- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন (আইএলআর) পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। দেশটিতে বসবাসের নির্দিষ্ট সময় পূরণের পাশাপাশি চাকরি, বেতন, বৈধ ভিসা এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কর্মরত অধিকাংশ বাংলাদেশি—বিশেষ করে স্কিলড ওয়ার্কার ও সংশ্লিষ্ট কর্মভিত্তিক ভিসাধারীদের—সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে। তবে শুধু পাঁচ বছর পূর্ণ করলেই আবেদন অনুমোদন নিশ্চিত হয় না; অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। কেন বাংলাদেশিদের জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম স্কিলড ওয়ার্কার, হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ওয়ার্কার, ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপারসনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত রয়েছে।এসব ভিসাধারীকে নির্ধারিত চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হয়। ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি যদি স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করেন, তাহলে তার ভিসার শর্ত অনুযায়ী চাকরি ও আয়ের যোগ্যতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বসবাসের সময়ের হিসাবেও নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর প্রতি ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের সময় ১৮০ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী নিয়ম থাকতে পারে। কিছু বাংলাদেশি তিন বছর পরও আবেদন করতে পারেন সব কর্মীর জন্য পাঁচ বছরের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারীদের কেউ কেউ তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। একইভাবে ইনোভেটর ফাউন্ডার ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসার কার্যক্রম ও নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি কোন ভিসায় যুক্তরাজ্যে গেছেন, সেই ভিসার অধীনে কী ধরনের কাজ করছেন এবং নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করছেন কি না—তার ওপরই মূলত স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা নির্ভর করবে। বেতন ও চাকরির শর্তও গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময় শুধু বসবাসের মেয়াদ নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ও বেতনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্কিলড ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতনসীমা বা সংশ্লিষ্ট পেশার ‘গোয়িং রেট’ পূরণের শর্ত রয়েছে। তবে পেশা, ভিসা কখন নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী বেতনসংক্রান্ত শর্তে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সব বাংলাদেশি কর্মীর জন্য একই বেতনসীমা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। স্থায়ী বসবাস মানেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নয় ইনডেফিনিট লিভ টু রেইমেইন বা আইএলআর পাওয়ার অর্থ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া নয়। এটি যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস ও কাজের অধিকার দেয়।পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে আলাদাভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে নিজের ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় বসবাসের সময়, চাকরি, বেতন এবং যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থানের হিসাব ঠিক আছে কি না—তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থায়ী বসবাসের নিয়ম সবার জন্য এক নয়। তাই কোনো বাংলাদেশি পাঁচ বছর পূর্ণ করেছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএলআর এর জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসা রুটের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করেই আবেদন করতে হবে।
মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাচ্ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী ডরোথি ফ্লেচার। মাঝআকাশে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। জীবন যখন সংকটে, তখনই ঘটে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। কেবিন ক্রুর চিকিৎসক চেয়ে ঘোষণার পর একে একে উঠে দাঁড়ান ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তাদের দ্রুত চিকিৎসাতেই বেঁচে যান লিভারপুলের এই নারী। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর। ডরোথি ফ্লেচার যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে। ফ্লোরিডায় মেয়ের বিয়েতে যোগ দেওয়াই ছিল এই যাত্রার উদ্দেশ্য। উড়োজাহাজে থাকাকালে হঠাৎ তার তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেবিন ক্রুরা জানতে চান, উড়োজাহাজে কোনো চিকিৎসক আছেন কি না। সেই ঘোষণার পর যে দৃশ্য দেখা যায়, তা ছিল অত্যন্ত বিরল। একসঙ্গে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। তারা সবাই একই উড়োজাহাজে করে অরল্যান্ডোতে একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। চিকিৎসকেরা ডরোথির কাছে গিয়ে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। উড়োজাহাজে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করে তার হাতে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং জীবনসংকটাপন্ন অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। তাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ডরোথির অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়। তার শারীরিক অবস্থার কারণে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। জরুরি অবতরণের পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডরোথি পরে জানান, মুহূর্তটির ভয়াবহতা তিনি তখনো ভুলতে পারেননি। চিকিৎসকেরা একসঙ্গে তার দিকে ছুটে আসার দৃশ্য তাকে বিস্মিত করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসকেরাই তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জীবন বাঁচানো সেই চিকিৎসকদের কারও নামই পরে জানতে পারেননি ডরোথি। তিনি শুধু জানতেন, তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে একটি হৃদরোগ সম্মেলনে যোগ দিতে অরল্যান্ডো যাচ্ছিলেন। হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ডরোথি শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিয়েতেও যোগ দিতে পেরেছিলেন। ঘটনাটির এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার কিসিমির লেক বার্কলেতে অনুষ্ঠিত মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হন তিনি। ঘটনাটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস ঘটনাটিকে সত্য বলে নিশ্চিত করে। তাদের যাচাই অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর ফ্লোরিডাগামী উড়োজাহাজে ডরোথি ফ্লেচারের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং সেখানে থাকা ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তার চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছিলেন। একই সময়ে অরল্যান্ডোতে বড় একটি হৃদরোগবিষয়ক সম্মেলন থাকায় এতজন বিশেষজ্ঞ একই উড়োজাহাজে থাকার বিষয়টিরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ফলে ডরোথির জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তটি একই সঙ্গে পরিণত হয়েছিল অসাধারণ এক সৌভাগ্যের ঘটনায়। মাঝআকাশে হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে একজন চিকিৎসক পাওয়া যেখানে ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে একই উড়োজাহাজে ১৫ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি ডরোথি ফ্লেচারের জন্য কার্যত জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করেছিল।
যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের এক শিশুর জরুরি ফোনে সম্ভাব্যভাবে প্রাণে বেঁচেছেন তার মা। বাড়িতে মা অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটি শান্ত থেকে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে। পরে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মীর সৃজনশীল নির্দেশনায় মা ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। শিশুটির নাম জেমস। তার মা ২৮ বছর বয়সী জর্জিয়া হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং তীব্র পানিশূন্যতার কারণে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় বাড়িতে থাকা জেমস পরিস্থিতি বুঝে জরুরি নম্বরে ফোন করে। ফোনটি ধরেন দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের জরুরি কল গ্রহণকারী জেন। তিন বছরের শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা কঠিন বুঝতে পেরে তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। জেন জানান, শিশুটিকে শান্ত রেখে প্রয়োজনীয় কাজটি বোঝানোর উপায় খুঁজে বের করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। জেন সরাসরি এমন কোনো নির্দেশনা না দিয়ে, যা শিশুটিকে ভয় পাইয়ে দিতে বা বিভ্রান্ত করতে পারে, পরিস্থিতিকে খেলায় পরিণত করেন। তিনি জেমসকে তার মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে গায়ে সুড়সুড়ি দিতে বলেন। এক মিনিটের মধ্যেই এই কৌশল কাজে আসে এবং জর্জিয়া ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। জরুরি কল গ্রহণকারী জেন বলেন, এই ফোনটি তার জন্য আলাদা ছিল। তার মতে, শান্ত থাকা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ করার বিষয়টি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। জর্জিয়া জানান, জেমস সম্ভাব্যভাবে তার জীবন বাঁচিয়েছে, কারণ তিনি জানতেন না কতক্ষণ অচেতন অবস্থায় থাকতে হতো। জ্ঞান ফেরার পর তিনি খুবই অসুস্থ বোধ করছিলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মী তাকে শান্ত করতে সক্ষম হন। জেমসের জরুরি ফোন করার এই জ্ঞান কয়েক মাস আগেই তাকে শেখানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা শেফিল্ডের জরুরি সেবা জাদুঘরে যাওয়ার পর জর্জিয়া ও তার স্বামী জেক তাকে জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখান। সেই শেখানো বিষয়টিই পরে সংকটের মুহূর্তে কাজে লাগে। ঘটনার পর পুলিশ সদস্য জর্ডান কাসিম ও শার্লট রাইট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জর্জিয়ার অবস্থা পরীক্ষা করেন। সাহসী শিশুটিকে পুরস্কৃত করতে কর্মকর্তারা তাকে একটি আসল পুলিশ গাড়ির ভেতরে বসার সুযোগ দেন এবং একটি খেলনা হেলিকপ্টার উপহার দেন। জর্জিয়া বলেন, জেমস যে এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, তা এখনো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি আশা করেন, এই ঘটনা অন্য অভিভাবকদেরও ছোট বয়স থেকেই সন্তানদের জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখাতে উৎসাহিত করবে। জর্জিয়ার মতে, শিশুদের অল্প বয়সেই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার বিষয়ে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংকটের মুহূর্তে এই জ্ঞান জীবন রক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
ফ্রান্সের কালেতে মানব পাচারকারীদের নিয়ে প্রতিবেদন করার পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন সাংবাদিক প্যাট্রিক ক্রিস্টিস। হুমকির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গভীর রাতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এমিলি কারভারকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাদের জানানো হয়, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ক্রিস্টিসের বড় ধরনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সে সময় তাঁর স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ক্রিস্টিস জিবি নিউজের একটি সাময়িক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। গত বছরের জুলাইয়ে তিনি উত্তর ফ্রান্সের কালেতে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের ব্রিটেনে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত পাচারকারীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পাচারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের প্রচার করত। যোগাযোগের স্থান, সময় ও অর্থের পরিমাণ নিয়েও সেখানে তথ্য আদান-প্রদান করা হতো। বিষয়টি জানার পর তিনি কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানোর পাশাপাশি সরাসরি পাচারকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিস্টিস একটি ক্যামেরা দল নিয়ে কালেতে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তিনজন পাচারকারীর মুখোমুখি হন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে ফিরে তিনি টেলিভিশনে সরাসরি অনুষ্ঠান করছিলেন। অনুষ্ঠানের বিরতির সময় তাঁর স্ত্রী ফোন করে জানান, পুলিশ বাড়িতে এসেছে এবং কেউ তাকে হত্যা করতে চায় বলে সতর্ক করেছে। ২৫ জুলাই মধ্যরাতের কিছু পর ক্রিস্টিস বাড়িতে ফেরেন। পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিক প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে জানায়। কর্মকর্তারা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। নিজের গাড়ি ব্যবহার না করে ভাড়ার গাড়িতে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পুলিশ আশঙ্কা করেছিল, তাঁর গাড়িতে বিপজ্জনক কিছু রাখা হয়ে থাকতে পারে। ২৬ জুলাই তাঁর বাড়িতে একটি জরুরি সতর্কসংকেত ব্যবস্থা বসানো হয়। কয়েক দিন পর তাকে ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরও ক্রিস্টিসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। কর্মস্থলে যাওয়া ও ফেরার সময় তাকে নিরাপত্তা দেওয়া শুরু হয়। বাইরে বের হলে পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মবেশ ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল বলেও তিনি জানান। হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলে জর্জের জন্ম হয়। তখনও পরিবারটি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। সন্তান জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও ক্রিস্টিস নতুন এক ঘটনার মুখোমুখি হন। তাঁর দাবি, কালেতে যাদের মধ্যে একজনকে তিনি প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তাদের একজনকে হাসপাতালের কাছে দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি পাচারকারী দলের হয়ে কাজ করতেন এবং তার হাতে বিশেষ নকশার একটি আংটি ছিল। হাসপাতালের বাইরে তিনি একই ধরনের আংটি পরা একজনকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেন। লোকটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকার পর চলে যায়। ক্রিস্টিসের ধারণা, ওই ব্যক্তি কালেতে দেখা একই ব্যক্তি ছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহ পর বাড়িতে থাকা জরুরি সতর্কসংকেত নিয়েও নতুন সমস্যা তৈরি হয়। পুলিশ সেটি সরিয়ে নিতে চেয়েছিল। ক্রিস্টিস জানান, তিনি সেটি রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় সতর্কসংকেতটি প্রায় ১০ দিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি বলেও তিনি জানান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রিস্টিসের প্রাণনাশের আশঙ্কার বিষয়ে যে সতর্কতা দিয়েছিল, তা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে কে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এবং কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। মেট্রোপলিটন পুলিশও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হুমকির কারণে পরিবারটির জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ক্রিস্টিস কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা পান। তাদের বসবাসের এলাকার রাস্তায় রাতে নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এসব নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি মানব পাচারকারীদের নিয়ে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ক্রিস্টিসের দাবি, মানব পাচারকারী চক্রগুলো ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও সক্রিয়। তিনি জানান, যাদের নিয়ে তিনি প্রতিবেদন করেছিলেন, তাদের একজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে দুটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দেখা গিয়েছিল। তাঁর মতে, এসব চক্রের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রাণনাশের হুমকি সত্ত্বেও সাংবাদিকতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা নেই ক্রিস্টিসের। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার উত্তর ফ্রান্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর বক্তব্য, হুমকি দিয়ে তাকে নীরব করা যাবে না এবং মানব পাচার নিয়ে প্রতিবেদন চালিয়ে যাবেন।
