মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে যুদ্ধের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান। ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে আমিরাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে উল্লেখ করেন, এই হামলাগুলো নিছক কোনো ঘটনা নয় বরং এগুলো ‘আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ’ এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমিরাতকেই বহন করতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল অবকাঠামোগত বা ‘বস্তুগত’ ক্ষয়ক্ষতিই নয়, বরং এই হামলার ফলে সৃষ্ট ‘নৈতিক ক্ষতি’র জন্যও যথাযথ প্রতিদান চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাতে পারে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ-চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা Anwar Gargash এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Council on Foreign Relations আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা কেবল একটি দেশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। এর আগে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ফ্রান্স এই উদ্যোগে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে তাদের তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানালেও বেশ কয়েকটি দেশ তাতে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে। এমন নাজুক সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরি ফোনালাপ করেছেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সৌদ। তিনি কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় তারা ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে কাতারের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব প্রশমিত করতে এবং নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বড় শক্তিগুলো এখন একজোট হয়ে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে। আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরীগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক জরুরি সতর্কবার্তায় দুবাইয়ের জেবেল আলী, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরা বন্দরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, এসব বাণিজ্যিক ও বেসামরিক স্থাপনার ভেতরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন অবস্থানের কারণে এলাকাগুলো এখন তেহরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। সম্প্রতি ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে লুকিয়ে থাকা মার্কিন শত্রু এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ইরানের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ফলে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া প্রতিটি বন্দর ও ডক এখন ইরানি মিসাইলের নিশানায়। ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি দাবি করেছেন, বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের বেশ কিছু মার্কিন ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে: আল-ধাফরা ঘাঁটি (ইউএই): ধ্বংস করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম ও কন্ট্রোল টাওয়ার। আল-আদিরি ঘাঁটি (কুয়েত): গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড ও সমরাস্ত্রের গুদাম। শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি (বাহরাইন): একাধিক ড্রোন ও মিসাইল আঘাত হেনেছে। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইরানি হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি স্থাপনা বা ধ্বংসাবশেষের ছবি তোলা এবং শেয়ার করার বিষয়ে নাগরিকদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও কঠোরভাবে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আমিরাতে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এই সতর্কবার্তা প্রচার করে জানায়, স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে কোনো প্রজেক্টাইল বা হামলার ঘটনার ছবি শেয়ার করলে কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা এবং দেশ থেকে চিরতরে নির্বাসনের মতো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি তোলার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো রোধে আমিরাত সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই আমিরাতে অবস্থানরত বিদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাতের আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি। ইরানের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সেখানে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, এমকিউ-৯ ড্রোনের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ নজরদারি বিমানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সময়ে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতেও ভারী মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এছাড়া মার্কিন সামরিক বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যবহৃত দুটি রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় তারা কেবল সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ মনে করে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই যেকোনো বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। বিরোধ নিরসনে সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক উপায়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এক চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বিশাল মার্কিন ‘‘নৌবহর’’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সঙ্গী তিনটি ডেস্ট্রয়ার ইতিমধ্যে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে ওমান উপসাগরের সন্নিকটে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এবং ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে তারা সামরিক হস্তক্ষেপ এমনকি শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথেও হাঁটতে পারে। তবে ইউএই-র এই ঘোষণা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই অঞ্চলে সামরিক অপারেশনের জন্য আমিরাতের ভূখণ্ড ও লজিস্টিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিপরীতে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরণের আগ্রাসনের জবাবে তারা এমন এক ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাবে যা যুক্তরাষ্ট্র কল্পনাও করতে পারবে না। গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্ববাসী ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছে। এমতাবস্থায় ইউএই-র এই নিরপেক্ষ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস