ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো—
কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন।
এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন।
সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।
দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়।
আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’
এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ।
সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে।
যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’
ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’
সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’
স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো— কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়। আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’ এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে। যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’ ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’ সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’ স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার