গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় বুধবার রাত ৯ টার দিকে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড নামের কারখানার নিচ তলায় শুরু হওয়া আগুন দ্রুত তিন তলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রহরী ও আশপাশের মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। আগুনের খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও তিনটি ইউনিট সহ মোট আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, কারখানার ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। রাত ১:০৩ মিনিট পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আশপাশের লোকজনকে সতর্ক থাকার জন্য এবং নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ‘ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার নিচতলায় প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন ও কারখানার প্রহরীরা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বমোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। কারখানার নৈশপ্রহরী দীন ইসলাম জানান, বিকেলে কারখানা ছুটি হওয়ার পর তিনি রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব নেন। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং আগুন দেখতে পেয়ে অন্যদের খবর দেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা ৩৪ মিনিট) আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় একটি ভবনের সামনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘আ. সাহিদ সুপার ভিউ’ নামের একটি ভবনের সামনে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট আগুন দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের কয়েকটি কক্ষে আগুন লাগে। এতে তিনজন দগ্ধ হন। ঘটনার সময় ভবনটিতে বেশ কয়েকটি পরিবার অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মাহাবুল হোসেন রনি (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের পোড়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাহাবুল শুক্রবার রাতে তারাবিহর নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হন এবং আর বাড়ি ফেরেননি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহাবুল খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে পরিবারসহ ভবানীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পাশের একটি মসজিদে তারাবিহ পড়তে গিয়ে মাহাবুল বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে শনিবার সকালে স্থানীয়রা হোটেলের পেছনের ঝোপের মধ্যে তার পোড়া লাশ দেখতে পান। পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মাহাবুলের বাবা সোহাগ মিয়া জানিয়েছেন, তাদের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই এবং কে বা কারা তাঁর সন্তানকে হত্যা করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দুর্বৃত্তরা মাহাবুলকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গিয়ে রাস্তার সাথে প্রচণ্ড ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। এই ঘর্ষণ থেকেই স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও তারা দ্রুত নেমে যেতে সক্ষম হন। তবে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আহত হয়েছেন। ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার হিরন মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিয়ৎকাল যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুরের কাশিমপুরে উদ্বোধনের আগেই নবনির্মিত সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার দুদকের গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ধনঞ্জয়খালী এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন দুদক কর্মকর্তারা দেখেন, সড়ক নির্মাণে চরম গাফিলতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সামান্য আঘাতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে ধসে পড়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে সংশ্লিষ্ট রাস্তার নথিপত্র এবং প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নথিপত্র ও সরজমিন পরিদর্শন শেষে তদন্ত দল নিশ্চিত হয়েছে যে, রাস্তা নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এই অনিয়মের বিস্তারিত প্রতিবেদন খুব দ্রুতই কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই দিনে দুদক রাজধানীতে পৃথক আরও একটি অভিযান চালিয়েছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি জমি আত্মসাৎ ও তহবিল তছরুপের অভিযোগে বনফুল আদিবাসী ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এ তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাস্টের আয় অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগটি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা একটি বাসা থেকে ইয়াবা তৈরি করার ল্যাব ধ্বংস করেছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, বিভিন্ন কাঁচামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় ল্যাবের মালিক তোহিদুজ্জামান, যিনি শিমুল নামে পরিচিত,কে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, জব্দকৃত বড়িগুলো অ্যামফিটামিনযুক্ত। সূত্রে জানা গেছে, ক্রেতার ভান করে অভিযানকারী গোয়েন্দারা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার খলিলুল্লাহ রোডে তোহিদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় পৌঁছান। গোয়েন্দাদের কাছে তোহিদুজ্জামান প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। পরে তাকে আটক করে গোয়েন্দারা বাসা ও টেবিলের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং কাঁচামাল পরীক্ষা করেন। তোহিদুজ্জামানের শরীর তল্লাশি এবং ঘর তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশে গোয়েন্দারা এই অভিযান চালিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তোহিদুজ্জামান স্বীকার করেন, তিনি আগে গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট তৈরি করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চার মাস আগে তিনি ইয়াবা প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন। তিনি আয়ুর্বেদিক দোকানও খুলেছিলেন। উদ্ধারকৃত কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ১৫–২০ হাজার ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব। মেহেদী হাসান আরও জানান, তোহিদুজ্জামান ৫০০ ইয়াবা গুঁড়া করে রং ও অন্যান্য কেমিক্যাল মিশিয়ে পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। এই ইয়াবাগুলো তিনি গাজীপুর, ঢাকা ও সাভারে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতেন। গোয়েন্দারা পুরো চক্রের সন্ধান পেয়েছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সোম গ্রামের হাফেজা আক্তার মালা (৩৪) দুই সন্তানকে নিয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত দুই শিশু হলো তাবাসসুম আক্তার নুসরাত (৯) ও মারুফ (৫)। স্থানীয় ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মালার মেয়ের স্কুলে নিয়মিত যাতায়াতের সময় তিনি শিক্ষকদের জানিয়েছিলেন, তার দেবর সজিব হোসেন স্বামী ও শ্বশুরের সামনে প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। পারিবারিক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের কারণে মালা তার দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার দিন সকাল ৯টায় নুসরাতকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে মালা শিক্ষকদের সঙ্গে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পরে দুই সন্তানকে নিয়ে স্কুল থেকে বের হন। ঘণ্টা দেড়েক পর গাজীপুর মহানগরীর নয়ানীপাড়া রেল ক্রসিংয়ের কাছে তারা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় গেটম্যান এবং এলাকাবাসী চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারেননি। পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কারণে মা তার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রেলওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাইদ আহমেদ জানিয়েছেন, লাশ তিনটি থানায় আনা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালার পরিবারের দাবি, দেবর সজিব প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন মালার স্বামী উজ্জ্বল হোসেন ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন, তবে সজিব পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে পুলিশের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে। নিহতদের দাফন আগামীকাল আতুরী গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। মালার মৃত্যু ও দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি পুনরায় আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস