সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

প্রযুক্তি

১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা
১ লাখ ডলারের বেশি বেতন! যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে যে ১৩ চাকরির চাহিদা, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ১ লাখ ডলারের বেশি বার্ষিক বেতন পাওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি পেশায় কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক পেশা রয়েছে।   শ্রম বিভাগের সর্বশেষ কর্মসংস্থান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কর্মসংস্থান বাড়বে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে, তালিকার সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশা নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরি বাড়তে পারে ৪১ শতাংশ।   ২০২৫ সালে নার্স প্র্যাকটিশনারদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ ডলার। এই পেশায় আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেটা সায়েন্টিস্ট। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান বাড়তে পারে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২৩০ ডলার।   তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের চাকরি বাড়তে পারে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ পেশায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস রয়েছে এবং ২০২৫ সালে মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৬০ ডলার।   তালিকায় কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের চাকরি বাড়ার হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পেশায় ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ডলার।   ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্টদের চাকরি বাড়তে পারে ২১ দশমিক ১ শতাংশ। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮০ ডলার। একই সময়ে ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২১ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার।   এ ছাড়া পোস্টসেকেন্ডারি হেলথ স্পেশালটি শিক্ষকদের চাকরি ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজারদের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।   তালিকার বাকি পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সায়েন্টিস্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার, বায়োকেমিস্ট ও বায়োফিজিসিস্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট। এসব পেশার ক্ষেত্রেও ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় হেলথ কেয়ার ও সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স খাতে কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা দেশটিতে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ।   অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারও চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আনছে। ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাগুলো উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই নতুন পূর্বাভাসে ৮০০টির বেশি পেশা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের হিসাব ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এবং বেতনের সর্বশেষ তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে।   জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন।   সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়।   আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা।   জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়।   দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য।   আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।   গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি।   জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে।   দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।   এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে।   তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন।   এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।   তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি।   জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।   ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে।   ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।   তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে।   শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে।   তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন।   হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।   তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত।   গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত।   এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রচলিত কাঠামো বদলে ৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম সম্পূর্ণ নতুন নকশার উড়োজাহাজ তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা

৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম একটি বিশাল যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নতুন নকশা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। প্রচলিত টিউব আকৃতির ফিউজলাজ ও আলাদা ডানা ব্যবস্থার বদলে প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটিতে পুরো কাঠামোকেই ডানার মতো করে তৈরি করার ধারণা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।    চীনের চায়না অ্যারোডায়নামিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা সিএআরডিসির গবেষকেরা এই নকশা নিয়ে কাজ করছেন। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার প্রায় ৮৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪৩ মিটার। এর সম্ভাব্য ক্রুজিং গতি ধরা হয়েছে ম্যাক ০.৮। ডানার বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিটের তুলনায় প্রায় ১.৬ গুণ।    এই ধরনের নকশাকে সাধারণভাবে ফ্লাইং উইং বা ব্লেন্ডেড উইং বডি বলা হয়। প্রচলিত যাত্রীবাহী বিমানে ফিউজলাজ, ডানা ও লেজ আলাদা কাঠামো হিসেবে থাকে। কিন্তু ফ্লাইং উইং নকশায় এগুলোকে অনেকটাই একীভূত করে একটি বড় লিফটিং কাঠামো তৈরি করা হয়। গবেষকদের লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে বায়ুরোধ কমিয়ে উড়োজাহাজের অ্যারোডায়নামিক দক্ষতা বাড়ানো এবং জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।    প্রকল্পটির পরীক্ষা অবশ্য পূর্ণ আকারের উড়োজাহাজে নয়। সিএআরডিসি ১:৫২ স্কেলে স্টেইনলেস স্টিলের একটি মডেল তৈরি করেছে। মডেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার এবং ডানার বিস্তার ১.৬ মিটার। এটি সিএআরডিসির ২.৪ মিটার ট্রান্সসনিক উইন্ড টানেলে ম্যাক ০.৪ থেকে ০.৮ গতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।    পরীক্ষায় বায়ুপ্রবাহ, অ্যারোডায়নামিক কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত বিকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক ০.৭-এর নিচে মডেলটির লিফট-টু-ড্র্যাগ অনুপাত প্রায় ২০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ম্যাক ০.৮ গতিতে এই অনুপাত ছিল প্রায় ১৭.৬।    তবে এই প্রকল্পকে এখনই ভবিষ্যতের কোনো যাত্রীবাহী বিমানের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পূর্ণ আকারের বিমান এখনো তৈরি হয়নি এবং কবে এটি বাস্তবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। আপাতত উইন্ড টানেল পরীক্ষা ও অ্যারোডায়নামিক গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রকল্পটি।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিজের ছেলের জন্য কৃত্রিম হাত বানানোর পর কিয়েরার জন্যও ৩ডি প্রিন্টারে হাত তৈরি করেন ক্যালাম মিলার। ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত

নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।   কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে।   নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।   শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে।   তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা।   একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে।   কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে প্যাসিফিক বিটল ককরোচ। ছবি: সংগৃহীত
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড

খাবারের নতুন ও টেকসই উৎস খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে এমন এক উপাদান, যা শুনলেই অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। প্যাসিফিক বিটল ককরোচ নামে পরিচিত এক ধরনের তেলাপোকার শরীর থেকে তৈরি দুধের মতো পুষ্টিকর পদার্থে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। তবে এটি এখনো মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।    এই তেলাপোকার বৈজ্ঞানিক নাম ডিপ্লোপ্টেরা পাংকটাটা। অন্য অনেক তেলাপোকার মতো ডিম পাড়ার বদলে এরা জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয়। মায়ের শরীরে বেড়ে ওঠা ভ্রূণকে পুষ্টি দিতে বিশেষ ধরনের দুধসদৃশ তরল নিঃসৃত হয়, যা পরে ভ্রূণের অন্ত্রে প্রোটিন ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় এসব ক্রিস্টালে উচ্চমাত্রার পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।    গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদার্থে লিপোক্যালিনজাতীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এসব প্রোটিন ভ্রূণের বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এর নির্দিষ্ট প্রোটিন বা পুষ্টি উপাদান খাদ্য প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।    তবে এটিকে এখনই ‘সুপারফুড’ বা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। গবেষণায় এর পুষ্টিগুণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের নিরাপত্তা, উৎপাদন পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনাতেও ভবিষ্যৎ গবেষণায় এর সঠিক গঠন ও মানুষের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল।    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ব্যাপক পরিমাণে এই উপাদান সংগ্রহ করা। একটি তেলাপোকা থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা সরাসরি তেলাপোকা থেকে সংগ্রহের বদলে এর পুষ্টিকর প্রোটিনের গঠন ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছেন।   ফলে তেলাপোকার ‘দুধ’ এখনো মানুষের দৈনন্দিন খাবার নয়। তবে এর অস্বাভাবিক পুষ্টি কাঠামো ভবিষ্যতের খাদ্য প্রযুক্তি ও বিকল্প পুষ্টির উৎস নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ছাড়াই ঘরের ভেতরের মানুষের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ড শনাক্ত করছে ওয়াই-ফাই সংবেদন প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার

নজরদারির ধারণা এত দিন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা স্মার্টফোনের মতো দৃশ্যমান প্রযুক্তির সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে এখন ঘরের সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটারও মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করছে   প্রযুক্তি নিয়ে লেখক শ্রীজিথ শ্রীধরনের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও এই পরিবর্তনকে ভবিষ্যৎ নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াই-ফাই রাউটার মূলত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার যন্ত্র। কিন্তু রাউটার থেকে ছড়িয়ে পড়া বেতার সংকেত ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও মানুষের শরীরে প্রতিফলিত হয়ে আবার বিভিন্ন ডিভাইসে পৌঁছায়।   মানুষের চলাফেরা বা অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে এসব সংকেতের বৈশিষ্ট্যও বদলে যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঘরের ভেতরে মানুষের উপস্থিতি, নড়াচড়া কিংবা নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে দেয়ালের আড়ালেও মানুষের নড়াচড়া শনাক্ত করার সক্ষমতা বহু বছর ধরেই প্রদর্শিত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ধরনের নজরদারির জন্য সবসময় ক্যামেরা বা মানুষের শরীরে কোনো যন্ত্র বহন করা প্রয়োজন হয় না।   ওয়াই-ফাইয়ের ‘চ্যানেল স্টেট ইনফরমেশন’ বা সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের নড়াচড়া, কার্যকলাপ এবং পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য বের করা সম্ভব। ২০২৬ সালের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, ওয়াই-ফাইভিত্তিক এই প্রযুক্তি ডিভাইস ছাড়াই মানুষের কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং একই সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কেবল গবেষণাগারের প্রযুক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কমকাস্ট ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক্সফিনিটি রাউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়াইফাই মোশন’ নামে একটি সুবিধা চালু করেছে। এতে অতিরিক্ত ক্যামেরা বা সেন্সর ছাড়াই ঘরের ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে নড়াচড়া শনাক্ত করা যায়।   ব্যবহারকারী চাইলে এই সুবিধা চালু করতে পারেন এবং এটি বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।কমকাস্টের প্রযুক্তিতে ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ড করা হয় না বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে রাউটার ও সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে ওয়াই-ফাই সংকেতের পরিবর্তন থেকে ঘরে নড়াচড়া শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে প্রযুক্তিটি প্রচলিত ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারির তুলনায় কম দৃশ্যমান হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানেই এআইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ ওয়াই-ফাই সংকেত থেকে মানুষের আচরণের ধরন আলাদা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হলেও মেশিন-লার্নিং ব্যবস্থা একই ধরনের সংকেতের পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু ‘কেউ ঘরে আছে কি না’ তা নয়, বরং কখন মানুষ চলাফেরা করছে, কোন ঘরে বেশি সক্রিয়তা রয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের আচরণে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় ওয়াই-ফাই সংকেত ব্যবহার করে মানব চলাচল, অঙ্গভঙ্গি এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো শারীরিক গতিবিধি শনাক্ত করার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।   তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষের ঘরে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা শনাক্ত করা, বাড়ির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট-হোম ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, অনেক ক্ষেত্রে নতুন ক্যামেরা বা আলাদা সেন্সর স্থাপন না করেই বিদ্যমান নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করা যায়।   কিন্তু একই প্রযুক্তি অপব্যবহার হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। কোনো ব্যক্তির স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তাঁর ঘরের ভেতরের চলাফেরা বা আচরণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট-হোমে একাধিক ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় একটি দুর্বল ডিভাইস পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ৫৬টি বাণিজ্যিক স্মার্ট-হোম যন্ত্রের ব্যবহারকারী-অ্যাক্সেস ভাগাভাগির ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নয় ধরনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত অনুমতি নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশাধিকার বাতিল করতে না পারা, অতিরিক্ত অনুমতি পাওয়া এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের মতো সমস্যাও রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের নজরদারি দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরা থাকলে মানুষ সাধারণত বুঝতে পারে যে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ওয়াই-ফাই সংকেত দিয়ে কোনো ধরনের সংবেদন করা হলে ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা করে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রযুক্তিবিদদের কাছে স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং তথ্য সংরক্ষণের সীমা নির্ধারণ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকেরা ইতোমধ্যে ওয়াই-ফাইভিত্তিক সংবেদন প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। ২০২৬ সালের গবেষণায় ব্যক্তির পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের অনিচ্ছাকৃত প্রকাশ কমানোর জন্য গোপনীয়তা-সুরক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের স্মার্ট-হোম হয়তো শুধু এমন একটি বাড়ি হবে না যেখানে রাউটার ইন্টারনেট সরবরাহ করে, বাতি নিজে থেকে জ্বলে এবং দরজা মোবাইল দিয়ে খোলা যায়। একই নেটওয়ার্ক মানুষের উপস্থিতি ও আচরণ সম্পর্কেও তথ্য দিতে সক্ষম হতে পারে।   এই প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও, ব্যক্তিগত জীবনের অদৃশ্য নজরদারি ঠেকাতে শক্তিশালী গোপনীয়তা নীতি, স্পষ্ট সম্মতি এবং ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
১৩ বছর বয়সী জ্যক ওয়াটার্স টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম করে ২১ মাসের এক শিশুর জন্য এই বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ারটি তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রীষ্মের ছুটিতে টানা ৩০০ ঘণ্টা পরিশ্রম, প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার বানিয়ে প্রশংসায় ১৩ বছরের কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রযুক্তির প্রতি তার ভালোবাসা এবং মানুষের উপকার করার মানসিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুরা যখন খেলাধুলা বা বিনোদনে ব্যস্ত, জ্যক ওয়াটার্স নামের এই কিশোর তখন টানা ৩০০ ঘণ্টা ব্যয় করেছে এক মহৎ কাজে। ২১ মাস বয়সী এক শিশুর জন্য সে নিজ হাতে নকশা করে তৈরি করেছে একটি কাস্টম থ্রিডি প্রিন্টেড হুইলচেয়ার। তার এই মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যক ওয়াটার্স প্রথম থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের জগতের সাথে পরিচিত হয় ইউটিউবের একটি ভিডিও দেখে। এরপরই সে সিদ্ধান্ত নেয়, নিজের এই নতুন আগ্রহকে কোনো অর্থবহ ও ভালো কাজে লাগাবে। সেই ভাবনা থেকেই গ্রীষ্মের লম্বা ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই বিশেষ প্রজেক্ট হাতে নেয় জ্যক।   নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে জ্যক এবিসি ৪-কে জানায়, “এই কাজটি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুটি জিনিসকে এক করেছে—একটি হলো থ্রিডি প্রিন্টিং, আর অন্যটি হলো অসহায় মানুষের সাহায্য করা। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটাই করা উচিত!”   সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হুইলচেয়ারটির নকশা করা, প্রিন্ট করা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা এবং সবশেষে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে প্রায় ৩০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে জ্যক। এর মধ্যে যন্ত্রাংশগুলো জোড়া লাগানোর কাজটিই তার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছে সে। সম্পূর্ণ হুইলচেয়ারটি ২১ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।   জ্যক এই পুরো ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে 'মেকগুড' (MakeGood) নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায়। সংস্থাটি প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কাস্টমাইজড সহায়ক যন্ত্রপাতি তৈরি করে থাকে। যাদের এসব যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, সংস্থাটি তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তা সরবরাহ করে। 'সহায়ক প্রযুক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত' এই নীতিতে বিশ্বাসী মেকগুড এমন কিছু নকশা তৈরি করে, যা জ্যকের মতো স্থানীয় নির্মাতারা বিনামূল্যে ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন।   মেকগুড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নোয়াম প্ল্যাট জ্যকের প্রশংসা করে বলেন, “আমি জ্যকের মতো আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবক নির্মাতাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজেদের সময় ও সম্পদ ব্যয় করছেন। 'টডলার মোবিলিটি ট্রেইনার' নামের এই প্রজেক্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে এবং নির্মাতা ও পরিবারগুলোকে এক সুতোয় গাঁথছে, তা দেখে আমরা মেকগুড পরিবার সত্যিই অনেক রোমাঞ্চিত।”   তিনি আরও বলেন, “এই হুইলচেয়ারটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে যে কেউ সহজেই এটি তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই আমরা জ্যকের মতো এমন বিস্ময়কর গল্প দেখতে পাচ্ছি। নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সত্যিকারের হিরো হওয়ার এক দারুণ সুযোগ।”   হুইলচেয়ারটিতে একটি সহজে খোলা যায় এমন কাপ হোল্ডার এবং ট্রে টেবিল যুক্ত করা হয়েছে। এর পেছনের অংশে ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও রাখা হয়েছে। হুইলচেয়ারটির সবচেয়ে দারুণ দিক হলো এর ফুটরেস্ট (পা রাখার জায়গা) এবং হেডরেস্ট (মাথা রাখার জায়গা) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা সমন্বয় করা যাবে। ফলে শিশুটি বড় হলেও এটি ব্যবহার করতে পারবে। যেহেতু শিশুটির প্রিয় রং গোলাপি, তাই জ্যক হুইলচেয়ারটিতে গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়েছে। এর পাশাপাশি সবুজ এবং হলুদ রঙের কিছু দারুণ কারুকাজও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।   থ্রিডি প্রিন্টিং সম্প্রদায়ের অংশ হতে পেরে জ্যক অত্যন্ত আনন্দিত। সে আশা করে, ভবিষ্যতে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সে আরও শানিত করতে পারবে। জ্যক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “যাদের আসলেই একটি হুইলচেয়ার প্রয়োজন, সেই পরিবারের মুখে হাসি ফুটতে দেখাটা আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের। এটি প্রিন্ট করে তাদের খুশি হতে দেখাটা আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।”   জ্যকের দাদি শার্লট ওয়াটার্স নাতির এই মহৎ কাজে ভীষণ গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সে সবসময় মনে রাখবে যে, একজন মানুষের রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো অন্য কারও জীবনকে সুন্দর করে তোলা। তার বয়স নয়, বরং তার চরিত্রই প্রমাণ করে সে মানুষের জন্য কতটা পার্থক্য গড়তে পারে।”

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
শেয়ারবাজারে বড় উত্থানের অন্যতম কারণ তেলের দামের বড় পতন। ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম কমতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার মঙ্গলবার শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতিতে লেনদেন শেষ করেছে। তেলের দামে বড় পতন, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করপোরেট আয় এবং প্রযুক্তি খাতের উত্থানের প্রভাবে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও ডাও জোন্স নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।   লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে নতুন সর্বোচ্চ অবস্থান স্পর্শ করে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৫৮৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে। ডাও জোন্স ৯০৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৪ হাজার ৮৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে।   প্রযুক্তি খাতের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। শিল্প ও উপকরণ খাতেও প্রায় ২ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর্থিক খাত ১ শতাংশের বেশি এগিয়েছে, যেখানে গোল্ডম্যান স্যাকসের শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।   বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় তেলের দামে বড় পতনের পর। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৮৫ ডলারে।   করপোরেট আয়ের ইতিবাচক ফলও বাজারকে চাঙা করেছে। প্যালান্টির টেকনোলজিস প্রত্যাশার চেয়ে ভালো দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফল প্রকাশ এবং পূর্ণ বছরের আয়ের পূর্বাভাস বাড়ানোর পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতেও শক্তিশালী উত্থান দেখা যায়। মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।   ক্যাটারপিলারও বাজার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রান্তিক ফল প্রকাশ করে এবং আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে অ্যামাজনের শেয়ার ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা নথিতে জানানো হয়।   একই দিনে ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ৬৫৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে উঠে নতুন রেকর্ড গড়ে। জার্মানির ডিএএক্স, ফ্রান্সের সিএসি ৪০, ইতালির এফটিএসই এমআইবি ৩০, যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এবং স্পেনের আইবিইএক্স ৩৫ সূচকও দিনের লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু

তাবাস্সুম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
কলেজ পালিয়ে ২৫ বছর বয়সেই বাজিমাত, ব্রিটিশ তরুণ গড়েছেন বিলিয়ন ডলারের এআই সাম্রাজ্য | ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ৯ বছর পর ৩৩০ কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠানের মালিক

