- প্রচ্ছদ
- Topic
গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পিস্তল প্রদর্শন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই পিস্তলসদৃশ বস্তু দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং যৌতুক দাবির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রিপন মিয়া ও শামীমা দম্পতির ছেলে। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ইমন তার টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভিডিওতে প্রদর্শিত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়; বরং পিস্তল আকৃতির একটি লাইটার। তদন্তে আরও জানা যায়, ইমন ওই লাইটারটি ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। এছাড়া একই বস্তু দেখিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার প্রদর্শন করে ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার প্রতিযোগিতা হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াড-এ এশিয়া পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে গাজীপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী সামিনা নূর তাজ। দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এ সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সামিনার এই অর্জনে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং এলাকাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের আফজাউদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলার মেস্তা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের মেয়ে সামিনা নূর তাজ ২০২৩ সালের ১ জুন আফজাউদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক-প্রাথমিক শাখার নার্সারিতে ভর্তি হয়। শুরু থেকেই সে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে সামিনাকে কয়েকটি বাছাই পর্ব অতিক্রম করতে হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার স্মার্ট ইনোভেশন স্কুল-এ অনুষ্ঠিত প্রথম বাছাই পর্বে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় সে। এরপর ২৩ মে নারায়ণগঞ্জের হেরিটেজ স্কুল-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় বাছাই পর্বে সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সামিনা। এই সাফল্যের সুবাদে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশীয় পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সে। এশিয়া পর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সামিনা নূর তাজ। এর মাধ্যমে সে ইতালিতে অনুষ্ঠিতব্য হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডের বিশ্বপর্যায়ের ইউনিভার্সাল রাউন্ড-এ অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজয়ী প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেবে বাংলাদেশের এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মো. জালিল উদ্দিন বলেন, সামিনা নূর তাজের এই অর্জন শুধু তাদের প্রতিষ্ঠানের নয়, গাজীপুরসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বপর্যায়েও সামিনা দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনবে। শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহিত করবে।
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার (২১ জুন) দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিল চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি দেখে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একটাও সামনে আইবি না, একদম মাইরা ফেলামু।’ ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং সংগঠনটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এতে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা, পুলিশকে হুমকি দেওয়া বা সহিংসতার উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকার-এর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (পয়লা বৈশাখ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্প ও কৃষিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় টঙ্গীর বিআরটি উড়ালসেতুর স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গাড়িবহরের গতি রোধ করে দাঁড়িয়ে পড়েন। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে নূরুল ইসলামের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, তাঁর বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বাবার মুক্তির দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয় এবং একই বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার আরও কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)। গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুরে চন্দ্রা এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত মদের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার চরশিহারী গ্রামের আশরাফুল আলম (২২) এবং একই থানার পাইকুড়া গ্রামের মো. শামীম মিয়া (২৪)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ১০৭ বোতল (৮০.২৫ লিটার) বিদেশি মদ, মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা-মেট্টো-ন-১৯-৯৩১৬) এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১, সিপিএসসি, গাজীপুর ক্যাম্পের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নেত্রকোণা থেকে একটি পিকআপে করে বিদেশি মদের বড় একটি চালান গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রা টু ডাইনকিনি রোডের মাথায় শাহা প্লাজার সামনে চেকপোস্ট বসায় র্যাব। দুপুর আনুমানিক ১২.৩০ ঘটিকায় সন্দেহভাজন পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি চালালে মদের বোতলগুলো উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১-এর ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া অফিসার ক্যাপ্টেন ইফতেখার আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।