বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংককে অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে সতর্ক থাকার জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) জারি করা সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয়, শাখা ও উপশাখায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের ওপর একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, লাইট, ফ্যান ও এসি শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে। দিনের আলো বেশি ব্যবহার করা এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না। সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভ্রমণ কমাতে হবে। কর্মকর্তাদের গণপরিবহণ বা কার-শেয়ারিং ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। জেনারেটরের জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জা ও ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে আর্থিক খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার সম্পর্কিত পূর্বের নির্দেশনাও কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নগদ অর্থপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত অনেক মানুষ ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। এতে তাঁদের যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি যাঁরা প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার–প্রচারণায় যুক্ত, তাঁদের ব্যয়ও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। প্রার্থী, দলীয় নেতা–কর্মী, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচনী ব্যয়ের কারণে সারা দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নির্বাচনকে ঘিরে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ায় লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুব রহমানের মতে, নির্বাচন উপলক্ষে মানুষের নিজ এলাকায় যাওয়া ও প্রচারণামূলক ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই সাময়িকভাবে নগদ উত্তোলন বেড়েছে। তাঁর ধারণা, নির্বাচন শেষ হলে এই অর্থের বড় অংশ আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগের সময়েও ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ বাড়তে দেখা যায়। তখন কিছু ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যায়। সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে এবং ব্যাংকে আমানত বাড়তে শুরু করে। তবে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগের সময় আবারও কিছু অর্থ ব্যাংকের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ধীরে ধীরে কমেছিল। জুলাইয়ে যা ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, তা আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পর্যায়ক্রমে কমে নভেম্বর নাগাদ ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটির ঘরে নেমে আসে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনে নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাবে এক দিনে মোট ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে (অনলাইন ও এটিএমসহ) তা নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) হিসেবে জমা দিতে হবে। আপাতত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এসব প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য না দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাচ্ছে এবং একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির হিসাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ভোটার প্রভাবিত করার আশঙ্কা কমাতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা এবং অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জানুয়ারির তুলনায় চলতি মাসে কিছু ব্যাংকে নগদ উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এটিএম বুথ থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই টাকা তোলা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের বিদ্যমান ঋণের মেয়াদকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে গৃহঋণ পুনঃতপশিল করতে পারবে। তবে সর্বশেষ কিস্তি গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই সীমা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতো। নতুন এই নির্দেশনা সব ব্যাংকে সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণভাবে গৃহনির্মাণ ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ হয়। ২০২২ সালে গৃহঋণের পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসারে, ১০০ কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃতপশিলের পর সর্বোচ্চ ছয় বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যেত। তবে এই নিয়মের কারণে অনেক সময় ঋণের শোধের সময় কমে যেতে পারতো এবং গ্রাহক সব সময় ঋণের মেয়াদ বাড়াতে পারতেন না। তাই নতুন নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃতপশিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। প্রথম দফায়, অবশিষ্ট মেয়াদ অনুযায়ী ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ঋণের শেষ কিস্তি পরিশোধে ১০ বছর বাকি থাকে, তবে প্রথম দফায় আরও ৩ বছর বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয় দফায় ২০ শতাংশ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় অবশিষ্ট মেয়াদ সমপরিমাণ বাড়ানো যাবে। তবে কোনোভাবেই ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ মূল ঋণ মঞ্জুরির সময়ের চেয়ে বেশি হবে না। এছাড়া শেষ কিস্তির তারিখ কখনোই গ্রাহকের ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুনঃতপশিল ঋণ অধিগ্রহণে পূর্ববর্তী পুনঃতপশিলের ক্রম অনুসরণ করতে হবে এবং গ্রাহকের থেকে একটি ঘোষণাপত্র নেওয়া আবশ্যক। পুনঃতপশিলের আগে মূল ঋণ মঞ্জুরির সব প্রযোজ্য শর্ত এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন পূর্ণ করতে হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) সারা দেশে সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৫ জানুয়ারির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দুই দিনে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস