ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
ইতালির কাছে দেশের বড় ব্যাংক বিক্রি করবে না জার্মানি

ইতালীয় ব্যাংক ইউনিক্রেডিটের পক্ষ থেকে জার্মানির কমার্সব্যাংক কিনে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মান সরকার। মঙ্গলবার জার্মানির অর্থ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইউনিক্রেডিটের দেওয়া প্রস্তাবিত মূল্য অত্যন্ত কম এবং তাদের শেয়ার কেনার আগ্রাসী পদ্ধতি নিয়ে বার্লিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। কমার্সব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য দুই ব্যাংকের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা লড়াইয়ের পর অবশেষে জার্মানি এই চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাংক স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমর্থন পেল।   ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে জার্মানির সরকারের কাছে কমার্সব্যাংকের প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। শুরু থেকেই জার্মান সরকার ইউনিক্রেডিটের এই একীভূতকরণের বা জোরপূর্বক ব্যাংক ক্রয়ের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। জার্মানির অর্থ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইউনিক্রেডিটের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ তারা কমার্সব্যাংকের বর্তমান শেয়ার বাজারের মূল্যের ওপর উপযুক্ত বা আকর্ষণীয় কোনো প্রিমিয়াম বা বাড়তি মূল্য দেওয়ার প্রস্তাব করেনি।   জার্মান সরকারের এই ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের কমার্সব্যাংকের সুপারভাইজরি বোর্ডে একাধিক আসন নিশ্চিত করে, যা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অর্থ সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, তারা কমার্সব্যাংকের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার পক্ষেই সম্পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। জার্মানির মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা 'মিতেলস্ট্যান্ড' কোম্পানিগুলোর অর্থায়নে এবং দেশটির প্রধান আর্থিক কেন্দ্র ফ্রাঙ্কফুর্টের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কমার্সব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে।   এরই মধ্যে কমার্সব্যাংকের কর্মীদের একটি পরিষদের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে ফ্রাঙ্কফুর্টের সরকারি আইনজীবীরা বাজার কারসাজির একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। ইউনিক্রেডিট কর্তৃক বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কমার্সব্যাংকের শেয়ার কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত রোববার এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। ইউনিক্রেডিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা এই তদন্তের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে। আইনি জটিলতার এই পরিস্থিতির মধ্যে ইউনিক্রেডিট এবং কমার্সব্যাংকের শেয়ারের মূল্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর কমার্সব্যাংকের শেয়ারের দাম ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে কমার্সব্যাংকের শেয়ার ৩৬.৫৩ ইউরোতে লেনদেন হচ্ছে, অন্যদিকে ইউনিক্রেডিটের শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬.৯৭ ইউরোতে। ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাব অনুযায়ী, কমার্সব্যাংকের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ইউনিক্রেডিটের ০.৪৮৫টি নতুন শেয়ার দেওয়ার কথা, যা হিসাব করলে কমার্সব্যাংকের প্রতি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭.৩৩ ইউরো। শেয়ারের এই ওঠানামার কারণে ইউনিক্রেডিটের প্রস্তাবটি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশ অনাকর্ষণীয় হয়ে পড়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি
ইরানের চার প্রধান ব্যাংকে হ্যাকারদের হামলা, রক্ষা পেল গ্রাহকদের গোপন তথ্য

ইরানের অন্তত চারটি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকে সীমিত আকারের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। আকস্মিক এই সাইবার আক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সেবা ব্যাহত হলেও কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য চুরি বা খোয়া যায়নি বলে জোরালোভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ।   রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে। ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মূলত ব্যাংকগুলোর একটি যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই সাইবার হামলাটি চালানো হয়েছিল।   আকস্মিক এই সাইবার হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক সাদোরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান। সাইবার আক্রমণের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ইরানের বিশেষ কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি দলগুলো দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার ফলে সাময়িকভাবে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।   বিবৃতিতে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে আরও বলা হয়েছে যে, এই সাইবার হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা গ্রাহকদের কোনো ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পায়নি। অত্যন্ত সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কারণে মূল ডেটাবেজ থেকে কোনো তথ্য মুছে ফেলাও সাইবার অপরাধীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।   বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সার্বিক অনলাইন কার্যক্রম ও গ্রাহক সেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে। দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ গ্রাহকদের লেনদেনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকদের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: জেনে নিন আপনি এই অর্থ পাবেন কি না

