ফিলিস্তিনি

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সংগ্রামে ইরানের অবিচল সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করল হামাস

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের চলমান সংগ্রামে ইরানের ধারাবাহিক ও দৃঢ় সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। গত বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সিনিয়র সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। টেলিফোন আলাপের সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।   পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি তেহরানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের অবিচল অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকারও প্রশংসা করেন এই শীর্ষ হামাস নেতা। বাসেম নাইম জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরান দীর্ঘদিন ধরে যে নীতিগত অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি যে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আসছে, তা স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।   ফোনালাপে হামাসের এই সমর্থনসূচক ও ইতিবাচক অবস্থানের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের এই ন্যায্য দাবির পক্ষে সবসময় শক্তভাবে পাশে থাকবে।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা এবং সেখানকার চরম অমানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি ইরান সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী পক্ষ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান নিয়মিতভাবে এই বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরছে।   ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।   বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   আলোচনায় বাসেম নাইম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।   ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাসেম নাইম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ইরানের যে অবস্থান, তা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।   অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।   আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইরান নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরছে।   তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও হামাসের এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এতে আরও জোরালো হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা l ছবি: সংগৃহীত
গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান আল জাজিরার

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেটওয়ার্কটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এই বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।   সম্প্রতি মধ্য গাজার আল-বুরেজ শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় আল জাজিরা মুবাশিরের ক্যামেরাম্যান আহমেদ ওয়াশাহ নিহত হওয়ার পর এই বিবৃতি দেওয়া হলো। আল জাজিরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।   বিবৃতিতে আল জাজিরা গভীর শোকের সাথে উল্লেখ করে, নিহত ক্যামেরাম্যান আহমেদ ওয়াশাহর ভাই মোহাম্মদ ওয়াশাহও একই নেটওয়ার্কের একজন সংবাদদাতা ছিলেন এবং মাত্র দুই মাস আগে তিনিও ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারান। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া এই আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কেবল আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কেরই ১২ জন কর্মী নিহত হয়েছেন।   ইসরাইলি দখলদার বাহিনী গাজায় কর্মরত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে যে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে, তাকে 'সত্যের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা' বলে আখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে শত বাধা, প্রাণনাশের হুমকি এবং স্বজন হারানোর বেদনার মাঝেও গাজার প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আল জাজিরা তাদের সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।   গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিক নিহতের এই সংখ্যা বিশ্ব ইতিহাসে যেকোনো সংঘাতের তুলনায় সর্বোচ্চগুলোর একটি।   গাজার মিডিয়া অফিস তাদের বিবৃতিতে একে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠ স্তব্ধ করা এবং বিশ্বের কাছে সত্য পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত করার একটি পদ্ধতিগত ও পরিকল্পিত নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি লঙ্ঘন করে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিককে অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং ইসরাইলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে এখনো তিন সাংবাদিক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি চার শতাধিক সাংবাদিক এসব হামলায় আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অঙ্গহানি হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনসহ নিহত ৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার এক ক্যামেরাপারসন ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্য গাজার একটি বাড়িতে চালানো হামলায় আল জাজিরার সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি।   আল জাজিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় তাদের সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হওয়া একটি জঘন্য ঘটনা। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক ঘটনার অংশ।   অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, আহমেদ উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার স্নাইপার ছিলেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ৭ জন নিহত হয়েছেন।   মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলায় উইশাহসহ আরও দুজন নিহত হন। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধার সংস্থার বরাতে জানা যায়, নিহত অন্য দুজনকেও হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।   উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই আল জাজিরার আরেক সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উইশাহ গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছিল।   অন্যদিকে গাজার সাবরা এলাকায় রাতভর আরেকটি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে আরও জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশুও রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নরওয়ে

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নরওয়ে সরকার। শুক্রবার (১৯ জুন) নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নরওয়ের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোভাবেই অবৈধ বসতি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখা উচিত নয়, কারণ ইসরায়েলের এই উপনিবেশিক নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।   নরওয়ে সরকারের প্রস্তাবিত এই নতুন বিল অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড—গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বসতিতে সম্পত্তির কেনাবেচা, নির্মাণ বা সংস্কার সংক্রান্ত কোনো ধরনের পরিষেবা দেওয়া এবং সেখানে প্রধান কার্যালয় বা উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এমন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই খসড়া বিলটির ওপর প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে অসলো প্রশাসন।   নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চান। কারণ এসব বসতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত এই বিলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনের বৈধ সীমানায় ফিলিস্তিনিদের যেকোনো বৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার সঙ্গে নরওয়ের সম্পর্ক ও বাণিজ্য আগের মতোই নির্বিঘ্নে অব্যাহত থাকবে।   উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য না হয়েও ২০২৪ সালে আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের সঙ্গে একযোগে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল নরওয়ে। বর্তমানে আয়ারল্যান্ড ইইউভুক্ত ২৭টি দেশকে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে রাখা ইসরায়েলের এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
লিডসে আয়োজিত চ্যারিটি ওয়াকে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা । ছবি: সংগৃহীত
গাজার অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াতে লিডস শহরের শিশুদের মানবিক উদ্যোগ

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে।   গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।   পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।   আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে।   পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।   গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামের মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার রামাল্লার উত্তরে জিলজিলিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।   ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা মসজিদে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পান। তাদের পর্যবেক্ষণে মসজিদের ছাদ, দেয়াল ও মেঝে কালো হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান ওসামা আবদুল্লাহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদের ওজু করার কক্ষে আগুন দেয় এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লিখে রেখে যায়। তার ভাষায়, মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে এবং মূল দরজা বন্ধ থাকায় নিচতলার অংশে আগুন লাগানো হয়।   এএফপির সাংবাদিকদের তথ্যানুযায়ী, মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা দেখা গেছে, যেখানে “প্রতিশোধ” এবং “হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা” লেখা ছিল। হিলটপ ইয়ুথকে পশ্চিম তীরে সক্রিয় একদল উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।   স্থানীয় কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লাহ আরও জানান, মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারীরা প্রবেশ করেছিল। তবে মসজিদের দরজা বন্ধ থাকায় তারা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ওজু করার কক্ষেই আগুন দেয়। ঘটনার পর ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মী, স্থানীয় তরুণ এবং আশপাশের বাসিন্দারা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা কানাডার

কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।   শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘প্যারিস কল ফর দ্য টু-স্টেট সল্যুশন’ সম্মেলনে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Anita Anand এ ঘোষণা দেন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং ভবিষ্যতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেন।   কানাডার বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই সহায়তা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি মানবিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।   এই অর্থের মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পুষ্টি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে এসব অঞ্চলে মানবিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে আসছে।   নতুন এ বরাদ্দের ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার মোট সহায়তার পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার সংকট বাড়তে থাকায় কানাডা ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়িয়ে আসছে।   এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা করছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যৌথভাবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক শান্তি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।   ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ফান্ড’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা আগামী তিন বছরে প্রত্যেকে ১০ লাখ পাউন্ড করে অর্থায়ন করবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও এই তহবিলে অবদান রাখার সুযোগ থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের প্রশ্নও এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।   কানাডার নতুন সহায়তা ঘোষণা সেই দুই দিককেই সমর্থন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, অন্যদিকে ভবিষ্যতে একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।   প্যারিস সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে একাধিক পশ্চিমা দেশ। এ সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা এবং সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও নরওয়ে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) ঘোষিত এই পদক্ষেপের আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছে।   চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তারা একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।   ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচসহ কয়েকজন বসতি নেতা এবং মোট ২১ জন বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে।   যুক্তরাজ্য মূলত অর্থপ্রবাহ বন্ধে জোর দিয়ে একটি নির্মাণ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাও একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।   কূটনীতিকদের মতে, পশ্চিম তীরে চলমান এই সহিংসতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।   অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং এটি আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বসতি স্থাপনের বিষয়টিকে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে।   পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান, তবে নতুন এই বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনে সহিংসতার জেরে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচের ওপর ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি ও অবৈধ বসতি স্থাপনে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ একাধিক নেতার ফ্রান্সে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই যৌথ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং নরওয়ের মতো দেশগুলোর সাথে একযোগে নেওয়া এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো— পশ্চিম তীরে যারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং ঔপনিবেশিক তৎপরতা আরও জোরালো করছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। ফ্রান্সের এই নতুন নির্দেশনার ফলে অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ ছাড়াও ইসরায়েলের চারজন প্রভাবশালী বসতি স্থাপনকারী (সেটলার) সংগঠনের নেতা এবং ২১ জন উগ্রপন্থী সেটলার ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না।   বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মোট্রিচের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি এই মন্ত্রী সক্রিয়ভাবে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে নিরলস প্রচার চালাচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে এমন দাবিও করছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে নতুন করে অবৈধ বসতি তৈরি, গাজা পুনরুপনিবেশকরণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার মতো নীতিকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে যাচ্ছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো সতর্ক করে বলেন, স্মোট্রিচের এসব কট্টরপন্থী নীতি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ, যারা ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তারা কোনোভাবেই এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারে না। মূলত শান্তি প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ থেকেই ফ্রান্স এবং তার অংশীদার মিত্ররা মিলে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করল ইসরায়েল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং কেরেম শালম ও রাফা পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক প্রশাসনিক সংস্থা ‘কো-অর্ডিনেটর অব গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ ইন দ্য টেরিটোরিজ’ (কোগাট) রোববার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   কোগাটের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কেরেম শালম ও রাফা ক্রসিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই দুই সীমান্তপথ দিয়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে।   গাজার জন্য কেরেম শালম ও রাফা ক্রসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জরুরি মানবিক সহায়তা সরবরাহের বড় অংশই এই পথ দিয়ে প্রবেশ করে। ফলে ক্রসিং দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাজায় চলমান মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই সময় দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথগুলো কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে গাজায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণ সংস্থা বারবার সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমান্তে বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এদিকে ইরান জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে তারা ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।   এর আগে শনিবার বৈরুতে পরিচালিত ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, ইসরায়েল, লেবানন এবং গাজাকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে গাজার সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।   আল জাজিরা ও সিএনএনের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধের ফলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও নতুন করে বাধা তৈরি হতে পারে, যা ইতোমধ্যে সংকটে থাকা গাজার লাখো বাসিন্দার জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ওনস জাবেউর
গাজা ইস্যু ও টেনিস কোর্টে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সোচ্চার তিউনিসিয়ান তারকা জাবেউর

বিশ্ব টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের সাবেক দুই নম্বর তারকা ও তিউনিসিয়ান গর্ব ওনস জাবেউর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার শুধু র‍্যাকেট হাতে নয়, বরং মানবতার পক্ষে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিগত জীবনের নতুন এক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি, টেনিসে লিঙ্গবৈষম্য এবং প্রথম সন্তান জন্মের পর কোর্টে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এই ‘মিনিস্টার অফ হ্যাপিনেস’। গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাবেউর বলেন, "একজন অ্যাথলেট হিসেবে কথা বলাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যখন শিশুদের ক্ষুধার্ত থাকতে দেখি বা নিরপরাধ মানুষদের প্রাণ হারাতে দেখি, তখন টেনিস কোর্টের জয়-পরাজয় গৌণ হয়ে যায়।" গাজা ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেনিস বিশ্বে নারীদের সমান অধিকার এবং লিঙ্গবৈষম্য নিয়েও মুখ খুলেছেন এই তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালিস্ট। টেনিসের বড় আসরগুলোতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রচারের ক্ষেত্রে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে জাবেউর এখন এক নতুন রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। তিনি প্রথমবারের মতো মা হতে চলেছেন। তবে মা হওয়া মানেই যে ক্যারিয়ারের ইতি, তা মানতে নারাজ এই তিউনিসিয়ান। কিম ক্লিইস্টার্সের মতো কিংবদন্তিদের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, মা হওয়ার পর আরও শক্তিশালী হয়ে টেনিস কোর্টে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জাবেউর বলেন, "আমি নিজেকে সময় দিতে চাই, দেখতে চাই আমার শরীর কীভাবে সাড়া দেয়। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই আবারও টেনিস র‍্যাকেট হাতে ফিরব এবং আগামী কয়েক বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।" তার এই ঘোষণা ভক্তদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রভাবশালী এই অ্যাথলেট আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল একজন খেলোয়াড় নন, বরং এক বৈশ্বিক পরিবর্তনের দূত।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইনাম আল-দাহদুহ
অন্তহীন প্রতীক্ষা: ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তিন সন্তানকে নিয়ে গাজাবাসী এক মায়ের আর্তনাদ

গাজার এক অস্থায়ী তাবু। ভেতরে বসে আছেন ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ইনাম আল-দাহদুহ। কোলে তার ছয় নাতি-নাতনি। হাতে একটি ছবি—যাতে রয়েছে তার আদরের তিন ছেলের মুখ। আজ ১৭ এপ্রিল, ফিলিস্তিনি বন্দি দিবস। কিন্তু ইনামের জন্য এই দিনটি উৎসবের নয়, বরং সীমাহীন যন্ত্রণার। গত দুই বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি তার তিন সন্তান মাহমুদ, আলা এবং দিয়া। তারা বেঁচে আছেন কি না, কেমন আছেন—তার কোনো সঠিক উত্তর নেই এই মায়ের কাছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে নিজ বাড়ি থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে নিহত হন ইনামের স্বামী নাঈমও। এরপর থেকে যাযাবর জীবন আর সন্তানদের ফেরার প্রতীক্ষায় দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। তবে ইনামের উদ্বেগ এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে। ইনাম বলেন, "ক্ষুধা, কষ্ট বা নির্যাতন—সবই হয়তো ওরা সহ্য করে নেবে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড? একজন মা হিসেবে এই আতঙ্ক নিয়ে আমি কীভাবে শান্তিতে থাকি?" বন্দি অধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯,৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। এদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশুও রয়েছে। কারাগারের ভেতর অমানবিক পরিবেশ এবং বন্দিদের মৃত্যুর খবরে ইনামের মতো হাজারো ফিলিস্তিনি মা আজ দিশেহারা। ইনম তার বড় ছেলে মাহমুদের সন্তানদের পবিত্র কোরআন শেখাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ছেলেরা নির্দোষ এবং একদিন তারা ফিরে আসবে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার আকুতি, "একজন বন্দিরও বেঁচে থাকার এবং সম্মানের অধিকার আছে। এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে বিশ্বকে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে।"

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস
জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কার করার দাবি তুরস্কের

ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ফিরলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলে ফ্রান্সে কারাবন্দী সেই ইরানি তরুণী

ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার জেরে ফ্রান্সে এক বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ইরানি নাগরিক মাহদিয়া এসফানদিয়ারি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মাহদিয়া এসফানদিয়ারি ২০১৮ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছিলেন এবং লিঁও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সেখানে অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের অভিযানের পর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনলাইনে সরব হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদে উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। তেহরানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদিয়া ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সবার কাছে এখন এটা পরিষ্কার যে, অন্তত ফ্রান্সে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আদালতের রায়টি ছিল চরম অন্যায়।” উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁর ওপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। মাহদিয়ার এই মুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন এক সপ্তাহ আগেই ইরান তাদের দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দী দুই ফরাসি নাগরিক সিসিল কোহলার এবং জ্যাক প্যারিসকে মুক্তি দিয়েছে। যদিও ফ্রান্স সরাসরি এটিকে ‘বন্দী বিনিময়’ হিসেবে স্বীকার করেনি, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা আগেই জানিয়েছিল যে, ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে মাহদিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফ্রান্সে মাহদিয়ার মুক্তির দাবিতে এর আগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সামনে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতি
ইসরায়েলি কারাগারে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা'র ওপর অমানবিক নির্যাতন

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতির ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের খবর নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী। সম্প্রতি বারঘোতির সাথে কারাগারে দেখা করার পর আইনজীবী বেন মারমারেলে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তার মক্কেল অন্তত তিনবার বড় ধরনের সহিংস হামলার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী মারমারেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই পরিস্থিতিকে "গভীর উদ্বেগজনক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪শে মার্চ বারঘোতির সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কুকুর লেলিয়ে দেয় ইসরায়েলি কারারক্ষীরা। এছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। মারমারেলে বলেন, "এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত নির্যাতনের অংশ। সহিংসতা এবং সুচিকিৎসার অভাব তার জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।" উল্লেখ্য, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০২ সালে ইসরায়েল বারঘোতিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বারঘোতি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা এবং অনেকেই তাকে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা' হিসেবে গণ্য করেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব: আল-আকসা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা

বিশ্ববাসীর নজর যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, ঠিক তখনই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সেটেলাররা (দখলদার বসতি স্থাপনকারী)। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার একাধিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালেই ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া পাহারায় উগ্রপন্থী ইহুদি সেটেলাররা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উসকানিমূলক তালমুডিক আচার অনুষ্ঠান পালন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, হেব্রন শহরের উত্তর-পূর্বে আশ-শুয়ুখ নামক এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় সশস্ত্র সেটেলাররা। তবে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী হেব্রন শহরের কেন্দ্রস্থল সিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে বুরকা গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ৬২ ও ২৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া জেরিকোর উত্তরে আইন আল-আউজা ঝরনার কাছে পানির পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেটেলাররা এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে কৃষি জমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে এই হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় পশ্চিম তীরে চরম মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আল-আকসার পবিত্রতা লঙ্ঘন করলেন ইসরায়েলি মন্ত্রী, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের তীব্র নিন্দা

ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বিন-গভির আবারও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) কড়া পুলিশি পাহারায় তার এই সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'উস্কানিমূলক' এবং 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে। আল-আকসা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এক ভিডিও বার্তায় বিন-গভির বলেন, "আজ নিজেকে এখানে মালিক (কর্তা) বলে মনে হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, এই স্থানে ইহুদিদের প্রার্থনা ও যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। দশক পুরোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা (স্ট্যাটাস কু) অনুযায়ী, জর্ডানের তদারকিতে থাকা আল-আকসা প্রাঙ্গণে অমুসলিমরা কেবল পর্যটক হিসেবে প্রবেশ করতে পারেন, কিন্তু সেখানে তাদের প্রার্থনা করার কোনো অধিকার নেই। বিন-গভিরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরের সময় মন্ত্রী সেখানে প্রার্থনাও করেছেন, যা দীর্ঘদিনের বিদ্যমান নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিন-গভিরের এই পদক্ষেপ পবিত্র স্থলের অবমাননা এবং এটি একটি অগ্রহণযোগ্য উস্কানি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট করবে। উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের কাছে এটি 'টেম্পল মাউন্ট' নামে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিন-গভিরের এ ধরনের সফরের পর বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অতীতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, আল-আকসার স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে তার সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপিলও খারিজ! যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার কলম্বিয়া শিক্ষার্থী মাহমুদ খালিলকে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনি প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার মাহমুদ খালিলের সর্বশেষ আপিলও খারিজ করেছে বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন অ্যাপিলস এর ফলে নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের বাস্তব ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।   খালিলের আইনজীবীদের বরাতে জানা যায়, অভিবাসন আপিল বোর্ড বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ফাইনাল অর্ডার অফ রিমুভাল জারি করেছে। সাধারণত এই বোর্ডের সিদ্ধান্তগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।    ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব এই শিক্ষার্থী রায়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। এক বিবৃতিতে খালিল অভিযোগ করেন, আমি যে একমাত্র কাজ করেছি তা হলো ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা। আমাকে শাস্তি দিতে এই প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে।   তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায় সত্ত্বেও খালিলকে এখনই আটক বা বহিষ্কার করা সম্ভব নয়। কারণ, তিনি একই সঙ্গে ফেডারেল আদালতে একটি পৃথক মামলা লড়ছেন, যা এখনো বিচারাধীন। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহিষ্কার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধুমাত্র একটি অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয় নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম অভিবাসন আইন প্রয়োগ—এই জটিল প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যুতে সোচ্চার বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আদালতগুলোতে কঠোরতা বৃদ্ধি, আপিল খারিজের হার বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলাগুলোতে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। মাহমুদ খালিলের মামলাটি সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়: উত্তাল লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড। আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।" আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
আর্থিক সংকটে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড, থমকে যেতে পারে গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ 'শান্তি বোর্ড' (Peace Board) তীব্র অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই সংকটের কারণে গাজা উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন হাতে নিয়েছিল, তা কার্যত থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রয়টার্সের শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প গাজা নিয়ে যে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল এই শান্তি বোর্ড। তবে দাতাগোষ্ঠী এবং মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ অর্থ সহায়তা না পাওয়ায় বর্তমানে বোর্ডটি তহবিল সংকটে ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অংশীদারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কী—এমন রাজনৈতিক জটিলতার কারণে অনেক দেশই বড় অংকের বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে। ট্রাম্পের এই 'গাজা পরিকল্পনা'র অন্যতম লক্ষ্য ছিল দ্রুত সময়ের মধ্যে গাজা উপত্যকায় আধুনিক আবাসন, ব্যবসায়িক কেন্দ্র এবং অবকাঠামো নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তহবিলের অভাবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং প্রাথমিক কারিগরি কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত সমাধান চাইলেও আর্থিক বাস্তবতা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি বোর্ড যদি শিগগিরই বড় কোনো বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে না পারে, তবে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, যা ওই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এপ্রিলের এই সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মাঝে গাজার এই পুনর্গঠন প্রকল্প ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অর্থ ছাড় না হলে এই পরিকল্পনা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ডধারীদের বিদেশ থেকে ফেরার পথে বাড়তে পারে জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০