সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তার এই ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান, তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোর অবস্থা এবং দেশে ফিরলে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তারপরও তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর বিচার তিনি আদালতেই মোকাবিলা করতে চান এবং দলীয় নেতাদেরও একইভাবে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রয়টার্সকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারাগারে যেতে হবে। তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সরকার ইতোমধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদনও করেছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় রায়ও হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মামলায়ও বিভিন্ন আদালত রায় দিয়েছেন। তবে এসব রায়ের মধ্যে কোনগুলো চূড়ান্ত, কোনগুলো আপিলাধীন এবং কোন মামলায় পরবর্তী বিচারিক ধাপ বাকি—সেগুলো আদালতের নথি অনুযায়ী পৃথকভাবে বিবেচিত হবে। তাই সব রায় একই আইনি অবস্থায় রয়েছে—এমনটি বলা সঠিক নয়।
দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলেই কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে পারেন না। যদি তার বিরুদ্ধে কার্যকর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ড বহাল থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে হেফাজতে নিয়ে আদালতে হাজির করতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে বিচারিক হেফাজতে রাখা হবে, নাকি আইনের আলোকে অন্য কোনো আদেশ দেওয়া হবে। অর্থাৎ আত্মসমর্পণ একটি আইনগত প্রক্রিয়া, কিন্তু তার পরবর্তী অবস্থান আদালতের আদেশের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, ন্যায্য বিচার এবং আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হলেও তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল, রিভিউ বা অন্য আইনগত প্রতিকার চাইতে পারেন। তবে এসব আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না কিংবা সাজা স্থগিত হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র আদালতের।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক—তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সরকার তাকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাস্তবে কোন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে তার দেশে ফেরার সময়কার আইনি অবস্থা, আদালতের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা হলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে। কারণ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়; মানবাধিকার, বিচারিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি ধাপ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের নজরে থাকবে।
এদিকে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে বর্তমান সরকার বলছে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আদালতের আদেশ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই বিপরীত অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তিনি কবে ফিরবেন, কীভাবে ফিরবেন এবং দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ধারণ করবে আদালতের আদেশ, বিদ্যমান আইন এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সরকার জানিয়েছে, দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী সব পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার টঙ্গী শাখার ২০৪ শিক্ষার্থী। তাদের এ সাফল্য উদ্যাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের ৪৮ সাবেক শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে সংবর্ধনা দিয়েছে তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। সোমবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসার শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ১৮৫ জনের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। টাকসুর সহসভাপতি মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুর্তুজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা হেফজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা। অনুষ্ঠানে টাকসুর অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। অধ্যক্ষ ড. মাওলানা হেফজুর রহমান বলেন, তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র নেতৃত্বেও যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত শিক্ষা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মকেই নিতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের আদর্শবান, সৎ ও সুচরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বিভিন্ন গঠনমূলক বই পড়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক বর্তমান শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মাননা পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা, গবেষণা, নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
একসময় যে পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেই পরিবার থেকেই উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন গোলাম আজম। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই পথচলা এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেই বেড়ে ওঠা গোলাম আজম পড়াশোনা থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও ধাপে ধাপে তিনি স্কুল ও কলেজের শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ভর্তি হন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে উচ্চশিক্ষা শেষ করে গবেষণার পথে এগিয়ে যান। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করে তিনি ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ অর্জন করেন। এতে তার টিউশন ফি ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোলাম আজমের এই সাফল্য দেখিয়ে দেয়, প্রতিকূল পরিবেশ সবসময় স্বপ্নপূরণের পথে শেষ কথা নয়। যোগ্যতা, ধারাবাহিক পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব। উল্লেখ্য, গোলাম আজমের পারিবারিক অবস্থা ও শিক্ষাজীবনের তথ্য তার পরিচিতজনদের দেওয়া বর্ণনার ভিত্তিতে জানা গেছে। তার ফুল ফান্ডেড পিএইচডির তথ্য প্রকাশিত বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ব্যক্তিগত জীবনের অন্যান্য তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ (এইচ এম) এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। দিনটি উপলক্ষে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত ও স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। তার মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির জানিয়েছেন, সকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দিনভর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকযোগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও এরশাদের বিভিন্ন সময়ের ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে। বেলা ১১টায় রংপুর নগরীর পল্লী নিবাসে এরশাদের সমাধিস্থলে কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দলটি। শুধু রংপুরেই নয়, জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া মাহফিল এবং এরশাদের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার শাসনামল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ কিছু উদ্যোগের জন্য তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। রংপুর তার রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন এরশাদ। পরে পরিবারের সঙ্গে রংপুরে বসবাস শুরু করেন। মৃত্যুর পর সমর্থকদের দাবির মুখে তাকে রংপুরের পল্লী নিবাসে দাফন করা হয়, যা এখন দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিবেচিত। এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবদান স্মরণ করেছেন।