সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পরিবার

নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার
নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সাত সদস্যের একটি পরিবার উঠেছিল তাদের নতুন বাড়িতে। ঘরের ভেতরে তখনও পড়ে ছিল স্থানান্তরের বাক্সপত্র, সবকিছু ঠিকমতো গুছিয়েও উঠতে পারেননি তারা। কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ওল্ড ট্রেইলস দাবানল থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় তাদের। পরে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায় সেই নতুন বাড়ি।    ঘটনাটি গত ১ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্পোকেন কাউন্টিতে। দিনটি পরিবারটির জন্য নতুন অধ্যায়ের শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাত সদস্যের এই মিশ্র পরিবার নতুন বাড়িতে জিনিসপত্র নিয়ে আসছিল এবং বাক্স খুলে ঘর গোছানোর কাজ করছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাছাকাছি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার। পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নতুন বাড়িতে একটি রাতও কাটানোর সুযোগ পায়নি পরিবারটি।    পরিবারটি প্রথমে ভেবেছিল আগুন হয়তো তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে শুরু করলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকলে তারা বুঝতে পারে, আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাড়ি ছাড়ে সবাই। শেষ পর্যন্ত সাতজনই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন - কিন্তু নতুন বাড়িটি আর রক্ষা করা যায়নি।    সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় - পরিবারটি তখনও নতুন বাড়িতে পুরোপুরি বসবাসই শুরু করতে পারেনি। যে বাক্সগুলো খুলে নতুন সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই আগুনের মধ্যে থেকে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িটিকে ঘিরে ছিল নতুন শুরুর আনন্দ, দাবানল সেটিকে মুহূর্তের মধ্যে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে।    পরিবারটির ঘটনা অবশ্য স্পোকেনের এই ভয়াবহ দুর্যোগের একটি ছোট অংশ মাত্র। ১ আগস্ট শক্তিশালী বাতাস ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্পোকেন এলাকায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং ৬০০টির বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয় বলে কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।    পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্পোকেন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। কাউন্টি কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহায়তা দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন এই দাবানলকে অঞ্চলটির মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। পরে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মেজর ক্রাইমস ডিটেকটিভ এবং ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তদন্তকারীরা অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ফারিনাচ্চি, বয়স ৩৭ বছর। তার বিরুদ্ধে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার শুরু করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন - এমন অভিযোগও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।    দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সফল অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের পর ১১ আগস্ট ওল্ড ট্রেইলস রোড ও অটাম লেন এলাকার বাকি সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, বিদ্যুৎ ও পুনরুদ্ধারকারী দল তখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।    আগুন থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন শুরু হয়েছে আরেক লড়াই - নতুন করে জীবন গড়ে তোলার লড়াই। পুড়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় ফিরে কেউ খুঁজছেন স্মৃতিচিহ্ন, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কোনো জিনিস। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন।    সাত সদস্যের এই পরিবারের জন্য ক্ষতিটা আরও নির্মম - কারণ তাদের নতুন শুরুটা শেষ হয়ে গেছে শুরু হওয়ার আগেই। নতুন বাড়িতে একটি রাত কাটানোরও সুযোগ হয়নি তাদের। তবে শেষ মুহূর্তে দ্রুত বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের সাত সদস্যই প্রাণে বেঁচে গেছেন।   মাত্র সাত ঘণ্টা আগে যে দরজা দিয়ে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন - কয়েক ঘণ্টা পর সেই একই বাড়ি ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে শুধু জীবন বাঁচাতে। এখন বাড়ি নেই, অনেক জিনিসপত্রও নেই - কিন্তু পরিবারের সাতজনই বেঁচে আছেন। ভয়াবহ সেই রাতের পর সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।    উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে।    সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও বাবাকে হারিয়েছে দুই কিশোর। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুই দুর্ঘটনাই ঘটেছে একই তারিখে, ২৭ জুলাই। এই ঘটনায় ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাই এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউসিএইচ (KWCH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ৪৬ বছর বয়সী গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়র কানসাসের ভ্যালি সেন্টারের উত্তরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেডগউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি এসইউভি গাড়ির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।   এই দুর্ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, কানসাস টার্নপাইকে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী এরিন মোরেনো। তিনি ভ্যালি সেন্টার স্কুল জেলার একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় মোরেনো দম্পতির ১৭ বছর বয়সী এক ছেলেও নিহত হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবার চার সদস্য থেকে নেমে এসেছে মাত্র দুই সদস্যে। বর্তমানে পরিবারের বেঁচে থাকা দুই ছেলে, যাদের বয়স ১১ ও ১৪ বছর, বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।   পরিবারটির সহায়তায় অনলাইনে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প বয়সেই এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া দুই শিশুর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার দুই ছেলে। এখন তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বাবা-মা দুজনকেই ছাড়াই বড় হতে হবে।   এই তহবিল থেকে গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের শেষকৃত্যের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দুই শিশুর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের ওপর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে এক বছর আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিল একটি মার্কিন পরিবার। নতুন দেশে কাটানো এক বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বলছে, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না, তবে জীবনের মান ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্পেনে বসবাস শুরু করেন ওই দম্পতি। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগে তারা কখনোই স্পেনে থাকেননি। তবু কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।   এক বছর পর নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা জানান, স্পেনে জীবনযাত্রার গতি তুলনামূলক ধীর এবং পরিবারকেন্দ্রিক। কাজের বাইরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং অবসর উপভোগ করার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিবর্তনের ফলে মানসিক চাপ কমেছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।   দম্পতির দুই সন্তানও নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। নতুন স্কুলে বন্ধু তৈরি করা এবং স্প্যানিশ ভাষা শেখার মাধ্যমে তারা নতুন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করেছে বলে পরিবারটি জানায়।   তবে সবকিছু যে সহজ ছিল, তা নয়। তারা বলেন, স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ না হওয়ায় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে শুরুতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এছাড়া গাড়িনির্ভর না হয়ে নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাড়ি নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন বাড়িতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকায় সেটিকে তারা নিজেদের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এ ছাড়া নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা মনে করেন, জীবনের গতি কমিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু এই পরিবারই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মচাপ এবং উন্নত কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের প্রবণতা কিছু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বাড়ছে। বিশেষ করে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশের কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
চতুর্থ সন্তানের জন্মের খবর জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘরে এলো চতুর্থ সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।    জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।    অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।    চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জ্যারেড কুশনার
ইভাঙ্কা-জ্যারেডের বিয়ে ভাঙতে চেয়েছিলেন খোদ ট্রাম্প! বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০০৯ সালে ইভাঙ্কা ও জ্যারেডের রাজকীয় বিয়ের আগে তা ভেঙে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৯ সালে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে ইভাঙ্কা ও জ্যারেড কুশনারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৫শ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই জমকালো বিয়ের নেপথ্যে ছিল এক দীর্ঘ পারিবারিক টানাপোড়েন। জানা গেছে, জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। বিশেষ করে জ্যারেডের বাবা চার্লস কুশনারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র আপত্তি ছিল। ক্রিস ক্রিস্টির বিস্ফোরক তথ্য: নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর এবং ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ক্রিস ক্রিস্টি দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাকে অনুরোধ করেছিলেন কুশনার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো গোপন বা আপত্তিকর তথ্য (Dirt) খুঁজে বের করতে। উদ্দেশ্য ছিল, সেই তথ্য ব্যবহার করে ইভাঙ্কাকে বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করা। সেই সময় ক্রিস্টি প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি নিজেই চার্লস কুশনারের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অন্যান্য মামলার তদন্ত করেছিলেন। ধর্মান্তর নিয়ে অসন্তুষ্টি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার একজন অর্থোডক্স ইহুদি পরিবারের সন্তান। তাকে বিয়ের জন্য ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে হয়েছিল। ট্রাম্প এই বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি। সম্প্রতি ইসরায়েলের নেসেটে দেওয়া এক ভাষণেও ট্রাম্প কৌতুকচ্ছলে উল্লেখ করেন যে, ইভাঙ্কার ইহুদি ধর্ম গ্রহণ তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। বিয়ের পর ইভাঙ্কা ও জ্যারেড দুজনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে এই দম্পতির প্রভাব অনস্বীকার্য। শুরুর দিকে ট্রাম্পের বিরোধিতা থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে তারা তিন সন্তান নিয়ে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন। ট্রাম্প ও কুশনার পরিবারের মধ্যকার এই পুরনো দ্বন্দ্বের খবরটি সামনে আসার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০