গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ছয় স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য চালু করা হচ্ছে বডিওর্ন ক্যামেরা, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৩৪ লাখের বেশি। তাদের ভোটগ্রহণের জন্য চার হাজার ৫৪৬টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনের মূল্যায়নে দুই হাজার ৫৬১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮২৭টি। বিশেষভাবে চরাঞ্চল, দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা, পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রার্থীর বাড়ির আশপাশে অবস্থিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। অতীতের ভোটকেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, ভয়ভীতি ও অনিয়মের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে এসব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ, আনসার সদস্য, ভিজিলেন্স টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করা হবে। প্রতিটি এমন কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ থাকবে এবং বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন বলেন, জেলার আওতাধীন ৬৬৯টি ভোটকেন্দ্রে সরাসরি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্রের বাইরে ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় মোবাইল টিম, সাব-সেক্টর ও সেক্টর ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ভোটার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদ থাকে। ৩১৫টি কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনী একযোগে মাঠে কাজ করবে। রংপুর জেলায় মোট ৮৭৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬৯টি জেলা পুলিশের অধীনে রয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৮৭৩টি। এর মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। রংপুর সিটি এলাকায় রয়েছে ১২১টি এবং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৯৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। ভোটার সংখ্যা বেশি, পূর্বের সহিংসতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, ছয়টি আসনে মোট ভোটার প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখের বেশি, পুরুষ ভোটার প্রায় ১২ লাখ ৯৩ হাজার এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩১ জন। মোট ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪ জন প্রার্থী। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। প্রয়োজনে দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দ্রুত মোতায়েন করা হবে। এছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায় ৩ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ২৬টি ক্যাম্পের ৭৪টি প্লাটুন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিজিবির বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট, ডগ স্কোয়াড ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সমন্বিতভাবে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ সাগর হোসেন বাসসকে জানান, রোববার গভীর রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। তিনি পাবনা-৫ আসনের ভোটার হিসেবে নিজের ভোট দেন। ডাক বিভাগের একজন কর্মকর্তা ব্যালটটি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন। এবার দেশের অভ্যন্তরে তিনটি শ্রেণির নাগরিক—সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দিরা—পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন। সব মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সারাদেশে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ ও উৎসবের আমেজ। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হবে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারণা। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। অর্থাৎ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ব্যালট পেপার বাদে প্রয়োজনীয় সব নির্বাচনী সামগ্রী ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের মতে, প্রস্তুতিপর্ব এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। সকাল থেকেই প্রার্থী, তাদের পরিবার, কর্মী ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে এবং ভোটের আগে ও পরে মোট সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সবাই আশ্বস্ত করেছে যে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য অনুকূল। তিনি আরও বলেন, সব ব্যালট বাক্স জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসাররা সেগুলো গ্রহণ করছেন। এখন প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই ভোটগ্রহণের শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন প্রস্তুতি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। আগামী এক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার সহিংসতার আশঙ্কা কম এবং ভোটারদের মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। কমিশনার মাছউদ জানান, বিভিন্ন জেলা সফর করে তিনি দেখেছেন—মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা ভোটারদের এই প্রত্যাশা সম্মান করবেন এবং সংঘাত এড়িয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রায় অর্ধশত আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। একইভাবে তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কয়েকটি দলও ভোটের মাঠে নেই। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জাল ভোট বা তথাকথিত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে কিছু গুজব রয়েছে। কেউ যেন বাইরে থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ কাউকে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সব কেন্দ্র ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা মাঠে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরার প্রায় ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার প্রায় ১০ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও আনসারের বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, উৎসবমুখর পরিবেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে এখন শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেশ। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সময়ে কোনো ধরনের উন্নয়ন বা সংস্কার কাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কিংবা টেলিযোগাযোগ সংযোগ যেন ব্যাহত না হয়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবদের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সময়ে নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফলাফল আদান-প্রদানের জন্য নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সড়ক বা মহাসড়কের পাশে চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে যেন কোনো ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে রাস্তা বা হাইওয়েতে কোনো ধরনের খনন বা উন্নয়নমূলক কাজের আগে অবশ্যই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বিটিআরসির পূর্বানুমতি ও আলোচনা ছাড়া এমন কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের দিনসহ তার আগে ও পরে সার্বিক নিরাপত্তা, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অপরিহার্য। সেই কারণেই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লেনদেনের সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমএফএস এবং এনপিএসবি’র আওতাধীন আইবিএফটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি হিসাবের লেনদেন সীমিত থাকবে। এ সময় একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিবার লেনদেনের সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম বহাল থাকবে। এই চার দিনের মধ্যে এসব খাত ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বর্তমানে একজন এমএফএস গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ পান, যা নির্বাচনকালীন এই সময়ের জন্য সীমিত করা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীকে আলাদা কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে হবে। এছাড়া উল্লিখিত ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে আইবিএফটির মাধ্যমে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ১৮ দিনের প্রচারণা শেষ হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপরই শুরু হবে ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল প্রচারণা চালাতে পারবে না। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৩০০টি আসন থাকলেও শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এক নজরে নির্বাচনের পরিসংখ্যান নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনের চিত্র— মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬.৪৮ কোটি, নারী ৬.২৮ কোটি এবং হিজড়া ১,২২০ জন। সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে, ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২,০৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সর্বাধিক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, মোট ২৯১ জন। ভোটকেন্দ্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবেন দেশীয় ৫১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। উল্লেখ্য, ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম, মাত্র ২ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। এদিকে ব্যালট পেপার পাঠানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজ রোববারের মধ্যেই দেশের সব জেলায় ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীরের কাস্তে মার্কার সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুর্গাপুর পৌর শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. দিবালোক সিংহ। সিপিবি দুর্গাপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি নলিনী কান্ত সরকার, জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, নারী সেলের আহ্বায়ক তাসলিমা বেগমসহ উপজেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাস্তে মার্কাকে বিজয়ী করা জরুরি। তারা আরও বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের সব মানুষের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই সিপিবির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান অজানা আতঙ্ক দূর করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিনিধি মামুন রণবীর
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। জনসভায় তারেক রহমান বলেন, আগামীর রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শুরু করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, কারণ নারীদের কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নারীদের প্রকৃত অর্থেই স্বাবলম্বী করতে চায়। বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিটি নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণ সরকার জনগণের পক্ষে পরিশোধ করবে। এর আগে একই দিন দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন—তাদের ত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, এটি হবে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার নির্বাচন। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক যুগ ধরে দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও তারা পিছিয়ে পড়েছে। যুব সমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি, নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি এবং কৃষকরাও প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহায়তা পাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
খাদ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন আর নেই। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন (৮৩) শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রমেশ চন্দ্র সেন দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। এর আগেও একাধিকবার চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগার থেকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের সব দোকান, বাণিজ্য কেন্দ্র ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এবং ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আয়োজন করা হয়েছে। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ গত ৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। কারখানার শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারিতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি স্বাভাবিকভাবে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা