার্যকর উৎসে পরিণত করা সম্ভব।