- প্রচ্ছদ
- Topic
গৃহহীন
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়। পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে। বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহহীন সংকট মোকাবিলায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরের টানা হ্রাসের পর ২০২৬ সালের নতুন তথ্য-উপাত্তে এই বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ও কাউন্টিতে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রাস্তাঘাট, ফুটপাত এবং অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী চরম গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ। সংকট নিরসনে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস-এর বিশেষ কর্মসূচি 'ইনসাইড সেফ'-এর পেছনে চলতি বছরই প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি গৃহহীন ব্যক্তির পেছনে শহরের প্রায় ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এছাড়া 'প্রজেক্ট হোমকি' ও কাউন্টির ভোটারদের অনুমোদিত 'মেজার এ' সেলস ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারসহ সিটি ও কাউন্টি প্রশাসন যৌথভাবে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে। তবে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সংকটের গভীরতা বাড়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো। তাদের মতে, প্রশাসনের ব্যর্থতা, সুনির্দিষ্ট রূপরেখার অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার দায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছেন মেয়র ক্যারেন বাস। মেয়র কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে জ্বালানি, নিত্যপণ্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে কম আয়ের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তহবিল ছাঁটাইয়ের ফলে গৃহহীনদের জন্য রক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে গেছে। তবে আসন্ন মেয়র নির্বাচনের মুখে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমন এই অস্থায়ী আশ্রয় ব্যবস্থার সমালোচনা করলেও, তার নিজস্ব বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার খবরও সম্প্রতি গণমাধ্যমে সামনে এসেছে। এদিকে অঞ্চলটির গৃহহীন ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী সংস্থা 'লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি' (LAHSA)-র পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সাধারণত বছরের শুরুর দিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এবার ব্যাপক বিলম্বের পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলটি প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। এমনকি চরম অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে সংস্থাটির বেশ কিছু প্রস্তাবিত বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে মার্কিন নির্দেশক কর্তৃপক্ষ। সার্বিকভাবে, বিশাল বাজেট সত্ত্বেও লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ইতিবাচক ফল না আসায় নগর প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের পশ্চিম পাশে প্রায় ১২ ব্লকজুড়ে গড়ে ওঠা গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী শিবির নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কর্মজীবী ও পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। ইন্ট্রেপিড মিউজিয়াম, জাভিটস সেন্টার ও হাডসন ইয়ার্ডসের কাছাকাছি ব্যস্ত এলাকায় সারি সারি তাঁবু, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও আবর্জনা পড়ে থাকায় মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবিরটি ১১তম অ্যাভিনিউ ধরে ৩৪তম স্ট্রিট থেকে ৪৬তম স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুটপাতের বড় অংশ তাঁবু ও মালামালে দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। কয়েকজন বাসিন্দা ও পর্যটক জানিয়েছেন, এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি চলাচলে অসুবিধা তৈরি করছে এবং নিউইয়র্কের পর্যটন ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ, যৌনকর্ম এবং সন্দেহজনক মালামাল থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি শিবিরের একাংশে সড়কের বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, শিবিরটি সরিয়ে দেওয়ার অনুমতি এখনো পুলিশকে দেওয়া হয়নি। তবে অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। মেয়র মামদানির প্রশাসনের নতুন নীতিতে গৃহহীনদের শিবির সরানোর দায়িত্ব পুলিশের পরিবর্তে শহরের ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসকে দেওয়া হয়েছে। কোনো শিবির সরানোর নোটিশ দেওয়ার পর সাত দিন ধরে প্রতিদিন সেখানে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সমাজসেবা কর্মীরা। এ সময় তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা ও স্থায়ী আবাসন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। সপ্তম দিনের পর শিবির সরিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। মেয়র মামদানি বলেছেন, তাঁর প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গৃহহীন মানুষদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া নয়। তাঁদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করাই মূল