রংপুর

তারেক রহমান
রংপুরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এক বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।   তারেক রহমান তাঁর ভাষণের শুরুতেই জুলাই বিপ্লবের আইকন শহীদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ প্রায় ১৪শ শহীদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “রংপুর কেবল একটি জেলা নয়, এটি ত্যাগের এক পবিত্র ভূমি। আবু সাঈদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের অবশ্যই সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে।”   রংপুরের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে এক বিশেষ অর্থনৈতিক রূপরেখা পেশ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রংপুরকে যারা গরিব অঞ্চল মনে করেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো রংপুরকে একটি আধুনিক শিল্প ও আইটি হাবে রূপান্তর করা। এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষিজাত পণ্যের কলকারখানা স্থাপন করা হবে এবং স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী কর ছাড় (Tax holiday) সুবিধা দেওয়া হবে।”   কৃষক ও নারীদের কল্যাণে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে স্মার্ট কৃষি কার্ড, যার মাধ্যমে অন্তত এক ফসলের বীজ ও কীটনাশক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন তারা। এছাড়া নারীদের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।”   ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, এদেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রংপুরের এই জনসভা নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষের পালে এক নতুন হাওয়া যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
রংপুরে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান শহীদ আবু সাঈদের বাবা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।‎‎   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।‎‎   মকবুল হোসেন বলেন, আশা করি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ফল হিসেবে একটি উন্নত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হবে।‎‎   এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে উপস্থিত হয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তিনি।   পরে শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন তারেক রহমান।‎‎   প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালর ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান আবু সাঈদ। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।‎‎   বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
নিরপেক্ষ ও নাগরিকবান্ধব আচরণ করতে সেনাপ্রধানের নির্দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনরত সেনা সদস্যদের পরিদর্শনের লক্ষ্যে রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।   এ সময় সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনকে পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুরে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।   রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এ মতবিনিময়সভায় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।   মতবিনিময়সভা শেষে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রখেন। এ সময় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন।   সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে: স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাচ্ছে। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে।   আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এ দেশের মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, যারা গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।   স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুরের আরডিএ ও তাজহাট জমিদারবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন।    এছাড়াও তিনি মিঠাপুকুরে এলজিইডির সড়ক পরিদর্শন ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শানেরহাটে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শন করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0