সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭ ধাপ, ২০২৬ সালে আবেদন করার আগে যা জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৫:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭ ধাপ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ৭ ধাপ

 যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এই নাগরিকত্ব পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করার পাশাপাশি কয়েকটি বাধ্যতামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে আবেদন থেকে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা সম্ভব।

 

প্রথম ধাপ হলো নিজের যোগ্যতা নিশ্চিত করা। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী অন্তত পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত এবং একসঙ্গে বসবাস করলে তিন বছর পরই আবেদন করা যায়। পাশাপাশি পাঁচ বছরের নিয়মে অন্তত ৩০ মাস এবং তিন বছরের নিয়মে অন্তত ১৮ মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে। যে অঙ্গরাজ্য থেকে আবেদন করা হবে সেখানে অন্তত তিন মাস বসবাসের প্রমাণ, সুনাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য আচরণ এবং নিয়মিত কর পরিশোধের রেকর্ডও থাকতে হবে।

 

দ্বিতীয় ধাপে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হয়। আবেদনটি অনলাইনে অথবা ডাকযোগে জমা দেওয়া যায়। এর সঙ্গে স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়পত্রের অনুলিপি, প্রয়োজনীয় বৈবাহিক নথি, ভ্রমণের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করতে হয়। ২০২৬ সালের জন্য অনলাইনে আবেদন ফি ৭১০ ডলার এবং কাগজে আবেদন করলে ৭৬০ ডলার। আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের খরচ এই ফি-এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত।

 

তৃতীয় ধাপে আবেদনকারীকে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে আঙুলের ছাপ, ছবি এবং স্বাক্ষর দিতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। এই ধাপে কোনো সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় না এবং পুরো কাজ সাধারণত অল্প সময়েই শেষ হয়।

 

চতুর্থ ধাপ হলো নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার। এ সময় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য, ভ্রমণের ইতিহাস, কর্মজীবন, বৈবাহিক অবস্থা এবং কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করে। আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য সঠিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

পঞ্চম ধাপে আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত পরীক্ষা দিতে হয়। বর্তমানে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রশ্নভান্ডার থেকে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করা হয় এবং অন্তত ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসকারী কিছু আবেদনকারীর জন্য বিশেষ সুবিধাও রয়েছে।

 

ষষ্ঠ ধাপে কর্তৃপক্ষ আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। আবেদন অনুমোদিত হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য ডাকা হয়। অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হলে অথবা পরীক্ষায় প্রথমবার উত্তীর্ণ না হলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে এবং পরে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদন বাতিল হলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

 

সপ্তম ও শেষ ধাপ হলো আনুগত্যের শপথ গ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শপথ গ্রহণের আগে কেউ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানের দিন আবেদনকারীকে তার স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়পত্র জমা দিতে হয় এবং নির্ধারিত শপথ পাঠ করতে হয়। এরপর তাকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়। এই সনদই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ। এর ভিত্তিতে তিনি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ভোটাধিকারসহ একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী
আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় আবারও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিকারাগুয়ার এক অভিবাসী। ইয়াদের নামে ওই ব্যক্তির পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরও এত দ্রুত আবার আটক হওয়ার ঘটনা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   সিএসবিনিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশের পর ইয়াদেরের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মুক্তির স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তাঁকে আবার হেফাজতে নেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আশা তৈরি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইয়াদেরের পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি এখন তাঁর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর পরিবারের সদস্যরা যে স্বস্তির আশা করেছিলেন, নতুন করে আটকের ঘটনায় তা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়া হলেও অন্য কোনো বৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত আদেশের ভিত্তিতে তাঁকে আবার আটক করা সম্ভব। তবে ইয়াদেরের ক্ষেত্রে ঠিক কোন আইনি কর্তৃত্ব বা আদেশের ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষ করে আদালতের মুক্তির নির্দেশের পরপরই নতুন করে আটক করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদেশের পরিধি এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালত কোন ধরনের হেফাজত থেকে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পুনরায় আটকের বিরুদ্ধে তাঁর আইনজীবীরা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইয়াদেরের পরবর্তী শুনানি, বর্তমান আটকাবস্থা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে আপাতত তাঁর পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি কবে আবার মুক্তি পাবেন এবং তিন সন্তানের কাছে ফিরতে পারবেন।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ইয়াদের কর্টেজ আন্দিনোকে গত ৫ অক্টোবর দ্বিতীয়বার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থায়ী বসবাসের আবেদনও অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে তিন মিনিটের মধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আলোচিত হলেও তাঁর সর্বশেষ অবস্থা আর আটকাবস্থায় নেই।        

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:০
কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

মেয়র নির্বাচনে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুহিত মাহমুদের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করেছে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রামিকের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের জয়, রবিবার শপথ

নতুন বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থ জোগাড়ে সহায়তার জন্য প্রস্তাবনা ৩৭ অনুমোদন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টে ঋণ দেবে ক্যালিফোর্নিয়া, প্রস্তাবনা ৩৭ পাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি ইলন মাস্ক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
রিপাবলিকানদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় মাস্কের, তবু ডেমোক্র্যাটদের কাছে হার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক। তবে বিপুল এই অর্থও দলটির নির্বাচনী পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনী চক্রে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মাস্কের ব্যয় প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানিয়েছে, টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন প্যাক্সটন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর টেক্সাসের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যায়।   টেক্সাস ছাড়াও অ্যারিজোনা, মিশিগান, উইসকনসিন ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে অর্থ ব্যয় করেছে মাস্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। নির্বাচনের আগের সোমবার পর্যন্ত এসব ব্যয় অব্যাহত ছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণেও মাস্কের নির্বাচনী ব্যয় ৪৪৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ গেছে রিপাবলিকানপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন ও সুপার প্যাকগুলোর মাধ্যমে।   নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন মাস্ক। তিনি লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য তাঁর কথিত ‘স্পেস লেজার’ কাজ করেনি। নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্ট ও প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর তৎপরতা কমে যায়। নিজের এক্স প্রোফাইলের ওপরের দিকে রাখা রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বানসংবলিত একটি পোস্টও সরিয়ে ফেলেন তিনি।   নির্বাচনের ফল মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সরকারি চুক্তি পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড এবং সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এ ধরনের তদন্তের উদ্যোগ আরও জোরালো হতে পারে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্যও নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বড় বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। এসব তথ্যকেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য বিপুল কম্পিউটার সরঞ্জাম রাখা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি। জর্জিয়ায় নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নরও তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের প্রকল্প সীমিত করার পক্ষে একাধিক প্রস্তাবও ভোটে অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস গেলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এ জে বেলের বিনিয়োগ সমাধান বিভাগের প্রধান জেমস ফ্লিনটফটের মতে, মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রিপাবলিকানদের পরাজয় প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও নতুন কোনো আইন কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।   নির্বাচনের ফল নিয়ে ডেমোক্র্যাটপন্থী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এক্স ও লিংকডইনে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর ভাষ্য, একদিকে ইলন মাস্কের মতো ধনীরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ক্ষমতায় রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শে বিশ্বাসীরা সেই প্রচেষ্টার কাছে নতি স্বীকার করবেন না। এদিকে মাস্কের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি স্পেসএক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:৪৪
ইতালীয় পর্যটকের একুশ হাজার ডলার ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশি তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ইতালীয় পর্যটকের গাড়িতে ফেলে যাওয়া ২১ হাজার ডলার ফেরত দিলেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক

ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে ২০.৫৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত সেলেস্টিয়াল পেন্টহাউস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২১ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দামে বিক্রির জন্য উঠল ফ্লোরিডার বিলাসবহুল পেন্টহাউস

হুসঙ্গীর সম্পর্ক নিবন্ধনের নতুন আইন অনুমোদন করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড সিটি কাউন্সিল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউড

ছবি: রাইয়ান আবদুল বাতেন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর
বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্লোরিডার অধ্যাপক গ্রেপ্তার, প্রাণীর সঙ্গে যৌনতার অভিযোগের নেপথ্যে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রাইয়ান আবদুল বাতেনের গ্রেপ্তার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রকাশিত অ্যারেস্ট রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তিনি নিজে কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিয়েছেন, এমন অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।   গত ২৮ অক্টোবর ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টিতে বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে আমেরিকা বাংলা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একাধিক শিক্ষার্থী, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৩ সালে বাতেনের জিমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে খোলা একটি পুরোনো ড্রপবক্স অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত বিপুলসংখ্যক ছবি ও ভিডিওর মধ্যে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত (পর্ন ভিডিও) কিছু উপাদান পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।   সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টটিতে দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যক্তিগত ফাইলও সংরক্ষিত ছিল। তবে আলোচিত আপত্তিকর ফাইলগুলো কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সেখানে সংরক্ষিত হয়েছিল, তা নির্ধারণে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টটি বাতেনের ইমেইল ঠিকানায় খোলা হলেও প্রতিটি ফাইল তিনি নিজে আপলোড করেছেন কিংবা সেগুলোর বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল এমন সিদ্ধান্ত কেবল অ্যাকাউন্টের পরিচয় থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না। একইভাবে অ্যাকাউন্টে অন্য কারও প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।   অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (NCMEC) এর কাছে রিপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বাতেনের মামলায়ও ড্রপবক্সের ফাইল নিয়ে এমন সতর্কবার্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট ও আদালতের সার্চ ওয়ারেন্টের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছাড়া সতর্কবার্তায় কী উল্লেখ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত অভিযোগের তথ্যেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান সংরক্ষণের পৃথক চার্জ নিশ্চিত করা যায়নি।   ফ্লোরিডার 828.126(6) ধারা অনুযায়ী, প্রাণীর সঙ্গে মানুষের নিষিদ্ধ যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও জেনেশুনে ধারণ, বিতরণ কিংবা সংরক্ষণ করা থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি। ফলে এই মামলায় অভিযোগের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে সরাসরি যৌন কার্যকলাপে অংশ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল উপাদান ধারণ, বিতরণ বা সংরক্ষণের আইনি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফাইলের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির জ্ঞাতসারে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।   এদিকে বাতেনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও গবেষক জানিয়েছেন, বাতেনের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত পড়াশোনা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও আন্দোলন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন এবং আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর পরিচিতরা। তবে আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের প্রমাণ নয়। তাঁর সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পেশাগত অবস্থান এবং তাঁর অধীনে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, গবেষকদের সুপারভিশন পরিবর্তন কিংবা বাতেনের জামিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিও এখনো হয়নি।   সূত্র: প্রকাশিত হিলসবোরো কাউন্টি অ্যারেস্ট রেকর্ড, ফ্লোরিডা স্ট্যাটিউট 828.126(6) এবং আমেরিকা বাংলার কাছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:৫
নবনির্বাচিত তরুণ কংগ্রেস সদস্য মাইকেল আলফনসো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জেন-জি প্রতিনিধি এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, ২৬ বছর বয়সেই নির্বাচিত মাইকেল আলফনসো

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক শেখ রহমান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমান

নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মহাকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স

0 Comments