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের বর্তমান ও সাবেক লাখো গ্রাহকের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের নামকরণে বিভ্রান্তি এবং গ্রাহকদের প্রাপ্য সুদ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই বড় অংকের সমঝোতায় পৌঁছেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্যাপিটাল ওয়ান একই ধরনের নামের দুটি ভিন্ন সেভিংস অ্যাকাউন্ট চালু করে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে, যার ফলে অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষাকৃত কম সুদের অ্যাকাউন্টে নিজেদের অর্থ জমা রাখতে বাধ্য হয়েছেন।   মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্যাপিটাল ওয়ান তাদের গ্রাহকদের জন্য '৩৬০ সেভিংস' এবং '৩৬০ পারফরম্যান্স সেভিংস' নামে দুটি পৃথক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছিল। নাম দুটি প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন ছিল যে কোনটিতে সুদের হার বেশি। এর ফলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের অজান্তেই কম সুদের '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যেখানে অন্য অ্যাকাউন্টটিতে অনেক বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল। এই স্বচ্ছতার অভাবকেই মামলার প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।   এই বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব গ্রাহক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ থেকে ১৬ জুন ২০২৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে ক্যাপিটাল ওয়ান-এর '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন, তারা এই তহবিলের অর্থ পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। বর্তমান গ্রাহকদের পাশাপাশি যারা এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন, তারাও এই ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ পাবেন। এটি মূলত সেই সব গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি যারা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক কৌশলের কারণে লোকসানের শিকার হয়েছেন।   আপনি এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করা এখন অত্যন্ত সহজ। ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকরা তাদের মোবাইল অ্যাপ বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে সরাসরি অ্যাকাউন্টের ধরন পরীক্ষা করতে পারেন। অ্যাপে প্রবেশের পর সেভিংস অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করে 'অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস' থেকে 'ভিউ অল' অপশনে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টের সঠিক নাম দেখা যাবে। এছাড়া যারা বর্তমানে ব্যাংকটির গ্রাহক নন, তারা তাদের পুরনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ইমেইল চেক করে নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা উল্লিখিত সময়ের মধ্যে '৩৬০ সেভিংস' অ্যাকাউন্টের আওতাভুক্ত ছিলেন কি না।   ক্ষতিপূরণের অর্থের পরিমাণ প্রতিটি গ্রাহকের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। ব্যাংকের সূত্রমতে, গ্রাহক কতদিন ধরে উক্ত অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেছেন, তার অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ কত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মোট কতজন গ্রাহক এই অর্থের জন্য দাবি পেশ করছেন—এই তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাঠানো শুরু হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলাদা করে আবেদনের প্রয়োজন না হলেও, নিজের অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরলেন

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদে নতুন করে যোগ দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা নাজনীন আহমেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতাবলে ৩১ মার্চ তাদের দুজনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।   রবিবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৫৪১তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় নতুন পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মুখলেসুর রহমান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. জুলকার নায়েন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক মুনীর আহমেদ চৌধুরী।   তাবিথ আউয়াল ব্যাংকিং, বীমা, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি, কৃষি, টেক্সটাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুপরিচিত উদ্যোক্তা। তিনি বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি।   যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাবিথ আউয়াল। নাজনীন আহমেদ ডাই অ্যাফিন লিমিটেড ও অফিসিনা বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।   এর আগে চব্বিশের আন্দোলনের পর ন্যাশনাল ব্যাংকে ফিরে এসেছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। এরপর ২ মার্চ অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ফটো।
রোববার থেকে ব্যাংকের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন: জেনে নিন নতুন নিয়ম

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সকল ব্যাংকের লেনদেন ও অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল রোববার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নতুন নিয়ম।  দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, আগের তুলনায় গ্রাহকরা লেনদেনের জন্য এক ঘণ্টা সময় কম পাবেন। এর আগে ব্যাংকগুলোতে সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লেনদেন চলত এবং দাপ্তরিক কাজ চলত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। বর্তমানের নতুন সূচিতে অফিস এবং লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে শুক্র ও শনিবার আগের মতোই বহাল থাকছে।  গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে এবং নতুন সময়ের সাথে অভ্যস্ত হতে ব্যাংকিং কার্যক্রমের এই পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
এপ্রিলের মধ্যে এনডিএ চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ গভর্নরের
পাঁচ ব্যাংকের পাচার অর্থ ফেরত: এপ্রিলের মধ্যে এনডিএ চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশ গভর্নরের

একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি এপ্রিলের মধ্যে বিদেশি আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি (এনডিএ) সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।   বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের এ নির্দেশ দেন। আলোচ্য ব্যাংকগুলো হলো: সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম চারটি ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যারা ঋণের নামে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এক্সিম ব্যাংক পরিচালিত হতো নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের অধীনে, যাদের ঋণ রয়েছে ৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।   ছয়টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক ৩৬টি এনডিএ চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো: এস আলম গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ এবং নাসা গ্রুপ।   এস আলম গ্রুপের অর্থ উদ্ধারে ১০টি এনডিএ চুক্তি করা হবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে তিনটি সম্পন্ন হয়েছে। আরামিট গ্রুপের জন্য ইউসিবি ব্যাংক ছয়টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যেখানে ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ ৫৩ হাজার ৪২ কোটি টাকা, যা মূলত জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রুপের সম্পদের খোঁজ ও উদ্ধার জনতা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে রয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যে ৯টি এনডিএ চুক্তি হয়েছে। সিকদার গ্রুপের বিরুদ্ধে ৯টি এনডিএ সম্পন্ন হয়েছে, ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। নাসা গ্রুপের বিরুদ্ধে ৮টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ ১০ হাজার ১২ কোটি টাকা, যেখানে একটি এনডিএ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।   গভর্নর বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং দেশীয় সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকগুলো সচল রাখতে হবে।   ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সর্বোচ্চ ৯৭.৬৪ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৬.৪৩ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৬.২৭ শতাংশ এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৮.৩৮ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছে এক্সিম ব্যাংক, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৬২.৪৫ শতাংশ।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০