শিক্ষা

আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা । ছবি: সংগৃহীত
চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় চার বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থী

নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থিত আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের ব্যাচে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে কমিউনিটির জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।   মঙ্গলবার ঐতিহাসিক জিম হুইলান বোর্ডওয়াকে আয়োজিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পর শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে সাফল্যের আনন্দ।   অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।   স্কুলের মেধা তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরফিন আশিয়া দ্বিতীয়, সুমাইয়া তাসসুম চতুর্থ, সেন চৌধুরী সপ্তম এবং রাহাত রহমান নবম স্থান অর্জন করেন।   অনুষ্ঠানের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রাসহ নির্ধারিত আসনে বসেন এবং পর্যায়ক্রমে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমার প্রতীকী কপি গ্রহণ করেন।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আটলান্টিক সিটি হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. কনস্ট্যান্ট। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট ড. স্মল, স্কুল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এবং সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা।   শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুধু অভিভাবকরাই নয়, পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রমাণ করে যে অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।   কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, এই কৃতিত্ব শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নয়, বরং পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের গর্ব। তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত জীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে স্কুল ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ক্লাসের জন্য বিশাল সরকারি অনুদান ঘোষণা

১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রাক্কালে স্কুল-পরবর্তী বিশেষ ক্লাসের জন্য ১৩ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১৩২.৫ মিলিয়ন) একটি বিশাল তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানোর বিকল্প তৈরি করে দিতে এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সঙ্গীত দল, বিতর্ক ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ক্লাসের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, যার ঠিক আগেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল ঘোষণা করলেন মন্ত্রীরা।   দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর থেকে ডিজিটাল আসক্তির চাপ কমাতে এই সুসংগঠিত স্কুল-পরবর্তী ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৪ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে একাকীত্বের হার অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের মানদণ্ড নির্ধারণের সময় দেশটির শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অফস্টেড’ এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশের অংশ হিসেবে এই ধরনের অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ-সুবিধাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করবে।   শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন এই তহবিলের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো শিশুর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার মেধা বিকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি শিশুরই খেলাধুলা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা উপভোগ করার সমান অধিকার রয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে।   সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দীও এই কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি ভালোবাসে এমন কোনো শিশুকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। তবে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল অ্যান্ড কলেজ লিডার্সের সাধারণ সম্পাদক পেপে ডি’আইসিও সতর্ক করে বলেছেন, স্কুলগুলো ইতিমধ্যেই তীব্র আর্থিক এবং কর্মী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই ভালো আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চাপের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য কী কী সরকারি সুবিধা
নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে? শিশু থেকে প্রবীণ—কারা পাচ্ছেন কোন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তবে এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর-সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এসব সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বাস্তবে অনেক কর্মসূচি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও উন্মুক্ত।   নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এসব কর্মসূচি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।   খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হাজারো পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসে।   কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় অনেক সময় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্কে শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা অনুমোদিত পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ কিংবা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর ফলে অনেক অভিভাবক নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।   নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ অথবা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার জন্য কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।   অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব পরিবার সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়ে, তারা খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   শীতপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয় কমাতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।   প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও নিউইয়র্কে বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যাকারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও গ্রহণ করতে পারেন।   শিক্ষার্থী এবং শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে শিশু কর-সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের সুবিধার পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিভিন্ন বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়সেবা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, ফলে আবেদন ও তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হয়েছে।   এছাড়া নিউইয়র্কে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর-সুবিধা, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর-ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও এসব কর-সুবিধা ও পরিবারভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা শিশু, পরিবার, কর্মজীবী মানুষ, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে এবং আবেদনকারীর আয়, পারিবারিক অবস্থা, বসবাসের স্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সুবিধা প্রদান করা হয়।   জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার এই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সহায়তা কর্মসূচি লাখো মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশু থেকে প্রবীণ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী পরিবার—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অনেকের কাছে এসব কর্মসূচি শুধু সরকারি সুবিধা নয়, বরং কঠিন সময়ে জীবনকে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা।

নীলুফা নিশাত জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক বৈধ—আপিল আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার আইন বৈধ বলে রায় দিয়েছেন একটি ফেডারেল আপিল আদালত। মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় উপাদান যুক্ত করার পক্ষে থাকা রক্ষণশীল মহলের বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   রায়ে বলা হয়েছে, টেক্সাসের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে না। এই সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত রাখে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে গড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইতিমধ্যে আরকানসাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের আইন পাস হয়েছে, যেগুলো আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের গভর্নরও সম্প্রতি অনুরূপ একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন।   টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই রায়কে “টেক্সাস ও আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের জন্য বড় বিজয়” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দশ আদেশ আমাদের জাতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তা থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।”   অন্যদিকে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মাহালেরিস এই আইনকে “সাধারণ বুদ্ধির প্রতিফলন” এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   তবে আইনটির বিরোধিতা করা পরিবারগুলোর পক্ষে থাকা সংগঠনগুলো, যার মধ্যে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নও রয়েছে, রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করে।   তারা আরও বলেছে, সংবিধান পরিবারগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করে—তারা কখন, কীভাবে এবং আদৌ সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই। এই রায় সেই অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।   এর আগে একটি জেলা আদালত স্কুলগুলোতে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শন স্থগিত করেছিল। তবে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী বিশ্বাস করতে হবে বা কীভাবে উপাসনা করতে হবে—সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয় না।   এতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীকে ‘দশ আদেশ’ আবৃত্তি করতে, তা বিশ্বাস করতে বা এর ঐশ্বরিক উৎস স্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে না। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টেক্সাসে এই আইন কার্যকর হয়, যা দেশজুড়ে সরকারি স্কুলে ‘দশ আদেশ’ প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   যদিও কিছু স্কুল জেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অনেক শ্রেণিকক্ষে এটি টাঙানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে টেক্সাস ও লুইজিয়ানার এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নেয় আপিল আদালত। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারিতে লুইজিয়ানার আইনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়।   লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের আইন সবসময়ই সংবিধানসম্মত ছিল, এবং আপিল আদালত সেটি নিশ্চিত করায় আমি কৃতজ্ঞ।” অন্যদিকে, আরকানসাসেও একই ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলেও সেখানে একটি ফেডারেল আদালত সম্প্রতি সেটি স্থগিত করেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
আর্টেমিস ২ মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ তার সহকর্মী আমেরিকান ওয়াইজম্যান ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং আরেক মিশন স্পেশালিস্ট কানাডিয়ান জেরেমি হ্যানসেনের সাথে ওরিয়ন মহাকাশযানে রয়েছেন । ছবি হ্যান্ডআউট/নাসা, রয়টার্স
বাংলাদেশের নারীদের বলছি..

বাংলাদেশের নারীদের উদ্দেশে একটাই কথা শিক্ষাই আপনাদের প্রকৃত শক্তি, শিক্ষাই মুক্তির একমাত্র পথ। শিক্ষা ছাড়া সামনে এগোনোর কোনো টেকসই বিকল্প নেই। জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে নারীরাই পারে নিজেদের ভাগ্য বদলে দিতে, এমনকি বিশ্বজয় করার স্বপ্নও বাস্তবে রূপ দিতে।   বিশ্বের নানা প্রান্তে নারীরা আজ অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন। মহাকাশ থেকে বিজ্ঞান, সাহিত্য থেকে রাজনীতি—সবখানেই তাদের দৃপ্ত পদচারণা। এই অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে, সুযোগ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটলে নারীরা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তুলতে পারেন।   কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক বাধা, কুসংস্কার—এসবের কারণে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। তবুও থেমে গেলে চলবে না। প্রতিকূলতাকে জয় করেই এগিয়ে যেতে হবে।   নিজেকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারলে একজন নারী শুধু নিজের জীবনই বদলাতে পারেন না, বদলে দিতে পারেন একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি দেশও। শিক্ষা একজন নারীকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয় এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করে।   দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো আমাদের সমাজে বাল্যবিবাহ, বৈষম্য ও নারীর প্রতি অবমূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। অথচ বিশ্বের অন্য প্রান্তে নারীরা প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই বৈপরীত্য দূর করতে হলে শিক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।   তাই বাংলাদেশের নারীদের প্রতি আহ্বান নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিন এবং সেই স্বপ্ন পূরণে অবিচল থাকুন। সমাজের নেতিবাচক ধ্যানধারণাকে উপেক্ষা করে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।   ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নারীরাই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে। অতীত ও বর্তমানের অসংখ্য নারী তাদের সাহস, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। তাদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মের নারীরাও এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশাই এখন সময়ের দাবি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ সাশ্রয়: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত আসবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। শিক্ষা কার্যক্রমে সশরীর, অনলাইন বা মিশ্র পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে কি না—তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে।   আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিষয়টি মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করা হবে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সংবাদ সম্মেলন করবে। আমাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কিছু বলা হবে না।”   সাধারণত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার, তাই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক প্রস্তাবে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সশরীর ক্লাস হবে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস অবশ্যই সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।   তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস কার্যকর করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। ঢাকার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, “শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইনে আনা অসম্ভব। করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা অনলাইন ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।”   প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করানো কঠিন। এ জন্য বিকল্প সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে আসবে।   উল্লেখ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৪০ দিনের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ খুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটের প্রভাব এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আজকের শিক্ষার আধুনিকায়ন ও রূপান্তর

শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে মৌলিক ও শক্তিশালী রূপান্তরকারী শক্তি। যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশের পেছনে শিক্ষা যে বিশাল ভূমিকা রেখেছে, তা ইতিহাসের প্রতিটি স্তরেই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আর সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে না। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তিত চাহিদা আমাদেরকে বাধ্য করছে নতুন করে ভাবতে-কীভাবে আমরা আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করব। আজকের শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে গড়ে তুললে সে বাস্তব জীবনের অনিশ্চয়তা, জটিলতা ও প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না।   কারণ বর্তমান বিশ্বে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও প্রজ্ঞার অভাবই বড় সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তাই প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যা শুধু তথ্য সরবরাহ করবে না, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োগ করার সক্ষমতা তৈরি করবে। এই প্রেক্ষাপটে “স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল” হতে পারে একটি সমন্বিত, মানবিক এবং ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাদর্শন, যা শিক্ষার্থীদের কেবল তথ্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলবে না, বরং তাদেরকে দক্ষ, চিন্তাশীল, নৈতিক, দৃঢ়চেতা এবং প্রযুক্তিসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই মডেল এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করবে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ একে অপরের সাথে সমন্বয়পূর্বক একজন মানুষকে পূর্ণতা দিবে।   এই মডেলের মূল ভিত্তি হবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- দক্ষতা (স্কিল), মানসিকতা (মাইন্ডসেট), মনোভাব (অ্যাটিচ্যূড), সহনশীলতা (রেজিলিয়েন্স) এবং প্রযুক্তি (টেকনোলজী)। এই পাঁচটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক এবং সম্মিলিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষার কাঠামো তৈরি করবে। প্রথমত দক্ষতা এমন একটি উপাদান যা একজন শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করবে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক জ্ঞাননির্ভর ছিল, যেখানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনই ছিল প্রধান লক্ষ্য।   কিন্তু বাস্তব জীবনে সফল হতে হলে শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না; সেই জ্ঞানকে প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার সক্ষমতাই একজন মানুষের প্রকৃত যোগ্যতা নির্ধারণ করে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি কোনো সমস্যাকে ভেঙে বিশ্লেষণ করতে পারে, সম্ভাব্য কারণগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং যৌক্তিকভাবে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে সে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবে। এজন্য শিক্ষার প্রতিটি স্তরে অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, দলগত আলোচনা এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু উত্তর মুখস্থ করবে না, বরং উত্তর খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াটিই শিখবে, যা তাদের চিন্তাশক্তিকে বহুমাত্রিক করে তুলবে।   উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোডিং বা প্রোগ্রামিং দক্ষতা আধুনিক যুগে এক ধরনের ভাষায় পরিণত হয়েছে, যা প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি শুধু প্রযুক্তিবিদদের জন্য নয়; বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোডিং শেখার মাধ্যমে তারা লজিক্যাল চিন্তা, ধৈর্য এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তোলে। একটি ছোট প্রোগ্রাম তৈরি করার মধ্য দিয়েও একজন শিক্ষার্থী শিখে নেয় কীভাবে একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করতে হয়। এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।   বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান যত গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই জ্ঞানকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা। একজন শিক্ষার্থী যদি তার ভাবনা স্পষ্ট, সুসংগঠিত এবং কার্যকরভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে সে সহজেই অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে এবং তার চিন্তার মূল্যায়ন পাবে। তাই মৌখিক উপস্থাপনা, লিখিত প্রকাশ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ এই তিনটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে দলগত কাজের ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগ পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং যৌথভাবে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করে। এইভাবে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষিত নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত একজন সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।   স্মার্ট-৫.০ মডেলের দ্বিতীয় উপাদান মানসিকতা, যা শিক্ষার্থীর চিন্তার ধরনকে গঠন করবে এবং তার শেখার গভীরতা নির্ধারণ করবে। একটি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতা ছাড়া কোনো দক্ষতাই দীর্ঘস্থায়ী বা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে না, কারণ দক্ষতার সঠিক প্রয়োগ নির্ভর করে চিন্তার গুণগত মানের উপর। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ তথ্যের মুখোমুখি হচ্ছে, যার সবই সত্য বা নির্ভরযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা তথ্যের উৎস যাচাই করতে পারে, পক্ষপাতদুষ্টতা চিহ্নিত করতে পারে এবং যুক্তির আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।   শুধু তথ্য গ্রহণ নয়, বরং তথ্যের ভেতরের অর্থ ও প্রভাব অনুধাবন করার ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। এর পাশাপাশি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা বিকাশমুখী মানসিকতা শিক্ষার্থীদেরকে শেখায় যে প্রতিভা জন্মগত কোনো স্থির বিষয় নয়, বরং এটি চর্চা, অধ্যবসায় এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিকশিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদেরকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করে, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তোলে। ফলে তারা ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে উন্নতির সোপান হিসেবে ব্যবহার করতে শেখে।   মনোভাব হলো এই মডেলের তৃতীয় উপাদান, যা একজন মানুষের চরিত্র, আচরণ এবং সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলবে। শিক্ষা যদি কেবল দক্ষতা ও জ্ঞান প্রদান করে, কিন্তু একজন মানুষকে মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে না পারে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। নৈতিকতা একজন মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, যা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দায়বদ্ধতা এবং আত্মসম্মান-এই মূল্যবোধগুলো ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা শুধু নিজের স্বার্থে নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করতে শেখে।   একই সাথে সহমর্মিতা এমন একটি গুণ, যা মানুষকে অন্যের অবস্থান বুঝতে এবং তার অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখায়। এটি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শ্রেণিকক্ষে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই গুণগুলো বিকশিত করা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে শেখে এবং ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের প্রতি সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।   সহনশীলতা স্মার্ট-৫.০ মডেলের চতুর্থ উপাদান, যা একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার মধ্যে স্থির থাকতে এবং এগিয়ে যেতে শক্তি জোগাবে। বাস্তব জীবন কখনোই পূর্বনির্ধারিত পথে চলে না; বরং এটি নানাবিধ বাধা, পরিবর্তন এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে পরিপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থী যদি সামান্য প্রতিবন্ধকতায় হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে তার পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই তাকে মানসিকভাবে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে সে প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় না পেয়ে বরং তা মোকাবেলার সাহস অর্জন করে। প্রতিটি ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার অভ্যাস তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।   অভিযোজন ক্ষমতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ বর্তমান বিশ্বে পরিবর্তনই একমাত্র স্থায়ী সত্য। প্রযুক্তির অগ্রগতি, কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির দ্রুত রূপান্তর শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিনিয়ত নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করছে। তাই তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা অজানা পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারে, নতুন দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী থাকে এবং পরিবর্তনকে সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে গ্রহণ করে। এই মানসিক দৃঢ়তা ও নমনীয়তার সমন্বয়ই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত করে তোলে।   প্রযুক্তি হলো স্মার্ট-৫.০ মডেলের পঞ্চম এবং শেষ উপাদান, যা পুরো মডেলকে একটি আধুনিক, কার্যকর এবং ভবিষ্যতমুখী কাঠামো প্রদান করবে। প্রযুক্তি আজ আর কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি শিক্ষা, কর্মজীবন এবং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ক্লাউড প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের শেখার ধরনকেই বদলে দিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে লক্ষণীয়, কারণ এখন শিক্ষার্থীরা কেবল বইয়ের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন রিসোর্স এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ টুলের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করছে।   প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় অবদান হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার নিজস্ব সক্ষমতা, আগ্রহ এবং শেখার গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে পারে। এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সহায়তা পায় এবং অগ্রসর শিক্ষার্থীরা আরও গভীরভাবে শেখার সুযোগ পায়। তবে প্রযুক্তির এই বিস্তৃত ব্যবহারের সাথে সাথে এর নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল সাক্ষরতা তাই শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা নয়; বরং এটি তথ্য যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের একটি সমন্বিত চর্চা।   এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে কেবল ব্যবহারই করে না, বরং তা বুঝে, মূল্যায়ন করে এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে শেখে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল মূলত একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে শিক্ষাকে একটি স্থির কাঠামো নয়, বরং একটি গতিশীল ও ক্রমবিবর্তনশীল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এখানে শিক্ষক আর একমুখী জ্ঞানপ্রদানকারী নন; বরং তিনি একজন সহায়ক, যিনি শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন করতে, অনুসন্ধান করতে এবং নিজের চিন্তার জগৎ তৈরি করতে উৎসাহিত করেন।   এই মডেলে শেখার প্রক্রিয়া একমুখী নয়, বরং দ্বিমুখী এবং পারস্পরিক, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই একে অপরের কাছ থেকে শেখে। শিক্ষার্থীরা এখানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, যারা নিজেদের শেখার দায়িত্ব নিজেরাই গ্রহণ করে এবং নতুন জ্ঞান অর্জনে কৌতূহলকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে শ্রেণিকক্ষের প্রচলিত ধারণাও পরিবর্তিত হয়। শেখা আর নির্দিষ্ট সময় বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে ওঠে। ফলে শিক্ষা জীবনের সাথে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত হয় এবং তা কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।   এই মডেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুসংগঠিত ও সমন্বিত উদ্যোগ, যেখানে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের প্রতিটি অংশীদারের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। প্রথমত, পাঠ্যক্রমকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে যাতে তা বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করে। শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক পাঠ্যসূচি নয়, বরং এমন বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে, যাতে তারা নতুন শিক্ষাদর্শন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারে।   একজন প্রশিক্ষিত ও সচেতন শিক্ষকই পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মডেলের মূল্যবোধগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। একই সাথে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য, যাতে শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমে আসে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পায়। ইন্টারনেট সংযোগ, ডিভাইসের প্রাপ্যতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে, এই মডেলের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করে একটি সমন্বিত, দূরদর্শী এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার উপর, যা শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে ভবিষ্যত উপযোগী করে তুলতে পারে।   পরিশেষে বলা যায়, স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয়; এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়-শিক্ষা কী, কেন এবং কীভাবে তা পরিচালিত হওয়া উচিত। এই মডেল শিক্ষাকে কেবল তথ্য অর্জনের প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে, বরং একজন মানুষের সামগ্রিক বিকাশের ধারাবাহিক যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করে।   এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার লক্ষ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তারা আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে, যারা নিজের জীবনকে অর্থবহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। এই মডেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের জটিল বাস্তবতায় তাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।   ভবিষ্যতের বিশ্ব হবে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবর্তনশীল, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো জ্ঞান বা দক্ষতা দীর্ঘদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে না। তাই এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদেরকে আজীবন শেখার বা জীবনব্যাপী শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরিবর্তনের সাথে নিজেকে ক্রমাগত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।   স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং প্রযুক্তি একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি টেকসই শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলে। এটি শিক্ষার্থীদেরকে কেবল কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করে না; বরং তাদেরকে উদ্ভাবক, চিন্তাশীল এবং সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, যারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। অতএব, এখনই সময় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্মূল্যায়ন করার এবং তা সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার।   শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রেও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে এই মডেলের মূল দর্শন শিক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মকে শুধু জ্ঞানী নয়, বরং প্রজ্ঞাবান, মানবিক এবং দূরদর্শী করে তুলবে। স্মার্ট-৫.০ এডুকেশন মডেল সেই পথনির্দেশনা প্রদান করে, যার মাধ্যমে আমরা একটি আলোকিত, দক্ষ এবং নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।   মোঃ আবদুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), ঢাকা (প্রাবন্ধিক, লেখক ও গবেষক) ই-মেইল: arahmanmiah@gmail.com

