সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার কী হবে? আত্মসমর্পণ, গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৫:২২
শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত
শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তার এই ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান, তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর অবস্থা এবং দেশে ফিরলে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

 


রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তারপরও তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর বিচার তিনি আদালতেই মোকাবিলা করতে চান এবং দলীয় নেতাদেরও একইভাবে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 


শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারাগারে যেতে হবে। তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সরকার ইতোমধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদনও করেছে।

 


বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় রায়ও হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মামলায়ও বিভিন্ন আদালত রায় দিয়েছেন। তবে এসব রায়ের মধ্যে কোনগুলো চূড়ান্ত, কোনগুলো আপিলাধীন এবং কোন মামলায় পরবর্তী বিচারিক ধাপ বাকি—সেগুলো আদালতের নথি অনুযায়ী পৃথকভাবে বিবেচিত হবে। তাই সব রায় একই আইনি অবস্থায় রয়েছে—এমনটি বলা সঠিক নয়।

 


দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলেই কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে পারেন না। যদি তার বিরুদ্ধে কার্যকর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ড বহাল থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হেফাজতে নিয়ে আদালতে হাজির করতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে বিচারিক হেফাজতে রাখা হবে, নাকি আইনের আলোকে অন্য কোনো আদেশ দেওয়া হবে। অর্থাৎ আত্মসমর্পণ একটি আইনগত প্রক্রিয়া, কিন্তু তার পরবর্তী অবস্থান আদালতের আদেশের ওপর নির্ভরশীল।

 


বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, ন্যায্য বিচার এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হলেও তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল, রিভিউ বা অন্য আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে এসব আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না কিংবা সাজা স্থগিত হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র আদালতের।

 


শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সরকার তাকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাস্তবে কোন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে তার দেশে ফেরার সময়কার আইনি অবস্থা, আদালতের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর।

 


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা হলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে। কারণ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; মানবাধিকার, বিচারিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি ধাপ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের নজরে থাকবে।

 


এদিকে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে বর্তমান সরকার বলছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আদালতের আদেশ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই বিপরীত অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

 


সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তিনি কবে ফিরবেন, কীভাবে ফিরবেন এবং দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ধারণ করবে আদালতের আদেশ, বিদ্যমান আইন এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সরকার জানিয়েছে, দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী সব পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার
স্বাধীনতার পর প্রথম, শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো দেশের দ্বিতীয় ও সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার নির্মাণের পথে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন এই শোধনাগার চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল শোধন করা যাবে এবং দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।    বর্তমানে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইআরএলের বার্ষিক শোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। নতুন ইউনিটে আরও ৩০ লাখ টন সক্ষমতা যুক্ত হলে ইআরএলের মোট শোধন ক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। এর ফলে ডিজেল, অকটেনসহ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।    প্রকল্পটির অর্থায়নের বড় বাধাও এখন দূর হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।    ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, নতুন শোধন সক্ষমতার কারণে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল দেশে পরিশোধনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক শোধনাগারে ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন এবং ১৫ ধরনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।    দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারটি ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। এরপর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব একাধিকবার সংশোধন হলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় দীর্ঘ ৫৮ বছরের অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।    ট্যাগ: ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল শোধনাগার, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, চট্টগ্রাম, জ্বালানি তেল, বাংলাদেশ, তেল আমদানি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:২২
আব্দুল মান্নান—ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর অসংলগ্ন আচরণ নিয়ে চলছে আলোচনা

‘স্ত্রী মেরেছেন তাই মদ পান’, ভিডিও ভাইরালের পর নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এসআই প্রত্যাহার

রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

অপচিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন

শুক্রবার সকালে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল

পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশুকে কোলে নিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্য
পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশুকে কোলে নিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্য

পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক নারী পরীক্ষার্থীর কোলের শিশুকে আগলে রেখে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশ সদস্য শিল্পী। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে জেলা প্রশাসনের অধীনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এই অনন্য দায়িত্বশীলতার চিত্র দেখা যায়।   নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা এক নারী পরীক্ষার্থী তাঁর ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার মুহূর্তে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই মা। সন্তানকে কোথায় রাখবেন আর কীভাবে পরীক্ষা দেবেন—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।   ঘটনাটি নজরে আসে কেন্দ্রে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য শিল্পীর। মায়ের অসহায় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উদ্যোগী হয়ে শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষার পুরো এক ঘণ্টা সময় শিশুকে কোলে নিয়েই কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।   পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মা নিশ্চিন্তে হলে ঢুকে পরীক্ষা শেষ করেন। অন্যদিকে কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরোটা সময় শিশুটিকে আগলে রাখেন নারী পুলিশ সদস্য শিল্পী।   শিল্পী সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে কর্মরত। সরকারি কলেজের পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে সেদিন নিয়োজিত ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরির পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সন্তানের নিরাপত্তার উদ্বেগ দূর করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।   নিজের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য শিল্পী জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় এক মাতৃত্বের সংকট তাঁর চোখে পড়ে। শিশুটিকে দেখার কেউ না থাকায় ওই নারী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাই সহানুভূতির জায়গা থেকেই তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে অভিভাবককে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৩:৫২
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, ফান্ডিং ২ কোটির বেশি

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, কলেজশিক্ষার্থী কারাগারে

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী গাড়ি সড়কের পাশের ধানখেতে গিয়ে পড়ে

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্য। ছবি: সংগৃহীত
১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে

ব্যবসা করার জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে বহুজাতিক ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জখম সনদ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং উচ্চ আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে গত ২৩ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   মামলার নথি অনুযায়ী, তাসলিম হোসেন তুর্য ঢাকার গুলশানে সিটিব্যাংক এনএ-এর অপারেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার কথা বলে স্ত্রী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি।   অভিযোগে বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপ ও নির্যাতন করা হয়। এমনকি তাঁর আপত্তিকর ছবি ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।   পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন তুর্য। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রীকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া জখম সনদেও ভুক্তভোগীর পিঠে ভোঁতা আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।   ভুক্তভোগী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর দাবি, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর আচরণে নানা অসঙ্গতি দেখতে পান তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলেই তুর্য তাঁর ওপর চড়াও হতেন।   মারধরের পরদিন, ৫ অক্টোবর, স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান তুর্য। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সালিশী কাউন্সিলের মাধ্যমে একপক্ষীয়ভাবে তালাক কার্যকর দেখানো হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   বাদীপক্ষের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে মামলা থেকে বাঁচতে তালাকের আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন আসামি।   পরে ভুক্তভোগী আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন। হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ তদন্ত শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেন।   বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাতের দাবি, আসামি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং ভুক্তভোগীকে হুমকি দিচ্ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন বাতিলের পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। তবে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।   এরপর গত ২৩ আগস্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাসলিম হোসেন তুর্যের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মীর তোফাজ্জল হোসেন আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। বাদীর আচরণগত সমস্যার কারণে নিয়ম মেনেই তালাক দেওয়া হয়েছে এবং যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।   জিয়াউল হক ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:১৭
হাতকড়া হাতে ফেসবুক লাইভে আসামি আসির মিয়া, বর্ণনা দেন পালানোর ঘটনার।

হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে ফেসবুক লাইভে হাজির ডাকাত!

৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার

ব্যবসা ঢেলে সাজাতে ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, আটকে গেলো ছাত্রের সার্টিফিকেট

0 Comments