ব্রিটিশ উদ্যোক্তা জেমস ড্যাকোম্ব মাত্র ১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। নয় বছর পর তার প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওলিক্সের মূল্যায়ন পৌঁছেছে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে।   লন্ডনভিত্তিক ওলিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করে। সম্প্রতি নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্য আগের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এআই চিপের বাজারে বর্তমানে এনভিডিয়ার আধিপত্য থাকলেও, সেই বাজারে বিকল্প তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ওলিক্স।   মাত্র ২৫ বছর বয়সী জেমস ড্যাকোম্ব দুই বছর আগে ওলিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৭ বছর বয়সে তিনি কো-মাইন্ড নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান শুরু করেছিলেন। কলেজ ছাড়ার পর পিটার থিয়েলের দাতব্য ফেলোশিপের সহায়তায় তিনি ওই উদ্যোগ শুরু করেন।   পিটার থিয়েল ফেলোশিপ একটি প্রতিযোগিতামূলক অনুদান কর্মসূচি, যেখানে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দুই বছরের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রচলিত উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে নিজেদের প্রকল্প বা ব্যবসা নিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি খাতের আরও কয়েকজন পরিচিত উদ্যোক্তাও এই ফেলোশিপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   জেমস ড্যাকোম্বের আগের প্রতিষ্ঠান কো-মাইন্ড বর্তমানে মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিমাপের মাধ্যমে রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি ব্লেচলি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি হোল্ডিং প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ বা নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।   সম্প্রতি ওলিক্স ৩১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্ম এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংসসহ কয়েকজন বিনিয়োগকারী অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যা ছয় মাসের মধ্যে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।   বর্তমানে ওলিক্সে ১৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করছেন। লন্ডন, ব্রিস্টল ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় রয়েছে। জেমস ড্যাকোম্ব জানিয়েছেন, ওলিক্সের বিশেষায়িত চিপ প্রযুক্তি বড় আকারের এআই মডেল দ্রুত ও কম খরচে পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে।   ওলিক্সের তৈরি চিপগুলো এনভিডিয়ার প্রচলিত চিপের তুলনায় ভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযোগী চিপ তৈরি করে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী বছর গ্রাহকদের কাছে প্রথম তৈরি চিপ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।   এআই খাতে বর্তমানে এনভিডিয়া সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। তবে ওলিক্সের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষায়িত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই খাতে নিজেদের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছে।   যুক্তরাজ্য সরকারের সার্বভৌম এআই তহবিলও ওলিক্সে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির এআই মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেন, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ তৈরিতে ওলিক্সের মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ওলিক্স কর্মীদের জন্য কিছু ভিন্ন ধরনের নীতিও চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মীরা নিজেদের উপযুক্ত মনে না করলে চাকরি ছাড়ার জন্য ১৮ সপ্তাহের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। এছাড়া যারা কর্মস্থলের ২০ মিনিটের মধ্যে বসবাস করেন, তাদের অতিরিক্ত মাসিক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের একটি স্কুলে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট ‘স্যালি’। ছবি: সংগৃহীত
৬০ হাজার ডলারের রোবট শিক্ষক নিয়ে বিতর্ক, নিউইয়র্কে থমকে গেল এআই রোবট শিক্ষক চালুর উদ্যো

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি শিক্ষায় সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি স্কুলে ৬০ হাজার ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। রোবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস্তবধর্মী যৌন পুতুল তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের সালামাঙ্কা সিটি সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের উচ্চবিদ্যালয়ে ‘স্যালি’ নামে একটি এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। সেনেকা নেশন অব ইন্ডিয়ানস সংরক্ষিত এলাকার এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তাদের আশা ছিল, রোবটটি রোবোটিক্স ও প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।   প্রায় ৬০ হাজার ডলার মূল্যের স্থির অবস্থানে ব্যবহারের উপযোগী এই রোবটটির লম্বা কালো চুল রয়েছে এবং এটি রিয়েলবোটিক্স (Realbotix) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক বিহলার জানান, রোবটটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় বুঝিয়ে দিতে পারবে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি ‘আরডুইনো’ বোর্ড প্রোগ্রামিংয়ে সমস্যায় পড়ে, তাহলে রোবটটি তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা রোবটটির রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াও কাছ থেকে শিখতে পারবে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করা নয়। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, যার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল এআই সহকারী এবং বাড়িতে বসে শিক্ষার্থীদের জন্য এআইভিত্তিক সহায়ক শিক্ষাসেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রকল্পটির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই অভিভাবক ও শিক্ষক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, রোবটটি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করতে পারে।   যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রোবটটি কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করবে না এবং অডিও বা ভিডিওও ধারণ করবে না। এদিকে শিক্ষক ইউনিয়নের নেতারা আরেকটি বিষয় সামনে আনেন। তাদের অভিযোগ, রিয়েলবোটিক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবধর্মী যৌন পুতুল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিয়েলডলের মালিকানাগত সম্পর্ক রয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্সের সভাপতি মেলিন্ডা পারসন বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌন পুতুল তৈরির ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে, তাদের তৈরি রোবটের শ্রেণিকক্ষে কোনো স্থান হওয়া উচিত নয়।” সমালোচনার জবাবে রিয়েলবোটিক্স জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং সেগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হাতেই থাকবে।   প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, ‘স্যালি’ কোনো বিদ্যমান যৌন পুতুলকে পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে শিক্ষা খাতের জন্য তৈরি একটি বিশেষ রোবট। রিয়েলবোটিক্স জানায়, তাদের বর্তমান ব্যবসার মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতে এআইচালিত মানবাকৃতির রোবট তৈরি করা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি ইন্টিমা এলএলসির সঙ্গে যুক্ত, আর ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ রয়েছে যৌন পুতুল নির্মাতা রিয়েলডলে।   বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালামাঙ্কা সিটি সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এ সময়ে তারা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর গোপনীয়তা চুক্তি চূড়ান্ত করবে। এরপরই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় চীনসহ বিদেশি তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন এফসিসি। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় চীনের রোবট ও প্রযুক্তি সরঞ্জামে নতুন বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের

বিদেশি তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরঞ্জামের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। দেশটির প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এফসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি নির্মিত হিউম্যানয়েড রোবট এবং পাওয়ার ইনভার্টারের মতো প্রযুক্তি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আসবে।   কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিদেশি তৈরি কিছু উন্নত প্রযুক্তি পণ্যের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের কারণে এসব পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে।   হিউম্যানয়েড রোবট বর্তমানে শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতে ব্যবহারের জন্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব রোবট মানুষের মতো চলাফেরা, কাজ সম্পাদন এবং পরিবেশ বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা রাখে।   পাওয়ার ইনভার্টারও আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।   এফসিসির এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রযুক্তি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র একাধিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।   তবে প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান বলছে, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
দৈনন্দিন ঝামেলা ছাড়াই স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও সহজ করতে বাজারে এল উন্নত সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে আরও সহজ, বাজারে এল সেন্সরযুক্ত স্মার্ট টয়লেট সিট

স্মার্ট ওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডের ভিড়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন ও অভিনব মাধ্যম হিসেবে বাজারে আসছে সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’। এই আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য বাজারে আনতে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে মার্কিন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি কাসানা। দৈনন্দিন জীবনের কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ২০১৮ সালে ড. নিকোলাস কন এই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। কাসানার তৈরি এই বিশেষ টয়লেট সিটে উন্নতমানের সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার খুব সহজেই পরিমাপ করা সম্ভব। পরীক্ষার পর এই সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মোবাইল অ্যাপে যুক্ত হয়ে যায়, যা দেখে ব্যবহারকারী সহজেই নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারেন।   নতুন এই ‘স্মার্ট সিট’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ ডলার। এটি যেকোনো সাধারণ টয়লেটের মূল সিটের পরিবর্তে খুব সহজেই ইনস্টল করা যায়। ব্যবহারকারী সিটে বসার সঙ্গে সঙ্গেই এর ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এবং রিয়েল-টাইম ডাটা মোবাইল অ্যাপে আপলোড করে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন ফিটনেস ডিভাইস চার্জ দেওয়া বা নিয়মিত ব্যবহার করার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখে এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।   কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট অস্টিন ম্যাককর্ড জানান, এই পণ্যের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত কোনো নতুন অভ্যাস গড়তে হয় না বা আলাদা করে কিছু মনে রাখতে হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে এবং তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। কাসানার এই ডিভাইসটি সেই জটিল প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই ডিভাইসে থাকা সেন্সরগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এটি চিকিৎসকের বিকল্প বা কোনো রোগ নির্ণয়কারী যন্ত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে এটি বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে নার্সিং হোম ও বয়স্কদের আবাসন প্রকল্পেও এটি সরবরাহের বড় সুযোগ রয়েছে।   সূত্র: ফোর্বস

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে জাপানে মাত্র ১০ মিনিটে শরীর ঠান্ডা করার ‘হিউম্যান ফ্রিজ’ চালু। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে মাত্র ১০ মিনিটে শরীর ঠান্ডা করার ‘হিউম্যান ফ্রিজ’ চালু

চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরম থেকে মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দিতে জাপানে ব্যতিক্রমী এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ‘ব্যক্তিগত কুলিং বুথ’ বা মানব ফ্রিজ বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এয়ারকন্ডিশনার বা সাধারণ বৈদ্যুতিক ফ্যানের তুলনায় এই যন্ত্রটি অনেক বেশি কার্যকরভাবে শরীর ঠান্ডা করতে পারে বলে এর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে।   দো হিয়েমন নামের এই অভিনব ধাতব বুথটি দেখতে অনেকটা রেফ্রিজারেটরের মতো, যার উচ্চতা প্রায় ২ দশমিক ১ মিটার বা ৭ ফুট। যন্ত্রটির ভেতরে ঢোকার পর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা রাখা হয়। একই সঙ্গে মাথার পেছনের অংশ, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঠান্ডা বাতাসের তীব্র ঝাপটা দেওয়া হয়, যা দ্রুত শারীরিক তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।   বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র তাপপ্রবাহের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা গরমের পাশাপাশি এই সপ্তাহে জাপানও বছরের প্রথম ‘তীব্র গরমের’ দিনগুলোর মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক স্বস্তির জন্য এই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এটি বেশ ব্যয়বহুল মনে হতে পারে, কারণ যন্ত্রটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার ৯০০ ব্রিটিশ পাউন্ড বা ১৫ লাখ জাপানি ইয়েন। তবে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, এটি চালাতে ঘণ্টায় অত্যন্ত সামান্য খরচ হয়, যা সাধারণ একটি টোস্টার চালানোর খরচের তিন ভাগের এক ভাগ মাত্র। বিশেষ করে যেসব শিল্প কারখানা বা গুদামে শ্রমিকরা নিয়মিত প্রচণ্ড গরমে কাজ করেন, সেখানে এটি অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে।   এছাড়া জনবহুল বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে, যেখানে মানুষ অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, সেখানে ভেন্ডিং মেশিনের মতো এটি স্থাপন করা গেলে তা জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন অভিনব উপায় খুঁজলেও এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনটি গরমের দিনে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
এমআইটির ফ্রি জেনারেটিভ AI কোর্স, ৯ লেকচারে শিখুন ChatGPT থেকে রোবোটিক্স
এমআইটির ফ্রি জেনারেটিভ AI কোর্স, ৯ লেকচারে শিখুন ChatGPT থেকে রোবোটিক্স

