বিশ্ব

ইরান সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে—ট্রাম্পের দাবি

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৫:৪১
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

 

ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি মোকাবিলায় এখনো কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সচল করতে পারে।

 

তিনি আরও মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রণালিটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” খুলে যেতে পারে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি
জাপানে ভিসা ফি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি, ১ জুলাই থেকে নতুন হার কার্যকর

প্রায় পাঁচ দশক পর বিদেশিদের জন্য ভিসা ফি বড় ধরনের পুনর্নির্ধারণ করল জাপান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ভিসার ফি সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাপানের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হয়েছে, যা ডলারে প্রায় ১৮.৬৯ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ভিসা ফি পুনর্বিবেচনা করল টোকিও।   জাপান সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যাওয়াও এই পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাপও এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় অবকাঠামো ও জনসেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ও ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র লেকচারার জিলমিয়াহ কাম্বলে বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পুরোনো ফি কাঠামো ধরে রাখা আর লাভজনক ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের অবমূল্যায়নও এতে ভূমিকা রেখেছে।”   তবে তিনি মনে করেন, এই ফি বৃদ্ধি সরাসরি পর্যটকের সংখ্যা কমানোর জন্য নয়। বরং প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ মেটানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এদিকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি জানিয়েছেন, ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে পর্যটন খাতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে সব ভ্রমণকারীর জন্য ডিপার্চার ট্যাক্সও ১ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।   ডেলয়েট তোহমাতসু গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউকি মাসুজিমা বলেন, জাপান থেকে যাত্রীদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের অংশ এখন প্রায় ৭৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০১৩ সালে ‘আবেনোমিক্স’ চালুর আগে ছিল মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। তার মতে, এই পরিবর্তন জাপানের পর্যটন খাতের দ্রুত সম্প্রসারণেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, বিদেশি পর্যটকেরা জাপানে কেনাকাটায় সেলস ট্যাক্স রিফান্ড সুবিধা পান। ফলে সংশ্লিষ্ট খরচের একটি অংশ সরকারকে বহন করতে হয়। ভিসা ফি ও ডিপার্চার ট্যাক্স বাড়িয়ে সেই ঘাটতি আংশিক পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কর ও ফি বৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যটকদের আগ্রহ কমবে না। কারণ জাপান ইতোমধ্যেই একটি জনপ্রিয় এবং পুনরায় ভ্রমণের উপযোগী গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ডেন্টসুর ‘জাপান ব্র্যান্ড সার্ভে ২০২৫’-এ দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেওয়া ১২ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে ৫২.৭ শতাংশই আবার জাপানে ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   জরিপে আরও উঠে এসেছে, দুর্বল ইয়েনের চেয়ে জাপানের খাবার, সংস্কৃতি ও পণ্যের আকর্ষণই পর্যটকদের বেশি টানছে। ফলে এই জনপ্রিয়তা সাময়িক নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   এদিকে, ভিসা ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য খরচও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মে মাসে জাপানের উচ্চকক্ষ পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন করার আইন পাস করেছে। একই সঙ্গে রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি-র ঊর্ধ্বসীমাও ১ লাখ ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য একদিকে বাড়তি প্রশাসনিক ব্যয় সামাল দেওয়া, অন্যদিকে দক্ষ ও উচ্চমানের মানবসম্পদ আকর্ষণ করা। সব মিলিয়ে, পর্যটন ও অভিবাসন নীতিতে জাপান এখন এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৫:৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: এএফপি

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত চাইলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা

পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক

সিন্ধুর পানি নিয়ে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের: ‘হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে’

জিপিএস, নজরদারি ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

জিপিএস, নজরদারি ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে চীন

পাকিস্তানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তান
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের, বলল ‘সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন’

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি এ সামরিক পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।   বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।   অন্যদিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।   পাক্তিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আদম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালে আহত শিশুদের অবস্থা এবং স্বজনদের আহাজারি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।   পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের দাবি, একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।   আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকাজে মানুষ জড়ো হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, অভিযানে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।   জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।   আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১:১৮
ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকোর সৈকতে কুমিরের হামলায় যুবকের মৃত্যু, সামনে এলো নতুন ভিডিও

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ সংকট, বাইরে চিকিৎসার অনুমতি পেয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ রোগী

প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি বৈঠকের খবর প্রত্যাখ্যান করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ: এরদোয়ান

ন্যাটো সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে ফিলিস্তিন ইস্যুর কথা উল্লেখ মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।   তিনি বলেছেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সম্ভব নয়।   সোমবার (২৯ জুন) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন এরদোয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।   এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু। তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান ভূমি দখল ও বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।   ন্যাটোকে সামনে রেখে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। জোটের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধ, সংকট, সন্ত্রাসবাদ এবং অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে ন্যাটোকে তার নিরাপত্তা কৌশল পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।   এরদোয়ান বলেন, পুরোনো নিরাপত্তা ধারণা ও কাঠামো একে একে ভেঙে পড়ছে। কিন্তু তার পরিবর্তে কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিশ্ব ক্রমেই আরও বেশি উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত প্রচলিত ধারণাগুলোর অনেকটাই এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মানবতার বিবেককে নাড়া দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।   ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, টেক্সাস থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিঃশর্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।   তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়, সে লক্ষ্যে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি লেবাননসহ অঞ্চলের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ওপরও নিবিড় নজর রাখছে আঙ্কারা।   এরদোয়ান বলেন, ‘গণহত্যাকারী গোষ্ঠীর উসকানিকে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তারা আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সহ্য করতে পারে না, বরং এটিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হিসেবে দেখে।’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১৩:৪২
২৮ জুন ভেনেজুয়েলার লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজছে আর্জেন্টিনার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর। ছবি: রয়টার্স

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ দিন পর বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার

ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি

ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি, সতর্ক অবস্থানে তেল আবিব

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নেইমার

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নেইমার, দিলেন ৩ কোটি টাকার সহায়তা

0 Comments