সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় লাভবান হবেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলেও বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনে চলে যাবেন কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করেন, তাদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর খরচ বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। কিন্তু এই খরচ বেশি হলেও অনেক অভিভাবকের পক্ষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। কারণ চাকরির বেতন ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য কর্মসংস্থান সুবিধা পরিবারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের আওতায় যোগ্য পরিবারকে প্রতি সন্তান বছরে ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি দম্পতির একজনকে নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে হবে এবং অন্যজনকে সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদদের একজন রেবেকা গ্রুন ফন ইয়োল্ক নিউজউইককে বলেন, এই ধরনের সহায়তা জার্মানিতে আগে চালু থাকা একটি ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের অর্থ অনেক সময় এমন পরিবারই বেশি পায়, যারা কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার ব্যবহার করত না। অর্থাৎ যারা আগে থেকেই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন বা ইতোমধ্যে তা করছিলেন, তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারেন।   মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর পরিশোধের পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।   অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধু একজন কর্মজীবী অভিভাবকের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে সব পরিবারের জন্য লাভজনক হবে না। কারণ ৯ হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার পরও চাকরি থেকে পাওয়া আয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।   তবে একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।   তিনি উদাহরণ হিসেবে মিসিসিপির একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা ব্যয় হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার ক্ষেত্রে কর সাশ্রয় এবং তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা মিলিয়ে পরিবারের হাতে থাকা অর্থ বাড়তে পারে।   বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও শিশু পরিচর্যার পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭.৬৮ ইউরো এবং অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩.০৭ ইউরো দেওয়া হয়।   হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে অভিভাবকেরা সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট দেওয়া হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।   তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অর্থ আরও বাড়ানো উচিত এবং যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদেরও বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।   অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকানই প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো বলেছেন, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।   প্রস্তাবটি নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে শিশু পরিচর্যার বিদ্যমান সরকারি তহবিল নিয়ে। সমালোচকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার ব্যয়ে সহায়তা করে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তবে একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। আবার সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসাও সবসময় সহজ হয় না।   স্বাস্থ্যবিমাও অনেক পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারে একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, সেটি নির্ধারণ করতে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।   ট্রাম্প প্রশাসন মে ২০২৬-এ পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছিল।   তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কতসংখ্যক পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান।
জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, চার দশক পর জিয়া পরিবারের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে ভাষণ দেবেন তিনি।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। এই সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেবেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কথা রয়েছে।   এবারের ভাষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের এবারের জাতিসংঘ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ধারাবাহিকতার শুরু ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছিল। শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।   এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও কয়েকবার বক্তব্য দেন।   এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারকসভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায় তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্য রয়েছে। বাসসের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন।   সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণ থেকে তারেক রহমানের নির্ধারিত ২০২৬ সালের ভাষণ পর্যন্ত ব্যবধান ৪৬ বছর। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়ও থাকবে। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।   বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।   ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ভাষণটি তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম উপস্থিতি। একই সঙ্গে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর এই ভাষণ চার দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সন্তান পালনে খরচ বাড়ছে, এক অভিভাবকের বাড়িতে থাকা নিয়ে নতুন গবেষণা
সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম। কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার। তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার
নতুন বাড়িতে উঠেছিলেন মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে, দাবানলে সব হারাল ৭ সদস্যের পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সাত সদস্যের একটি পরিবার উঠেছিল তাদের নতুন বাড়িতে। ঘরের ভেতরে তখনও পড়ে ছিল স্থানান্তরের বাক্সপত্র, সবকিছু ঠিকমতো গুছিয়েও উঠতে পারেননি তারা। কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ওল্ড ট্রেইলস দাবানল থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় তাদের। পরে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায় সেই নতুন বাড়ি।    ঘটনাটি গত ১ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্পোকেন কাউন্টিতে। দিনটি পরিবারটির জন্য নতুন অধ্যায়ের শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাত সদস্যের এই মিশ্র পরিবার নতুন বাড়িতে জিনিসপত্র নিয়ে আসছিল এবং বাক্স খুলে ঘর গোছানোর কাজ করছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাছাকাছি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার। পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নতুন বাড়িতে একটি রাতও কাটানোর সুযোগ পায়নি পরিবারটি।    পরিবারটি প্রথমে ভেবেছিল আগুন হয়তো তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে শুরু করলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকলে তারা বুঝতে পারে, আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাড়ি ছাড়ে সবাই। শেষ পর্যন্ত সাতজনই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন - কিন্তু নতুন বাড়িটি আর রক্ষা করা যায়নি।    সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় - পরিবারটি তখনও নতুন বাড়িতে পুরোপুরি বসবাসই শুরু করতে পারেনি। যে বাক্সগুলো খুলে নতুন সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই আগুনের মধ্যে থেকে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িটিকে ঘিরে ছিল নতুন শুরুর আনন্দ, দাবানল সেটিকে মুহূর্তের মধ্যে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে।    পরিবারটির ঘটনা অবশ্য স্পোকেনের এই ভয়াবহ দুর্যোগের একটি ছোট অংশ মাত্র। ১ আগস্ট শক্তিশালী বাতাস ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্পোকেন এলাকায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং ৬০০টির বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয় বলে কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।    পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্পোকেন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। কাউন্টি কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহায়তা দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন এই দাবানলকে অঞ্চলটির মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।    ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। পরে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মেজর ক্রাইমস ডিটেকটিভ এবং ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তদন্তকারীরা অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ফারিনাচ্চি, বয়স ৩৭ বছর। তার বিরুদ্ধে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার শুরু করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন - এমন অভিযোগও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।    দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সফল অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের পর ১১ আগস্ট ওল্ড ট্রেইলস রোড ও অটাম লেন এলাকার বাকি সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, বিদ্যুৎ ও পুনরুদ্ধারকারী দল তখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।    আগুন থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন শুরু হয়েছে আরেক লড়াই - নতুন করে জীবন গড়ে তোলার লড়াই। পুড়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় ফিরে কেউ খুঁজছেন স্মৃতিচিহ্ন, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কোনো জিনিস। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন।    সাত সদস্যের এই পরিবারের জন্য ক্ষতিটা আরও নির্মম - কারণ তাদের নতুন শুরুটা শেষ হয়ে গেছে শুরু হওয়ার আগেই। নতুন বাড়িতে একটি রাত কাটানোরও সুযোগ হয়নি তাদের। তবে শেষ মুহূর্তে দ্রুত বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের সাত সদস্যই প্রাণে বেঁচে গেছেন।   মাত্র সাত ঘণ্টা আগে যে দরজা দিয়ে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন - কয়েক ঘণ্টা পর সেই একই বাড়ি ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে শুধু জীবন বাঁচাতে। এখন বাড়ি নেই, অনেক জিনিসপত্রও নেই - কিন্তু পরিবারের সাতজনই বেঁচে আছেন। ভয়াবহ সেই রাতের পর সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া
অস্ট্রেলিয়ায় আয়ের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে বাড়িভাড়া, কম আয়ের পরিবার সবচেয়ে চাপে

অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।    উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে।    সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও বাবাকে হারিয়েছে দুই কিশোর। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুই দুর্ঘটনাই ঘটেছে একই তারিখে, ২৭ জুলাই। এই ঘটনায় ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাই এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউসিএইচ (KWCH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ৪৬ বছর বয়সী গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়র কানসাসের ভ্যালি সেন্টারের উত্তরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেডগউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি এসইউভি গাড়ির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।   এই দুর্ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, কানসাস টার্নপাইকে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী এরিন মোরেনো। তিনি ভ্যালি সেন্টার স্কুল জেলার একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় মোরেনো দম্পতির ১৭ বছর বয়সী এক ছেলেও নিহত হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবার চার সদস্য থেকে নেমে এসেছে মাত্র দুই সদস্যে। বর্তমানে পরিবারের বেঁচে থাকা দুই ছেলে, যাদের বয়স ১১ ও ১৪ বছর, বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।   পরিবারটির সহায়তায় অনলাইনে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প বয়সেই এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া দুই শিশুর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার দুই ছেলে। এখন তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বাবা-মা দুজনকেই ছাড়াই বড় হতে হবে।   এই তহবিল থেকে গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের শেষকৃত্যের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দুই শিশুর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের ওপর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত কর্মজীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে এক বছর আগে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিল একটি মার্কিন পরিবার। নতুন দেশে কাটানো এক বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বলছে, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না, তবে জীবনের মান ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে স্পেনে বসবাস শুরু করেন ওই দম্পতি। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের আগে তারা কখনোই স্পেনে থাকেননি। তবু কর্মব্যস্ত জীবন থেকে বেরিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিবেশে পরিবারকে সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।   এক বছর পর নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা জানান, স্পেনে জীবনযাত্রার গতি তুলনামূলক ধীর এবং পরিবারকেন্দ্রিক। কাজের বাইরে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং অবসর উপভোগ করার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের ভাষায়, এই পরিবর্তনের ফলে মানসিক চাপ কমেছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।   দম্পতির দুই সন্তানও নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। নতুন স্কুলে বন্ধু তৈরি করা এবং স্প্যানিশ ভাষা শেখার মাধ্যমে তারা নতুন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করেছে বলে পরিবারটি জানায়।   তবে সবকিছু যে সহজ ছিল, তা নয়। তারা বলেন, স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ না হওয়ায় সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে শুরুতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এছাড়া গাড়িনির্ভর না হয়ে নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাড়ি নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন বাড়িতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকায় সেটিকে তারা নিজেদের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এ ছাড়া নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। বরং তারা মনে করেন, জীবনের গতি কমিয়ে পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু এই পরিবারই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মচাপ এবং উন্নত কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের প্রবণতা কিছু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বাড়ছে। বিশেষ করে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির মতো দেশগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশের কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
চতুর্থ সন্তানের জন্মের খবর জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘরে এলো চতুর্থ সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।    জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।    অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।    চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জ্যারেড কুশনার
ইভাঙ্কা-জ্যারেডের বিয়ে ভাঙতে চেয়েছিলেন খোদ ট্রাম্প! বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০০৯ সালে ইভাঙ্কা ও জ্যারেডের রাজকীয় বিয়ের আগে তা ভেঙে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৯ সালে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে ইভাঙ্কা ও জ্যারেড কুশনারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৫শ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই জমকালো বিয়ের নেপথ্যে ছিল এক দীর্ঘ পারিবারিক টানাপোড়েন। জানা গেছে, জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। বিশেষ করে জ্যারেডের বাবা চার্লস কুশনারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র আপত্তি ছিল। ক্রিস ক্রিস্টির বিস্ফোরক তথ্য: নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর এবং ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ক্রিস ক্রিস্টি দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাকে অনুরোধ করেছিলেন কুশনার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো গোপন বা আপত্তিকর তথ্য (Dirt) খুঁজে বের করতে। উদ্দেশ্য ছিল, সেই তথ্য ব্যবহার করে ইভাঙ্কাকে বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করা। সেই সময় ক্রিস্টি প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি নিজেই চার্লস কুশনারের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অন্যান্য মামলার তদন্ত করেছিলেন। ধর্মান্তর নিয়ে অসন্তুষ্টি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার একজন অর্থোডক্স ইহুদি পরিবারের সন্তান। তাকে বিয়ের জন্য ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে হয়েছিল। ট্রাম্প এই বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি। সম্প্রতি ইসরায়েলের নেসেটে দেওয়া এক ভাষণেও ট্রাম্প কৌতুকচ্ছলে উল্লেখ করেন যে, ইভাঙ্কার ইহুদি ধর্ম গ্রহণ তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। বিয়ের পর ইভাঙ্কা ও জ্যারেড দুজনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে এই দম্পতির প্রভাব অনস্বীকার্য। শুরুর দিকে ট্রাম্পের বিরোধিতা থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে তারা তিন সন্তান নিয়ে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন। ট্রাম্প ও কুশনার পরিবারের মধ্যকার এই পুরনো দ্বন্দ্বের খবরটি সামনে আসার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০