এমআইটির ৯ লেকচারে জেনারেটিভ এআই শেখার সুযোগ, উন্মুক্ত হলো পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগৎ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিপ্রেমীদের ধারণা দিতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও কোর্স অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। ‘ফাউন্ডেশন মডেলস অ্যান্ড জেনারেটিভ এআই’ শিরোনামের কোর্সটিতে মোট নয়টি লেকচারের মাধ্যমে জেনারেটিভ এআইয়ের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে ChatGPT, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ছবি তৈরি, জীববিজ্ঞান, রোবোটিক্স, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।   এমআইটি ওপেনকোর্সওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, ৬.এস০৮৭ নম্বরের কোর্সটি ২০২৪ সালের জানুয়ারির ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাকটিভিটিজ পিরিয়ডে পড়ানো হয়। কোর্সটির প্রশিক্ষক ছিলেন এমআইটির গবেষক রিকার্ড গ্যাব্রিয়েলসন। এটি মূলত একটি নন-টেকনিক্যাল লেকচার সিরিজ। ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রোগ্রামিংয়ে গভীর অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীরা সহজে কোর্সটি অনুসরণ করতে পারবেন। ([MIT OpenCourseWare][1])   কোর্সের আলোচনায় ChatGPT, Copilot, DALL-E, Stable Diffusion, AlphaFold এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির মতো বহুল আলোচিত প্রযুক্তির পেছনে থাকা ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপারভাইজড লার্নিং, রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং, সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, অটো-এনকোডার, কনট্রাস্টিভ লার্নিং এবং ডিফিউশন মডেলের মতো বিষয়ও সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ([Future of AI][2])   প্রথম লেকচার: জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের পরিচিতি   প্রথম লেকচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই ও ফাউন্ডেশন মডেলের মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রচলিত এআই ব্যবস্থা এবং আধুনিক জেনারেটিভ মডেলের মধ্যে পার্থক্য কী, একটি মডেল কীভাবে বিপুল পরিমাণ তথ্য থেকে সাধারণ প্যাটার্ন শেখে এবং পরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে—এসব প্রশ্নের প্রাথমিক উত্তর পাওয়া যাবে এই পর্বে।   লিংক: [https://youtu.be/y1fGlAECNFM](https://youtu.be/y1fGlAECNFM)   দ্বিতীয় লেকচার: প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে   দ্বিতীয় লেকচারে ফাউন্ডেশন মডেল ও জেনারেটিভ এআইয়ের ভেতরের প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডেটা, মেশিন লার্নিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং সেলফ-সুপারভাইজড লার্নিংয়ের মাধ্যমে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন করে, তা তুলনামূলক সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রযুক্তিটির ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরিতে এই লেকচারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   লিংক: [https://youtu.be/D-pLXkS21fM](https://youtu.be/D-pLXkS21fM)   তৃতীয় লেকচার: ChatGPT ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল   এই পর্বে ChatGPT এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএমের কার্যপ্রণালি আলোচনা করা হয়েছে। একটি ভাষা মডেল কীভাবে মানুষের লেখা বিশ্লেষণ করে, শব্দের পরবর্তী সম্ভাব্য বিন্যাস অনুমান করে এবং প্রশ্নের উত্তর, সারসংক্ষেপ, অনুবাদ কিংবা নতুন লেখা তৈরি করে—তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ডিজিটাল যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এসব মডেলের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে।   লিংক: [https://youtu.be/RVFj88i63rU](https://youtu.be/RVFj88i63rU)   চতুর্থ লেকচার: এআই দিয়ে ছবি তৈরি   চতুর্থ লেকচারের বিষয় ইমেজ জেনারেশন। DALL-E, Stable Diffusion ও Midjourney-এর মতো ব্যবস্থা লিখিত নির্দেশনা থেকে কীভাবে নতুন ছবি তৈরি করে, তার পেছনের ধারণা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ডিফিউশন মডেল, প্রশিক্ষণ ডেটা, টেক্সট ও ছবির মধ্যে সম্পর্ক এবং প্রম্পটের ভূমিকা বুঝতে আগ্রহীদের জন্য এই পর্বটি কার্যকর হতে পারে।   লিংক: [https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw](https://youtu.be/oTfXBw_Wnrw)   পঞ্চম লেকচার: জেনারেটিভ এআইয়ের ইকোসিস্টেম   জেনারেটিভ এআই কেবল একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়; এর সঙ্গে ডেটা, কম্পিউটিং অবকাঠামো, চিপ নির্মাতা, ক্লাউড পরিষেবা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মডেল নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের একটি বড় নেটওয়ার্ক যুক্ত। পঞ্চম লেকচারে এই বিস্তৃত ইকোসিস্টেমের প্রযুক্তিগত, সামাজিক ও বাণিজ্যিক দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে।   লিংক: [https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo](https://youtu.be/IWPo4pV6Jpo)   ষষ্ঠ লেকচার: জীববিজ্ঞানে জেনারেটিভ এআই   এই লেকচারে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণায় জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রোটিনের গঠন ও কার্যকারিতা বিশ্লেষণ, জিনগত তথ্য বোঝা, সম্ভাব্য ওষুধের অণু শনাক্ত করা এবং ড্রাগ ডিসকভারির প্রক্রিয়া দ্রুত করার ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনা এখানে আলোচিত হয়েছে। অতিথি বক্তা হিসেবে লেকচারটি দিয়েছেন এমআইটির অধ্যাপক মানোলিস কেলিস। ([YouTube][3])   লিংক: [https://youtu.be/pHzdw6YWB9I](https://youtu.be/pHzdw6YWB9I)   সপ্তম লেকচার: রোবোটিক্স ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা   সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি, স্বয়ংক্রিয় রোবট এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সপ্তম লেকচারের মূল বিষয়। বাস্তব জগতের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে একটি এআই ব্যবস্থা কীভাবে সম্ভাব্য ফলাফল বিবেচনা করে কাজ নির্বাচন করতে পারে, সেটিও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।   লিংক: [https://youtu.be/ucfAlovLN-U](https://youtu.be/ucfAlovLN-U)   অষ্টম লেকচার: নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল এআই   জেনারেটিভ এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য, পক্ষপাত, গোপনীয়তা, কপিরাইট, ডিপফেক, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অষ্টম লেকচারে এসব নৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে এআই তৈরি ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।   লিংক: [https://youtu.be/VBHmEwr7kf0](https://youtu.be/VBHmEwr7kf0)   নবম লেকচার: বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা   শেষ লেকচারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে জেনারেটিভ এআইয়ের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ প্রবণতা, সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনে এআই কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যাবে এই পর্বে।   লিংক: [https://youtu.be/ewnBsnr7QRA](https://youtu.be/ewnBsnr7QRA)   কোর্সটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করলে একজন নতুন শিক্ষার্থী প্রথমে জেনারেটিভ এআইয়ের ভিত্তি বুঝতে পারবেন এবং পরে এর বিশেষায়িত প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও নৈতিক দিক সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি এআইয়ের সামাজিক প্রভাব বোঝার সুযোগ থাকায় কোর্সটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা, কনটেন্ট নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের জন্য একটি কার্যকর প্রাথমিক শেখার গাইড হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
Vikram-1 rocket
৮ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ বাজার থেকে ৪৪ বিলিয়নের লক্ষ্য, ভারতের বেসরকারি রকেটের সফল যাত্রা

মহাকাশ অর্থনীতিতে বড় অংশীদার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। সেই পথে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে দেশটির বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস।   শনিবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে দেশটির প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’।   ‘মিশন আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে রকেটটি কয়েকটি বাণিজ্যিক ও গবেষণামূলক পেলোড বহন করে। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর এগুলোকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে স্থাপন করতে সক্ষম হয় রকেটটি।   স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে রকেটের ইঞ্জিন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সেবা চালু করা।   প্রায় ২২ মিটার উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি সলিড ফুয়েল স্টেজ এবং একটি তরল জ্বালানি চালিত অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল।   ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের নতুন প্রজন্মের মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর অন্যতম। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ভারতের প্রথম মহাকাশ খাতের কোম্পানি হয়ে আলোচনায় আসে।   ভারত ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করে। এর আগে রকেট, স্যাটেলাইট ও উৎক্ষেপণ সেবার বড় অংশই পরিচালনা করত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসরো।   সরকারের লক্ষ্য, বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।   বিশ্বের ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশও নিজস্ব বেসরকারি মহাকাশ শিল্প গড়ে তুলছে।   স্কাইরুটের এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক মহাকাশ বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আলোচনায় লিংকডইন। ছবি: সংগৃহীত
লিঙ্কডইন এখন ডেটিং অ্যাপ, পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে মিলছে জীবনসঙ্গীর সন্ধান

দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং কর্মজীবনের সাফল্য তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত লিংকডইন। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন এক প্রবণতা। পেশাদার এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী বা প্রেমের সম্পর্ক যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করছেন অনেক ব্যবহারকারী।   রিজিউমে তৈরির ওয়েবসাইট জেটি (Zety) ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজারের বেশি কর্মজীবী মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রতি আটজনের একজন জানিয়েছেন, লিংকডইনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।   জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, লিংকডইন ব্যবহার করে সম্পর্কের চেষ্টা করলে পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন।   জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য লিংকডইন ব্যবহার করেছেন। প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা মনে করেন, ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলের তুলনায় লিংকডইনে দেওয়া তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য।   তবে সবাই এ ধরনের ব্যবহারকে সমর্থন করেন না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৪ শতাংশ কর্মজীবী বলেছেন, লিংকডইন কেবল পেশাগত কাজের জন্যই ব্যবহার হওয়া উচিত। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ মনে করেন, পরিস্থিতি উপযোগী হলে সম্পর্কের উদ্দেশ্যেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা যেতে পারে।   জেটির ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ জ্যাসমিন এসকালেরা বলেন, পুরুষদের মধ্যে লিংকডইনকে ডেটিংয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য মনে করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।   প্রজন্মভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে জরিপে। সম্ভাব্য সঙ্গী সম্পর্কে তথ্য যাচাই করতে মিলেনিয়ালদের ৩৩ শতাংশ এবং জেন-জি প্রজন্মের ২৭ শতাংশ লিংকডইন ব্যবহার করেন। তুলনায় জেন-এক্সের ক্ষেত্রে এ হার ১৯ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ।   জরিপ অনুযায়ী, কারও লিংকডইন প্রোফাইলে রোমান্টিক আগ্রহ তৈরি হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রোফাইল ছবি, নিজের সম্পর্কে লেখা পরিচিতি, পারস্পরিক পরিচিত মানুষের সংখ্যা, পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা।   জ্যাসমিন এসকালেরার মতে, আধুনিক কর্মজীবনে ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের সীমারেখা আগের তুলনায় অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। এখন একটি লিংকডইন প্রোফাইল শুধু একজনের চাকরি নয়, তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও একটি ধারণা দেয়। এ কারণেই অনেকে নেটওয়ার্কিংয়ের বাইরে গিয়েও প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছেন।   তবে লিংকডইনে রোমান্টিক বার্তা পাঠানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের মতামত বিভক্ত। জরিপে ৩৪ শতাংশ বলেছেন, এ ধরনের বার্তা পেলে তারা অস্বস্তি বোধ করবেন। ৩১ শতাংশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন, এমন বার্তা পেলে প্রেরককে ব্লক বা অভিযোগ করবেন। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে নেবেন।   গবেষকদের মতে, লিংকডইন ধীরে ধীরে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে, যেখানে কর্মজীবনের তথ্য অনেকের কাছে পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনলাইনে ভুয়া পরিচয়, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রতারণার আশঙ্কার মধ্যে অনেক ব্যবহারকারী যাচাইকৃত কর্মজীবনের ইতিহাসকে একজন মানুষের স্থায়িত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন।   তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লিংকডইনের মূল উদ্দেশ্য এখনো পেশাগত যোগাযোগ ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন। তাই ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যের গোপনীয়তা, সম্মতি এবং পেশাগত সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: জেটি (Zety) জরিপ, এসএফগেট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাতের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আনছে ব্রিটেন। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে ১৬-১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাতের সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ

যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের রাতের বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে অটো-প্লে এবং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার বিভিন্ন ফিচারও ডিফল্টভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   তবে এই কারফিউ বাধ্যতামূলক হবে না। ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সেটিংস পরিবর্তন করে এই সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে পারবেন। আর এই সুযোগই নতুন পরিকল্পনাকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।   ব্রিটিশ সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন কিছু নকশা বা ফিচার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অনলাইনে আটকে রাখে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে সেসব ফিচারের প্রভাব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।   তবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই উদ্যোগকে পর্যাপ্ত মনে করছে না। ২০২২ সালে একটি অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে ১৪ বছর বয়সী ছেলে জুলস সুইনির মৃত্যুর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসা এলেন রুম বলেছেন, কিশোররা যেহেতু খুব সহজেই সেটিংস পরিবর্তন করে কারফিউ বন্ধ করতে পারবে, তাই এই ব্যবস্থা বাস্তবে খুব বেশি কার্যকর হবে না।   বিবিসি রেডিও ফোরের 'টুডে' অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটি এমন যেন একজন ১৭ বছরের কিশোরের সামনে মদের বোতল রেখে শুধু একটু দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে চাইলে সহজেই আবার সেটি হাতে তুলে নিতে পারবে। তার মতে, সরকার চাইলে আরও কঠোর এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারত।   এর আগে চলতি বছরের জুনে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নতুন রাতের কারফিউকে সেই উদ্যোগেরই একটি সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম, বয়স যাচাই প্রযুক্তি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও কাজ চলছে।   শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ব্যারোনেস কিডরন বলেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নকশা ও পণ্য তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ বলেছেন, রাতের কারফিউ, অটো-প্লে সীমিত করা এবং অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম কঠোর অবস্থানে থাকবে।   প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোযোগ এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো একজন তরুণের সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে। তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট সরকারের পরিকল্পনাকে "এলোমেলো ও অসংগত" বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যদি ব্যবহারকারীরা নিজেরাই সহজে এই কারফিউ বন্ধ করে দিতে পারেন, তাহলে এর বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।   শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিমালা আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এআই সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক বিরতির ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসব প্রস্তাব পার্লামেন্টে উপস্থাপন করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বসন্ত থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাসহ নতুন নিয়মগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে।   এদিকে মলি রোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি বারোজ মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এটি এককভাবে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তার মতে, আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন।   লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের শিশুদের ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন সতর্ক করে বলেছেন, রাতের কারফিউ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্য উল্টো সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ, গভীর রাতে যদি কোনো শিশু মানসিক সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের জন্য বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে সেটি উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেন অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পাঠিয়ে শিশুদের জাগিয়ে না রাখে, সে ধরনের পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।   ইংল্যান্ডের শিশু কমিশনার ডেম র্যাচেল ডি সুজা বলেন, তরুণদের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষায়, বেশিরভাগ তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চায় না, বরং ইনফিনিট স্ক্রলের মতো আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষা চায়। তিনি নতুন কারফিউ কতটা কার্যকর হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।   ভিপিএন ব্যবহার নিয়েও আলোচনা থাকলেও আপাতত এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করছে না যুক্তরাজ্য সরকার। সরকারের মতে, ভিপিএনের বৈধ ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার রয়েছে, বিশেষ করে সাংবাদিক, হুইসেলব্লোয়ার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে। সরকারের কমিশন করা এক গবেষণায়ও বয়স যাচাই এড়াতে ব্যাপকভাবে ভিপিএন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সরকারের প্রকাশিত এক পরীক্ষামূলক গবেষণায় ৩০০ কিশোর-কিশোরীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, রাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কারফিউ তাদের ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হয়েছে। তবে বাথ স্পা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান যোগাযোগবিষয়ক অধ্যাপক পিট এচেলস মনে করেন, এই গবেষণা এককভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রভাব বুঝতে আরও বড় পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।   সূত্র: বিবিসি, যুক্তরাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক, আসছে প্রথম রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’

সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ শিগগিরই উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির মহাকাশ সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান সালারিয়েহ সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মহাকাশ গবেষণায় এটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে স্যাটেলাইটটির চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে এবং এটি দ্রুতই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।   ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও মহাকাশ সংস্থার প্রধান সালারিয়েহ জানান, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ‘রাদ-১’ উন্মোচনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। মহাকাশ প্রকল্পগুলোতে সচরাচর যেসব প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা যায়, তার কারণেই এই সামান্য বিলম্ব। তবে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ইরানের মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি মনে করেন।   একইসঙ্গে তিনি সুখবর দিয়েছেন যে, ইতিমধ্যে ‘রাদ-২’ নামে আরও উন্নত সংস্করণের একটি রাডার স্যাটেলাইটের উন্নয়নকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নতুন এই স্যাটেলাইটটি ‘রাদ-১’-এর তুলনায় আরও নিখুঁত ও উচ্চমানের ছবি ধারণে সক্ষম হবে।   ইরানের মহাকাশ খাতের এই বিশাল অগ্রগতিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও ক্রমশ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সালারিয়েহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আগামী প্রজন্মের মাইক্রো ও ন্যানো স্যাটেলাইটগুলোর চিত্র ধারণ ক্ষমতা হবে আরও অত্যাধুনিক।   তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও চিত্রভিত্তিক সেবার সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি; ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘রাইজিং স্টার’ মেহেদী হাসান | ছবি: সৌজন্যে
ইউরোপের মঞ্চে বাজিমাত, সেরা উদীয়মান তারকার পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী

স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ মো. মেহেদী হাসান 'ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬'-এ সম্মানজনক ‘রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। লন্ডনের ওয়ান মরগেট প্লেসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছর তিনি প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ বিভাগেও অন্যতম ফাইনালিস্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।   মেহেদী হাসানের মূল বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে হলেও তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সফটওয়্যার প্রকৌশলের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তার পেশাজীবন শুরু করেন। এরপর ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি স্পেনের একটি নামী বিজনেস স্কুল থেকে উচ্চতর এমবিএ ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন।   বাংলাদেশে থাকাকালে মেহেদী হাসান বিশ্বব্যাংক ও গ্রামীণফোনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি স্থায়ীভাবে স্পেনে পাড়ি জমান। ২০২২ সালে একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিখ্যাত ফোর্বস টেকনোলজি কাউন্সিলে যোগদানের বিরল আমন্ত্রণ পান। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কাজ করার পাশাপাশি ছয়টি মহাদেশের ৬০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণের এক দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেদী হাসান প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে 'হাসটি লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। সেখানে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়, যার চালিকাশক্তি ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এই বিশেষ প্রকল্পের ৬০ শতাংশের বেশি কোড এআই দিয়ে তৈরি করার ফলে সফটওয়্যারটি তৈরির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক কমে আসে। প্রযুক্তি খাতে মেধার এমন অনন্য ও যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই বছর ইউরোপীয় আসরে সেরা উদীয়মান তারকা নির্বাচিত হন।   ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস মূলত পুরো মহাদেশজুড়ে জমা পড়া শত শত আবেদন থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে মোট ২৩টি বিশেষ বিভাগে কয়েকজনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করে। বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিনটেক ইন্টেল’ প্রতি বছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজন ও পরিচালনা করে থাকে। এবারের আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলে সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র এবং হাঙ্গেরিসহ ১০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ফিনটেক সংস্থার শীর্ষস্থানীয় নেতারা যুক্ত ছিলেন।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে হারাতে পারে ৯ কোটি চাকরি, বাংলাদেশে ঝুঁকিতে যেসব পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও রোবোটিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে, আর বহু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বে কোটি কোটি চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে থাকছে না।   বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও অটোমেশনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। তবে একই সময়ে নতুন কর্মক্ষেত্রও তৈরি হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে পুনরাবৃত্তিমূলক বা রুটিনভিত্তিক কাজগুলো।   বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।   ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাশিয়ার, বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বিক্রেতা, ডাটা এন্ট্রি কর্মী, প্রশাসনিক সহকারী, নির্বাহী সচিব, ব্যাংকের কাউন্টার কর্মকর্তা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের মতো পেশা।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটালাইজেশন, জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশন দ্রুত এসব কাজের জায়গা দখল করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালকবিহীন যানবাহন প্রযুক্তির উন্নয়নও পরিবহন খাতের কিছু চাকরিকে ভবিষ্যতের ঝুঁকির তালিকায় যুক্ত করেছে। যদিও বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এখনো এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করেনি।   গবেষণায় বলা হয়েছে, কেরানি ও অফিস সহকারী ধরনের চাকরিগুলো আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। কারণ এসব কাজের বড় অংশই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, নথি ব্যবস্থাপনা এবং নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণভিত্তিক। এ ধরনের কাজ এআই তুলনামূলক সহজেই সম্পন্ন করতে পারে।   বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো এসব কাজ হাতে-কলমে করা হয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মী যেখানে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে একটি কাজ সম্পন্ন করেন, সেখানে আধুনিক এআইভিত্তিক সফটওয়্যার একই কাজ অনেক কম সময়ে করতে সক্ষম।   গণমাধ্যম খাতেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমানে এআই ব্যবহার করে দ্রুত সংবাদ সারাংশ তৈরি, অনুবাদ এবং তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে। ফলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিনির্ভর সংবাদ, সাধারণ অনুবাদ বা নিয়মিত কনটেন্ট তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।   তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো দক্ষতাভিত্তিক কাজের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজি অ্যান্ড কোম্পানির ‘জেনারেটিভ এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক ইন আমেরিকা’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, জেনারেটিভ এআই অফিসভিত্তিক বহু চাকরির কাঠামো বদলে দেবে। বিশেষ করে গ্রাহকসেবা, অ্যাকাউন্টিং সহায়তা, বেতন প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত কাজ দ্রুত অটোমেটেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ম্যাককিনজির গবেষণায় বলা হয়েছে, সব চাকরি হারিয়ে যাবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলে যাবে। যেসব পেশায় মানবিক যোগাযোগ, সৃজনশীলতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা বজায় থাকবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা এবং সৃজনশীল খাতকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ‘দ্য ফিউচার অব অফিস অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সাপোর্ট অকুপেশনস ইন দ্য এরা অব এআই’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ অফিস সহকারীর চাকরি কমে যেতে পারে।   গবেষকরা জানিয়েছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে ডকুমেন্টেশন, সময়সূচি নির্ধারণ, প্রতিবেদন তৈরি এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার কাজে এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। ‘এআই ইমপ্যাক্ট অন লেবার ফোর্স অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারস’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই-সহায়ক কোডিং টুল এবং স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরির প্রযুক্তি সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু কোডিং দক্ষতা যথেষ্ট হবে না। জটিল সমস্যা সমাধান, সিস্টেম ডিজাইন, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং মানবিক দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।   বাংলাদেশের ব্যাংকিং, কলসেন্টার, পোশাকশিল্প ব্যবস্থাপনা, গণমাধ্যম এবং সরকারি অফিসগুলোতেও ধীরে ধীরে অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কম দক্ষতাভিত্তিক অফিস চাকরিগুলো ভবিষ্যতে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চোখে না দেখে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব কিছু কর্মসংস্থান কমালেও নতুন ধরনের পেশা ও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে কর্মীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০