- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রযুক্তি
দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন গড়ে তুলেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নম জৈন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বয়স ১৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট ব্যবসার বিপণন ও গ্রাহক যোগাযোগের কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের অফিস বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় বলে সেসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জয়নমের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়নম জানিয়েছে, ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরুর আগেই ছোট বোনের সঙ্গে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করত জয়নম। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাত বছর বয়সে শুরু করা সেই চ্যানেলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হতো। প্রতিবেদনের হিসাবে, তিন মাসের মধ্যে চ্যানেলটি এক লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার পায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রচলিত সময়সূচির বাইরে এগোনোর চেষ্টা করে জয়নম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে সে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে জয়পুরের একটি স্কুলের সহায়তায় কেমব্রিজ আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার সাক্ষাৎকারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির সমমানের এই ধাপ সম্পন্ন করে সে। এরপর নিজের উদ্যোগে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় জয়নম। মেঙ্গো ইঞ্জিনকে ব্যবসার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে সে। বিপণনের পরিকল্পনা, কনটেন্ট তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহকসেবার বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে পরিচালনায় সহায়তা করা এর লক্ষ্য। তবে উদ্যোগটি তখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জয়নমের বরাতে বলা হয়, প্রায় ১০০টি ব্যবসা সেবাটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় যোগ দিয়েছিল। এই সংখ্যা অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের আয় নির্দেশ করে না। প্রযুক্তি শেখার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চেয়ে নিজে পরীক্ষা করার ওপর বেশি নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছে জয়নম। এমিরেটস টোয়েন্টিফোর সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাতে ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার, ইউটিউব দেখে শেখা এবং নতুন বিষয় নিয়ে কৌতূহল থেকেই তার শেখার বড় অংশ এসেছে।
কুষ্টিয়ার আমলা-সদরপুরের ছেলে মো. নাসিম আল আওয়াল কবি। ছোটবেলায় প্রযুক্তির প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সেই আগ্রহ পূরণ করা সহজ ছিল না। ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে একসময় সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে দেন তাঁর মা মোছা. নাজমা। সেই টাকায় কেনা মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু হয় নাসিমের প্রযুক্তি শেখার নতুন অধ্যায়। নানা বাধা, বিদেশের কঠিন জীবন আর একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে আজ তিনি জাপানে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত। নাসিমের গল্পের শুরু অবশ্য আরও আগে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। যাওয়ার আগে ড্রয়ারে রেখে গিয়েছিলেন একটি চিরকুট। তাতে লেখা ছিল, ‘মানুষের মতো মানুষ হয়েই তবে আমি বাড়ি ফিরব।’ সেদিনের সেই কিশোর হয়তো জানতেন না, তাঁর জীবনের পথ তাঁকে একদিন বাংলাদেশের গ্রাম থেকে জাপানের বড় একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাবে। নাসিমের ডাকনাম কবি। গ্রামের আর দশটা শিশুর মতো মাঠে খেলাধুলা, পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটা আর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি করেই কাটত তাঁর শৈশব। তবে ছোটবেলা থেকেই অন্যের চেয়ে আলাদা ছিল তাঁর একটি আগ্রহ। এলাকার কারও মোবাইল ফোন, টেলিভিশন কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হলে সেটি খুলে দেখার চেষ্টা করতেন। যন্ত্র কীভাবে কাজ করে, কোথায় সমস্যা হয়—এসব জানার আগ্রহই তাঁকে প্রযুক্তির দিকে টেনে নেয়। নাসিমের বাবা মো. রবি সততার প্রশ্নে আপস করতে চাইতেন না। ১৯৯৬ সালে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে চাকরি করার সময় দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন বলে পরিবারের বর্ণনায় উঠে এসেছে। পরে মুদির দোকানসহ বিভিন্ন কাজ করেও সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে পারেননি। ২০০৩ সালে শুরু করেন দলিল লেখার কাজ। পরিবারের অভাব নাসিমের জীবনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও বাবার সততার শিক্ষা তাঁর মনে গেঁথে যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সৎ থাকার বিষয়টিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার সেই ঘটনাও ছিল কৈশোরের এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা। রেললাইন ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পায়ে ফোসকা পড়া, রাজশাহী স্টেশনে রাত কাটানো—সবই ঘটেছিল সেই যাত্রায়। দুই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে বই বিক্রি করার। শেষ পর্যন্ত বাড়ির টানেই ফিরে আসেন নাসিম। তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে তোলার যে জেদ তাঁর মধ্যে ছিল, তা হারিয়ে যায়নি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কুষ্টিয়ার আমলা স্কুলে ডিনেটের কম্পিউটার লিটারেসি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কম্পিউটার শেখার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হতেন। কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি আর মাঠের আইল পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার সেই দিনগুলো তাঁর প্রযুক্তি শেখার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগে ভর্তি হন নাসিম। কিন্তু কম্পিউটার প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিভাইস প্রয়োজন ছিল। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন ছেলের পাশে দাঁড়ান তাঁর মা। সংসারের একটি ছাগল বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে ছেলেকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। সেই ফোনটিই হয়ে ওঠে নাসিমের শেখার প্রধান মাধ্যম। ফোনটিকে মডেম হিসেবে ব্যবহার করে ইন্টারনেটে যুক্ত হতেন। অনলাইনে ভিডিও দেখে বিভিন্ন বিষয় শিখতেন, প্রযুক্তিবিষয়ক ফোরামে প্রশ্ন করতেন এবং নিজের সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরে এভাবেই নিজের উদ্যোগে দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন তিনি। যে ডিনেটের কর্মসূচিতে একসময় শিক্ষার্থী হিসেবে কম্পিউটার শিখেছিলেন, ২০১২ সালে সেই প্রতিষ্ঠানেই প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পান নাসিম। পরে প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট এবং সহকারী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৩৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানে নিজে শিখেছিলেন, পরে সেখানেই অন্যদের শেখানোর দায়িত্ব পান নাসিম। তাঁর কর্মজীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও শক্ত করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাপানে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে ব্যাংকঋণ, ধার করা টাকা এবং পরিচিতজনদের সহযোগিতা নিতে হয়েছিল। জাপানে পৌঁছে প্রথমে নাগোয়ার একটি গাড়ি কারখানার উৎপাদন লাইনে কাজ শুরু করেন। নতুন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি করতে হয়েছে শারীরিক পরিশ্রমের কাজও। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। ২০২০ সালের মে মাসে জাপানের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এনটিটি কমিউনিকেশনে নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন নাসিম। সেখানে সাবমেরিন কেবলের সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পাঁচ বছর আট মাসের অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে তাঁর দক্ষতা আরও বাড়ে। চাকরির পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টাও চালিয়ে যান তিনি। অনলাইনে ৪০টির বেশি কোর্স ও সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেন। সিনেমা, গান ও বিভিন্ন অনলাইন উপকরণ ব্যবহার করে ইংরেজি শেখেন। টোয়েক পরীক্ষায় ৮৭৫ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি জাপানি ভাষার এন৪ পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাসিম। অ্যামাজন, গুগল, অ্যাপল, ওরাকল ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সফল হননি। ২০২২ সালে মাইক্রোসফটে আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর থেমে না গিয়ে নিজের ঘাটতি খুঁজেছেন। কোন দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার, কী শিখলে পরবর্তী সুযোগের জন্য প্রস্তুত হওয়া যাবে—সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাইক্রোসফট জাপানে যোগ দেন নাসিম। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস অ্যান্ড ইনোভেশনস (CO+I) দলের সঙ্গে কাজ করছেন। এই দল মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। অ্যাজুর ও মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর মতো ক্লাউড সেবা সচল রাখতে এসব ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের যাত্রা সম্পর্কে নাসিমের বক্তব্য, তিনি কখনো অসাধারণ ছাত্র ছিলেন না, কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিটি প্রত্যাখ্যানকে শেষ হিসেবে না দেখে নতুন একটি প্রশ্ন হিসেবে নিয়েছেন, যার উত্তর তাঁকে খুঁজে বের করতে হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও রয়েছে তাঁর পরামর্শ। নাসিম মনে করেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন, সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো শেখা এবং অনলাইনে থাকা শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চান নাসিম। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তাঁদের শেখার পথ সহজ করা এবং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একসময় বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে চিরকুটে নিজের জীবনের লক্ষ্য লিখে রাখা সেই কিশোরের পথচলা আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। কারণ, নাসিমের গল্প শুধু মাইক্রোসফটে চাকরি পাওয়ার গল্প নয়; এটি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শেখার চেষ্টা, মায়ের আত্মত্যাগ এবং বারবার ব্যর্থ হয়েও নতুন করে শুরু করার গল্প। মায়ের বিক্রি করা একটি ছাগলের টাকায় কেনা মোবাইল ফোন থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে জাপানের প্রযুক্তি খাতে নতুন এক অধ্যায়ে।
ইরানকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যাতে কোনো শত্রু দেশটিতে হামলার সাহস না পায়। সম্প্রতি তেহরানের কাছে ইসলামশাহর শহরে বেশ কয়েকটি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনসহ উন্নত প্রযুক্তির নানা ক্ষেত্রে ইরানের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো মূলত দেশের শক্তিশালী মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। তবে তিনি মনে করেন, কেবল বর্তমান অর্জনেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই; বরং দেশের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আরও অনেক দূর যেতে হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, দেশের বর্তমান অবস্থার চেয়ে আরও অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে এবং উন্নত প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ধরে রাখতে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যে মূলত জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। দেশের মানবসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই ইরান তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