যুক্তরাজ্যে ১০ বছরের মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত উরফান শরিফের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। লন্ডনের হাই সিকিউরিটি বেলমার্শ কারাগারে উরফানের ঘাড় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের প্রায় দেড় বছর পর এই চার্জ আনা হলো। ব্রিটিশ ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই বন্দি হলেন ৪৭ বছর বয়সী স্টিভেন স্যানসম এবং ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম ওয়াটসন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেলমার্শ কারাগারে ঘটে যাওয়া ওই হামলার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উরফান শরিফ নিজের সেলে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন। হামলায় ধারালো করে নেওয়া টুনা মাছের ক্যানের ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ঘাড় ও মুখে কেটে যায়। তবে আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না এবং কারাগারের ভেতরেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর উরফানকে বেলমার্শ থেকে কাউন্টি ডারহামের হাই সিকিউরিটি ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের অনেককে এই কারাগারে রাখা হয়। উরফান শরিফ বর্তমানে নিজের ১০ বছর বয়সী মেয়ে সারা শরিফকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে উরফান এবং সারার সৎমা বেইনাশ বাতুলকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। উরফানকে অন্তত ৪০ বছর এবং বেইনাশকে অন্তত ৩৩ বছর কারাগারে কাটানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই মামলায় সারার চাচা ফয়সাল মালিক হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও একটি শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ইংল্যান্ডের সারের ওকিংয়ে পারিবারিক বাড়িতে সারা মারা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাত, হাড় ভাঙা, পোড়ার দাগ এবং কামড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। পোস্টমর্টেমে চিকিৎসকেরা জানান, একাধিক আঘাত ও অবহেলার জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। সারার মৃত্যুর পর উরফান, বেইনাশ এবং ফয়সাল পাকিস্তানে চলে যান। পাকিস্তানে পৌঁছে উরফান নিজেই ব্রিটিশ পুলিশকে ফোন করে মেয়েকে মারধরের কথা জানান। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে এলে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়। মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারক সারা শরিফের ওপর দীর্ঘদিনের নির্যাতনকে সরাসরি ‘নির্যাতন ও যন্ত্রণার ধারাবাহিকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত জানায়, সারার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার ফল ছিল না, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অবহেলা ও বারবার শারীরিক নির্যাতনের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল। এদিকে উরফানের ওপর কারাগারে হামলার ঘটনায় নতুন করে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযুক্ত স্টিভেন স্যানসম ও অ্যাডাম ওয়াটসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২৬ আগস্ট তাদের প্রথম কোর্ট হিয়ারিংয়ের পর মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী জেসন আরডে মারা গেছেন। শুক্রবার ১৪ আগস্ট দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসির একটি বাড়িতে ৪১ বছর বয়সী আরডেকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র নয় দিন আগে একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ও নিজের কিছু অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিনি কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ব্যাটারসির ওই ঠিকানায় যান। সেখানে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ তার মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে, তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জেসন আরডে ২০২৩ সালে ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হন। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প সে সময় ব্রিটেনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তার একাডেমিক কাজ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে জমা দেওয়া তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশ অন্য একটি গবেষণার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে মিলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। আরডে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে নিজের একাডেমিক জীবনে কিছু ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি। বিতর্ক শুধু তার গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দাতব্য তহবিল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব দৌড়ানোর বিষয়ে আরডের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুরোনো পরিচিতিতে ছয় দিনে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর কথা উল্লেখ থাকলেও পরে অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তা পরিবর্তন করে ১২ দিনে ৬০০ মাইল করা হয়। এসব দাবি ঘিরে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগ এবং সেখানে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেন আরডে। তার পদত্যাগের পরও বিষয়টি নিয়ে কেমব্রিজের শিক্ষক ও একাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছিল। আরডের মৃত্যুর পর তার পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা গভীর শোক ও হতবাক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে কেমব্রিজে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আরডেকে ঘিরে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হয়রানির একটি ধারাবাহিক প্রচার চলছিল। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। আরডের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে। কেমব্রিজে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। শিক্ষা, জাতিগত বৈষম্য এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তার মৃত্যুর পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শিক্ষা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। জেসন আরডের মৃত্যুর তদন্ত এখন পুলিশের সেন্ট্রাল সাউথ কমান্ড ইউনিটের অধীনে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা না করলেও পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা সতর্ক করেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আয় কমে কর্মী ও কোর্সের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আশঙ্কা করছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা ও কর্মীসংখ্যায় প্রভাব পড়বে। সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটসও সতর্ক করেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফি’র ওপর আরোপিত ৯২৫ পাউন্ডের কর পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করছে। আর্থিক চাপের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলের কোর্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে কর্মী ও শিক্ষা কার্যক্রমে আরও কাটছাঁট হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর নীতিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না। অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"
যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীর অসুস্থতাকে প্রথমে সাধারণ টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে, সে বিরল ও অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, তার শরীরে চতুর্থ ধাপের বারকিট লিম্ফোমা (Burkitt lymphoma) রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মেই বারোজ-পিট, যাকে পরিবারের সদস্যরা ‘মেলি’ নামে ডাকেন, গত মে মাসে ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দায় ভুগতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তার খেলাধুলা কমে যায় এবং বেশিরভাগ সময় শুয়ে থাকতে চাইত। মেলির মা নিকি বারোজ-পিট জানান, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকেরা এটিকে টনসিলের সংক্রমণ বলে মনে করেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে মেলি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে মেলিকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষা করেন। প্রথমদিকে তার শরীরে সেপসিস, যক্ষ্মা বা বিদেশ সফরের সময় কোনো সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর তাকে বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ৩ জুলাই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, মেলি স্টেজ-৪ বারকিট লিম্ফোমায় আক্রান্ত। এটি শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া বিরল ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এক ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমা, যা শ্বেত রক্তকণিকার বি-সেল থেকে শুরু হয় এবং খুব দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসকেরা জানান, মেলির ক্ষেত্রে ক্যানসারটি ইতোমধ্যে প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার ছয় মাসব্যাপী কেমোথেরাপি চলছে। মা নিকি বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, বিষয়টি সাধারণ কোনো অসুস্থতা নয়। কারণ মেলি সবসময়ই খেলাধুলাপ্রিয়, প্রাণবন্ত ও সক্রিয় ছিল। কিন্তু সে হাঁটতে, খেতে এমনকি কথা বলতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। তিনি বলেন, "বারবার বলা হচ্ছিল, ওর কিছু হয়নি। কিন্তু একজন মা হিসেবে আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর শরীরে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের ছিল।" প্রথমদিকে মেলির ঘাড়ে ব্যথা ছিল। পরে পায়ের শিন ও কুঁচকিতেও ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের ধারণা ছিল, হয়তো জিমন্যাস্টিকস অনুশীলনের সময় পাওয়া কোনো আঘাতের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু পরে জানা যায়, এগুলো ক্যানসারের লক্ষণ ছিল। বর্তমানে মেলির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে। তার খালা এমা হোয়াইট জানান, চিকিৎসার ফাঁকে মেলিকে কিছু আনন্দের সময় উপহার দিতে চান তারা। ক্যানসারের কারণে পরিবারের বেশ কয়েকটি ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। মেলির ইচ্ছার তালিকায় রয়েছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড ফ্লোরিডা ও ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণ। পরিবারটি বার্মিংহাম চিলড্রেনস হাসপাতাল এবং চিকিৎসাকালীন সহায়তা দেওয়া রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্যও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারকিট লিম্ফোমা দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ব্যথা বা স্বাভাবিক আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭০ কোটি পাউন্ডে নেমেছে। ফলে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বাণিজ্যঘাটতিও বেড়েছে। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশজুড়ে ছিল নিট ও ওভেন পোশাক। সর্বশেষ এক বছরের পরিসংখ্যানেও সেই চিত্রই স্পষ্ট। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এর বাইরে টেক্সটাইল ফেব্রিক, প্রক্রিয়াজাত মাছ, জুতা এবং অন্যান্য পণ্যও যুক্তরাজ্যের বাজারে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর তৈরি পোশাক খাতের নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও দেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এসেছে পোশাক খাত থেকে। তবে ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যেও ২০২৬ সালের মার্চে রপ্তানি বেড়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাবে, ওই মাসে যুক্তরাজ্যের মোট পণ্য রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারের গুরুত্ব আরও বাড়ছে সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধার কারণে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার ধরে রাখা ও বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, জুতা এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সার্বিকভাবে, এক বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৫ শতাংশ বাড়ার তথ্য দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শক্ত অবস্থান এবং বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এক হোটেলে এক রাত কাটানোর পর ছারপোকার ভয়ংকর কামড়ের শিকার হয়েছেন হান্নাহ স্টিফেনসন নামের এক নারী। ৩১ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি, ক্যামব্রিজের ট্রাভেলজ হোটেলে এক রাত থাকার পর তার হাত, পা, বুক ও মুখমণ্ডল ছারপোকার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার শেয়ার করা ছবিগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক মাধ্যম টিকটকে এক পোস্টে স্টিফেনসন তার কামড়ে ফুলে যাওয়া লাল দাগের ছবি শেয়ার করে লেখেন, "এই হোটেলে এক রাতের জন্য ছিলাম। সকালে উঠে দেখি প্রচণ্ড চুলকানি আর বালিশে রক্তের দাগ। এমনকি আমি ছারপোকাগুলো স্বচক্ষে দেখেছি।" পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক ভিউ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যামব্রিজের নিউমার্কেট রোডে অবস্থিত ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার এই দুর্দশার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই অবস্থায় আমাকে একটা পারিবারিক বিয়েতে অংশ নিতে হয়েছে। জঘন্য এই কামড়ের দাগ ঢাকতে নতুন জামাকাপড় কিনতে হয়েছে। একটানা চুলকানির কারণে আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি আমার প্যানিক অ্যাটাকও হয়েছে।" প্রাথমিকভাবে দ্য পোস্টের মন্তব্যের অনুরোধে ট্রাভেলজ ইউকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। তবে বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বাজেট হোটেল ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে, "স্টিফেনসনের এমন অভিজ্ঞতার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। এমন ঘটনা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা আমরা বুঝতে পারছি।" গত ২৬ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটানোর পর রাতে বাড়ি ফেরার বদলে ট্রাভেলজ হোটেলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, "ক্যামব্রিজের সুন্দর জায়গা ও পাবগুলোতে খুব ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ছারপোকার কামড়ে সব আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। রক্ত আর ছারপোকাগুলো দেখার আগে আমি বুঝতেই পারিনি কী হয়েছে।" তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার মুখ ও হাতের লালচে ফোলা দাগগুলো কমেনি। এ সময় তাকে প্রচুর অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ খেতে হয়েছে, যা তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার কারণে অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেননি। এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাস করা এই ইনফ্লুয়েন্সার বলেন, "ক্যামব্রিজের মতো জায়গায় এমন কিছু ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।" তবে টিকটকে তার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিফেনসন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রাভেলজ হোটেল থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার (২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ লাখ টাকা) গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, "এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার শত্রুরও যেন না