মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা। ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার কঠোর জবাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানি নৌবাহিনীর এই নাটকীয় সিদ্ধান্তে থমকে গেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের হৃদস্পন্দন। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সরু জলপথটি এখন পুরোপুরি জাহাজ চলাচলমুক্ত, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধসের অশনিসংকেত দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) ৩০ শতাংশেরও বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। রুশ সংবাদমাধ্যম এবং ক্যাস্পিয়ান পোস্টের তথ্যমতে, বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও, এই অচলাবস্থার কারণে তা ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনটা হলে আধুনিক ইতিহাসে পণ্যমূল্য ও পরিবহন খরচে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।
কেন এই রুট বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে হাহাকার?
সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো তাদের জ্বালানি রপ্তানির জন্য সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। পরিসংখ্যান বলছে, এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জ্বালানির ৮২ শতাংশই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে। বিশেষ করে চীনের মোট এলএনজি আমদানির এক-চতুর্থাংশ আসে এই পথে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই রুটে চলাচল করে, যা বিশ্ব অর্থনীতির সচলতা বজায় রাখে।
ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে ৭৮.৫ ডলারে পৌঁছেছে। জেপি মরগানের মতো সংস্থাগুলো তেলের দাম ১৩০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিলেও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দামের লাগাম ২৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এর চেইন রিঅ্যাকশনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ববাজার।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এক দীর্ঘমেয়াদী ও নিশ্ছিদ্র মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে ইরান। দীর্ঘ তিন দশক ধরে দেশটির শাসনভার সামলানো ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কেবল বর্তমান যুদ্ধ নয়, বরং তার অনুপস্থিতিতেও যেন শাসনব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে গ্রহণ করেছেন বহুমুখী কৌশল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, খামেনি নিহত বা অপসারিত হলেও ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে একটি বিকল্প শক্তিশালী কাঠামো তৈরি রাখা হয়েছে। নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ও গোপন তালিকা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোর দাবি, খামেনি তার উত্তরসূরি হিসেবে তিনজনের একটি গোপন তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তবে একক কোনো নেতার বদলে একটি বিশেষ কমিটির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনাও প্রবল। গত বছর যুদ্ধের ময়দানে শীর্ষ নেতাদের হারানোর পর থেকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং নেতৃত্ব রক্ষায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। চার স্তরের প্রশাসনিক ঢাল নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানা গেছে, খামেনি দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য 'চার স্তরের উত্তরাধিকার' কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর ফলে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত বা নিখোঁজ হলেও রাষ্ট্রের চাকা থমকে যাবে না। এই বিশেষ ব্যবস্থার তদারকি করছেন খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক আলি লারিজানি। ছায়া সরকার ও লারিজানি ফ্যাক্টর ৬৭ বছর বয়সী সাবেক বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার আলি লারিজানি বর্তমানে পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ণ পরিকল্পনা এখন লারিজানির হাতে। এমনকি খামেনির অনুপস্থিতিতে 'ইরানের ডেলসি' (ভেনেজুয়েলার আদলে শক্তিশালী ছায়া নেতৃত্ব) কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। লারিজানির পাশাপাশি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও রয়েছেন এই শক্তিশালী বলয়ে। পিছু না হটার অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সঙ্গে সংঘাত যে পর্যায়েই যাক না কেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র সহজে ক্ষমতা ছাড়বে না। প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি নিয়েও তারা নিজেদের মতাদর্শ ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। খামেনি এখন জনসম্মুখে কম আসলেও, পর্দার আড়ালে থেকে এক দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যূহ তৈরি করেছেন যা তার পরবর্তী সময়েও ইরানকে পরিচালিত করবে।
ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। হামলায় বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তিনি ইরানি জনগণকে দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য আহ্বান জানান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের জনগণ, আপনাদের সহায়তায় আমরা হামলা চালাচ্ছি। রাস্তায় নেমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করুন।’ তবে তার আহ্বানকে কেউ সাড়া দেয়নি বলে কোনো প্রতিবেদনে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ট্রাম্পের আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবপন্থী জনগণ রাস্তায় নামে। তারা তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি হাতে মিছিল করে এবং তার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এই প্রতিবাদী সমাবেশ ইরানি জনগণের উচ্চ সমর্থন প্রদর্শন করছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থল শাখার কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে 'অপারেশন লায়ন’স রোয়ার' ও 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করে। এই অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও কৌশলগত নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেওয়া। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি কমান্ডারের পাশাপাশি ইরানের আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এই হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই "নৃশংস আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে তারা ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে ইরান শত শত ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে: তেহরানে বিস্ফোরণ: তেহরান, তাবরিজ এবং কোমসহ ইরানের বড় শহরগুলোতে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আঞ্চলিক অস্থিরতা: হামলার পর জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। দুবাই ও আবুধাবিতেও ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই অভিযানকে ইরানের "দমনমূলক শাসনের" বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেহরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী বড় কোনো পদক্ষেপের আশঙ্কায় পুরো অঞ্চল এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।