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আমূল বদলে যাচ্ছে নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থা

নেপালের নবগঠিত সরকার দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই গ্রহণ করা হয়েছে ১০০ দফার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচি। এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার মানসিক চাপ কমিয়ে আনা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে নেপালের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব ধরনের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসগুলো থেকে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলো সরিয়ে ফেলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে গঠন করা হবে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকা বা দলীয় ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো প্রথাগত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা আর থাকছে না। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প ও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া সেশন জট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট শিক্ষা ক্যালেন্ডার মেনে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নেপালি জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে ‘অক্সফোর্ড’, ‘পেন্টাগন’ বা ‘সেন্ট জেভিয়ার্স’-এর মতো বিদেশি নামধারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের মধ্যে নেপালি নাম গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেনশন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রাদেশিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বালেন শাহর সরকার।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে ৫ দফা জরুরি নির্দেশনা

দেশের শহর ও গ্রাম পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে ‘অতীব জরুরি’ ৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি পুরো কার্যক্রমটি তদারকি করবে। মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি রোগমুক্ত ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত ৫ দফা নির্দেশনাসমূহ হলো: ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা: ঈদের ছুটি শেষে স্কুল-কলেজ খোলার আগেই পুরো ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। নিয়মিত তদারকি: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে। সাপ্তাহিক অভিযান: কেবল পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। বৃক্ষরোপণ ও বাগান: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং সৃজিত বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারা বছর এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০