ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে এক ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, যারা সিবিপি ওয়ান অ্যাপ ব্যবহার করে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের আইনি মর্যাদা পুনর্বহাল করতে হবে।
ম্যাসাচুসেটস জেলার ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালিসন ডি. বুরোস ২৫ পৃষ্ঠার রায়ে বলেন, বিচার বিভাগ তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং নিজস্ব নিয়মাবলীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এই রায়ের সমালোচনা করে একে ‘স্পষ্ট বিচারিক সক্রিয়তা’ বলে উল্লেখ করেছে।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে জানায়, বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সিবিপি ওয়ান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘লাখো অবৈধ অভিবাসী’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সীমান্ত সংকটকে তীব্র করেছে। তারা দাবি করে, ফেডারেল আইনের অধীনে এই ‘প্যারোল’ বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসীরা সীমান্ত প্রবেশপথে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করতে পারতেন। বিচারকের আদেশে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, যারা এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন এবং যাদের আশ্রয় আবেদন এখনো অভিবাসন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই নির্দেশনা ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে সিবিপি ওয়ান ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং এখনো দেশে অবস্থান করছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯ লাখের বেশি অভিবাসী এই অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। তারা কাজের অনুমতি পেয়েছেন এবং সর্বোচ্চ দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।
পরবর্তীতে ডিএইচএস এই অ্যাপটি বাতিল করে নতুন সিবিপি ওয়ান চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল অভিবাসন কমানো।
নতুন অ্যাপটিতে ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী মর্যাদা ছাড়া বসবাসরত অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
ডিএইচএস জানায়, যারা সিবিপি ওয়ান ব্যবহার করবেন, তাদের আটক করার অগ্রাধিকার কমানো হবে এবং ভ্রমণ সহায়তাও দেওয়া হবে। আগে এই সহায়তার পরিমাণ ছিল ১,০০০ ডলার, পরে তা ৩,০০০ ডলারে বাড়ানো হয় এবং সম্প্রতি তা ২,৬০০ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কিছু অভিবাসী অভিযোগ করেছেন, তারা স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রতিশ্রুত অর্থ পাননি। মানবাধিকার কর্মী ও অলাভজনক সংস্থাগুলোও এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
সরকারি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও নিউ ইয়র্ক টাইমস -এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ‘স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এই রায়টি আসে ম্যাসাচুসেটসের ভেনেজুয়েলান অ্যাসোসিয়েশন (ভিএএম) এবং ভেনেজুয়েলা, কিউবা ও হাইতির তিন অভিবাসীর করা একটি যৌথ মামলার পর। তারা যুক্তি দেন, অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল করা শুধু অবৈধ নয়, বরং সমাজে আস্থা ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করে।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই সিদ্ধান্ত হাজারো মানুষের জন্য উপকার বয়ে আনবে, যারা নিয়ম মেনে চলেছিল। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামীকাল ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ, আলোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জর্জিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলাহ পার্কেস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের (এজেসি) এক জরিপে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়ছে। নাবিলাহ পার্কেস জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফলে তার বর্তমান প্রার্থিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে শেখ রহমানের প্রার্থিতাও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত শেখ রহমানকে অনেকেই কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৯৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী তানজিনা। স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিভিন্ন পোস্টে ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশী কমিউনিটি একটিভিস্টদের মতে, জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানার চল্লিশতম কনভেনশন উপলক্ষে মেধাবী বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে অনুষ্ঠিত হবে ফোবানার চল্লিশতম কনভেনশন। এই কনভেনশনের অংশ হিসেবেই মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ এই বৃত্তি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং সম্মাননা সনদ প্রদান করা হবে। ফোবানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অথবা বৈধ কাগজপত্রসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শিক্ষার্থী হতে পারবেন। আবেদনকারীকে ২০২৫ সালের হাই স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করতে হবে এবং তার ফলাফল ৩.৫ থেকে ৪.০ এর মধ্যে থাকতে হবে। বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যেমন—বাংলাদেশি সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, বাংলা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, বাংলাদেশ বিষয়ক পাঠক্রম সম্পন্ন করা কিংবা বাংলাদেশ নিয়ে প্রবন্ধ বা গবেষণামূলক লেখা তৈরি করা। আবেদনকারীদের “বাংলাদেশি-আমেরিকান নতুন প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ” বিষয়ের ওপর এক হাজার শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখতে হবে। পাশাপাশি নিজের সম্পর্কে ৫০০ শব্দের একটি আত্মজীবনীমূলক লেখা জমা দিতে হবে, যেখানে কমিউনিটিতে অবদান, ব্যক্তিগত অর্জন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য তুলে ধরতে হবে। এছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত ফলাফলের সরকারি অনুলিপি, কমিউনিটি সংগঠনের সনদ বা সুপারিশপত্র এবং আবেদনকারীর রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর কমিউনিটিতে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কম রয়েছে, তারা বিকল্প হিসেবে ফোবানা ২০২৬ আয়োজক কমিটির সঙ্গে ২০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করে এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন। ফোবানা জানিয়েছে, একটি স্বাধীন বিচারক প্যানেল প্রবন্ধ মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচন করবে। নির্বাচিতদের সম্মাননা প্রদান করা হবে হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিত চল্লিশতম ফোবানা কনভেনশনের মঞ্চে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোবানা উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জানতে ভিজিট করুন: https://fobanaonline.com/scholarship-application/
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।