হয়।" তিনি আশা করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিচ্ছন্নতা ও ছারপোকা দমনের ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে। ট্রাভেলজ হোটেলের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, "আমাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা সবার আগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধ এবং তা মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষজ্ঞ পরিচালিত কঠোর ব্যবস্থা বজায় রাখি। কোনো হোটেলে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার আশেপাশের রুমগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিই।" ছারপোকার সমস্যা শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, আমেরিকাতেও প্রকট। সম্প্রতি ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের এক দর্শনার্থী ফ্লোরিডায় তাদের রিসোর্টে থাকার সময় ছারপোকার কামড় খাওয়ার অভিযোগে ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, ছারপোকার উপদ্রবের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে শিকাগোর পরই লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থান। গবেষকদের মতে, ছারপোকার কামড় সাধারণত ব্যথাহীন হলেও এর ফলে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়া এটি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এমনকি মারাত্মক অ্যালার্জির কারণও হতে পারে।
ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে একটি মাত্র নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। সোমবার ভোরে ডোভার উপকূলে পৌঁছানো এই বড় আকারের ইনফ্ল্যাটেবল নৌকাটি এখন পর্যন্ত এক নৌযানে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। ঘটনাটিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটি স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ২টার দিকে ডোভারে পৌঁছায়। এতে থাকা ২৩০ জন অভিবাসীকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে এক নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ১৬৫ জন। নতুন ঘটনায় সেই রেকর্ড উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নৌকাটিকে ‘মেগা-ডিঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ধারণক্ষমতা একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপজ্জনক ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর সেটি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী এক নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফারাজ ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন। রিফর্ম ইউকে এরই মধ্যে ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ নামে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল মেরিনসকে ব্যবহার করে ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকা আটকে দেওয়া এবং ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সমুদ্রে নৌকা আটকে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাটি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন এবং এর আইনি ও নিরাপত্তাগত জটিলতাও রয়েছে। সাম্প্রতিক রেকর্ডের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। দ্য টাইমসের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৯ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে ব্রিটিশ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষ অবৈধ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে নজরদারি ও উপকূলীয় টহল জোরদার করেছে। তবে মোট সংখ্যা কমলেও একটি নৌকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পাঠানোর মতো নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী এসব নৌকা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ফলে সাম্প্রতিক রেকর্ডটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
বিয়ের দিন নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাতে চান সব নারীই। আর এই বিশেষ দিনে রাজকন্যার মতো সাজার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী পলি বিবির। পেশায় ইলাস্ট্রেটর এই তরুণী সাধারণত খুব হালকা মেকআপ করতে পছন্দ করলেও, বিয়ের জন্য নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। আর সেই শখ পূরণ করতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পাপড়ি বা 'ফলস আইল্যাশ' লাগিয়েছিলেন তিনি, যার জেরে মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হয়ে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন এই হবু কনে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইল্যাশ এক্সটেনশন বা চোখের কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন পলি। এর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাঁর ত্বকে প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। শুরুতে নিজের এই নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পার্লার থেকে ফেরার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁর হবু স্বামী ২৯ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মে খেয়াল করেন পলির চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে পানি পড়া এবং ব্যথার উপসর্গগুলোকে পলি প্রথমে সাধারণ অ্যালার্জি বা হে ফিভার ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করতে থাকে এবং হলদেটে আঠালো পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা একে অপরের সঙ্গে আটকে যেতে থাকে। নিজের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পলি। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। উপায় না দেখে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা নম্বরে কল করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কেমব্রিজের হিঞ্চিংব্রুক হাসপাতালের চক্ষু ইউনিটের নার্সরা তাঁর চোখ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, আইল্যাশ এক্সটেনশনে ব্যবহৃত আঠা বা রাসায়নিক থেকেই এই মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা পলিকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমানোর জন্য কৃত্রিম পাপড়িগুলো খোলার আগে তাঁকে তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। পাপড়িগুলো অপসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পলি জানান, তাঁর মনে হচ্ছিল যেন চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথায় তিনি চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও তাঁর চোখ লালচে হয়ে আছে, পাতা ফুলে আছে এবং দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা রয়ে গেছে। এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ অফথালমোলজির ওয়েবসাইটের এক বিবৃতিতে ন্যাশভিলের বোর্ড-সার্টিফাইড চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা জে. টেলর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, চোখের নিরাপত্তার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অভিজ্ঞ রূপসজ্জাকরের মাধ্যমে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো উচিত। এ ছাড়া ত্বকের জন্য নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় চোখের পাতা বা কর্নিয়ায় আঘাত, সংক্রমণ, আঠার কারণে অ্যালার্জি এবং স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে আসল পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেও চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও বিয়ের দিন পর্যন্ত চোখের লালচে ভাব সম্পূর্ণ দূর হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন পলি। অন্য কনেদের সতর্ক করতে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় দিনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন কোনো বিউটি ট্রিটমেন্ট বা রূপচর্চার ঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের মুখে বিয়ের দিন নানা অঘটন ঘটার কথা মজার ছলে শুনলেও, নিজের বেলায় এমন কিছু ঘটবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। কৃত্রিম পাপড়ির বদলে সাধারণ মাশকারা ব্যবহার করাই তাঁর জন্য ভালো ছিল বলে এখন মনে করছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের একটি বাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে ১৯৯১ সালের একটি পুরোনো মার্স চকলেট বার খুঁজে পেয়েছেন পেশাদার ক্লিনার ভিক্টোরিয়া গর্ডন। ৩৫ বছর আগের সেই চকলেটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের মার্স বারের তুলনা করতেই সামনে এসেছে চোখে পড়ার মতো পার্থক্য। পুরোনো বারটি শুধু আকারেই বড় নয়, ওজনেও বর্তমান সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া গর্ডন যুক্তরাজ্যের লিংকনশায়ারে একটি বাড়ি পরিষ্কার করার সময় পুরোনো মার্স বারটি খুঁজে পান। তিনি এমন একটি ক্লিনিং ব্যবসা পরিচালনা করেন, যেখানে অত্যন্ত নোংরা বাড়ি, দীর্ঘদিন ধরে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা বাড়ি এবং বিশেষায়িত পরিষ্কারের কাজ করা হয়। চকলেটটির মোড়ক দেখে বোঝা যায়, সেটি ১৯৯১ সালের। কৌতূহল থেকে গর্ডন বর্তমান সময়ের একটি মার্স বার কিনে দুটির আকার তুলনা করেন। পাশাপাশি রাখার পর পার্থক্য দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত হন। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে একটি সাধারণ মার্স বারের ওজন ছিল ৬৫ গ্রাম। ১৯৯৫ সালের একটি সমসাময়িক প্রতিবেদনে ৬৫ গ্রামের মার্স বারের তথ্যও পাওয়া যায়। বিপরীতে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রচলিত একটি মার্স বারের ওজন ছিল ৫১ গ্রাম। অর্থাৎ ৬৫ গ্রামের পুরোনো বারের তুলনায় ৫১ গ্রামের সংস্করণে চকলেটের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ কম। তবে ২০২৬ সালে বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রয়বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বেটার রিটেইলিং জানায়, চলতি বছর কিছু সিঙ্গেল মার্স বারের ওজন ৫১ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৪০ গ্রাম করা হয়েছে। মার্চ থেকে নতুন ছোট সংস্করণ বাজারে আসতে শুরু করে বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ১৯৯১ সালের দাম নিয়েও তুলনা করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। তাদের হিসাবে, সে সময় যুক্তরাজ্যে একটি মার্স বারের দাম ছিল আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ পেন্স। বর্তমানে একই পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি, যদিও দোকান ও প্যাকেজের ধরন অনুযায়ী খুচরা মূল্য পরিবর্তিত হয়। পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দাম একই রাখা অথবা দাম বাড়ানোর এই প্রবণতাকে সাধারণভাবে ‘শ্রিংকফ্লেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ ক্রেতা আগের সমান বা বেশি অর্থ ব্যয় করলেও প্যাকেটের ভেতরে পণ্যের পরিমাণ কম পান। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তবে পণ্যের আকার ছোট করার পেছনে উৎপাদনকারীদেরও ব্যয়ের চাপ রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে মার্স রিগলি যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের একজন মুখপাত্র পণ্যের আকার পরিবর্তনের বিষয়ে বলেছিলেন, কোকোর দামসহ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানকে কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্যের আকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেওয়া হয় না এবং চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের। লিংকনশায়ারের বাড়িতে পাওয়া ১৯৯১ সালের মার্স বারটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু পুরোনো একটি চকলেট হিসেবে আলোচনায় আসেনি। কয়েক দশকে পরিচিত একটি পণ্যের আকার ও ওজন কীভাবে বদলে গেছে, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও এটি মানুষের নজর কেড়েছে।
আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভ এবার সহিংসতায় রূপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ডে। টানা তিন রাত ধরে বিক্ষোভের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীরা থাকেন বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ঢোকার চেষ্টা হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া ও থুতু দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত থেটফোর্ডের কাছাকাছি সাবেক সামরিক স্থাপনা আরএএফ বার্নহ্যামকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে। জুনে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানায়, সাবেক এই সামরিক স্থাপনাটি আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সাইটটি ব্যবহারের আগে বিস্তারিত যাচাই, পরিকল্পনা অনুমোদন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আরএএফ বার্নহ্যামসহ তিনটি সাবেক সামরিক স্থাপনায় মোট প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর আবাসনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বার্নহ্যাম সাইটের ক্ষেত্রে হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শুরুতে সীমিত সংখ্যক মানুষকে পর্যায়ক্রমে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত বাসিন্দারা হবেন ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী একক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, যারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে আসছে। ১ জুলাই ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিলের বিশেষ সভায় কাউন্সিলররা সর্বসম্মতভাবে আরএএফ বার্নহ্যামকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য অনুপযুক্ত বলে মত দেন। তাদের আপত্তির মধ্যে রয়েছে এলাকার গ্রামীণ পরিবেশ, সীমিত অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সেবা ও সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য চাপ। ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিল জানিয়েছে, হোম অফিস ইতোমধ্যে আরএএফ বার্নহ্যাম ব্যবহারের জন্য জরুরি সরকারি পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছে। এর অর্থ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এমন নয়। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তাদের আপত্তি জানাতে পারবে। এই পরিকল্পনা ঘিরে বিক্ষোভ প্রথমে সাবেক সামরিক ঘাঁটির বাইরে শুরু হলেও ৪ আগস্ট রাতে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নেয়। থেটফোর্ডের সেন্ট জনস ওয়ে, ব্র্যাকেন রোড ও এলম রোড এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীরা থাকেন বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বিক্ষোভকারী বাড়িগুলোতে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপত্তার জন্য তাদের আবাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নরফোক পুলিশের প্রধান কনস্টেবল পল স্যানফোর্ড বলেছেন, পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারতেন এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা গুরুতরভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারত। বুধবার রাতের ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একজন কর্মকর্তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করা হয় এবং অন্যজনের দিকে থুতু ছোড়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক ঘৃণা উসকে দেওয়ার সন্দেহ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও পুলিশের কাছে পরিচয় দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার পুলিশ অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে। পুলিশ পাভা স্প্রেও ব্যবহার করেছে। এটি পেপার স্প্রের মতো হাতে বহনযোগ্য একটি রাসায়নিক স্প্রে, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির আক্রমণাত্মক বা বিপজ্জনক আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি mobility scooter-এ থাকা এক নারীকে পাভা স্প্রে করার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশ অবশ্য তাদের পদক্ষেপকে পরিস্থিতির তুলনায় প্রয়োজনীয় ও যথাযথ বলে দাবি করেছে। নরফোক পুলিশের প্রধান কনস্টেবল স্যানফোর্ড বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকারকে পুলিশ সম্মান করে। তবে বিক্ষোভের নামে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা বা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। থেটফোর্ডের এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের অংশ। সরকার বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে সাবেক সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দিকে যাচ্ছে। হোম অফিস জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে ৩১টি আশ্রয় হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং শত শত আশ্রয়প্রার্থীকে সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিকল্প আবাসনে নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার তুলনায় সাবেক সামরিক স্থাপনাগুলোতে পরিচালিত আবাসন ব্যবস্থা কম খরচের এবং দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আরএএফ বার্নহ্যামের ক্ষেত্রে হোম অফিস ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং স্থানীয় পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও কাউন্সিলগুলোর উদ্বেগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভের কারণে বিষয়টি এখন শুধু আবাসন পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। থেটফোর্ডের ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি, স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান জাতীয় বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে টানা কয়েক রাত ধরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের তথ্যমতে, শতাধিক বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একজন কর্মকর্তা পাথরের আঘাতে আহত হন, একজন নারী কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেকজন কর্মকর্তার ওপর থুতু নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সহিংসতার কারণে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট এলাকায় মুখ ঢেকে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত টহলসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের এমপি টেরি জার্মি এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাইরের উসকানিদাতারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে থেটফোর্ডের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ বার্নহাম সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। কয়েক মাস ধরেই এ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ চলছিল। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের একটি এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মী নজিয়া আয়ুবের করা ধর্মীয় বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, এনএইচএস কর্তৃপক্ষ তাকে ইসলামিক পোশাক ‘জিলবাব’ পরে কাজ করতে না দিয়ে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বৈষম্য করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, হাসপাতালের ইউনিফর্ম নীতি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এতে বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ব্রিটিশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নজিয়া আয়ুব ২০২১ সালের মার্চ থেকে নর্দার্ন কেয়ার অ্যালায়েন্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে হেলথকেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভেন্টিলেশন-নির্ভর শিশুদের সেবার দায়িত্ব পালন করতেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি মাথায় হিজাব এবং গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রাখে এমন ‘জিলবাব’ পরতেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তার লাইন ম্যানেজার ওয়েন্ডি বেকন লক্ষ্য করেন, আয়ুব হাসপাতালের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ট্রাউজারের পরিবর্তে টিউনিকের নিচে লম্বা কালো পোশাক পরেছেন। তিনি বিষয়টি তুলে ধরলে আয়ুব জানতে চান, ম্যানেজারের ‘মুসলিম পোশাক নিয়ে কোনো সমস্যা’ আছে কি না। জবাবে ম্যানেজার জানান, মুসলিম পোশাক নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে কর্মীদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব। শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে ঢিলেঢালা ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাকের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আয়ুব তা প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কর্মস্থলে কী পরবেন, তা নিয়ে কোনো সমঝোতা করবেন না। ট্রাইব্যুনালে তিনি আরও বলেন, ঢিলেঢালা ট্রাউজারও তার কাছে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; তার জন্য লম্বা স্কার্ট বা ড্রেসই আবশ্যক। পরবর্তীতে তিনি ধর্মীয় বৈষম্য, হয়রানি এবং বর্ণবাদের অভিযোগ এনে মামলা করেন। তবে এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়, এনএইচএস ট্রাস্টের ইউনিফর্ম নীতি রোগী, কর্মী ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। আদালত মনে করেছে, এ নীতি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং আয়ুবের অভিযোগগুলো আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তার সব দাবি খারিজ করা হয়।
যুক্তরাজ্যে প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিবাহ আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক নিকাহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিবাহকে আরও সহজে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারি পরামর্শ গ্রহণ (কনসালটেশন) চলছে, যা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ভবনভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অফিসিয়েন্টভিত্তিক কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, বিয়ে কোথায় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সরকার অনুমোদিত ও নিবন্ধিত অফিসিয়েন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে আইনি শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না। এ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত ধর্মীয় অফিসিয়েন্টদের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বিবাহও আইনি বৈধতা পেতে পারে, যদি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত নোটিশ, নিবন্ধন ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করা হয়। বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনেক মুসলিম দম্পতি শুধুমাত্র ধর্মীয় নিকাহ সম্পন্ন করলেও সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন না করায় তাদের বিবাহ রাষ্ট্রীয় আইনে স্বীকৃতি পায় না। ২০২০ সালে ‘আখতার বনাম খান’ মামলায় কোর্ট অব আপিল এমন অনিবন্ধিত নিকাহকে ‘নন-কোয়ালিফাইং সেরিমনি’ হিসেবে উল্লেখ করে, ফলে বিচ্ছেদ বা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে অনেকেই, বিশেষ করে নারীরা, আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নিবন্ধিত অফিসিয়েন্টদের ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও থাকবে। বিয়ের আগে বর-কনের স্বাধীন সম্মতি নিশ্চিত করা, উভয়ের আইনসম্মত বয়স যাচাই করা এবং জোরপূর্বক বা ভুয়া বিয়ের সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো তাদের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে। আইন বিশেষজ্ঞ ও ইসলামিক স্কলাররা বলছেন, এই সংস্কার কার্যকর হলে বহু বছর ধরে চলা আইনি জটিলতা কমবে এবং ধর্মীয় বিধান মেনে বিবাহ করেও মুসলিম পরিবারগুলো রাষ্ট্রীয় আইনের পূর্ণ সুরক্ষা পাবে। বিশেষ করে বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, সম্পত্তির অধিকার এবং আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের আইনি অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারেজ বিল পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। বিলটি পাস হলে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজসহ অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনেক দম্পতিকে আর আলাদা করে ধর্মীয় ও সিভিল—দুই ধরনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে না। তবে উল্লেখ্য, এটি এখনো একটি প্রস্তাবিত সংস্কার; চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হলে আইনটি পার্লামেন্টে পাস হতে হবে।
যুক্তরাজ্যে আলোড়ন তোলা বানাজ মাহমুদ হত্যা মামলার দুই দশক পর নতুন করে সামনে এসেছে ঘটনাটির বেদনাদায়ক স্মৃতি। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা বানাজের ছোট বোন বেখাল মাহমুদ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বোনকে শেষবার যখন দেখেছিলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ বছর বয়সী বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার অজুহাতে তার বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদ ও চাচা আরি আঘা মাহমুদ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। সম্প্রতি জারা ম্যাকডারমটের উপস্থাপিত Truth Be Told অনুষ্ঠানে বেখাল মাহমুদ বলেন, শেষবার যখন তিনি বানাজকে দেখেন, তখন তার চেহারা ভেঙে পড়েছিল এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও আটকে আছেন। বানাজ মাহমুদ ১৯৯৮ সালে পরিবারের সঙ্গে ইরাক থেকে যুক্তরাজ্যে যান। পরে তাকে নিজের চেয়ে প্রায় ১০ বছর বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বেখালের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্পর্কে বানাজ নিয়মিত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতেন। পরে তিনি ওই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজের পছন্দের একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত মামলায় বলা হয়, এই সিদ্ধান্তকে পরিবার তাদের ‘সম্মানের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি দক্ষিণ লন্ডনের মিচামের পারিবারিক বাড়িতে বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভাড়াটে হামলাকারী মোহাম্মদ হামা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে বার্মিংহামে নিয়ে গিয়ে গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়। বানাজের নিখোঁজ হওয়ার পর তার প্রেমিক রহমান সুলেমানি বিষয়টি পুলিশকে জানান। প্রায় তিন মাস পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে বানাজের বাবা, চাচা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত বানাজের বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, যার ন্যূনতম মেয়াদ ২০ বছর। চাচা আরি আঘা মাহমুদকে একই সাজা দিয়ে ন্যূনতম ২৩ বছর কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই চাচাতো ভাইও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। বেখাল মাহমুদ বলেন, নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ। তিনি বলেন, প্রতিবার ভয় পেলে তিনি শুধু ভাবতেন “বানাজ আর বেঁচে নেই। তার জন্য কথা বলবে কে?” বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় জীবন কাটানো বেখাল জানান, পরিচয় গোপন রেখে বসবাস করা অত্যন্ত নিঃসঙ্গ একটি জীবন। নিজের মাতৃভাষায় কাউকে কথা বলতে শুনলেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্যদের পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখলে নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের কথা মনে পড়ে। এদিকে বেখাল বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ‘বানাজস ল’ (Banaz's Law) নামে একটি আইনি উদ্যোগের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনে আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা উচিত।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ রান্নাঘর, বাগান কিংবা বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ কাজে ছুটি নিচ্ছেন, আবার সামর্থ্যবানদের একটি অংশ ঠান্ডা পরিবেশে রাত কাটাতে হোটেল বুক করছেন। নাগরিক সহায়তা সংস্থা সিটিজেনস অ্যাডভাইসের এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির প্রতি ছয়জনের একজন গরম মোকাবিলায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ মানুষ এমন বাড়িতে আটকে আছেন, যেগুলো গরমের সময় সহজে ঠান্ডা করা যায় না। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ মানুষ জানান, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অসহায় মনে করেন। দুর্বল নকশা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং এয়ার কন্ডিশনারসহ কুলিং সরঞ্জামের উচ্চ খরচকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জানালায় টিন ফয়েল, কার্ডবোর্ড বা ভেজা চাদর লাগানোর মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেক পরিবার শোবার ঘরে টিকে থাকতে না পেরে তুলনামূলক ঠান্ডা রান্নাঘরে ঘুমাচ্ছে। কেউ বাগান ও বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে অসুস্থতার ছুটি বা বেতনবিহীন ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন। ভাড়াটিয়াদের অবস্থা আরও কঠিন বলে জরিপে উঠে এসেছে। প্রাইভেট ও সোশ্যাল হাউজিংয়ে বসবাসকারী ৫১ শতাংশ ভাড়াটিয়া মনে করেন, ঘর অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, হিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক গ্রীষ্মকালেও তাদের সেন্ট্রাল হিটিং বন্ধ করতে পারেননি বলে জরিপে জানানো হয়েছে। সিটিজেনস অ্যাডভাইসের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্লেয়ার মরিয়ার্টি বলেন, বহু মানুষের কাছে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ রোদ উপভোগের বিষয় নয়। বরং অসহনীয় গরমের ঘরে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের অনেক বাড়ি গ্রীষ্মে বড় ধরনের হিট ট্র্যাপ এবং শীতে বরফশীতল ঘরে পরিণত হচ্ছে। সংস্থাটি সরকারের কাছে বাড়ির ইনসুলেশন, ভেন্টিলেশন এবং হিট নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ঘরগুলোকে শুধু শীতে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করলেই হবে না, গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখতে হবে। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই। ইংল্যান্ডে মাসজুড়ে মাত্র ৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ওয়েলসে ৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯ মিলিমিটার, যা ওই অঞ্চলের যেকোনো মাসের সর্বনিম্ন রেকর্ড। জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতিতে দাবানল, খরা এবং পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় উষ্ণতম এবং রেকর্ডে সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল জুলাই ছিল। সিটিজেনস অ্যাডভাইসের জরিপটি জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠলে অপর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের মায়ের মরদেহ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস সোমবার আদালতে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এর আগে গত ২০ মার্চ তিনি একটি মৃতদেহের আইনসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ওয়েলস পুলিশ সিলভিয়া ফিলিপস নামে এক বৃদ্ধার খোঁজ নিতে একটি বাড়িতে যায়। চিকিৎসকদের সঙ্গে ২০২২ সালের পর থেকে তার কোনো যোগাযোগ না থাকায় তার খোঁজখবর নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্রিস্টোফার ফিলিপসের সঙ্গে কথা বলে। মায়ের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তার মা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে আছেন। তবে কোথায় আছেন বা কার সঙ্গে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ফ্রিজারের ভেতরে সিলভিয়া ফিলিপসের মরদেহ উদ্ধার করে। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের ওপর ফুল রাখা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভিয়া ফিলিপসের বয়স আশির কোঠায় ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ক্রিস্টোফার ফিলিপস আর্থিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। যদিও প্রতিবেদনে তিনি ঠিক কী ধরনের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। মামলার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মৃত ব্যক্তির মরদেহ দীর্ঘ সময় গোপন রাখা এবং যথাযথভাবে দাফন বা সৎকারে বাধা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।