সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন

আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন।    নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন।    তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়।    নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে।    তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত সাত অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
এক সপ্তাহে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ৭ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত সাতজন অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বেলিজ, নিকারাগুয়া, মেক্সিকো ও কোস্টারিকার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় দণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর তালিকায় থাকা বেলিজের নাগরিক রাইন উশার ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। নিকারাগুয়ার গনজালো আন্তোনিও গুজমান-গুজমান একটি জাহাজে কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   মেক্সিকোর নাগরিক হুয়ান উরকিসা আরমান্ডো শিশুর প্রতি অশালীন আচরণ এবং অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল ব্যাটারির মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কোস্টারিকার ওয়াইলেন বারান্তেস-হিমেনেজ একটি জাহাজে এক হাজার কেজি বা তার বেশি মারিজুয়ানা বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   এ ছাড়া মেক্সিকোর নাগরিক তেরেসেও দে হেসুস মারকাদো-ফ্লোরেস ৫০ গ্রাম বা তার বেশি মেথঅ্যামফেটামিন বিতরণের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। হুয়ান পাবলো সেররাতা আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পাশাপাশি পাঁচ কেজির বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন।   তালিকার সপ্তম ব্যক্তি এদিলবার্তো গোমেজ ভিয়ালভা অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির অশালীন কর্মকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   আইসিই সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধে দণ্ডিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অনুমতি নেই এমন অনাগরিকদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি ব্যক্তির বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’।   তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে।   এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়।   প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।   তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়।   প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।   এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ।   এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই।   এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন।   রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন।   জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।   তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়।   জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে।   আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে।   বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল।   মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।   তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে।   এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।   আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ বা তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত আগস্টের শুরুতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   ২০ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জন্ম পর্যটন এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কার্যত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ‘বিক্রি’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বিদেশি নাগরিক মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ ভিত্তি নয়।   পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নেটওয়ার্ক নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করতে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্ক শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও কীভাবে প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে হবে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন পিগট।   আগস্টের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ নামে বিশেষ একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও আইনি কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, অ-অভিবাসী ভিসা কেবল বৈধ ও ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো।   টাস্কফোর্স গঠনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০০ হয়েছে বলে পিগট জানান। পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দম্পতি দুটি আলাদা ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও অবকাশযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় তারা আগে জন্ম নেওয়া একটি সন্তানের তথ্যও গোপন করেছিলেন। ওই দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি কাজে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেশ ছাড়েন। অন্য একটি ঘটনায়, এক নারী ভিসা আবেদনে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবকাশযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   জন্ম পর্যটন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পেছনে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক বিধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আদেশে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুন Trump v. Barbara মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। রায়টি ৬-৩ ভোটে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি বহাল থাকলেও সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগও জন্ম পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদন যাচাই এবং বাতিলের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কোনো বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাই যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হয়, সেটি পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ কারণ নয়।   মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মূলত এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার উদ্দেশ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা জন্ম পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং ভিসা আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ আইসিই হেফাজতে, বন্ডে মুক্তি মেলেনি

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসির শিক্ষক ড. বেরহানু কিবরেট এখনো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন। ইমিগ্রেশন জজ তার বন্ডে মুক্তির আবেদন নাকচ করায় ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে তাকে হেফাজতেই থাকতে হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে ওকলাহোমার ডায়মন্ডব্যাক ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে।    কিবরেটকে গত ২১ জুলাই ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই আটক করে। তিনি একটি পেশাগত সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর মেরিল্যান্ডে ফিরছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, ওই সম্মেলনে তিনি ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন।  ড. কিবরেট ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড, বাল্টিমোরের স্কুল অব ফার্মেসিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি উইলিয়াম প্যাটারসন ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে একজন মূল্যবান শিক্ষক ও সহকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে।    তার ইমিগ্রেশন অবস্থান নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, কিবরেট ২০২১ সালের জুনে একটি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং ওই ভিসার মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। তার বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।  অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড জানিয়েছে, কিবরেটের বৈধ ওয়ার্ক অথরাইজেশন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় তার হেফাজত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।    বন্ডের শুনানিতে কিবরেটের আইনজীবী তাকে ইমিগ্রেশন মামলা চলাকালে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলার সময় তিনি হেফাজতেই থাকবেন।  বন্ড নাকচ হওয়া মানেই কিবরেট তার ইমিগ্রেশন মামলা হেরে গেছেন, এমন নয়। এর অর্থ হলো, মামলার বর্তমান পর্যায়ে আদালত তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার ইমিগ্রেশন মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের স্কুল অব ফার্মেসির ডিন ড. সারাহ এল. জে. মিশেল বলেন, কিবরেটের বন্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় হতাশ এবং তার কল্যাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তার হেফাজতের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করছে।  কিবরেটের মামলা এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার হেফাজত অব্যাহত থাকবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত তার ইমিগ্রেশন মামলার কী পরিণতি হবে, তা পরবর্তী আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী আটকের ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এক অভিবাসীকে। তার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মাথায় আঘাত শনাক্ত হয়।   জোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তার কাছে এসে থামে। সেখান থেকে দুই ব্যক্তি নেমে তাকে ধাওয়া করেন। তারা কারা, তা বুঝতে না পেরে হার্নান্দেজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   হার্নান্দেজের দাবি, পালানোর সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারান। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলাভাব রয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তার মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শনাক্ত করেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   জ্ঞান ফেরার পর হার্নান্দেজ তার হাসপাতালের বিছানার পাশে দুই আইসিই কর্মকর্তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ হার্নান্দেজের বক্তব্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগের দাবি, আটকের সময় হার্নান্দেজ সাড়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার পর তাকে আটক করতে আইসিই কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন।   তবে কীভাবে ওই বলপ্রয়োগের পর হার্নান্দেজের মুখে গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন বলেও হার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন। এদিকে তার স্ত্রী ও সৎ সন্তান প্রায় তিন দিন পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি আটক হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে জানানো হয়েছে।   হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আইসিই হার্নান্দেজের পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে দেয় এবং তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।   কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি অনুভব করলে হার্নান্দেজ আবার হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে পুনরায় মস্তিষ্কে আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি আরও দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর হার্নান্দেজ তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন এবং পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন।   ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হলো, আইসিই কর্মকর্তারা হার্নান্দেজকে আটক করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই সময় তিনি কীভাবে এত গুরুতরভাবে আহত হলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে আটক করতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে হার্নান্দেজের পক্ষ থেকে আটকের পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দণ্ডিত মেক্সিকোর এক নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।,   আলবেমার্ল কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে ভাসকেজ রেইনা ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই সাজার পাঁচ বছর স্থগিত করা হয়। ভার্জিনিয়ার সরকারি যৌন অপরাধী নিবন্ধনেও তার ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্চেই ভাসকেজ রেইনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে যে অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেটিই তার দণ্ডের ভিত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ডিএইচএস জানায়, আইসিই ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রসঙ্গে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানায়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয়ের সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে যৌনভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও ছিল বলে দ্য ডেইলি প্রগ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মেয়েটি পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ভাসকেজ রেইনাকে বহিষ্কারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভার্জিনিয়ায় অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও অভিবাসন প্রয়োগের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার পূর্বসূরি রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন, যেখানে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্প্যানবার্গার রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য রাজ্যের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেন।   তবে ভাসকেজ রেইনার মামলাটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ ও তার পরবর্তী অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বহিষ্কারের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ভার্জিনিয়ার গভর্নরের কার্যালয়, আলবেমার্ল কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভাসকেজ রেইনার ক্ষেত্রে আদালতে দোষ স্বীকার ও সাজা ঘোষণার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন। ছবি: সংগৃহীত
‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র‌্যান্ডি ফাইন

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।   অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine)   চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News)   তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG)   ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine)   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র‌্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন নিয়ম: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাতিল হচ্ছে ‘আনলিমিটেড স্টে’ সুবিধা

আগামী মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়ন ও কাজের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরমের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে এফ (F), জে (J) এবং আই (I) ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকছে না, বরং তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ করা হবে।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা ফরম আই-৫৩৯ (অ্যপ্লিকেশন টু এক্সটেন্ড/চেঞ্জ নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস) এবং ফরম আই-৭৬৫ (অ্যাপ্লিকেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন)-এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। নীতিমালায় পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার দিন, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম দুটির পুরনো সংস্করণ আর গ্রহণ করা হবে না।   নতুন ফরমগুলোর একটি প্রিভিউ শেয়ার করে ইউএসসিআইএস নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে পোস্টমার্ক করা বা অনলাইনে জমা দেওয়া হলে ফরম আই-৫৩৯-এর পুরনো সংস্করণ (০৮/২৮/২৪) গ্রহণ করা হবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দিলে অবশ্যই নতুন সংস্করণ (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে, কাজের অনুমতির জন্য ব্যবহৃত ফরম আই-৭৬৫-এর ক্ষেত্রেও পুরনো সংস্করণ (০৮/২১/২৫) ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে জমা দিলে গ্রহণযোগ্য হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর বা এরপর জমা দিলে নতুন সংস্করণটি (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সটেনশন অব স্টে (ইওএস) বা অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর এই নতুন নিয়মে আসলে কী থাকছে? আগে এফ (F) ভিসায় আসা শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং পড়া শেষে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এই ব্যবস্থাকে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডি/এস) বলা হতো। কিন্তু নতুন চূড়ান্ত নিয়মে এই 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।   এখন থেকে ফরম আই-২০ (সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর নন-ইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস)-এ উল্লেখিত প্রোগ্রামের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে এই মেয়াদ কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৩০ দিন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইউএসসিআইএস-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (ইওএস) আবেদন করতে হবে। পড়াশোনা শেষ করা, নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া, অথবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) বা স্টেম (STEM) ওপিটি-তে অংশ নেওয়ার জন্য এই মেয়াদ বাড়ানো অপরিহার্য।   গত বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ তারই একটি অংশ। গত বছরের (২০২৫) জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভিসা আবেদনকারীদের, বিশেষ করে এফ, এম এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে বাছাই ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কঠোর করার মাধ্যমে এই কড়াকড়ি শুরু করে। পরবর্তীতে 'স্পেশালিটি অকুপেশন' হিসেবে পরিচিত এইচ-১বি (H-1B) ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন মূলত 'জাতীয় নিরাপত্তা'র উদ্বেগ থেকেই এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে বারবার উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ), এটি কোনো অধিকার নয়।" ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো মূলত মার্কিন অভিবাসন বিভাগের সার্বজনীন নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিয়ম এবং সময়সীমা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ইউএসসিআইএস-এর ওয়েবসাইট যাচাই করা বা একজন দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম।    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”   বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।”   বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি।   তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন।   এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড ও H-1B আবেদনকারীদের সতর্কতা, যে ভুলে বাতিল হতে পারে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ১০ জুলাই থেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে। নতুন নীতির ফলে H-1B ভিসা, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদনে টাইপ করা নাম, অটো-জেনারেটেড বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর নিজ হাতে করা স্বাক্ষর অথবা সেই হাতে করা স্বাক্ষরের আসল কপি থাকতে হবে। স্ক্যান করা বা ফটোকপি করা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি সেটি মূল হাতে করা স্বাক্ষরের সঠিক অনুলিপি হয়। তবে কেবল নাম টাইপ করে লেখা, কম্পিউটার-জেনারেটেড সিগনেচার, ফন্টভিত্তিক স্বাক্ষর বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল সিগনেচার বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।   সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে সঠিক স্বাক্ষর না থাকলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত সময়, অর্থ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হবে।   এই নির্দেশনা H-1B কর্মভিসা, স্থায়ী বাসিন্দার জন্য গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ফর্ম এবং ইউএসসিআইএসে জমা দেওয়া অন্যান্য অধিকাংশ কাগজপত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল সিগনেচারের কারণে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আবেদনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করা।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা নতুন করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নিয়ম অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও আবেদন বাতিলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (সংগৃহীত)
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে বড় অভিযান, তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কথিত জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই একাধিক সাবপোনা (Subpoena) জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   মার্কিন শ্রম বিভাগের অফিস অব ইনস্পেক্টর জেনারেলের (OIG) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে এইচ-১বি ভিসা এবং PERM লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জালিয়াতি, শ্রমিক শোষণ, মজুরি-সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ এবং মানবপাচার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মেধাবী পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যারা ভিসা ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, তদন্তে এমন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেখানে বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরির অংশ ফেরত নেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ, শ্রমিকদের শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ফেডারেল পর্যায়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।   মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কেবল প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিল্পেও এইচ-১বি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।   এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে PERM হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   এই তদন্তের ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আটকে থাকা গ্রিন কার্ডের আবেদন আবার চালুর নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

ওহাইওর একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে স্থগিত থাকা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এ আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-কে।   স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যালজেনন এল. মার্বলি এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) জারি করেন। নিউজউইক জানিয়েছে, ২৫ জন বিদেশি নাগরিকের করা একটি মামলার শুনানি শেষে তিনি এই আদেশ দেন।   মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কয়েকটি দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন-সুবিধার আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তি না করে স্থগিত রাখা হয়েছে।   যাদের ওপর প্রভাব পড়বে   আদালতের এ রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত এবং আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনেক অভিবাসীর জন্য স্বস্তি ফিরতে পারে। ইউএসসিআইএস গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব, আশ্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। এসব আবেদন দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে আবেদনকারীদের কর্মসংস্থান, আইনি অবস্থান, বিদেশ ভ্রমণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এই মামলার বাদীদের মধ্যে মিয়ানমার, কানাডা, ইরান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, তানজানিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিক রয়েছেন। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট, একজন নিবন্ধিত নার্স, একজন ক্যানসার গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে চাকরির অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন স্নাতকও রয়েছেন।   আদালতের পর্যবেক্ষণ   রায়ে বিচারক মার্বলি বলেন, সরকারের চ্যালেঞ্জকৃত নীতিমালার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তাদের জাতীয়তাকে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীরা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি নন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং অনেকেই বহু বছর ধরে সেখানে রয়েছেন। তাদের অনেকেরই আগে থেকেই কাজ করার বৈধ অনুমতি রয়েছে। বিচারকের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বৈধভাবে অবস্থানরত আবেদনকারীদের ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার যৌক্তিকতা সরকার দেখাতে পারেনি। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় নিরাপত্তা এমন কোনো জাদুকরি শব্দ নয়, যা ব্যবহার করে সব আইনি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায়।"   আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়   আদালতের আদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থানের অনুমতি পাবেন। বরং ইউএসসিআইএসকে এখন প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। অর্থাৎ আবেদন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বিচারক বিশেষভাবে ইউএসসিআইএস ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-কে বাদীদের দাখিল করা ফর্ম আই-৪৮৫ (গ্রিন কার্ডের জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন) এবং ফর্ম আই-১৩১ (নির্দিষ্ট ভ্রমণ নথির আবেদন) পুনরায় প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফর্ম আই-৭৬৫-এর আওতায় কর্মসংস্থানের অনুমতির আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এর আগেও প্রশ্ন তুলেছিল আদালত   এটি প্রথমবার নয় যে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আদালত রায় দিল। গত মাসে রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতও ইউএসসিআইএসের চারটি নীতিমালা বাতিল করে দেয়। ওই নীতিগুলোর আওতায় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব ও আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে ইউএসসিআইএস আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও জানায়, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে আদালতের নির্দেশ মেনে তারা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করবে না।   সামনে কী হতে পারে   আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে আপিলের আগে পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকবে এবং ইউএসসিআইএসকে বাদীদের স্থগিত থাকা আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে হবে। আদালত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলেছে সরকারকে।   অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের মতে, এ রায় যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু অভিবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। কারণ আবেদন বাতিল হলে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন ঝুলে থাকলে আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে প্রভাব পড়ছে মার্কিন নাগরিকের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের ওপর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই আর মিলছে না আগের সুবিধা, বদলে যাচ্ছে অভিবাসন নীতি

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে।   আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন।   তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত।   অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না।   তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ।   তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে।   নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।   ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।   অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিলের রায়ে ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে ।  ছবি: সংগৃহীত
৩৯ দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে হাজারো অভিবাসী দীর্ঘ সময় আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন।   শুক্রবার (২৯ মে) ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এ সংক্রান্ত রায় দেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই বিধিনিষেধ জারি করেছিল।   রায়ে বিচারক জন ম্যাককনেল উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্বের আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।   রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, এই নীতি “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”   ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জাতীয় নিরাপত্তার একটি ‘ভুয়া অজুহাত’ ব্যবহার করেছে, যা অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।   তিনি আরও বলেন, “ইউএসসিআইএস-এর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নয়, বরং তাদের জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।”   বিচারক রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর অনেক আবেদনকারী কাজ করার সুযোগ হারিয়েছেন, আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন।”   ভুক্তভোগী ৩৯টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের দেশ।   নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন পথও সীমিত করার পদক্ষেপ নেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন।   গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদিত শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বার্ষিক কোটা কমিয়ে ৭ হাজার ৫০০-তে নামিয়ে আনে, যা পরে আরও ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়।   একই সময়ে প্রশাসন ‘শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান’দের পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেয়।   আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে আইনি সহায়তাকারী সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই রায় একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফেডারেল সরকার কোনো আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং কোনো ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তার ভিত্তিতে বৈষম্যও করতে পারে না।”   তিনি আরও বলেন, “এই বেআইনি নীতিগুলো সারা দেশে পরিবার, শ্রমিক, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন কমিউনিটির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং কাজ করা, আইনি সুরক্ষা পাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০