যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সপরিবারে ব্রিটেন সফর বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি। আগামী জুলাই মাসে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইনভিক্টাস গেমস’-এর বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দীর্ঘ চার বছর পর পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার পরিকল্পনা ছিল হ্যারি ও মেগান দম্পতির। কিন্তু সরকারের এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সফরটি বাতিল হওয়ায় প্রিন্স হ্যারি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। হ্যারির মূল লক্ষ্য ছিল আগামী মাসের শুরুতে এই সফরের মাধ্যমে তার দুই সন্তান— সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেটকে তাদের দাদা রাজা চার্লসের সাথে দেখা করানো। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের পর থেকে রাজা চার্লস তার এই ছোট নাতি-নাতনিদের সামনাসামনি দেখেননি। তবে রাজকীয় বাসভবনের বাইরে সরকারি পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার অনুরোধ ব্রিটিশ সরকার প্রত্যাখ্যান করায় এই পারিবারিক সফর এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হ্যারির ঘনিষ্ঠ সূত্রটি জানায়, "একেবারে শেষ মুহূর্তে তাদের পা তলা থেকে মাটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। হ্যারি তার সন্তানদের এমন কোনো পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না, যেখানে বিমান থেকে নামার পর থেকেই পাপারাজ্জিরা (সাংবাদিকরা) তাদের তাড়া করবে।" হ্যারি বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসার চেষ্টা করলেও তা কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর আগে যুক্তরাজ্যে আসার সময় স্বয়ংক্রিয় পুলিশি নিরাপত্তার দাবিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি। এরপর রাজকীয় ও ভিআইপি নির্বাহী কমিটি তার নিরাপত্তার বিষয়টি মূল্যায়ন করছিল, যাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও আনুপাতিক এবং নীতিগত কারণে এই নিরাপত্তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসবাসকারী হ্যারি ও মেগানের এই সফর বাতিলের ফলে রাজা চার্লসের সাথে তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগার প্রক্রিয়া আবারও বাধাগ্রস্ত হলো। গত সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের ক্লারেন্স হাউসে বাবা-ছেলের শেষ দেখা হয়েছিল, যা তাদের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার এই নতুন জটিলতা রাজপরিবারের এই পুনর্মিলনকে আবারও দূরে ঠেলে দিল।
ব্রেক্সিটের গণভোটের এক দশক পূর্ণ হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি যুক্তরাজ্য। ২০১৬ সালের ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে গণভোটের ফল প্রকাশের পর যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো দেশটির প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি ও জনসেবায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতেও বহাল থাকতে পারে। ব্রেক্সিটের ১০ বছর পূর্তিতে জনমতেও পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। কেউ ইউরোপ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন, আবার কেউ মনে করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অর্থাৎ, ব্রেক্সিট না হলে দেশটির অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হতে পারত। এর ফলে সরকারের কর আদায়ও কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবার বাজেটে। লন্ডনের কিংস কলেজের অর্থনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক জোনাথন পোর্টেস বলেন, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখন প্রায় স্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে যে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের গবেষকেরা দুটি পৃথক পদ্ধতিতে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথম বিশ্লেষণে গত ১০ বছরের প্রবৃদ্ধিকে অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সেখানে কোভিড-১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, ব্রেক্সিট না হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বড় হতে পারত। দ্বিতীয় বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবসা করা ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। এই বিশ্লেষণেও অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ ছোট হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিটের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে বাণিজ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর সীমান্তে নতুন কাস্টমস বিধি, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসার ব্যয় এবং সময় দুটিই বেড়েছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্প, কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক শুনানিতে এক লজিস্টিকস ব্যবসায়ী জানান, ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপে মাংস রপ্তানিতে একটি কাগজই যথেষ্ট ছিল, অথচ এখন একই পণ্য পাঠাতে প্রয়োজন হয় ২৬টি সরকারি অনুমোদনপত্র। যদিও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা কার্যকর হলে দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, মাছ ও তাজা মাংস রপ্তানি সহজ হতে পারে। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম। এরই মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। ব্রিটেনের ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির খাদ্যপণ্য রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। ব্রেক্সিটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও স্পষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কমলার রসের মতো কিছু নিত্যপণ্যের দাম ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটস বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দারিদ্র্য বা খাদ্য ব্যাংকের ব্যবহার বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে শুধু ব্রেক্সিটের ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; এর পেছনে আরও নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের একমাত্র অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। বিনিয়োগের ঘাটতি, ধীর প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার সংকট আগে থেকেই ছিল। তবে ব্রেক্সিট এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে। জিডিপি কমে যাওয়ার ফলে সরকারের কর রাজস্বও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য জনসেবায়। একই সঙ্গে কারাগার ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতেও আর্থিক চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এর প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটসের ভাষায়, বর্তমান ক্ষতির বড় অংশ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি একই ধরনের চাপে থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় নিজের ব্যাগে থাকা ছুরির ওপর অসাবধানতাবশত অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে নিজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছেন। গত বছরের ১ আগস্ট সকালে নর্থহ্যাম্পটনের একটি খালের পাশের ফুটপাতে ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট ব্রাউনকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বেঞ্চে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধরে নিয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল, তবে পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের কোনো দোষ না পেয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের জন্য আয়োজিত একটি আদালত শুনানিতে তদন্তকারীরা জানান, ব্রাউন আসলে মদ্যপ অবস্থায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। অসাবধানতাবশত ঘুমের ঘোরে গড়িয়ে তিনি নিজের পিঠের ব্যাগে রাখা একটি তীক্ষ্ণ ছুরির ওপর চেপে বসেন। পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একধারের ধারালো ব্লেডটি ব্রাউনের ব্যাগ এবং তার পরিহিত কাপড়ের তিনটি স্তর ভেদ করে সরাসরি তার বাহুতে গিয়ে আঘাত করে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি ঘুমন্ত অবস্থাতেই বেঞ্চের ওপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা আদালতে জানান, ব্রাউন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অ্যালকোহল বা মদ পানের সমস্যায় ভুগছিলেন। এই ধরনের আসক্তি মানুষের শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত মদ পানের কারণে তিনি যখন ছুরির আঘাত পান, তখন ব্যথার অনুভূতি তীব্র থাকা সত্ত্বেও তিনি তা টের পাননি এবং গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারেননি। ফলস্বরূপ, কোনো ধরণের প্রতিরোধ বা চিকিৎসার সুযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণের কারণে তার শরীর আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর নর্থহ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ দীর্ঘ ছয় মাস ধরে একটি হত্যা মামলার তদন্ত চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে সব ধরণের ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয় যে এখানে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে পুলিশ প্রশাসন এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের হত্যা মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। তারা এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে যে, এই ক্ষতটি খুব সম্ভবত কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজের মাধ্যমেই অনিচ্ছাকৃতভাবে তৈরি হয়েছিল। আদালতের শুনানির পর চলতি সপ্তাহে রবার্ট ব্রাউনের এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে। এই মামলার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র করোনার অ্যান পেম্বার গত বৃহস্পতিবার পুরো ঘটনাটিকে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে কোনো অপরাধমূলক চক্রের সাথে ব্রাউনের মৃত্যুর সম্পর্ক নেই। এটি কেবলই অসাবধানতা এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে সৃষ্ট একটি চরম বিপর্যয়।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহের পর হঠাৎ বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর—হিথ্রো এবং গ্যাটউইকে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে দুই বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ৬০০-এরও বেশি ফ্লাইট চরম বিলম্বের শিকার হয়েছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরেই আটকে আছেন। যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ন্যাটস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় এই অচলাবস্থা সারা দিন জুড়েই বজায় থাকতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটঅ্যাওয়ার'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরের কমপক্ষে ৩৬৭টি এবং গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ৩৫২টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে বিমানের ভেতরেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু লন্ডনেই নয়, ইতালির ভেনিসসহ ইউরোপের অন্যান্য বিমানবন্দরেও হিথ্রো ও গ্যাটউইকগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়াই ভেনিস বিমানবন্দরে তাদের অন্তত চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং ইজিজেটের মতো বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের বেশ কিছু ফ্লাইট আগে থেকেই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এবং যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। লন্ডনের প্রধান দুটি বিমানবন্দর ছাড়াও লিডস ব্র্যাডফোর্ড, এডিনবার্গ এবং লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টেও এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিমানের এই শিডিউল বিপর্যয় ঠিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও চড়া বাড়ি ভাড়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী নিজেদের আবাসন ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও ক্যাম্পাস জীবনকে সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশ ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নানা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক 'ইন্টারজেনারেশনাল অডিট' রিপোর্টে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকার প্রায় ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজেদের বাড়িতে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এর বিপরীতে ধনী এলাকার মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইলেটস জানান, এটি কোনো স্বাধীন বা স্বাভাবিক পছন্দ নয়, বরং সম্পূর্ণ আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন, যা তাদের পরবর্তী জীবনের সামাজিক নেটওয়ার্ক ও সুযোগকে প্রভাবিত করছে। লন্ডন রেন্ট বা উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই দৈনিক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, সকালে ক্লাস শেষ হলেও ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা সেমিনার বা সামাজিক ক্লাবের অনুষ্ঠান থাকে সন্ধ্যায়, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাঁকে ক্যাম্পাসে অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ও অর্থের অপচয় এড়াতে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ফলে অনেকেই স্বতঃস্ফূর্ত আড্ডা, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ারের বড় বড় সুযোগগুলো হাতছাড়া করছেন। তবে এই পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, বাড়িতে থাকার কারণে তাঁকে বাড়তি ভাড়ার টাকা জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরি করতে হচ্ছে না, ফলে তিনি পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। হাইয়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিক হিলম্যান বলেন, বাড়িতে থাকার অর্থ হলো কম ঋণ, পরিবারের দৃঢ় সমর্থন এবং পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া। মূল বিষয় হলো শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন কি না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস এবং সাটন ট্রাস্টের গবেষকরা অবশ্য মনে করছেন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের কোর্স পাওয়া যায় না, যার ফলে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছেন না। দেশটির বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং আবাসন সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের এই বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই যুগে বেকারদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সুপারমার্কেট চেইন ‘লিডল’। প্রতিষ্ঠানটি এমন এক অভিনব নিয়োগ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেখানে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে বেকার থাকা প্রার্থীরা কোনো জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা দেওয়া ছাড়াই সরাসরি ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাবেন। আগামী এক বছর ধরে লিডল তাদের স্টোরের এন্ট্রি-লেভেলের পদ এবং ওয়্যারহাউসের প্রায় ৫০০টি পদে দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের জন্য এই বিশেষ সুযোগটি সংরক্ষিত রাখবে। চাকরিপ্রার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান ও পেনশন বিভাগের (ডিডব্লিউপি) সাথে যৌথভাবে কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ব্রিটেনের শ্রমবাজার যখন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই এমন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ সামনে এলো। কনফেডারেশন অফ ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির (সিবিআই) সাম্প্রতিক সতর্কতা অনুযায়ী, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। চলতি মাসে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৭ লাখ ৭ হাজারে) নেমে এসেছে। এমন বাস্তবতায় লিডল গ্রেট ব্রিটেনের চিফ পিপল অফিসার স্টেফানি রজার্স জানান, বেকারত্ব সারা দেশের মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এই উদ্যোগটি মূলত তাদের জন্যই নেওয়া হয়েছে, যাদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রথম ধাপটি পার হতে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হয়। যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী ডেম ডায়ানা জনসনও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে একে ‘কল্যাণ থেকে কর্মসংস্থানে’ ফেরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেছেন। নতুন এই উদ্যোগের পাশাপাশি গৃহহীনদের কর্মসংস্থানে সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা ‘স্ট্যান্ডিং টল’-কে ৫০ হাজার পাউন্ড অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে লিডল। গত বছর সফল একটি পাইলট প্রকল্পের পর এই অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যেন আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি গৃহহীন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের আওতায় আনা যায়। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করা লিডল বর্তমানে ১ হাজারের বেশি স্টোর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা রিটেইল খাতে অন্যতম সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মজুরি পাবেন, যা দেশব্যাপী ঘণ্টায় ১৩.৪৫ পাউন্ড থেকে শুরু হবে এবং কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে তা ১৪.৪৫ পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
নিজেদের যুদ্ধবিমানের বহর সচল রাখতে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাতিল ও অবসরে যাওয়া ৯টি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তবে এই বিমানগুলো সরাসরি আকাশে ওড়ানোর জন্য নয়, বরং ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও পুনঃব্যবহারযোগ্য উপাদান সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে স্কোয়াড্রন সংকট এবং খুচরা যন্ত্রাংশের তীব্র ঘাটতির মুখে থাকা ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সক্রিয় স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৯টিতে। এর মধ্যে এখনও জাগুয়ার যুদ্ধবিমানের ৬টি স্কোয়াড্রন পরিচালনা করছে তারা। সারা বিশ্বের মধ্যে বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীই একমাত্র সামরিক বাহিনী, যারা এখনও এই পুরোনো জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সচল রেখেছে। এই বিমানগুলো থেকে ল্যান্ডিং গিয়ার, হাইড্রোলিক ব্যবস্থা, অ্যাভিওনিক্স এবং রোলস-রয়েস অ্যাডুর ইঞ্জিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে নিজেদের ঘাটতি মেটাবে ভারত। বিদেশ থেকে অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার সংগ্রহ করার ঘটনা ভারতের জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ফ্রান্স, ওমান এবং যুক্তরাজ্য থেকে অবসরে যাওয়া জাগুয়ার বিমান সংগ্রহ করেছিল দেশটি। ২০১৮ সালে ফ্রান্স বিনামূল্যে ৩১টি অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার বিমান, ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ভারতকে দিয়েছিল এবং ওমানের সঙ্গেও ২০টির বেশি ভালো মানের অবসরপ্রাপ্ত জাগুয়ার হস্তান্তরের চুক্তি হয়েছিল। মূলত ১৯৮০-এর দশকে প্রথম এই মডেলের যুদ্ধবিমান সংগ্রহ শুরু করেছিল ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত এক দশকে তাদের জাগুয়ার বহরের প্রায় অর্ধেক বিমানকে আধুনিক মানের ‘ড্যারিন-৩’ (DARIN-III) প্রযুক্তিতে উন্নীত করা হয়েছে। এই আধুনিকায়নের ফলে বিমানগুলোতে উন্নত রাডার সংযোজন, একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরি এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। তবে বহরের বাকি পুরোনো বিমানগুলোর পেছনে নতুন করে বিনিয়োগ করাকে উপযুক্ত মনে না করায়, সেগুলো আগামী ২০২৮ সাল থেকে ধীরে ধীরে অবসরে পাঠানো শুরু হবে। এক সময় ড্যারিন-৩ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের মাধ্যমে পুরোনো অ্যাডুর ইঞ্জিনের পরিবর্তে হানিওয়েল এফ-১২৫এন ইঞ্জিন বসানোর পরিকল্পনা করেছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেই পরিকল্পনা পরে বাতিল করা হয়। নতুন কোনো যুদ্ধবিমান বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে এবং আগামী দশকজুড়ে জাগুয়ারের সেবা নিশ্চিত করতেই ভারত এই বাতিল বিমানগুলো সংগ্রহের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে। পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে। বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে। পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে। বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ইইউ ছাড়ার পক্ষে এবং ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার বিপক্ষে অবস্থান নেন। এক দশক পরও সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা। বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, ব্রেক্সিটের কারণে দেশটির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক উৎপাদন ২ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে থাকতে পারে। তবে কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর কারণে ব্রেক্সিটের পৃথক প্রভাব নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল সন্ডার্স বলেন, ব্রেক্সিট এখনো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করছে। তার মতে, এর ফলে মোট দেশজ উৎপাদন সম্ভাব্য স্তরের তুলনায় কম রয়েছে, যা সরকারি রাজস্বে ঘাটতি সৃষ্টি করছে এবং কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের চাপ তৈরি করছে। তবে ব্রেক্সিট সমর্থনকারী স্বতন্ত্র অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান জেসপ বলেন, ইইউ ত্যাগের প্রাথমিক প্রভাব নেতিবাচক হলেও ক্ষতির মাত্রা আশঙ্কার তুলনায় কম ছিল এবং সময়ের সঙ্গে এর প্রভাব আরও কমে আসতে পারে। ব্রেক্সিট প্রচারের সময় কম অভিবাসন, কম নিয়ন্ত্রণ, উন্নত সরকারি সেবা এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলো এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও জাপানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলোর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারের তুলনায় সীমিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার পর থেকে যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন গড়ে বছরে ৫ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। ২০১০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার। ২০২৩ সালে এটি প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে। চলতি মাসে প্রকাশিত ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন ব্রিটিশের মধ্যে ৬ জন মনে করেন ব্রেক্সিট প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেওয়া ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের সফটওয়্যার ডেভেলপার জেরেইন্ট বলেন, তখন অভিবাসন বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে বর্তমানে সুযোগ পেলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিতেন বলে মন্তব্য করেন। ব্যবসায়িক খাতেও ব্রেক্সিটের প্রভাব স্পষ্ট। ২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগের পর নতুন বাণিজ্য সম্পর্ক কার্যকর হয়, যার ফলে কাস্টমস পরীক্ষা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালু হয়। ব্রেক্সিটের আগে যুক্তরাজ্য ইইউর একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের অংশ থাকায় পণ্য, মানুষ ও মূলধনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত ছিল। বর্তমানে ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র ও পরীক্ষার কারণে সময় ও খরচ দুইই বেড়েছে। লজিস্টিকস ইউকের প্রধান নির্বাহী বেন ফ্লেচার বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেও খরচ বৃদ্ধি এবং প্রধান বাজারে প্রবেশে জটিলতা রয়ে গেছে। জার্মান প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান বোশ জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের আগে তাদের ব্রিটিশ শাখা বছরে প্রায় ৪০টি আমদানি লেনদেন পরিচালনা করত, যা বর্তমানে বেড়ে বছরে প্রায় ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করেছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে বলে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো জানিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় বাজার থেকে সরে এসেছে এবং অনেকে এখনো নতুন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে। ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, ইইউর সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য কাঠামো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়াতে কার্যকর হয়নি এবং এটি এখনো বাণিজ্যের পথে একটি স্থায়ী বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর থেকে অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির তুলনায় যুক্তরাজ্যের পণ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে। অর্থনীতিবিদ পল ডেলসের মতে, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে ব্রেক্সিট সামগ্রিকভাবে পণ্য বাণিজ্যকে নিরুৎসাহিত করেছে। তবে সেবা খাত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্য বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেবা রপ্তানিকারক দেশ এবং আর্থিক সেবা রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত বছর দেশটির অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১১ শতাংশ এসেছে আর্থিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাগত সেবা খাত থেকে। লন্ডন বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে। ইওয়াইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে আর্থিক সেবা খাতে ৯৪৯টি বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প এসেছে, যা ফ্রান্স ও জার্মানির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অর্থনৈতিক প্রভাব সত্ত্বেও ব্রেক্সিট বাতিল করে পুনরায় ইইউতে যোগদানের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে এখনো সীমিত। বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে গভীর বিভাজনের কারণ হয়ে আছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন চুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এসব উদ্যোগের প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারে আগের মতো প্রবেশাধিকার পেতে হলে যুক্তরাজ্যকে কিছু নীতিগত স্বায়ত্তশাসন ছাড়তে হতে পারে, যা ব্রেক্সিট বিতর্কের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি ছিল। কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শন ম্যাকগুইর বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'দ্য অবজারভার'। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদত্যাগের পাশাপাশি ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নিজের বিদায়ের একটি চূড়ান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করতে পারেন তিনি। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের অর্থদাতা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর স্টারমার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে আর প্রধানমন্ত্রী পদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মহলে স্টারমারের এই সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরের পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থানকে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। তার এই জয় লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় এবং ডাউনিং স্ট্রিটের ক্ষমতার লড়াইয়ে বার্নহ্যামের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে। যদিও এর আগে শুক্রবার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতি যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। লন্ডনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, দলের ভেতরে যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, তবে তিনি তাতে লড়বেন এবং কোনোভাবেই লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না। 'দ্য অবজারভার'-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে স্টারমার বর্তমানে তার চেকার্স কান্ট্রি বাসভবনে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন। তবে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন যে, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব দ্রুত, সম্ভবত সোমবারের মধ্যেই স্টারমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি প্রদান করবেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার কয়েকজন সফরসঙ্গীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় এই মামলাটি করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের 'বেধড়ক পেটানোর' অভিযোগ এনে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলা করেছে বলে দাবি করেছে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স। শনিবার (২০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স জানায়, মামলায় হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলমকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে এতে যুক্ত করা হয়েছে। এই মামলার সূত্র ধরে জাকির চৌধুরী নামের এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও হয়রানির পর এটি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি 'নতুন নাটক'। তারা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে মূলত যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে হাসনাত আবদুল্লাহর ঐতিহাসিক বক্তব্য এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তার সফল মতবিনিময় ও সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং এর ফলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে দেশটির একটি বিশেষায়িত সংস্থা ইতোমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে হাসনাত আবদুল্লাহ তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের দৃঢ় বিশ্বাস, অতীতের মতো এবারও অপপ্রচার ও হয়রানির এই অপচেষ্টা চরমভাবে ব্যর্থ হবে।
দীর্ঘ চার বছর পর এই প্রথমবার নিজেদের পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল সফরে তাদের সঙ্গে থাকবেন সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী ছোট মেয়ে লিলিবেট। চার বছর পর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সাধারণ পারিবারিক সফর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে রাজকীয় এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাসভবনে থাকার জন্য হ্যারি ও মেগান দম্পতিকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণের বিষয়ে হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্মতি জানানো হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় বাকিংহাম প্যালেসে থাকার একটি সরকারি প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি, কারণ তার মতে জনসম্মুখে থাকা এমন বড় স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে। এবার এই চার সদস্যের পরিবারের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রাজকীয় বাসভবনটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মূলত আগামী বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আসর ‘ইনভিকটাস গেমস’। হ্যারির নিজের প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ ক্রীড়া আয়োজনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগামী মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির, যা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথা গত বছর এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময় বাবা ও ছেলের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘ সাক্ষাৎ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ল্যারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি বৈঠক করেছিলেন হ্যারি। তবে আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা ঘরোয়া সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাকিংহাম প্যালেস কর্তৃপক্ষ। রাজপরিবারের মুখপাত্ররা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এড়িয়ে গেছেন। এদিকে হ্যারি ও মেগানের এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে, যা এই স্পর্শকাতর সফরের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে হ্যারির পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কোনো বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের পদত্যাগকারী সদস্যদের এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। রাজকীয় বাসভবনে থাকার এই নতুন আমন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পারিবারিক পুনর্মিলনের জল্পনা সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়— এই সফর কি দূরত্ব কমিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি পুরোনো টানাপোড়েনই বহাল থাকবে।
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডের দক্ষিণে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানী লন্ডন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ। ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের দুটি ট্রেন এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। সংঘর্ষের পর একটি ট্রেনের সামনের অংশ অন্য ট্রেনের পেছনের অংশের সঙ্গে আটকে যায়। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বগিগুলো রেললাইনের ওপর সোজা অবস্থাতেই ছিল। ঘটনার পরপরই বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো। ইস্ট অব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ২০টির বেশি অ্যাম্বুলেন্স এবং ছয়টি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর, ২২ জন গুরুতর এবং ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট ক্যান্ডি বলেন, কীভাবে এই সংঘর্ষ ঘটেছে তা উদঘাটনে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একজন আহত যাত্রী ও চিকিৎসক পিটার নাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি হঠাৎ প্রবল ধাক্কা অনুভব করেন। তার মতে, একটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং তিনি সামান্য আহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে রেল নিরাপত্তা ও সংকেত ব্যবস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে একজন ট্রেনচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং রেল চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত ট্রেন দুটি ছিল ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের। একটি ট্রেন করবি থেকে লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছিল। অন্য ট্রেনটি নটিংহ্যাম থেকে একই গন্তব্যে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে আসে। বেডফোর্ড এলাকায় এসে দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ দুর্ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ বা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (আরএমটি) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন ট্রেনচালক এবং তিনি সংগঠনটির সাবেক প্রতিনিধি ছিলেন। এক বিবৃতিতে আরএমটির মহাসচিব নিহত চালকের পরিবার, সহকর্মী এবং রেলকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ইস্ট অব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এছাড়া ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে কম আঘাত পেয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের অনেকেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আহত যাত্রী পিটার ন্যাপ জানান, তিনি ট্রেনের সামনের বগিতে ছিলেন। সংঘর্ষের মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মনে হয়েছিল যেন কোনো বিস্ফোরণের মধ্যে পড়ে গেছি।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে ট্রেনের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক যাত্রী ছিটকে পড়ে আহত হন। দুর্ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহত ট্রেনচালকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবা সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। সংঘর্ষের কারণে লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র St Pancras International স্টেশনে যাওয়া এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের সব ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিগন্যালিং ত্রুটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের রেলব্যবস্থায় নিরাপত্তা মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এমন বড় দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহত ট্রেনচালকের স্মরণে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সহমর্মিতা জানাচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে। গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে। পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে। গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হিথ্রো বিমানবন্দরে বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় রানওয়ে নির্মাণের ফলে আশেপাশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের দ্রুত বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ চালু করার পরপরই প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সরকারি রিপোর্টে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য করা ‘এইকম’ (Aecom) নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক বিশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই হাব বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ওপর "মারাত্মক নেতিবাচক" প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন রানওয়ে নির্মাণ এবং তা চালু করার পর শুধু যে ওই এলাকার শব্দদূষণ ও বায়ুর গুণমান খারাপ হবে তা নয়, বরং এটি স্থানীয়দের আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্মুক্ত স্থান এবং যাতায়াতের সুযোগকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর পাশাপাশি হিথ্রো বিমানবন্দরের এই সম্প্রসারণের ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়া, সামাজিক সংহতি দুর্বল হওয়া, শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ল্যান্ডস্কেপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো গভীর সংকট তৈরি হবে। অবশ্য এই নতুন নীতিমালার প্রভাব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, তৃতীয় রানওয়েটি নির্মাণ করা হলে দেশে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মতো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। তবে শেষ পর্যন্ত রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে উপসংহার টানা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক লাভ হলেও পরিবেশগত এবং সামাজিক দিক বিবেচনা করলে এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যা কোনোভাবেই পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এই বিতর্কিত সম্প্রসারণ প্রকল্পের পেছনে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পুরো অর্থায়ন করবে বিশ্বের বড় বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। ৩,৫০০ মিটার দীর্ঘ এই রানওয়েটি তৈরি করতে হলে বিখ্যাত ‘এম২৫’ (M25) মোটরওয়ের একটি অংশ স্থানান্তর করতে হবে এবং প্রায় ৮০০টি ঘরবাড়ি বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কিনে নিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং এটি বছরে প্রায় ১৫ কোটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এই প্রকল্পের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং তারা আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই হিথ্রোর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর। এই সম্প্রসারণের ফলে ৬০ হাজারের বেশি ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ৪২ বিলিয়ন পাউন্ডের সুবিধা যোগ হবে। তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘নো থার্ড রানওয়ে কোয়ালিশন’ এই উদ্যোগকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘এক দশকের ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
যুক্তরাজ্যে বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কোনো গণজোয়ার বা চাপ তৈরি হয়নি। ইংল্যান্ডের সর্বশেষ স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের পর এই দাবি করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। লেবার সরকার ২০২৫ সালের শুরু থেকে বেসরকারি স্কুলের ফির ওপর এই কর আরোপ করে, যা আগে করমুক্ত ছিল। এর ফলে সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী দিয়ে উপচে পড়বে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, নতুন পরিসংখ্যানে তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রকাশিত এই ডাটাটি মূলত গত বছরের অক্টোবর মাসে আগামী সেপ্টেম্বর শিক্ষাবর্ষের জন্য করা আবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (ডিএফই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের স্কুলেই মোট আবেদনের সংখ্যা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি লন্ডনের হ্যামারস্মিথ, ফুলহাম এবং কেনসিংটনের মতো ধনী এলাকাগুলোতেও, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়ে, সেখানেও সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদনের হার গত দুই বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন এই প্রসঙ্গে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে বলেন, "বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে চলে যাওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তা মোعتها ঘটেনি। সমালোচকরা বলেছিলেন সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী সামলাতে হিমশিম খাবে এবং বেসরকারি স্কুলগুলো দলে দলে বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল ছিল।" তিনি আরও জানান, সরকার এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করছে যাতে সরকারি স্কুলে পড়া ৯৪ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর মূল ফোকাস রাখা যায়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে জন্মহার কমে যাওয়া এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে এই ভ্যাট আরোপের আসল প্রভাব হয়তো পুরোপুরি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ডিএফই-এর ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমলেও স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা সংখ্যায় প্রায় ২২ হাজার। তবে ভ্যাট থেকে সরকারের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হচ্ছে এবং ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ বছরে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ করা লেবার পার্টির একটি অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি স্কুলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার ৫০০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষা ও এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক (Sarah Cooke)। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বর্তমান সরকারের মেয়াদে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বৈঠকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।এছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর দেশের এভিয়েশন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আগ্রহও প্রকাশ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের কাছে রুশ নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেটের ‘হুঁশিয়ারি গুলি’ ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “বেপরোয়া” এবং “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের এমন আচরণ “ঘটা উচিত ছিল না”। তার ভাষায়, “এটি বেপরোয়া। নৌযানে থাকা দম্পতি নিশ্চিতভাবে ভীষণ আতঙ্কিত হয়েছিলেন।” ঘটনার সময় ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ইয়ট ইংলিশ চ্যানেলে চলছিল। ইয়টটিতে থাকা নাবিক জেন কেলভি বিবিসিকে জানান, রুশ যুদ্ধজাহাজটি শুরুতে পাঁচবার হর্ন বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়, এরপর ছোট অস্ত্র দিয়ে হুঁশিয়ারি গুলি ছোড়ে। তিনি বলেন, নৌযান দুটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন গুলি ছোড়া হয়, যা “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” ছিল। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়টটি বিপজ্জনকভাবে যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একাধিক রেডিও সতর্কবার্তার পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পরে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্ক গুলি ছোড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়টটি দিক পরিবর্তন করে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিটি সরাসরি নৌযানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টারমার আরও বলেন, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে যুক্তরাজ্যের বাহিনী। ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএস মার্সি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করছে। তবে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি। ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।" এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।