বিশ্ব

ইরানের সাথে চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ট্রাম্প: চাঞ্চল্যকর দাবি পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টার

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ২৩:৫১
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা জেসমিন আল-জামাল সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।


আল-জামাল জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের সাথে একটি সমঝোতায় আসতে চান। তার মতে, ইরানি প্রশাসন ট্রাম্পের এই মানসিকতাকে তাদের নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে। 


ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারে, তবে তারা নিজেদের শর্ত অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞ।


মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে পেন্টাগনের এই সাবেক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা

নিজের বাড়ির ছাদে উড়ছে বিশাল মার্কিন পতাকা। তবে এটি কোনো উৎসব কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানানোর আয়োজন নয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাত থেকে নিজের বাড়ি ও পরিবারকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেই এক ধরনের প্রতীকী নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহার করছেন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই রিদি। ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে।    ৪৬ বছর বয়সী লুই রিদি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। কুসরাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার পরিবারসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পশ্চিম তীরে ফিরে যান তিনি। বাড়িতে পৌঁছেই ছাদে বড় একটি মার্কিন পতাকা উড়িয়ে দেন রিদি।   পতাকাটি টাঙানোর পেছনে তার প্রত্যাশা ছিল পরিষ্কার - বাড়িটির মালিক একজন মার্কিন নাগরিক, এটি বুঝতে পারলে হয়তো বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে হামলা বা দখলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছেও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন পতাকাও তাকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারেনি।   মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা ঘটনায় একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রিদির জমিতে প্রবেশ করেন। তার হাতে একটি তোরাহ ছিল এবং তিনি ওই জায়গায় নিজের উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিতে থাকেন। রিদি তাকে নিজের সম্পত্তি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা ইসরায়েলি সেনারা ওই বসতি স্থাপনকারীকে এলাকা ছাড়তে বলে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভিডিওতেও রিদিকে বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশে নিজের জমি থেকে সরে যেতে বলতে দেখা গেছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কাছেও তাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিদিকেই নিজের বাড়ির ভেতরে ফিরে যেতে বলা হয়। কারণ এলাকাটিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘ক্লোজড মিলিটারি জোন’ বা বন্ধ সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।   রিদির অভিযোগ, নিজের বাড়িতে থেকেও তিনি এখন স্বাধীনভাবে বাইরে যেতে পারছেন না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী এখনো এত কাছাকাছি অবস্থান করছেন যে সেনাবাহিনী চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।   কুসরার পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। বসতি স্থাপনকারীরা তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের সরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ও জমি দখল করাই এই চাপের উদ্দেশ্য।   এই ঘটনায় বিরলভাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। কুসরার ঘটনায় জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারীকে তিনি ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় ঘটনাটি ওয়াশিংটনেরও নজরে এসেছে।   তবে ঘটনাটি শুধু একটি মার্কিন নাগরিকের বাড়িকে কেন্দ্র করে নয়। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৪৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।   কুসরার কাছাকাছি জালুদ গ্রামেও গত মাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে বাসিন্দাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আর ফিরে আসেনি। ফলে কুসরার পরিবারগুলোর আশঙ্কা - তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   পশ্চিম তীরে মার্কিন পতাকাকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা কুসরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরমুস আইয়া নামে আরেকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা মার্কিন নাগরিক। সেখানকার অনেক বাড়ির বারান্দা ও ছাদেও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখা যায়। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব দৃশ্যমান করাকেও অনেকে নিরাপত্তার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন।   আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে। বর্তমানে সেখানে ২৮ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।   সবচেয়ে প্রতীকী হয়ে উঠেছে লুই রিদির বাড়ির ছাদের সেই মার্কিন পতাকা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দৃশ্যমান করে তিনি আশা করেছিলেন, অন্তত তার বাড়ি ও পরিবার নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ানোর পরও যখন নিজের উঠানে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা নিয়ে তাকে লড়তে হচ্ছে, তখন কুসরার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের আরও বড় একটি বাস্তবতাকেই সামনে আনছে।   মার্কিন পতাকা তাই সেখানে শুধু একটি দেশের প্রতীক হয়ে থাকেনি - একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে সেটি এখন নিজের বাড়ি রক্ষার শেষ দিকের প্রতীকী ঢাল। কিন্তু লুই রিদির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ছাদের ওপর সেই পতাকা উড়লেও নিচের মাটিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এখনো আসেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৩:৪৩
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!

নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি

নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী

কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

কলকাতায় হোটেলে আগুন লেগে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!
ইসরায়েলি পর্যটকের বারবিকিউর আগুন থেকে গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল!

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ভাড়া নেওয়া একটি ভিলায় বারবিকিউ করার পর সেখান থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় রেথিমনো অঞ্চলের সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কাছাকাছি কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরিয়ে নিতে হয়।   গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, পর্যটকদের দলটি যে ভিলায় অবস্থান করছিল, তার উঠান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, বারবিকিউ গ্রিল থেকে উড়ে যাওয়া আগুনের ফুলকি প্রবল বাতাসে পাশের শুকনো ঘাস ও গাছপালায় পড়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়।    আগুনের সময় ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল বেশ বেশি। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে আশপাশের কৃষিজমি ও জলপাই বাগান হুমকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, তিনটি বিশেষ দাবানল ইউনিট, একাধিক গাড়ি, হেলিকপ্টার, পানির ট্যাংকার এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।   আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রিসের ১১২ জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে আশপাশের বাসিন্দাদের বার্তা পাঠানো হয়। ফোতিনারি ও সৌদা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্কতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ারফাইটাররা।    তদন্তে ভিলার মালিক দাবি করেছেন, তীব্র দাবানল ঝুঁকির কারণে অতিথিদের সেখানে বারবিকিউ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, অতিথিরা পৌঁছানোর পর মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি লিখিতভাবেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও পর্যটকদের দলটি গ্রিল ব্যবহার করে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।    গ্রিসে উচ্চ দাবানল ঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ, শুকনো গাছপালা পোড়ানো এবং আগুনের ফুলকি তৈরি করতে পারে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ দাবানলের কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।    অভিযুক্ত পর্যটক অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, প্রবল বাতাসের মধ্যে বারবিকিউ ব্যবহার করা যাবে না, এমন কোনো স্পষ্ট মৌখিক বা দৃশ্যমান লিখিত সতর্কতা তিনি পাননি। তার আইনজীবী ইভ্যানজেলোস ফানোরগাকিস দাবি করেছেন, ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে দেখা যায়, আগুনের সূচনা গ্রিলের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরে এবং মাঝখানে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ধারাবাহিক চিহ্ন ছিল না।    আটকের পর ওই ব্যক্তিকে রেথিমনোর বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ১০ হাজার ইউরো জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলবে এবং চূড়ান্তভাবে আগুনের জন্য কে দায়ী তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।    ভিলার মালিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতিথিদের আগেই বারবিকিউ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী বলছেন, ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে তাদের হাতে থাকা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গ্রিসে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বৃষ্টির অভাব এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ১৬ আগস্ট সালামিনা দ্বীপে আরেকটি ভয়াবহ দাবানলে এক বৃদ্ধ দম্পতির মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।    চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগুন লাগানোর ঘটনায় গ্রিসে ২৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে এবং ৩০ জনের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।    কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সময়ে খোলা জায়গায় আগুন ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে পর্যটন এলাকাগুলোতে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা ও ফায়ার সেফটি নির্দেশনা অমান্য করলে ফৌজদারি তদন্ত এবং বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৬
শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে

শাস্তি দিয়ে শাসন করা শিশুরাই উল্টো আরও সহিংস হয়ে উঠতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

তীব্র আপত্তির মুখে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মসজিদে লাউডস্পিকারে আজানের প্রস্তাব বাতিল

Australia’s Muslim population

অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতি, মুসলিমদের ব্যয় ছুঁতে পারে ৯ বিলিয়ন ডলার

একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা
একই এলাকায় স্কুলে ভর্তি ৯ জোড়া যমজ, শিক্ষকদেরও ‘দুইবার তাকানোর’ দশা

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। স্কুলে ঢুকতেই শিক্ষকদের সামনে অদ্ভুত এক দৃশ্য - একজনের দিকে তাকালে ঠিক একই চেহারার আরেকজন! একজন-দুজন নয়, একই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার একসঙ্গে স্কুলজীবন শুরু করছে ৯ জোড়া যমজ শিশু। স্কটল্যান্ডের ইনভারক্লাইডে এমন ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ইনভারক্লাইডের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি ওয়ানে যাত্রা শুরু করার কথা এই ১৮ শিশুর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৪ আগস্ট গ্রিনকের আরডগোয়ান প্রাইমারি স্কুলে তাদের একত্রিত করা হয়। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের আয়োজনে সেখানে নতুন ইউনিফর্ম পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় যমজ শিশুরা।    তবে ইনভারক্লাইডে এত যমজ শিশুর স্কুলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যমজের সংখ্যার কারণে এলাকাটি বহুদিন ধরেই মজার ছলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানকার স্কুলগুলোতে মোট ১৭৬ জোড়া যমজ ভর্তি হয়েছে - অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ জোড়া।    এবারের ৯ জোড়া যমজও একই একটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। ইনভারক্লাইডের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাগ হয়ে তারা স্কুলজীবন শুরু করবে। এর মধ্যে আরডগোয়ান প্রাইমারি, সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি এবং গুরক প্রাইমারিতে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হচ্ছে। বাকি তিন জোড়া যাবে লেডি অ্যালিস, সেন্ট জোসেফস এবং সেন্ট জনস প্রাইমারি স্কুলে।    ফলে তিনটি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রথম দিনটা একটু বেশিই মজার হতে পারে - একই ক্লাস বা স্কুলে একসঙ্গে দুই জোড়া যমজকে চিনে রাখতে হবে তাদের। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়। বরং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে যমজ শিশুদের একত্র করে ছবি তোলা গত ১৩ বছরে ইনভারক্লাইডের একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।    ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের শিক্ষা ও কমিউনিটিবিষয়ক কনভেনার কাউন্সিলর জিম ক্লোকার্টি বলেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসার অন্যতম পরিচিত সংকেত হয়ে উঠেছে স্কুলে ভর্তি হতে যাওয়া যমজ শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। তার ভাষায়, এই আয়োজন শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও প্রথম দিনের আগে এক ধরনের প্রস্তুতি।    এবার ৯ জোড়া যমজ নিয়ে আলোচনা হলেও ইনভারক্লাইডের রেকর্ড আরও চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে এক শিক্ষাবর্ষেই এখানকার স্কুলে প্রাইমারি ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল রেকর্ড ১৯ জোড়া যমজ। ২০২৩ সালেও সংখ্যাটি ছিল ১৭ জোড়া - যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইনভারক্লাইডে যমজ শিশুর হার তুলনামূলক বেশি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। ফলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক নাম নয় - দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক যমজ শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণেই এলাকাটি এই মজার ডাকনাম পেয়েছে।    নতুন ইউনিফর্ম, নতুন ক্লাস আর নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮ শিশুর নতুন অধ্যায়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের প্রথম দিনটির একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকছেই - পাশে থাকবে দেখতে প্রায় একই রকম নিজের ভাই অথবা বোন।   আর শিক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত অন্য জায়গায় - নতুন শিক্ষার্থীদের নাম মনে রাখার পাশাপাশি এবার ঠিকঠাক চিনে রাখতে হবে ৯ জোড়া যমজকেও।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ৪:৪০
৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা

৬২০ ড্রোনে মস্কোয় ইউক্রেনের বিশাল হামলা, ব্রিটেনকে ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব

‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে, ধৈর্য ধরুন’: রামদেব

মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন

মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়েছিলেন, সেই নেপালিকে সৌদির উপহার

0 Comments