আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, একাধিক আসামির যাবজ্জীবন

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।   রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।   এ ছাড়া সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার তৎকালীন পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকেও।   বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও হাফিজুর রহমানকে যথাক্রমে পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশসহ আরও কয়েকজনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমারকে তিন বছর এবং ইমরান চৌধুরী ও মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।   পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই রায়ে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ, নির্ধারণ হবে ৩০ আসামির ভাগ্য

রংপুরে আন্দোলনের উত্তাল দিনে টিয়ার শেলের ধোঁয়া আর গুলির শব্দের মধ্যে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সেই দৃশ্য এখনও নাড়া দেয় দেশবাসীকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারানো এই শিক্ষার্থীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার রায় আজ ঘোষিত হতে যাচ্ছে।   দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ মামলার রায় ঘোষণা করবে। এতে ৩০ আসামির দায় ও শাস্তি নির্ধারিত হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেন।   তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী মিলে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে উল্টো সহিংসতা উসকে দেন।   রংপুর মহানগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বেতার বার্তার মাধ্যমে অধস্তন কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নির্দেশ বাস্তবায়নে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় এএসআই আমির হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও হামলা ও সহিংসতায় জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে মামলার ছয় আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন, বাকিরা পলাতক। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেছেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত একটি প্রত্যাশিত রায় দেবেন। তিনি জানান, এ হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
সংসদে ৮টি বিল পাস; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে যুক্ত হলো ‘গুম’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ, আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় কণ্ঠভোটে সেগুলো সরাসরি পাস হয়।   সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সময়ের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে আজ পাস হওয়া বিলগুলো অপরিবর্তিতভাবে গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) এবং রেজিস্ট্রেশন সংশোধন সংক্রান্ত চারটি বিল পাসের প্রস্তাব দেন।   আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিলটি পাসের সময় আইনমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নতুন এই আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ)-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুমের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনটি সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে গুমের বিচার নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কয়েকটি বিলও পাস হয়। মূলত নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য এই বিলগুলো আনা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল দুটি উত্থাপন করেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিলেট ও খুলনার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের প্রস্তাব করলে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মৃত্যুদণ্ড বাতিলের আবেদন জানালেন শেখ হাসিনার আইনজীবী দল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম কিংসলে ন্যাপলির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া ছিল অন্যায্য ও অবৈধ এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করা উচিত।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তার ন্যায্য বিচার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করেছে। আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, বিচার একটি শত্রুভাবাপন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক সংযোগযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারিক স্বাধীনতার অভাব এবং প্রসিকিউটরের পক্ষপাতিত্বও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রসিকিউশন টিমে দুর্নীতির অভিযোগও চিঠিতে তোলা হয়েছে।   আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে অভিযোগ, প্রমাণ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   ল’ ফার্মের যুক্তি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারও প্রশ্নবিদ্ধ। এটি মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা বেআইনি।   চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পুনর্বিচার করা উচিত। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই আন্দোলন দমনে এক হাজার চারশো জনকে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। ফাইল ছবি
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বাবার মৃত্যু

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের বাবা মোহাম্মদ ফজলুল হক খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাজুল ইসলাম। তিনি তার বাবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।   অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ দেড় বছর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তার নেতৃত্বেই চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। বর্তমানে এসব মামলার বিচারকাজ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ চলমান রয়েছে।   তাজুল ইসলামের দায়িত্ব পালনকালে তিনটি মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। সবশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সরকার তাকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ প্রদান করে। তার বাবার মৃত্যুতে আইন অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার আরমান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ আবারও জেরার মুখে ব্যারিস্টার আরমান

টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানকে জেরা করা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চে এ জেরা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির শুরুতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন ও অন্য আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করবেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের নিয়োগ করা ডিফেন্স আইনজীবীরা তাদের জেরা সম্পন্ন করবেন।   গত ৮ মার্চ এই মামলায় প্রথম দফায় জেরা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন কর্নেল কেএম আজাদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো দাবি করেন, ব্যারিস্টার আরমানকে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করেনি; বরং তিনি প্রায় আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আরমানের লেখা ‘আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর’ বইয়ের তথ্যকেও অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তবে সাক্ষী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, সেগুলো সঠিক নয়।   এর আগে ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ব্যারিস্টার আরমান। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৬ সালে গুম হওয়ার পর দীর্ঘ আট বছর গোপন বন্দিত্বে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সেখানে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেন।   এ মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামিকে ঢাকার সেনানিবাসে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।   অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ আরও কয়েকজন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিচারকাজে প্রভাব ফেলবে না: চিফ প্রসিকিউটর

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরীণ কোনো কলহ বা মতভেদ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউশন টিম একটি পরিবারের মতো। একটি পরিবারে সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি আদালতের বিচারকাজে প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতদিন তিনি এই দায়িত্বে আছেন, ততদিন কোনো অভ্যন্তরীণ অভিযোগ বা কোন্দল বিচার প্রক্রিয়াকে স্পর্শ করতে পারবে না। নিজের নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমি আপস করতে শিখিনি। আমার মেয়াদে কোনো নির্দোষ মানুষ বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার হবে না—এটি আমি নিশ্চিত করছি। তবে কোনো অপরাধী পার পেয়ে যাবে, এমন চিন্তা করারও কোনো অবকাশ নেই। এটি আমার পক্ষ থেকে একবারে স্পষ্ট বার্তা।" উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন মো. আমিনুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘রাজসাক্ষী নাটক’ ও দুর্নীতির অভিযোগ: তাজুল ইসলামের বিদায়বেলায় তোলপাড়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিদায়ের দিনে প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরেই বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন, চিফ প্রসিকিউটরের পদটিকে ‘টাকা কামানোর হাতিয়ার’ বানিয়েছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিচার প্রক্রিয়ায় ‘রাজসাক্ষী নাটক’ এবং অর্থের বিনিময়ে আসামিদের ছাড় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।   প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী, আশুলিয়ার আলোচিত লাশ পোড়ানো মামলার প্রধান আসামির স্ত্রীর কাছ থেকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে ‘ভারী ব্যাগ’ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তিনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং পরবর্তীতে ওই আসামিকে রাজসাক্ষী করে মামলা থেকে অব্যাহতির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করা এবং রংপুরের আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামিদের ছাড় দেওয়ার পেছনেও বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সুলতান মাহমুদের মতে, ট্রাইব্যুনালের ৩-৪ জনের একটি অসাধু চক্র শুরু থেকেই এই ধরনের ‘সেটলিং বাণিজ্য’ পরিচালনা করে আসছিল।   এদিকে, এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা হিংসা থেকে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল এবং আদালতের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তার পাশে থাকা প্রসিকিউটর তামীম সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও পরে গণমাধ্যমের কাছে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রসিকিউশন টিমের এমন অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি এবং দুর্নীতির অভিযোগ দেশজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0