যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।
জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মার্কিন উপস্থাপক, লেখক ও জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সঞ্চালক বানি জানিয়েছেন, সন্তান নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলা বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার (আইভিএফ) কঠিন প্রক্রিয়া তাকে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তবু সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাতৃত্বের স্বপ্ন ছাড়েননি। সম্প্রতি নিজের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বানি বলেন, গত দেড় বছরের চিকিৎসা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ চিকিৎসা তাকে শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিক ও আত্মিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। বানি জানান, সন্তান নেওয়ার আশায় তিনি ও তার সাবেক স্বামী, মার্কিন সংগীতশিল্পী জেলি রোল, একাধিকবার চিকিৎসা নেন। কিন্তু কয়েক দফা চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই সময়ে তারা চারটি ভ্রূণ হারান এবং তিনবার ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। এমনকি যমজ সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপই ছিল অত্যন্ত কঠিন। বারবার আশা জাগা এবং পরে তা ভেঙে যাওয়ার কষ্ট তাদের দুজনকেই গভীরভাবে আঘাত করেছে। বানি আরও জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার সাবেক স্বামীকেও বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। চিকিৎসার সময় হরমোনজনিত কারণে তার ওজন বেড়ে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে কটূক্তি করেন। তবে পরে তিনি বলেন, যারা এমন মন্তব্য করেছেন, তাদের অনেকেই বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার শারীরিক ও মানসিক প্রভাব সম্পর্কে জানেন না। সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেও বানি ও জেলি রোল জানিয়েছেন, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা তারা পুরোপুরি বাতিল করেননি। ভবিষ্যতে গর্ভধারণে অন্য নারীর সহায়তা (সারোগেসি) নিয়ে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা এখনও বিবেচনায় রয়েছে। বানি বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করেন একদিন মা হবেন। সব কষ্ট, ব্যর্থতা ও মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও মাতৃত্বের স্বপ্ন তাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়। তার ভাষায়, একটি শিশুর চোখ দিয়ে নতুন করে পৃথিবীকে দেখার স্বপ্নই তাকে বারবার নতুন করে লড়াই করার সাহস দেয়।
কানাডার অন্টারিও অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল আরও বিস্তৃত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর বা ১৮ লাখ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। বর্তমানে প্রদেশটিতে প্রায় ১৯০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে উত্তর-পশ্চিম অন্টারিও থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পৌঁছেছে। উইসকনসিন, আইওয়া, মিসৌরি, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও এবং মিশিগানের কিছু এলাকায় বায়ুর মান কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কানাডার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কানাডাকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড। তিনি বলেন, কানাডা দাবানল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে। তার ভাষ্য, সংকটের সময়ে একে অপরকে দোষারোপ না করে সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ডাগ ফোর্ড আরও জানান, দাবানল নিয়ন্ত্রণে অন্টারিওতে হাজার হাজার অগ্নিনির্বাপক কর্মী কাজ করছেন। আগুন মোকাবিলায় বিমান, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। কানাডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ৫ হাজার ৩০০-এর বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী দাবানল নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছেন। তবে শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের কারণে অনেক এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তর আমেরিকায় দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। দীর্ঘ সময়ের খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। সর্বশেষ জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং উত্তর ইরাকে আরেক সেনার নিহত হওয়ার ঘটনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিহত দুই সেনা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। তারা জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। হামলায় আরও কয়েকজন সেনা আহত হলেও চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর পরদিন উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয় এবং আরেকজন আহত হন। এ ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক প্রাণহানির সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনাগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। সংঘাত শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েতে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় ছয় সেনা নিহত হন। পরে সৌদি আরবে হামলায় আহত এক সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় সেনার মৃত্যু হয়। জুলাইয়ের শুরুতে আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০এস সিহক হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনায় এক নৌবাহিনীর পাইলট নিহত হন। এরপর জর্ডানে দুই সেনা এবং উত্তর ইরাকে আরও একজন সেনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। আহতের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ বিস্ফোরণের অভিঘাতে সৃষ্ট ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে (টিবিআই) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একাধিক সামরিক স্থাপনা, বিমান ও হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে শুধু সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র নয়, মধ্যপ্রাচজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশপথে পরিচালিত হামলার কারণে যুদ্ধের মূল ফ্রন্টের বাইরেও মার্কিন সেনারা প্রাণঘাতী আক্রমণের মুখে পড়ছেন।