জার্মানির কোলন শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে মানবসদৃশ রোবটের মাধ্যমে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রাতে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে কিশোরীটির কাছে গিয়ে রোবটটি তার নিতম্বে স্পর্শ করে এবং অশালীন ভঙ্গিতে শরীরের সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া করে। এ ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী রোবটটির মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী এক সহযোগীর বিরুদ্ধে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের অভিযোগও উঠেছে। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে পামস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিং সড়কের সংযোগস্থলে একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁর সামনে ওই কিশোরী তাঁর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় প্রায় চার ফুট উচ্চতার রোবটটি পেছন দিক থেকে তাঁর কাছে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবটটির আচরণকে সম্ভাব্য যৌন হয়রানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ম্যাগনুসস্ট্রাসে ও হোহেনজোলার্নরিংয়ের সংযোগস্থলের কাছে সন্দেহভাজন দুজনকে খুঁজে পায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক সেটিকে একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখেছিলেন। সেখান থেকে রোবটটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রোবটটি এবং সন্দেহভাজনদের দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে। পুলিশের দেওয়া ছবিতে রোবটটিকে লাল ও সোনালি রঙের পোশাকে দেখা যায়। এর সাজসজ্জায় জনপ্রিয় কমিক চরিত্র আয়রন ম্যানের পোশাকের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে রোবটটিকে চীনে তৈরি ইউনিট্রি আর১ এয়ার মডেল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে মডেলটির পরিচয় এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দূর থেকে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। রোবটটির আচরণ পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি কেউ সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে এমন নড়াচড়া করিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্ভাব্য যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চালানোর সময় তাঁরা ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির বিষয়বস্তু, সেটি কোথায় প্রচার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয়ও কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। মানবসদৃশ রোবট এখন শিল্পকারখানা, গবেষণাগার, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব রোবটের কিছু মডেল পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আবার কিছু মডেল দূরনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও পরিচালনা করা যায়। ফলে কোনো রোবটের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, সফটওয়্যারের নির্দেশনা নাকি মানুষের ইচ্ছাকৃত নিয়ন্ত্রণের ফল, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোলনের ঘটনাতেও পুলিশ ঠিক এই বিষয়গুলো যাচাই করছে। এ ঘটনায় রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট মডেলটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল বা রোবটটি নিজে থেকে এমন আচরণ করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ করতে হলে যন্ত্রটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রোবট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী পিপল জার্মান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য পুলিশের কোলন শাখা, পিপল ও দ্য টাইমস।
জার্মানির কোলন শহরে রোবট ব্যবহার করে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌ ন হয় রা নির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রোবটটির ১৬ বছর বয়সী মালিক ও তাঁর ১৯ বছর বয়সী সঙ্গী ঘটনাটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আলামত হিসেবে রোবট ও সন্দেহভাজনদের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কোলন পুলিশের ১২ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কিশোরী তাঁর দুই বান্ধবীর সঙ্গে শহরের একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁর বাইরে ছিলেন। প্রায় ১ দশমিক ২০ মিটার উঁচু রোবটটি পেছন থেকে এগিয়ে এসে তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে এবং যৌ ন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। পরে একটি ফক্সওয়াগন গাড়ির ট্রাংক থেকে লাল ও সোনালি রঙের রোবটটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, রোবটের মালিক সেটি গাড়িতে রেখেছিলেন। তদন্তের মূল বিষয় হলো, ঘটনার সময় রোবটটি কীভাবে কাজ করছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন কি না। আগে থেকে প্রোগ্রাম করা নির্দেশনা নাকি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এসব আচরণ ঘটেছে, তা পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। কোলন পুলিশের মুখপাত্র ক্রিস্টফ বেরমেল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। এমন ঘটনা তদন্তের অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে ছিল না বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপযুক্ত মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা তা নিয়ে ঠাট্টা করা ভুক্তভোগীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি কোম্পানি বিক্রি করে মিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। কিন্তু অতিরিক্ত কাজের চাপ, অনিয়মিত খাবার ও শারীরিক অবহেলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একদিন সান ফ্রান্সিসকোর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে কাটাতে হয় প্রায় এক সপ্তাহ। সেই অভিজ্ঞতার পর জীবনযাপন বদলে আবার ব্যবসায় ফেরেন রাহুল। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুপারহিউম্যান কোম্পানির মূল্যায়ন পৌঁছায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলারে। মার্কিন সাময়িকী ফরচুনের ৪ অক্টোবর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্যোক্তা জীবনের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ৪২ বছর বয়সী রাহুল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বেড়ে ওঠা ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই উদ্যোক্তা মাত্র আট বছর বয়সে নিজে নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। পরবর্তী সময়ে ভিডিও গেম তৈরির কাজেও যুক্ত হন। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১০ সালে কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে র্যাপোর্টিভ নামের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। এটি ছিল জিমেইলের সঙ্গে যুক্ত একটি সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইমেইলে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দেখতে পারতেন। প্রতিষ্ঠানটি একই বছর ওয়াই কম্বিনেটরের সামার ব্যাচে সুযোগ পায়। মাত্র পাঁচজনের দল নিয়ে শুরু হওয়া কোম্পানিটি দ্রুত লিংকডইনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে। তবে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ও বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারছিলেন না রাহুল। প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিত খাবার খেতেন। কখনো পিৎজা, কখনো ব্রাউনি দিয়েই দিনের খাবার সারতেন। নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাসও ছিল না। দীর্ঘদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকতে থাকতে সেই পরিস্থিতিকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছিলেন তিনি। ২০১১ সালের এক রাতে তীব্র বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাঙে রাহুলের। অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজে যান তিনি। দুপুরে ব্যথা বেড়ে গেলে অফিস থেকে চার ব্লক দূরের একটি ফার্মেসিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পথেই একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্টুরেন্টের বাইরে লুটিয়ে পড়েন। এক সহপ্রতিষ্ঠাতা ওষুধের ব্যবস্থা করলেও হাসপাতালে না গিয়ে আবার কাজে ফিরে যান তিনি। পরদিন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ শনাক্ত হয়। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে অস্বস্তি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। রাহুলের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একজন নার্স তাঁকে জানান, তাঁর শরীরের ভেতরের অবস্থা প্রকৃত বয়সের তুলনায় ১০ থেকে ২০ বছর বেশি বয়সী কারও মতো মনে হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে বিশ্রাম নেন রাহুল। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস কাজ থেকে দূরে ছিলেন। এরপর খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন, নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করেন এবং ধ্যানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেন। বিশেষ করে ট্রান্সসেনডেন্টাল মেডিটেশন পদ্ধতি শেখেন তিনি। এখনো ব্যস্ততার মধ্যেও ধ্যানের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখেন বলে জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাহুলের প্রথম কোম্পানি র্যাপোর্টিভ অধিগ্রহণ করে লিংকডইন। আনুমানিক দেড় কোটি ডলারের এই চুক্তিতে প্রতিষ্ঠাতারা মিলিয়নিয়ার হন। প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগের প্রায় ২০ গুণ অর্থ ফেরত পান। অথচ প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ২০ মাসে কোম্পানিটির সরাসরি আয় হয়েছিল মাত্র ১৪ সেন্ট। প্রথম কোম্পানি বিক্রির পর ২০১৪ সালে কনরাড আরউইন ও বিবেক সোধেরাকে সঙ্গে নিয়ে সুপারহিউম্যান প্রতিষ্ঠা করেন রাহুল। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে ইমেইল ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার তৈরি করে পরিচিতি পায়। ২০২১ সালে বিনিয়োগ সংগ্রহের সময় কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। এটি রাহুলের ব্যক্তিগত সম্পদ কিংবা কোম্পানির বার্ষিক আয় নয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপারহিউম্যান অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় গ্রামারলি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তখন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার এবং কর্মীসংখ্যা ছিল একশর বেশি। তবে অধিগ্রহণের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। একই বছরের অক্টোবরে গ্রামারলি তার মূল কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে সুপারহিউম্যান রাখার ঘোষণা দেয়। ফরচুনকে রাহুল জানান, দ্বিতীয় কোম্পানি বিক্রির সময় আগের মতো শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। তাঁর মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত কাজ ও নিজের শরীরকে অবহেলা করাকে সাফল্যের পরিচয় মনে করা উচিত নয়। ব্যবসায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বজায় রেখেও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। তবে তাঁর পরিবর্তিত জীবনযাপনই পরবর্তী ব্যবসায়িক সাফল্যের একমাত্র কারণ ছিল, এমন কোনো প্রমাণ নেই।
দক্ষিণ কোরিয়া বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে। এর মাধ্যমে সিউল এমন এক সামরিক সক্ষমতার দিকে এগিয়ে গেল, যা কোরীয় উপদ্বীপের যুদ্ধ-সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের কাছাকাছি সাগরে নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর দক্ষিণ কোরিয়া এই পদক্ষেপ নিলেও, পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে দেশের প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে পরীক্ষাটি ঠিক কোথায় পরিচালিত হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ত্রটি পরিকল্পিত উচ্চতায় এর বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নিচে নেমে আসে এবং লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার আগে উল্লম্ব ও অনুভূমিক উভয়ভাবেই সফলভাবে দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হলে 'কোরীয় উপদ্বীপের অপারেশন থিয়েটারে' যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অতর্কিত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রেসিডেন্ট লি "নিজেদের শক্তির মাধ্যমেই নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার" ওপর জোর দেন এবং একই দিনে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী হিউনমু-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত আন্তঃকোরীয় সীমান্তের কাছে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড এই ঘটনার জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। তবে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সিউলের ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি নিয়ে উপহাস করেছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সিউলের প্রতি ক্রমশ কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। কিম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ২০১৯ সালে ভেঙে গিয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের "বৈরী" নীতি ত্যাগ করতে হবে এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট লি-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। কারণ তিনি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পৃক্ততার পক্ষে এবং সীমান্তে সেনা আহতের ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ সত্ত্বেও উত্তরের প্রতি তার বক্তব্যকে যথেষ্ট নমনীয় রেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে, কিম জং উনের সাথে 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি বড় সামরিক মহড়া একতরফাভাবে কমিয়ে আনার পর সিউলের এই স্বনির্ভরতার তাগিদ আরও বেড়েছে। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ে মিত্রদেশগুলোর মধ্যেই মতভেদ দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি তারা এটিকে ৭০০ কিলোমিটার উড়তে দেখেছে, অন্যদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার বলে মূল্যায়ন করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এই দুই মিত্র দেশের ভিন্ন ভিন্ন হিসাব নিয়ে উপহাস করে দাবি করেন, তারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সঠিকভাবে ট্র্যাক করতেই অক্ষম এবং তাই এটি মাঝপথে ধ্বংস করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিশ্বের প্রযুক্তি খাতে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা আমান সাঙ্গার। তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং প্ল্যাটফর্ম কারসরের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যানিস্ফিয়ার ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তিতে অধিগ্রহণ করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। গত ১৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া নথিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স। মাত্র চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় তিন বন্ধুকে নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেছিলেন আমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাইকেল ট্রুয়েল, সুয়ালেহ আসিফ ও আরভিড লুনেমার্ক। ২০২২ সালে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত অ্যানিস্ফিয়ার পরবর্তী সময়ে কারসর নামের এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অল্প সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে প্রযুক্তিটি। কারসর মূলত এমন একটি সফটওয়্যার, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রোগ্রামিং কোড লেখা, সংশোধন, ব্যাখ্যা করা এবং ভুল শনাক্ত করা যায়। একজন ডেভেলপার সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিলেই সফটওয়্যারটি সেই অনুযায়ী কোড তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কোড এডিটরের সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুক্ত করার কারণেই কারসর দ্রুত প্রযুক্তি খাতে পরিচিতি পায়। আমান সাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কে। তাঁর পরিবার ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা অরবিন্দ সাঙ্গার ভারতের আইআইটি বোম্বের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিনিয়োগ খাতের একজন পেশাজীবী। মা শিল্পা সাঙ্গার একজন অর্থোডন্টিস্ট ও উদ্যোক্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আমানের। পরে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেন আমান। এর আগে গুগল ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। নিজস্ব এআইভিত্তিক উদ্যোগ নিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে অ্যানিস্ফিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির শুরুটা অবশ্য বর্তমান কারসরের মতো ছিল না। প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরির সম্ভাবনা পরীক্ষা করছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা বুঝতে পারেন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের পুরো প্রক্রিয়াতেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ধারণা থেকেই কারসরের উন্নয়ন শুরু হয়। কারসর জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ এর ব্যবহারপদ্ধতি। সাধারণ কোডিং সফটওয়্যারে ডেভেলপারকে বিভিন্ন কাজ নিজে করতে হয়। কিন্তু কারসরে এআইকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে একাধিক ফাইলের কোড পরিবর্তন, নতুন ফিচার তৈরি কিংবা বিদ্যমান কোডের সমস্যা সমাধানে সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে সফটওয়্যার তৈরির সময় ও শ্রম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিটি দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যানিস্ফিয়ারের ব্যবসায়িক মূল্যও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৯৯০ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে এআই কোডিং প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির মূল্যায়ন আরও বৃদ্ধি পায়। স্পেসএক্সের সঙ্গে কারসরের সম্পর্ক শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। সে সময় দুই প্রতিষ্ঠান এআই মডেলের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়। চুক্তিতে নির্দিষ্ট শর্তে অ্যানিস্ফিয়ার অধিগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক অধিগ্রহণ চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নথি অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট অধিগ্রহণ কার্যকর হওয়ার পর অ্যানিস্ফিয়ার স্পেসএক্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চুক্তির আওতায় অ্যানিস্ফিয়ারের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য স্পেসএক্সের প্রায় ৩৮ কোটি ৯৩ লাখ সাধারণ শেয়ার বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। লেনদেনে অ্যানিস্ফিয়ারের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর কারসরের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্পেসএক্সের বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আরও উন্নত এআই মডেল তৈরি এবং গ্রাহকদের তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স মূলত মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং অবকাঠামোতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। কারসর অধিগ্রহণ সেই সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যানিস্ফিয়ারের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমান বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পণ্যের প্রসার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে ৬ হাজার কোটি ডলারের অধিগ্রহণমূল্যকে আমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ নির্ভর করে তাঁদের মালিকানাধীন শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থার ওপর। আমানের এই উদ্যোক্তা যাত্রা প্রযুক্তি খাতে তরুণ প্রতিষ্ঠাতাদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চার বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এআই সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। স্পেসএক্সের অধীনে যাওয়ার পর কারসর কত দ্রুত নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের বাজারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এর মধ্যেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী আমান সাঙ্গার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আলোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
চার্জার কিংবা নির্দিষ্ট চার্জিং প্যাডে ডিভাইস বসানোর ঝামেলা কমাতে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক। ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রিজোলিংক। তাঁদের লক্ষ্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাস্তব জীবনে নিয়ে আসা। বিশেষ করে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে স্মার্টপাওয়ারবক্স নামের একটি প্রযুক্তি। প্রচলিত ওয়্যারলেস চার্জারে সাধারণত ফোন বা অন্য ডিভাইস নির্দিষ্ট প্যাডের ওপর সঠিকভাবে বসাতে হয়। কিন্তু স্মার্টপাওয়ারবক্স এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি ছোট ত্রিমাত্রিক পরিসরের ভেতরে ডিভাইসের অবস্থান পরিবর্তন হলেও চার্জিং কার্যক্রম চালানো যায়। ফলে ভবিষ্যতে একটি ড্রয়ার বা নির্দিষ্ট চার্জিং জোনের মধ্যে ফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ইয়ারবাড রাখলেই সেগুলো চার্জ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত নকশা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী এবং অধ্যাপক আইগুও প্যাট্রিক হু। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত। স্মার্টপাওয়ারবক্স প্রযুক্তিতে আসবাবের ভেতরে বসানো পাতলা ও সমতল কয়েলের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এসব কয়েল নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে থাকা উপযুক্ত ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে উন্নত পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে কোন ডিভাইসের চার্জ প্রয়োজন, কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা প্রয়োজন ছাড়া সারাক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না। বরং চার্জিংয়ের উপযোগী ডিভাইস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় অংশ সক্রিয় করবে। এতে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং নিরাপদে চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও প্রোটোটাইপ উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে এসেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির গবেষণা এগিয়ে নিতে ১ লাখ ১৪ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এনডাওমেন্ট ফান্ড থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানটি প্রযুক্তির প্রোটোটাইপ উন্নয়নে সহায়তা করবে। এই গবেষণার অন্যতম উদ্যোক্তা ড. সাইদুল আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়্যারলেস পাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং চার্জিং ব্যবস্থার দক্ষতা ও নিরাপত্তা। রিজোলিংকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দুটি মার্কিন পেটেন্ট রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায়ও তাঁর কাজ স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে রিজোলিংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইউশা আরাফ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগিন্স ইনস্টিটিউটে ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। রিজোলিংকে তিনি কৌশলগত কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক উন্নয়নের দিকটি দেখছেন। দুই গবেষকের প্রতিষ্ঠিত রিজোলিংক শুধু মোবাইল ফোন বা ছোট ইলেকট্রনিক পণ্যের চার্জিং প্রযুক্তি তৈরি করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা এবং বায়োমেডিকেল প্রযুক্তির জন্য তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমাধান তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমে রয়েছে প্রযুক্তির নকশা, গবেষণা, পরীক্ষামূলক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই। বিশেষ করে স্মার্ট হোম, অফিস এবং হাসপাতালের মতো পরিবেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা। একটি ড্রয়ার কিংবা আসবাবের নির্দিষ্ট অংশকে চার্জিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা গেলে একাধিক ডিভাইস আলাদা আলাদা তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হতে পারে। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য কম তারনির্ভর চার্জিং ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গবেষণাটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। স্মার্টপাওয়ারবক্সের বর্তমান ধারণা পুরো বাড়ি বা বড় একটি কক্ষের যেকোনো স্থান থেকে ফোন চার্জ করার প্রযুক্তি নয়। এটি মূলত ছোট একটি নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক পরিসরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে এর তুলনা করা হলেও ইন্টারনেট সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া এক নয়। প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক সফলতার জন্য চার্জিংয়ের দক্ষতা, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, উৎপাদন খরচ এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাগারে কার্যকর একটি প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে এসব বিষয়ে আরও উন্নয়ন ও পরীক্ষা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে দুই উদ্যোক্তার। বিশেষ করে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস, স্মার্ট হোম এবং স্মার্ট হাসপাতালের জন্য সাশ্রয়ী তারহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তাঁরা দেখছেন। বাংলাদেশে প্রকৌশল ও জীববিজ্ঞানের মতো ভিন্ন দুটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া এই দুই গবেষক এখন নিউজিল্যান্ডে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। গবেষণাকে বাস্তব পণ্য ও শিল্পক্ষেত্রের সমাধানে রূপ দেওয়াই তাঁদের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্মার্টপাওয়ারবক্সের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে ভবিষ্যতের চার্জিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই বাংলাদেশি গবেষক ড. সাইদুল আলম চৌধুরী ও ইউশা আরাফ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ফের একটি হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা বা উইপো (WIPO)-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৩৯টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশসহ নানা সূচক বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যা প্রতিবেশী দেশ নেপালেরও নিচে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত, বৈশ্বিক তালিকায় যাদের অবস্থান ৩৮তম। ভারতের পর এই অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে রয়েছে ভুটান (৭৪তম), শ্রীলঙ্কা (৯৪তম), পাকিস্তান (৯৫তম) এবং নেপাল (১০৪তম)। পরিসংখ্যানটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশের সামনে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে সার্বিক চিত্রে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সম্ভাবনার জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, কৃষি প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করছে। বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে, তখন উদ্ভাবনের এই দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে টপকে যেতে বাংলাদেশকে আরও সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানুষের মতো নরম, নমনীয় এবং ক্ষত সারাতে সক্ষম চামড়া এবার রোবটের শরীরেও ব্যবহারের পথ দেখিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোজি তাকেউচির নেতৃত্বে গবেষকেরা মানবকোষ ও কোলাজেন দিয়ে তৈরি জীবন্ত ত্বক একটি তিন জোড়ার রোবটিক আঙুলের গায়ে সফলভাবে বসিয়েছেন। আঙুলটি বাঁকালে ত্বকও স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং কেটে গেলে কোলাজেন শিটের সহায়তায় প্রায় সাত দিনের মধ্যে ক্ষতস্থান জোড়া লাগতে শুরু করে। গবেষণাটি ২০২২ সালে প্রকাশিত হলেও জীবন্ত টিস্যু দিয়ে তৈরি রোবোটিক কাভারিং নিয়ে আলোচনায় এটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকেরা প্রথমে রোবটের আঙুলের চারপাশে কোলাজেন ও মানব ত্বকের ডার্মাল কোষ ব্যবহার করে একটি স্তর তৈরি করেন। এরপর এর ওপর কেরাটিনোসাইট যোগ করে মানুষের ত্বকের বাইরের স্তরের মতো আরেকটি স্তর গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, ত্বকটি আলাদা করে তৈরি করে পরে রোবটের গায়ে জোড়া লাগানো হয়নি। বরং রোবটের আঙুলের চারপাশেই সরাসরি ত্বকটি গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে আঙুলের বাঁক, খাঁজ ও জোড়াগুলোর সঙ্গে ত্বকটি ঘনিষ্ঠভাবে মানিয়ে যায় এবং নড়াচড়ার সময় সহজে ছিঁড়ে যায় না। গবেষণায় ব্যবহৃত রোবটিক আঙুলটি তিনটি জোড়াসম্পন্ন। একটি মোটর ও তারের সাহায্যে এটি বাঁকানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, জীবন্ত ত্বক দিয়ে ঢাকার পরও আঙুলটি জোড়াগুলো নড়াতে পারছে এবং ত্বক তার সঙ্গে নমনীয়ভাবে প্রসারিত হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ত্বকের ক্ষত সারানোর পরীক্ষা। গবেষকেরা স্ক্যালপেল দিয়ে ত্বকের ডার্মাল স্তরে একটি ক্ষত তৈরি করেন। পরে সেই জায়গায় পাতলা কোলাজেন শিট লাগিয়ে দেন। প্রায় সাত দিন কালচারের পর দেখা যায়, আশপাশের ত্বকের কোষ কোলাজেন শিটের মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং ক্ষতস্থানের সংযোগ শক্তিশালী হয়েছে। এরপর রোবটিক আঙুলটি আবার আগের মতো বাঁকানো সম্ভব হয়। তবে এটিকে মানুষের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ক্ষত নিরাময় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গবেষণায় ক্ষতস্থানে কোলাজেন শিট বসিয়ে দিতে হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পুষ্টিসমৃদ্ধ তরল পরিবেশে চালানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে এই ত্বক শরীরের মানুষের ত্বকের মতো খোলা বাতাসে দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। এটাই প্রযুক্তিটির বড় সীমাবদ্ধতা। বর্তমান সংস্করণে ত্বকের ভেতরে রক্তনালি বা এমন কোনো সঞ্চালন ব্যবস্থা নেই, যা নিয়মিত পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। ফলে জীবন্ত অবস্থায় রাখতে এটিকে বিশেষ কালচার মিডিয়ামের মধ্যে রাখতে হয়। গবেষকেরা ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে পুষ্টি সরবরাহের জন্য ক্ষুদ্র চ্যানেল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অধ্যাপক শোজি তাকেউচির দল দীর্ঘদিন ধরে বায়োহাইব্রিড রোবোটিকস নিয়ে কাজ করছে। এই ক্ষেত্রটিতে জীবন্ত কোষ ও টিস্যুকে যান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা প্রচলিত রোবটের তুলনায় বেশি নমনীয় ও মানুষের শরীরের বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি হতে পারে। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু রোবটকে মানুষের মতো দেখতে করা নয়। ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে সংবেদনশীল কোষ, চুলের ফলিকল, ঘামগ্রন্থিসহ আরও জটিল উপাদান যুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা দেখছেন। এতে কোনো রোবট স্পর্শ অনুভব করা, তাপমাত্রা বুঝতে পারা কিংবা নিজের বাইরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করার মতো সক্ষমতার দিকে এগোতে পারে। এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট, চিকিৎসা গবেষণা, ওষুধ ও প্রসাধনী পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে এমন রোবটের ক্ষেত্রে নরম ও নমনীয় বহিরাবরণ নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ের। মানুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ত্বক, দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার ক্ষমতা কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষত নিরাময়ের পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছায়নি। তারপরও মানুষের জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি ত্বক একটি চলমান রোবটের গায়ে বসানো এবং ক্ষত সারানোর সক্ষমতা দেখাতে পারা ভবিষ্যতের বায়োহাইব্রিড রোবট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে। সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে। তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ। সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে। তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো। তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে। সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে। সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন। শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ। মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না। স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান। এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ। তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে। তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না। যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন। তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়। সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল। মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন। মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে। মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না। এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি স্টার্টআপ সোনেরা ম্যাগনেটিকস অধিগ্রহণ করেছে অ্যাপল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অ্যাপল বা সোনেরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। সোনেরা এমন একটি নন-ইনভেসিভ সেন্সর প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা শরীরে কোনো যন্ত্র বসানো বা ত্বকে ইলেকট্রোড লাগানো ছাড়াই মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংকেতভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খুলির মধ্য দিয়ে সংকেত দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখানো হয়েছে। সোনেরা ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষণার পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিশিতা ডেকা, ডমিনিক লাবানোস্কি ও সায়ীফ সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি প্রকাশ্যে আসার সময় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্তের প্রযুক্তিকে আরও ছোট, বহনযোগ্য ও সহজলভ্য করা। সোনেরার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এস১ চিপ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি পেশির কার্যকলাপ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, নিউরোমাসকুলার রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শরীরে পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইসে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে। অ্যাপলের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে স্বাস্থ্য ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধার ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচ বা অন্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে কোনো ইমপ্ল্যান্ট বসানো ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে সোনেরা অধিগ্রহণের পর অ্যাপল ঠিক কোন পণ্যে বা কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিভাগে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে চৌম্বকীয় সেন্সর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ম্যাটেরিয়ালস ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রয়েছে। সায়ীফ সালাহউদ্দিনের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সম্মাননা দেন। প্রাথমিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সোনেরার নির্দিষ্ট সম্পদ অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ও ছিল। অধিগ্রহণের পর সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়। সোনেরার প্রযুক্তি এখনো ব্যাপক ভোক্তা ব্যবহারের পণ্য হিসেবে বাজারে আসেনি। তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের চৌম্বকীয় সংকেত ছোট আকারের সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করার সক্ষমতা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের আগ্রহের বিষয়।
মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা। গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন। শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না। ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।