উদ্দেশ্য। পশ্চিম পাশের ওই শিবিরের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরে শিবিরটি সরিয়ে দেওয়া হবে জানালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। শহরের সমাজসেবা কর্মীরা ইতিমধ্যে ওই এলাকায় গিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার এবং গৃহহীন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক তাঁবু ও ব্যক্তিগত মালামাল তখনো সেখানে রয়ে গেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালসহ বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতির সময় শিবিরটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এলাকাটির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও অনুষ্ঠানস্থল থাকায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের অনেকে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্য যেকোনো বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজ্যের বর্তমান আবাসন ব্যবস্থা এমন বহু প্রবীণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, যারা আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বেশি সহায়তা চান, কিন্তু হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে থাকার প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের এক শুনানিতে এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবাসন ও প্রবীণ কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি হাজারো প্রবীণকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্যাক্রামেন্টোভিত্তিক সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠান এল হোগার কমিউনিটি সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী জেনেল কাজারেস বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এসব কারণে স্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এমন এক ধরনের সহায়তা চান, যা স্বাধীনভাবে বসবাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে। কিন্তু এই ধরনের আবাসন ব্যবস্থারই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে গৃহহীন একক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথমবারের মতো গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। রাজ্যজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ বর্তমানে গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কাউন্টিতে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ২৯ শতাংশই প্রবীণ। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন নীতিবিষয়ক সংগঠন লিডিংএজ ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী পরিচালক হ্যারিসন লিন্ডার বলেন, এটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাদের জন্য কী ধরনের সমাধান প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের গৃহহীন হয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যায়, আয় সীমিত হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং একই সময়ে আবাসনের খরচও নাগালের বাইরে চলে যায়। লিন্ডারের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় ৩২ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করেন। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি আবাসন-সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। চাহিদা বাড়লেও সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের সরবরাহ সেই তুলনায় খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের ইউনিট রয়েছে মাত্র ৯০ হাজারের মতো। অথচ নতুন একটি ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসন ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হতে পারে ৭ লাখ ডলারেরও বেশি। সান্তা ক্লারা কাউন্টির সর্বশেষ গৃহহীনতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিশু থাকা পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী বাসস্থানে জায়গা পেয়ে যায়। কিন্তু একা বসবাসকারী প্রবীণরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ পান না। ফলে তাদের বড় অংশকে খোলা আকাশের নিচে বা অনিরাপদ পরিবেশে থাকতে হয়। এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন ৬১ বছর বয়সী স্টিভ গ্যাসকিল। তিনি স্যাক্রামেন্টোর একটি প্রবীণ আবাসনে বসবাস করেন। কমিশনের শুনানিতে তিনি জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাবহাবে কাজ করে কোনোমতে ১ হাজার ৩০০ ডলারের ভাড়া পরিশোধ করতেন। কিন্তু ভাড়া বাড়ার পর তিনি আর তা বহন করতে পারেননি। পরে দীর্ঘ সময় আবেদন করার পর একটি সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনে জায়গা পান তিনি। গ্যাসকিল বলেন, “আমরা এখনো বেঁচে আছি। শুধু মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য একটু সহায়তা প্রয়োজন।” তবে সব প্রবীণের ভাগ্যে গ্যাসকিলের মতো সুযোগ জোটে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই আবাসনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে যেতে বাধ্য হন। আর একবার গৃহহীন হয়ে গেলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির স্বাস্থ্য উদ্যোগের দীর্ঘদিনের পরিচালক ডেভিড লিন্ডেম্যান বলেন, রাস্তায় বসবাস করলে বয়সজনিত সমস্যাগুলো আরও দ্রুত ও তীব্র আকার ধারণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রতিকূল আবহাওয়া, অপুষ্টি, চিকিৎসার অভাব এবং অনিরাপদ জীবনযাপনের কারণে গৃহহীন মানুষদের মধ্যে ‘দ্রুত বার্ধক্য’ দেখা দেয়। ফলে ৫০ বছর বয়সী একজন গৃহহীন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনেক সময় ৭০ বছর বয়সী কোনো নিরাপদ বাসস্থানে থাকা মানুষের মতো হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, উপযুক্ত আবাসনের অভাবে বহু প্রবীণকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অস্থায়ী আবাসনে থাকতে হয়। এতে যেমন তাদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারি ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তাসম্পন্ন সাশ্রয়ী আবাসন দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে আগামী বছরগুলোতে গৃহহীনতার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
হাওয়াইয়ের ওআহু দ্বীপের ওয়াইআনায়ে এলাকার ১৮ বছর বয়সী এরিক শুলৎজের জীবনটা অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতো ছিল না। কৈশোরের বড় একটা সময় তাকে কাটাতে হয়েছে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র, গাড়ি কিংবা অস্থায়ী আবাসে। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন হাইস্কুল ডিপ্লোমা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেএইচএনএল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ওয়াইআনায়ে হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন এরিক। অনুষ্ঠান শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমাটা হাতে নিতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ ছিলাম। কান্না চলে আসছিল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়েছি।” এরিকের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে ছিল। তার বাবা-মা মাদকাসক্তির সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই তাকে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতে হয়েছে। ওআহু দ্বীপে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সেখানে ৮০২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহহীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। এরিকও ছিলেন সেই তরুণদের একজন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি তার লক্ষ্যকে বদলে দিতে পারেনি। বছরের শুরুতে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে এরিক বলেছিলেন, প্রায় এক বছর তিনি গাড়িতে থেকেও নিয়মিত স্কুলে গেছেন। তার ভাষায়, “আমি প্রায় এক বছর গাড়িতে থেকেছি, তারপরও একই সঙ্গে স্কুলে গেছি। এতে আমার লক্ষ্য বদলায়নি। আমি শুধু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।” নিজের সংগ্রামের পাশাপাশি অন্য গৃহহীন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি। ওয়াইআনায়ে উপকূল এলাকায় একসময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গৃহহীন পরিবারগুলোর মধ্যে দান করা সামগ্রী বিতরণ করতেন এরিক। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি কিছু মানুষের সহায়তাও পেয়েছেন। তাদের একজন ডিজারি অ্যাডামস, যাকে এরিক নিজের “হানাই আন্টি” বা পালক খালার মতো মনে করেন। হাওয়াই সংস্কৃতিতে “হানাই” বলতে রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই পরিবারের মতো ঘনিষ্ঠ কাউকে বোঝানো হয়। অ্যাডামস জানান, ক্ষুধার্ত অবস্থায় প্রায়ই এরিক তাদের বাড়িতে আসতেন। পরে তিনি এরিককে নিজের পরিবারের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় থাকতে দেন। তবে এর জন্য কিছু শর্ত ছিল—সময় মেনে চলা এবং আবার স্কুলে ফিরে যাওয়া। ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন? আমাকে কি আবার স্কুলে ফিরতে সাহায্য করবেন?’ এরপর আমরা তাকে স্কুলে ভর্তি করাই, কাগজপত্র ঠিক করি এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গেও কাজ করি। তার বাবা-মাও সহযোগিতা করেছিলেন।” বর্তমানে এরিক “রেসিডেনশিয়াল ইয়ুথ সার্ভিসেস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট” পরিচালিত একটি ট্রানজিশনাল আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তারা যেসব তরুণকে সহায়তা করে তাদের মাত্র অর্ধেক হাইস্কুল ডিপ্লোমা সম্পন্ন করতে পারে। সেই বাস্তবতায় এরিকের অর্জনকে বিশেষ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডিজারি অ্যাডামস বলেন, “সে প্রায়ই আমাকে ধন্যবাদ দেয়। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, এই অর্জনের কৃতিত্ব আমার নয়। নিজের জীবন বদলানোর সিদ্ধান্ত সে নিজেই নিয়েছে।” ডিপ্লোমা হাতে পাওয়ার পর এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন এরিক শুলৎজ। তিনি প্লাম্বিং বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা নিতে ট্রেড স্কুলে ভর্তি হতে চান। পাশাপাশি ওয়াইআনায়ে এলাকার গৃহসংকটে থাকা মানুষদের সহায়তা করার কাজও চালিয়ে যেতে চান। নিজের গল্প অন্যদের অনুপ্রাণিত করুক—এমন প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন এই তরুণ। তিনি বলেন, “আমি আশা করি আমার গল্প অন্যদের স্পর্শ করবে। যেন তারা নিজেদের স্কুল বা কমিউনিটিতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ বা অন্য কোনো উদ্যোগ নেয়। মানুষকে সাহায্য করার জন্য যা সম্ভব, সেটাই করুক।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।